নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী মোতালেব কিলিং মিশনের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩
- আপডেট সময়- ০৫:০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরে বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) কিলিং মিশনের রহস্য উদঘাটন। এ ঘটনায় সরাসরি কিলিং মিশনে সম্পৃক্ত মূলহোতা জাকিরসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমের ব্যবহত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সেলসারদী এলাকা থেকে এ মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে একই দিন সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনের লেপ-তোশকে মোড়ানো মরদেহ স্থানীয়দের সহায়তা উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, নিহত মো. মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। তিনি মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরিসহ বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিনটিও বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) এবং সোহেল (৪৯) কে গ্রেফতার করা হয়।
এর পরবর্তীতে এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বন্দর থানার সেল সাবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির (৫০) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তার দেয়া ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেনকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মোতালেবের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, মূলত বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামী।তিনি আরও জানান সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, ৮৬ হাজার টাকা, বিকাশের কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকী অন্য আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।




































































































