র্যাব পরিবর্তন করে এসআরবি: খসড়া আইনের মতামতে মিলছে না সাড়া
- আপডেট সময়- ০৩:৪৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বাইশ বছর আগে গঠিত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) ‘বদলে ফেলার’ অংশ হিসেবে প্রণীত খসড়া আইনের বিষয়ে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হলেও তেমন সাড়া মিলছে না।
গত ৪ অগাস্ট ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীষর্ক এ খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দিয়ে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়। মতামত দেওয়ার জন্য সেখানে একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস দেওয়া রয়েছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ দিনে তাতে মাত্র তিনজন সাড়া দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “যে তিনটি মতামত এসেছে, সেখানে খসড়া আইনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মোটামুটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয়ে সংযোজনও করার প্রস্তাব করা হয়েছে, কিছু বিষয় বাদ দেওয়ারও মতামত এসেছে।”
খসড়া আইনটি নিয়ে কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন অনুবিভাগ।
এ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, “মতামত চাওয়া হয়েছে। অনেকেই দিচ্ছেন। প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর আইনসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে।
“পরে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। জনগণের মতামতগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। পরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।”
তবে কতদিন জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি এ কর্মকর্তা।
মফিজুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যেদিন চাইবে, তার আগ পর্যন্ত মতামত নেওয়া হতে পারে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র্যাব গঠিত হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সফলতার পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাহিনীটিকে বিলুপ্তির দাবি ওঠে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার বিষয়ক কমিটি র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলন করে ওই কমিটি বলেছিল, “পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে থাকা র্যাব ইতোমধ্যে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপকভাবে নিন্দিত ও সমালোচিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং সুধীজন র্যাবকে দেশে সংঘটিত অধিকাংশ গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের জন্য দায়ী করেছে।
“বাহিনীটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে। এই প্রেক্ষাপটে র্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হলো। র্যাবের দায়িত্ব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং থানা পুলিশ যেন পালন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
তবে ক্ষমতায় এসে বিএনপি চাইছে, বাহিনীটিকে বিলুপ্ত না করে কাঠামোগত ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যস্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে রূপান্তর করতে।
☞ খসড়া আইনে কী আছে;
খসড়া আইনের শুরুতে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্সের অধীনে গঠিত র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হবে। এই আইন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬ নামে সংজ্ঞায়িত হবে।
র্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে খসড়া আইনে আগের মত পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত এ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া আইনেও বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় রেখে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে আর এসআরবি’র নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক থাকার কথা বলা হয়েছে।
“প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিট গঠন করা যাবে।”
শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্কিত আইন সাপেক্ষে কোনো সদস্যকে নির্ধারিত শর্তাধীনে এই ইউনিটে চাকরিতে প্রেষণে নিযুক্ত বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করতে পারবে। পাশfপাশি প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের কোনো সদস্যকে নির্ধারিত শর্তাধীনে এ ইউনিটে প্রেষণে পাঠানো যাবে। প্রেষণে দায়িত্বের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার; সেই সঙ্গে মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।
সুষ্ঠু তদন্তকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে।
ইউনিটের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একটি প্রতিকার কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। এ কমিটিতে এসআরবি’র একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পুলিশ অধিদপ্তরের একজন এআইজি, এসআরবি’র পরিচালক (লিগ্যাল মিডিয়া) এবং সরকার মনোনীত মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসন বিষয়ে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজনকে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সংগৃহীত ;




































































































