ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
সড়ক দুর্ঘটনার কবলে অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা, দুমড়েমুচড়ে গেছে গাড়ি ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে ‘আফগানি বেশে’ খেলনা বন্দুক হাতে জনমনে আতংক সৃষ্টিকারী ২ তরুণ শ্রীঘরে মাধবপুরে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে জাতীয় চার নেতার মুরাল অপসারণ, জনমনে ক্ষোভ নাটকীয়তা শেষে মাগুরায় কর্মরত পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দেওয়া বিএনপি নেতা নয়ন গ্রেপ্তার পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে অভিযান অনুমোদনহীন ডবল ডেকার স্লিপার কোচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মাগুরায় প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে মারধর মেহেরপুরে ‘বই’ দেখে পরীক্ষা দেয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিককে মারধর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজটে নাজেহাল ফেসবুকে এআই ‘চোর-পুলিশ’ ছবিতে সয়লাব, ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জের সার্বিক দায়িত্ব পেলেন এক হুইপ দুই মন্ত্রী কক্সবাজারে র‍্যাবের চেকপোস্টে এক লাখ ইয়াবা ও ব্যবহৃত পিকআপসহ গ্রেপ্তার-২ বাসসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী ৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঢাকাসহ পুরো দেশ অবৈধ ৩১ অ্যাপে লেনদেন না করতে সতর্ক করল গোয়েন্দা সংস্থা: বিএফআইইউ চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ টাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে সরকার আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সিইসির না’গঞ্জ সদর ইউএনও’র প্রচেষ্টায় দখলমুক্ত তিন কোটি টাকা মূল্যমানের সরকারি সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিলেন না’গঞ্জের সাবেক মন্ত্রী গাজী ও কাউন্সিলর মতি নারায়ণগঞ্জের পূর্ণ তদারকির দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ আপিলের শর্তে জামিন আবেদন নামঞ্জুর, প্রতারণার মামলার সাজায় কারাগারে বিদিশা নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫; ভারতীয়সহ নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক টেকনাফে কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৫ হাজার ইয়াবা জব্দ সাগর-পাহাড়ের হাতছানি, পর্যটনের নতুন সম্ভাবনায় টেকনাফ আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার যে কারনে গ্রেপ্তার হলেন বিদিশা  নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: এবার ছুরিকাঘাতে পরিবহন শ্রমিক খুন  টেকনাফে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও নিপীড়ন দিবসে সমাবেশ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভুয়া পুলিশসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার-২৪ টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে বিদেশি এসএমজি ও ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক টেকনাফে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণে আইস ও ইয়াবাসহ আটক-১ রংপুরে একই পরিবারের ৪ জন খুন: দুই আসামির স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ সদস্যের সৎকার সম্পন্ন নারায়ণগঞ্জে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা সহায়তায় পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ইউএনও  রূপগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে নারীকে আটকে রেখে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার-৩ না’গঞ্জ আদালত চত্বরে হত্যা মামলার আসামি সিফাতকে পুলিশের সামনেই বিবস্ত্র করে গণপিটুনি রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আবু আউয়াল বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে মালবাহী জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ-২২ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের  উদ্বোধন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ মিডটাউন ইনস্টলেশন অনুষ্ঠিত ডিএমপির তেজগাঁও ও পল্টন থানার দুই ওসি প্রত্যাহার রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের শিশুসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যত বড় নেতা হোক ছাড় নয়: শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, ৩০ যাত্রীকে জানালা ভেঙে উদ্ধার এই প্রথম এক মন্ত্রণালয়ে ২ প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে দেশীয় মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক নতুন ৪ মন্ত্রীসহ ২ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বুলবুল হত্যাকান্ড: সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ আটক-৯ এনবিআরে রদবদল, সিআইসির প্রথম নারী ডিজি সেলিনা সুলতানা না’গঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ প্রেমিক ও নিজ বাবার সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া না’গঞ্জের সিভিল সার্জন মুশিউর রহমানকে ওএসডি, নতুন দায়িত্বে ডা. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা খুন মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ডিসি রায়হান কবির শতবর্ষী বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী হাসান আলীর পাশে রূপগঞ্জের মানবিক ইউএনও আড়াইহাজারে পুকুরে ডুবে একসাথে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার একযোগে ফের তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ আর নেই ‘এআই’ অটোফাইন সিস্টেম’ চালুর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-৪ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হারুন র‍্যাবের জালে টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ আজ থেকে ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’ ফের বদলে গেলো এয়ারটেল, এবার ‘সার্কেল’ নামে নবযাত্রা দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে সাক্ষর চূড়ান্ত, কার বেতন কত বাড়ল শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড নারায়ণগঞ্জ জেলা নাজিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন-মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত একটি কুচক্রী মহল ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে নতুন ‘এসআরবি’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন, থাকবে পুলিশের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু; ইউএনও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্কাউটসের উদ্যোগে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত কোটি টাকার প্রকল্পের মাঝেও পুড়ছে সেন্টমার্টিনের কেয়াবন ভারতীয় ভিসার নামে সারাদেশে স্লট বাণিজ্যের সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা  নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণকারী ৩ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ আটক-১১ মৌলভীবাজারের মাথিউরা চা বাগানে দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রূপগঞ্জে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-১০, গ্রেপ্তার-১ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট ১ বছরের মধ্যে সমাধান সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত-১ আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ আড়াইহাজারে অতিরিক্ত মদপানে দুই যুবকের করুন মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ, আটক-২ ফেনীর বহুল আলোচিত চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি টেকনাফে গ্রেপ্তার র‍্যাব পরিবর্তন করে এসআরবি: খসড়া আইনের মতামতে মিলছে না সাড়া ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’ ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য,নতুন রণতরি, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর মা-ছেলের মহাপুনর্মিলন ঘটতে যাচ্ছে আজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০২:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫ ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

 

অনলাইন ডেস্ক।।

 

আজ বুধবার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অবিস্মরণীয়-অভাবনীয়-অনির্বচনীয় দিন। বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে লন্ডনে সূর্যের ঝলমলে আলোয় উদ্ভাসিত সকালবেলায় এক ঐতিহাসিক মহাপূনর্মিলন ঘটবে শেখ হাসিনার চরম জিঘাংসার শিকার মজলুম মা ও ছেলের। বহু বাধার বিন্দাচল, চড়াই-উত্রাই, অনিশ্চয়তা, শোকগাঁথা-বেদনা-বিষাদ-আনন্দের বহু দগদগে দিনলিপি পেরিয়ে সাড়ে সাত বছর পর বাংলাদেশে যাবত কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাত হবে।

 

যে অকৃত্রিম মধুরতম সাক্ষাতের জন্য প্রতিটি অনুক্ষন তারা প্রহর গুনেছেন। পুনর্মিলন ঘটবে বড় পুত্রবধূ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং আদরের নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কন্যা জাফিয়া রহমানও জাহিয়া রহমানের সঙ্গে। যে পুনর্মিলনের উদ্বেলিত আবেগ-আনন্দের ঝর্ণাধারা ছড়িয়ে যাবে দেশময়। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসাপরায়নতা আর অকল্পনীয় জুলুমের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং প্রতিবেশী দেশের প্রতিহিংসার মূল কারণ তার আপোষহীন দেশপ্রেম, তুমুল জনপ্রিয়তা, দেশের সর্বমানুষের প্রানোত্সাতির ভালোবাসা। যা এই দেশবিরোধী-গণতন্ত্র বিরোধী চক্রের কাছে ছিল অসহনীয়। যে কারণে সর্বজন বিদিত মিথ্যা সাজানো মামলায় তিন বারের সর্ব্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হাস্যকরভাবে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে বছরের পর বছর বিনা চিকিৎসায় চরম অসুস্থ করে তোলা হয়।

করোনাকালীন সময়ে তাকে স্যাতস্যেতে কারা প্রকোস্টের বাইরে বাসায় এনে গৃহবন্দী করে রাখা হলেও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনা কয়েকবার বেগম জিয়াকে প্রাণনাশের আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে হত্যা এবং রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে কোনো রকম চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া থেকে বঞ্চিত রাখার কথাও আকারে ইঙ্গিতে একাধিকবার বলেছেন। বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ চোখ ও পায়ের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তিনি যাত্রাবিরতি করেন। ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সে সময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। লন্ডনে সাক্ষাত্কালে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান উভয়ই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারেক রহমান তখন নিজের গাড়িতে করে মা খালেদা জিয়াকে বাসভবনে নিয়ে যান। সেই ছিল সর্বশেষ জিয়া পরিবারের মিলন।

পরে চারটি প্রতিহিংসামুলক মামলা মাথায় নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর। তিনি জানতো স্বৈরাচার শেখ হাসিনা তাকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করবে। অনিবার্য এই প্রতিহিংসার কথা জেনেই অনেকের অনুরোধ উপেক্ষা করে দেশে আইনের মুখোমুখি হন অসম সাহসী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার তিন মাসাধিককাল পরেই ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ করে কারারুদ্ধ করে হাসিনার ক্যাংগারু আদালত। স্বাভাবিকভাবে সুস্থ খালেদা জিয়া হেটে কারাগারে গেলেও নির্যাতন করে তাকে গুরুতর অসুস্থ করে ফেলে হাসিনার দোসররা। বিনা চিকিৎসায় তার শরীরে বাসা বাধে হৃদরোগ, লিভার, ফুসফুস, কিডনি, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায়। কারাগার থেকে যখন তাকে বের করা হয় তখন তিনি হুইল চেয়ারে। শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শাহাদত বরনের পর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আগলে রেখেই দিন কাটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে তিন বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ চালিয়েছেন তিনি। দেশকে পরিণত করেছিলেন ইমার্জিং টাইগারে।
তবে দেশী-বিদেশি ষড়যন্ত্রে কলঙ্কিত এক এগারোর সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে বিনাশের নীলনকশা বাস্তবায়নে জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়া হয়। দুই ছেলের একজন বিদেশে থাকতেই মারা যান। বড় ছেলে তারেক রহমানকে জেলে বন্দী করে হত্যার উদ্দেশে ভয়াবহভাবে নির্যাতন করা হয়। পঙ্গু করা হয় তাকে। ২০০৭ সাল থেকে পরিবারসহ চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন লন্ডনে। সেখান থেকেই বিএনপিকে তারেক রহমান তৃণমূল শক্তিতে পরিণত করেন। তিনি জনগণের আইকনে পরিণত হয়েছেন।

লম্বা বিরতির পর ২০১৭ সালে একবার মা-ছেলের সঙ্গে দেখা হলেও গত সাড়ে সাত বছর কেটেছে ভার্চুয়াল কথাবার্তার মধ্য দিয়ে। আজ হবে সরাসরি সাক্ষাত। আজ এক আবেগঘন সময়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মানুষের দুই জিয়নকাঠি। আজ ৮ জানুয়ারি, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় খালেদা জিয়ার বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশটিতে পৌঁছার পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাকে বরণ করে নেবেন তারেক রহমান। জিয়া পরিবারকে আবার দেখা যাবে এক ফ্রেমে। এদিকে গতকাল রাতে লাখো মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছার মধ্যে লন্ডন যাত্রা কালে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার এখন বয়স ৭৯ বছর। ছয় বছর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা তাকে বানোয়াট মামলায় ফরমায়েশী রায়ে কারাবন্দী করে। সেই থেকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারেই দুই বছর বন্দীদশায় ছিলেন। এই সময়ে কারাগারে একাধিকবার গুরুতর অসুস্থও হন খালেদা জিয়া। তার শরীরে বাসা বাধে দুরারোগ্য ব্যাধি। অবশ্য খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে সবধরনের কর্মসূচি বিএনপি পালন করেছে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণঅনশন, দোয়া মাহফিল থেকে শুরু করে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, কালো পতাকা মিছিল, স্মারকলিপি প্রদান, কূটনীতিকদের কাছে আবেদনসহ বহুমুখী তৎপরতা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে আন্দোলনের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষেও তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কাছে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য অসংখ্যবার আবেদন করা হয়। কিন্তু কোনো কিছুতেই মন গলেনি শেখ হাসিনা ও তার সরকারের। অনুমতি দেওয়ার নামে বারবার আবেদন প্রত্যাখ্যান ও কালক্ষেপণ করা হয়। এমনকি বিগত সরকারের তরফে তাচ্ছিল্য করে বার বার হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদের দোসররা বার বার বলেছে, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন’। বিএনপি তাকে নিয়ে নাটক করছে।’ যা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটে। দীর্ঘ এই সময়ে মাঝে মধ্যেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন খালেদা জিয়া। বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে শরীরে বিশেষ অস্ত্রোপচারও করা হয়। সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে পরদিন ৬ আগস্ট কারামুক্ত হন দেশের জনগণের প্রাণপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া। গতকাল রাতে কাতারের আমিরের রাজকীয় বিমানে (এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স) উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন বিএনপির চেয়ারপারসন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার খবর জেনে রাজকীয় বহরের এই বিশেষ বিমান পাঠান। ওই বিমানে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্বলিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লন্ডনে নেমেই সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হবেন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় যাবেন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লিভারের উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পথে ওমরাহ পালনও করার কথা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশ ছাড়ার আগে লাখো নেতাকর্মীর ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে গুলশানের বাসা থেকে এস্কর্ট দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। তার আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী দলীয় প্রধানের বাসার সামনে সমবেত হন। মূলত খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা ও এর দিন-তারিখ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ সফরসঙ্গীদের কারও কারও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল। শেষে ৭ জানুয়ারি বিদেশ যাত্রার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয় এবং সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের ভিসা নিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন চিকিৎসকরা। তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বারবার আবেদন-নিবেদন জানানো হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার প্রতিবারই তা উপেক্ষা করেছে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছিল। এমন অবস্থায় ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে খালেদা জিয়া স্থায়ী মুক্তি পান। এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে ওই সুসংবাদ পান তিনি। তখন এক মাস ১২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতবছরের ২১ আগস্ট বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে তার চিকিৎসা বাসায় চলছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতেও বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদিকে লন্ডন যাত্রার সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার মধ্যেই গত রোববার রাতে গুলশানে তার বাসা ‘ফিরোজা’য় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। সেদিন ‘ফিরোজা’ থেকে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রী….তিনি চিকিৎসার জন্যে ৭ জানুয়ারি রাতে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেজন্য আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য উনার কাছে এসেছিলাম শুভেচ্ছা জানাতে। আমরা তার সঙ্গে আলাপ করেছি, কথা বলেছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে আবার আমাদের মাঝে, দেশের মানুষের মাঝে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন এবং গণতন্ত্রের জন্য আমাদের যে সংগ্রাম চলছে সেই সংগ্রামে তিনি যেন নেতৃত্ব দিয়ে সেই সংগ্রামকে সফল করতে পারেন। বাংলাদেশের মানুষেরও সেই প্রত্যাশা।

সংগৃহীত:ই/ফা

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর মা-ছেলের মহাপুনর্মিলন ঘটতে যাচ্ছে আজ

আপডেট সময়- ০২:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৫

 

অনলাইন ডেস্ক।।

 

আজ বুধবার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অবিস্মরণীয়-অভাবনীয়-অনির্বচনীয় দিন। বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে লন্ডনে সূর্যের ঝলমলে আলোয় উদ্ভাসিত সকালবেলায় এক ঐতিহাসিক মহাপূনর্মিলন ঘটবে শেখ হাসিনার চরম জিঘাংসার শিকার মজলুম মা ও ছেলের। বহু বাধার বিন্দাচল, চড়াই-উত্রাই, অনিশ্চয়তা, শোকগাঁথা-বেদনা-বিষাদ-আনন্দের বহু দগদগে দিনলিপি পেরিয়ে সাড়ে সাত বছর পর বাংলাদেশে যাবত কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাত হবে।

 

যে অকৃত্রিম মধুরতম সাক্ষাতের জন্য প্রতিটি অনুক্ষন তারা প্রহর গুনেছেন। পুনর্মিলন ঘটবে বড় পুত্রবধূ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং আদরের নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কন্যা জাফিয়া রহমানও জাহিয়া রহমানের সঙ্গে। যে পুনর্মিলনের উদ্বেলিত আবেগ-আনন্দের ঝর্ণাধারা ছড়িয়ে যাবে দেশময়। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসাপরায়নতা আর অকল্পনীয় জুলুমের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং প্রতিবেশী দেশের প্রতিহিংসার মূল কারণ তার আপোষহীন দেশপ্রেম, তুমুল জনপ্রিয়তা, দেশের সর্বমানুষের প্রানোত্সাতির ভালোবাসা। যা এই দেশবিরোধী-গণতন্ত্র বিরোধী চক্রের কাছে ছিল অসহনীয়। যে কারণে সর্বজন বিদিত মিথ্যা সাজানো মামলায় তিন বারের সর্ব্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হাস্যকরভাবে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে বছরের পর বছর বিনা চিকিৎসায় চরম অসুস্থ করে তোলা হয়।

করোনাকালীন সময়ে তাকে স্যাতস্যেতে কারা প্রকোস্টের বাইরে বাসায় এনে গৃহবন্দী করে রাখা হলেও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনা কয়েকবার বেগম জিয়াকে প্রাণনাশের আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে হত্যা এবং রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে কোনো রকম চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া থেকে বঞ্চিত রাখার কথাও আকারে ইঙ্গিতে একাধিকবার বলেছেন। বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ চোখ ও পায়ের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তিনি যাত্রাবিরতি করেন। ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সে সময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। লন্ডনে সাক্ষাত্কালে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান উভয়ই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারেক রহমান তখন নিজের গাড়িতে করে মা খালেদা জিয়াকে বাসভবনে নিয়ে যান। সেই ছিল সর্বশেষ জিয়া পরিবারের মিলন।

পরে চারটি প্রতিহিংসামুলক মামলা মাথায় নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর। তিনি জানতো স্বৈরাচার শেখ হাসিনা তাকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করবে। অনিবার্য এই প্রতিহিংসার কথা জেনেই অনেকের অনুরোধ উপেক্ষা করে দেশে আইনের মুখোমুখি হন অসম সাহসী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার তিন মাসাধিককাল পরেই ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ করে কারারুদ্ধ করে হাসিনার ক্যাংগারু আদালত। স্বাভাবিকভাবে সুস্থ খালেদা জিয়া হেটে কারাগারে গেলেও নির্যাতন করে তাকে গুরুতর অসুস্থ করে ফেলে হাসিনার দোসররা। বিনা চিকিৎসায় তার শরীরে বাসা বাধে হৃদরোগ, লিভার, ফুসফুস, কিডনি, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায়। কারাগার থেকে যখন তাকে বের করা হয় তখন তিনি হুইল চেয়ারে। শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শাহাদত বরনের পর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে আগলে রেখেই দিন কাটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে তিন বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ চালিয়েছেন তিনি। দেশকে পরিণত করেছিলেন ইমার্জিং টাইগারে।
তবে দেশী-বিদেশি ষড়যন্ত্রে কলঙ্কিত এক এগারোর সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে বিনাশের নীলনকশা বাস্তবায়নে জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়া হয়। দুই ছেলের একজন বিদেশে থাকতেই মারা যান। বড় ছেলে তারেক রহমানকে জেলে বন্দী করে হত্যার উদ্দেশে ভয়াবহভাবে নির্যাতন করা হয়। পঙ্গু করা হয় তাকে। ২০০৭ সাল থেকে পরিবারসহ চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন লন্ডনে। সেখান থেকেই বিএনপিকে তারেক রহমান তৃণমূল শক্তিতে পরিণত করেন। তিনি জনগণের আইকনে পরিণত হয়েছেন।

লম্বা বিরতির পর ২০১৭ সালে একবার মা-ছেলের সঙ্গে দেখা হলেও গত সাড়ে সাত বছর কেটেছে ভার্চুয়াল কথাবার্তার মধ্য দিয়ে। আজ হবে সরাসরি সাক্ষাত। আজ এক আবেগঘন সময়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মানুষের দুই জিয়নকাঠি। আজ ৮ জানুয়ারি, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় খালেদা জিয়ার বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশটিতে পৌঁছার পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাকে বরণ করে নেবেন তারেক রহমান। জিয়া পরিবারকে আবার দেখা যাবে এক ফ্রেমে। এদিকে গতকাল রাতে লাখো মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছার মধ্যে লন্ডন যাত্রা কালে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার এখন বয়স ৭৯ বছর। ছয় বছর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা তাকে বানোয়াট মামলায় ফরমায়েশী রায়ে কারাবন্দী করে। সেই থেকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারেই দুই বছর বন্দীদশায় ছিলেন। এই সময়ে কারাগারে একাধিকবার গুরুতর অসুস্থও হন খালেদা জিয়া। তার শরীরে বাসা বাধে দুরারোগ্য ব্যাধি। অবশ্য খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে সবধরনের কর্মসূচি বিএনপি পালন করেছে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণঅনশন, দোয়া মাহফিল থেকে শুরু করে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, কালো পতাকা মিছিল, স্মারকলিপি প্রদান, কূটনীতিকদের কাছে আবেদনসহ বহুমুখী তৎপরতা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে আন্দোলনের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষেও তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কাছে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য অসংখ্যবার আবেদন করা হয়। কিন্তু কোনো কিছুতেই মন গলেনি শেখ হাসিনা ও তার সরকারের। অনুমতি দেওয়ার নামে বারবার আবেদন প্রত্যাখ্যান ও কালক্ষেপণ করা হয়। এমনকি বিগত সরকারের তরফে তাচ্ছিল্য করে বার বার হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদের দোসররা বার বার বলেছে, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন’। বিএনপি তাকে নিয়ে নাটক করছে।’ যা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটে। দীর্ঘ এই সময়ে মাঝে মধ্যেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন খালেদা জিয়া। বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে শরীরে বিশেষ অস্ত্রোপচারও করা হয়। সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে পরদিন ৬ আগস্ট কারামুক্ত হন দেশের জনগণের প্রাণপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া। গতকাল রাতে কাতারের আমিরের রাজকীয় বিমানে (এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স) উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন বিএনপির চেয়ারপারসন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার খবর জেনে রাজকীয় বহরের এই বিশেষ বিমান পাঠান। ওই বিমানে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্বলিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লন্ডনে নেমেই সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হবেন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় যাবেন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লিভারের উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পথে ওমরাহ পালনও করার কথা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশ ছাড়ার আগে লাখো নেতাকর্মীর ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে গুলশানের বাসা থেকে এস্কর্ট দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। তার আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী দলীয় প্রধানের বাসার সামনে সমবেত হন। মূলত খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা ও এর দিন-তারিখ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ সফরসঙ্গীদের কারও কারও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল। শেষে ৭ জানুয়ারি বিদেশ যাত্রার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয় এবং সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের ভিসা নিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন চিকিৎসকরা। তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বারবার আবেদন-নিবেদন জানানো হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার প্রতিবারই তা উপেক্ষা করেছে। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছিল। এমন অবস্থায় ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে খালেদা জিয়া স্থায়ী মুক্তি পান। এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে ওই সুসংবাদ পান তিনি। তখন এক মাস ১২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতবছরের ২১ আগস্ট বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে তার চিকিৎসা বাসায় চলছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতেও বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদিকে লন্ডন যাত্রার সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার মধ্যেই গত রোববার রাতে গুলশানে তার বাসা ‘ফিরোজা’য় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। সেদিন ‘ফিরোজা’ থেকে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রী….তিনি চিকিৎসার জন্যে ৭ জানুয়ারি রাতে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেজন্য আমরা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য উনার কাছে এসেছিলাম শুভেচ্ছা জানাতে। আমরা তার সঙ্গে আলাপ করেছি, কথা বলেছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে আবার আমাদের মাঝে, দেশের মানুষের মাঝে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন এবং গণতন্ত্রের জন্য আমাদের যে সংগ্রাম চলছে সেই সংগ্রামে তিনি যেন নেতৃত্ব দিয়ে সেই সংগ্রামকে সফল করতে পারেন। বাংলাদেশের মানুষেরও সেই প্রত্যাশা।

সংগৃহীত:ই/ফা