নারায়ণগঞ্জে ফের খুন, এবার ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
- আপডেট সময়- ১১:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার(৫ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল ফালাহ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে ধরে এনে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে মারধর করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সামান্য মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় লোকজন তাকে বাসা থেকে সকলের সম্মুখ থেকে জিসানকে তুলে নিয়ে যায়।
এরপর তার হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে জিসান অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গুরুতর অবস্থায় পরিবারের কাছে রেখে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহরের খানপুর ৩’শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এসময় ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা হাতে এলাকায় ভাঙচুর চালায় বলেও জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওছার আহমেদ বলেন, জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। শনিবার নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাছে না দিয়ে তাকে মারধর করে।
এদিকে, ঘটনার পর একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবো না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তার মেরে ফেলে তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) মাহবুব আলম জানান, নিহত জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে মারাত্মক ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। এ ঘটনা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।




































































































