এবছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এমন ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শতভাগ ফেল করা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনের কম এবং সেখানে পড়াশোনার ন্যূনতম পরিবেশও নেই। এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে এবং কোন যোগ্যতায় সরকারি অনুমোদন পেলো— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা গবেষকরা।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের কেউই কৃতকার্য হতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পাঁচজন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন। ফলাফলের বিষয়ে শিক্ষকরা দাবি করছেন, নানা সংকটের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। একজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে গণিতের শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় তিনি নিয়মিত ক্লাসে আসছিলেন না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই চিত্র প্রায় অভিন্ন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনের কম। এমনকি শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তো পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। উদ্বেগের বিষয় হলো, শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বোর্ড থেকে শোকজ করা হচ্ছে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার কারণে যদি এমন শোচনীয় ফলাফল হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”
এদিকে, শিক্ষা গবেষকরা মনে করছেন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে খতিয়ে দেখা দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর)
এ বিষয়ে অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, পুরো উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা এবং তার সঙ্গে এক বা দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকেন। তাদের পক্ষে পুরো উপজেলার সব প্রতিষ্ঠান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। ফলে দূর থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবে নামসর্বস্ব অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী এবং নেই কোনো উপযুক্ত পরিবেশ। তাই শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।





































































































