নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মী তানিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বামী: পিবিআই
- আপডেট সময়- ০৬:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সোহাগ মিয়া জুলহাসকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার(এসপি) মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই’র তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই সকালে সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের কাছে বাসার চাবি রেখে তাকে জানান যে, তানিয়া গার্মেন্টসে কাজে গেছেন। পরে বাসায় যেতে বলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর নাছিমা আক্তার গার্মেন্টসে গিয়ে জানতে পারেন, ওই দিন তানিয়া কর্মস্থলেই যাননি।
পরে সন্দেহাতীত ভাবেই বাসায় গিয়ে দরজার তালা খুলে মশারির ভেতর তানিয়ার নিথর দেহ দেখতে পান নাছিমা। তার নাক-মুখে রক্তের দাগ ছিল এবং শরীর শক্ত হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধারসহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর পরিবারের অমতেই প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তানিয়া ও সোহাগ। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ঝগড়া বিবাদ চলছিল। স্থায়ী কোনো কাজ না থাকায় সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হতো। এ সময় সোহাগ স্ত্রীকে মারধর করতেন বলেও তদন্তে উঠে আসে।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ দাবি করেছেন, সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি তানিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পরদিন সকালে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তানিয়ার নাকের স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন। পরে বাসার চাবি তানিয়ার খালার কাছে রেখে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার(এসপি) মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



































































































