সর্বশেষ:-
প্রচ্ছদ /
অর্থ ও বাণিজ্য, আইন আদালত, আন্তর্জাতিক, আবহাওয়া ও জলবায়ু, উপজেলা প্রশাসন, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, জাতীয়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, টেকনাফ, দেশজুড়ে, নারী ও শিশু, পূর্বাভাস, বাংলাদেশ
কোটি টাকার প্রকল্পের মাঝেও পুড়ছে সেন্টমার্টিনের কেয়াবন
প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময়- ০৪:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ফরহাদ রহমান,
টেকনাফ প্রতিনিধি।।
পরিবেশ রক্ষায় কোটি টাকার প্রকল্প চলছে, নতুন করে কেয়াগাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। এর মধ্যেই কক্সবাজারের টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে কেয়াবন ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। দ্বীপের বিভিন্ন সৈকতে কেয়াগাছ পোড়ানোর ঘটনায় হুমকির মুখে পড়েছে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
সম্প্রতি সেন্টমার্টিনের পূর্বপাড়া, গলাচিপা, দক্ষিণপাড়া, কোনারপাড়া ও উত্তরপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় কেয়াবন ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। পূর্ব সৈকতের গলাচিপা এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার কেয়াবন নেই। এর পাশের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ৩০০টি কেয়াগাছ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসের চিত্রও পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কেয়াবনে আগুন দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকত থেকে সমুদ্রের দৃশ্য উন্মুক্ত করে হোটেল-রিসোর্টের ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়াতেই কোথাও কোথাও কেয়াবন সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
‘সৌন্দর্য নষ্ট মানেই পরিবেশের ক্ষতি’
কেয়াবন ধ্বংসের বিষয়ে ধরিত্রী রক্ষা আন্দোলন, কক্সবাজারের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদুল আলম শাহীন বলেন, “পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন দেশের অন্যতম সৌন্দর্যলীলাভূমি। এই দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য নষ্ট করা মানে শুধু সৌন্দর্য নষ্ট করা নয়, এর মাধ্যমে পরিবেশেরও ক্ষতি করা হচ্ছে। কেয়াবন ধ্বংস বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
তালিকা তৈরির নির্দেশ ইউএনওর
সেন্টমার্টিনের কেয়াবন ধ্বংসের অভিযোগের বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, “আমি তালিকা করতে বলেছি। পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করেছে, তারাও বিষয়টি দেখছে। আমিও এ বিষয়ে দেখছি।”
প্রায় ৯ কোটি টাকার প্রকল্প
সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় দ্বীপের সৈকত ও বালিয়াড়িতে নতুন করে কেয়াবন সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি মৌসুমে আড়াই হাজার কেয়া চারা রোপণ করা হয়েছে। আরও তিন হাজার চারা রোপণের কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মতে, কেয়াগাছের শিকড় বালু ধরে রাখায় বালিয়াড়ি সুরক্ষিত থাকে। কেয়াবন কমে গেলে সৈকত ক্ষয়, জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে পারে।
১৪ রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা
কেয়াগাছ কর্তন ও সৈকত দখলের অভিযোগে ইতিমধ্যে ১৪টি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে জানা গেছে। এ ছাড়া একজন রিসোর্ট মালিকের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।
১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। পরিবেশগত বিধিনিষেধ অনুযায়ী দ্বীপে কেয়াবন ধ্বংস, গাছ কাটা এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু নতুন করে কেয়া চারা রোপণ করলেই হবে না; বিদ্যমান কেয়াবন ধ্বংস বন্ধেও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ কেয়াবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিউজটি শেয়ার করুন..
ট্যাগস:-

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ



































































































