ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আবু আউয়াল বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে মালবাহী জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ-২২ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের  উদ্বোধন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ মিডটাউন ইনস্টলেশন অনুষ্ঠিত ডিএমপির তেজগাঁও ও পল্টন থানার দুই ওসি প্রত্যাহার রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের শিশুসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যত বড় নেতা হোক ছাড় নয়: শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, ৩০ যাত্রীকে জানালা ভেঙে উদ্ধার এই প্রথম এক মন্ত্রণালয়ে ২ প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে দেশীয় মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক নতুন ৪ মন্ত্রীসহ ২ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বুলবুল হত্যাকান্ড: সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ আটক-৯ এনবিআরে রদবদল, সিআইসির প্রথম নারী ডিজি সেলিনা সুলতানা না’গঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ প্রেমিক ও নিজ বাবার সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া না’গঞ্জের সিভিল সার্জন মুশিউর রহমানকে ওএসডি, নতুন দায়িত্বে ডা. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা খুন মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ডিসি রায়হান কবির শতবর্ষী বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী হাসান আলীর পাশে রূপগঞ্জের মানবিক ইউএনও আড়াইহাজারে পুকুরে ডুবে একসাথে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার একযোগে ফের তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ আর নেই ‘এআই’ অটোফাইন সিস্টেম’ চালুর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-৪ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হারুন র‍্যাবের জালে টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ আজ থেকে ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’ ফের বদলে গেলো এয়ারটেল, এবার ‘সার্কেল’ নামে নবযাত্রা দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে সাক্ষর চূড়ান্ত, কার বেতন কত বাড়ল শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড নারায়ণগঞ্জ জেলা নাজিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন-মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত একটি কুচক্রী মহল ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে নতুন ‘এসআরবি’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন, থাকবে পুলিশের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু; ইউএনও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্কাউটসের উদ্যোগে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত কোটি টাকার প্রকল্পের মাঝেও পুড়ছে সেন্টমার্টিনের কেয়াবন ভারতীয় ভিসার নামে সারাদেশে স্লট বাণিজ্যের সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা  নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণকারী ৩ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ আটক-১১ মৌলভীবাজারের মাথিউরা চা বাগানে দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রূপগঞ্জে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-১০, গ্রেপ্তার-১ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট ১ বছরের মধ্যে সমাধান সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত-১ আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ আড়াইহাজারে অতিরিক্ত মদপানে দুই যুবকের করুন মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ, আটক-২ ফেনীর বহুল আলোচিত চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি টেকনাফে গ্রেপ্তার র‍্যাব পরিবর্তন করে এসআরবি: খসড়া আইনের মতামতে মিলছে না সাড়া ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’ ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য,নতুন রণতরি, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার কক্সবাজারে অপহরণ মামলায় কিশোরী ভিকটিম উদ্ধার, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে ৯৫০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন এসএসসি’তে শতভাগ ফেল করা, ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ হবিগঞ্জে গ্যাস সংকটে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু, বেশ কয়েকজন হতাহত পুলিশের ৫৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে দম্ভ দেখিয়ে মারধর করা আলোচিত ইউএনও’র শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে বদলি বসুন্ধরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের ৫৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার প্রত্যেকেই নারায়ণগঞ্জের টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক মাদক নিয়ন্ত্রণে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান; আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউএনও ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে সমন্বিত নীতিমালা আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে মোট ৩টি মনোনয়নপত্র জমা: ইসি তীব্র গ্যাস সংকটে অচল ফিলিং স্টেশন-জনজীবন, বাসাবাড়িতে ভোগান্তি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) রফিকুল ইসলাম আর নেই মন্ত্রীদের রদবদল; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুলিশে ফের বড় রদবদল, ৩ জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ দিয়েছে সরকার  মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ৪৬০ অভিবাসী বাংলাদেশি ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় ইজারাদারের কর্মচারীকে পেটালেন ইউএনও, দেশজুড়ে তোলপাড়  রাত ৮টার মধ্যে সকল মার্কেট-শপিংমল বন্ধ দায়িত্ব নেয়ার মাত্র নয় মাসে ফের নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের বদলি না’গঞ্জে যানজট নিরসনে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ; দিনে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কক্সবাজারে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ কুলাউড়ায় ডিবির অভিযানে ১০ বোতল বিদেশি মদসহ যুবক গ্রেপ্তার সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে গান পাউডারসহ ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কক্সবাজারের কুখ্যাত ডাকাত চক্র ‘সাদ্দাম গ্রুপ’-এর সদস্য হামিদ আটক কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবককের মরদেহ হস্তান্তর আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র মানবিকতায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পেল ল্যাপটপ উপহার নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ স্ত্রী ও ছেলের পর স্বামী মাইদুলের মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে ৫ ইউনিয়ন নাসিক অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত, ‘বুধবার থেকে সাড়াশি অভিযান নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মী তানিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বামী: পিবিআই  নাফ নদীতে বিজিবির অভিযান, ৭০ হাজার ইয়াবাসহ নৌকা জব্দ নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ

এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৫:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।

 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আওয়ামী লীগ তাদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। এ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এ বছরই দেশে ফিরব।’ তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘শক্তি’। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো হামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাত।

☞ বিশেষ সাক্ষাৎকারের প্রশ্নোত্তরগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনি একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং আপনার সমর্থকেরাও আশাবাদী যে, আপনি শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরবেন। এমনকি দলের কয়েকজন নেতা বলেছেন, আপনি এ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এটি কতটা বাস্তবসম্মত?

শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোন বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য।

আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা ন্যায়বিচার নয়। এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অতীতেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। তখনও তারা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও ব্যর্থ হবে।

আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের ভোটে আমি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি এবং দেশের নজিরবিহীন উন্নয়নে কাজ করেছি।

আমার জীবনের প্রায় পুরোটা জুড়েই রয়েছে বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দেশের উন্নয়ন। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।

প্রশ্ন: অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ আবার জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। এই সমর্থনকে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দেওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি কি বর্তমানে আওয়ামী লীগের রয়েছে?

শেখ হাসিনা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোন কাগুজে সংগঠন নয়। এটি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি। ৭৭ বছরের পথচলায় আওয়ামী লীগ বহুবার হামলার শিকার হয়েছে, বহুবার রক্ত দিয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অন্য কারও ব্যর্থতা বা দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আওয়ামী লীগ নিজের পথ তৈরি করে। জনগণের সমর্থন সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। সেই শক্তি নিয়েই সরকারে থেকে আমরা মানুষের উন্নয়নে নিরলস কাজ করেছি।

বাংলাদেশবিরোধী শক্তি জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। কিন্তু সব চেষ্টা করেও তারা মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখন সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তবতা নিজের চোখে দেখছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। সংখ্যালঘুরা হামলার শিকার হচ্ছে। উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অকল্পনীয় রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মানুষ তুলনা করতে জানে। তারা বোঝে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে।

সাংগঠনিক শক্তির প্রশ্নে বলতে চাই, বাংলাদেশের রাজনীতির অলিগলি আওয়ামী লীগ হাতের তালুর মতো চেনে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এই দল বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের রক্তে মিশে আছে।

আগুনে যেমন সোনা আরও খাঁটি হয়, তেমনি শাসকের নিপীড়ন ও নির্যাতন আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে।

দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ। ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ান। প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করুন। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবেন না।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়। এটি অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ মানুষের সঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারো মামলা হয়েছে বলে খবর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক পুনরুত্থান কতটা সম্ভব?

শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। এটি জনগণের ওপর নির্ভর করে।

অবৈধ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তারা হয়তো আওয়ামী লীগকে একটি সাজানো নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছে। দলের কার্যালয় বন্ধ করেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে দমন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি। সে কারণেই আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। শুধু নেতা-কর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। মায়েরা তাদের সন্তানদের সাহস জোগাচ্ছেন। এগুলোই আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের লক্ষণ।

বর্তমান সরকারের আচরণই প্রমাণ করে, তারা আওয়ামী লীগের শক্তিকে ভয় পায়। সে কারণেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঠেকাতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এটি তাদের দুর্বলতার প্রমাণ।

আওয়ামী লীগকে শক্তি প্রয়োগ করে দমন করা যাবে না। যে দল জনগণের জাগরণ সৃষ্টি করতে পারে, তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে থামানো যায় না। ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ কখনো শাসকের রক্তচক্ষুকে ভয় পায়নি। বরং সেই রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করেই বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু যারা এখন ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা যদি এই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পথও বন্ধ রাখে, তাহলে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ, বেদনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাই আওয়ামী লীগের জন্য নতুন পথ তৈরি করবে।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ তার বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে এবং পাকিস্তানের মতো একটি মডেলের দিকে এগিয়ে গেছে। এই পরিবর্তন বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

শেখ হাসিনা: আমি কখনোই কোনো দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিরোধিতা করিনি। জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই পরিষ্কার ছিল, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ন রেখে বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে সামরিক শাসন, বৈষম্য, নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িকতা এবং গণতন্ত্র অস্বীকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলাম, তার ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই ভিত্তিকে দুর্বল করা মানেই বাংলাদেশের মৌলিক পরিচয়ের ওপর আঘাত হানা।

৫ আগস্টের পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ দেখেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়েছে। সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হয়েছে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। জাতির পিতার বাসভবনে বারবার হামলা চালানো হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হয়েছে। মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। সুফি দরগা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম দুর্বল করে উগ্রবাদ বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এক কথায়, বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা একটি স্থিতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলাম। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় পৌঁছেছিল ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলারে। ২৯ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছিল ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পাঁচ গুণ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল।

আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলাম। খাদ্যশস্য উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। শিশুমৃত্যুর হার চার গুণ কমেছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আট গুণ বেড়েছিল এবং শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছিল। সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছিল ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৩ দশমিক ৪৪ শতাংশে। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা ১৪ হাজার ৯৮৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছি।

আমরা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে মর্যাদার সঙ্গে পুনর্বাসন করেছি। প্রায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ১১৫ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ বাড়ির মালিকানা দিয়েছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মতো মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের বৈশ্বিক রোল মডেলে পরিণত করেছি। আমরা প্রমাণ করেছি, সুযোগ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সৎ নেতৃত্ব পেলে বাঙালি জাতি নিজ শক্তিতেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশকে মুক্ত করতে পারে। জনগণ তা বুঝতে পেরেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই বিজয়ী হবে। ইউনূস এবং বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোও এটি খুব ভালোভাবে জানে। এ কারণেই অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে, দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে ধ্বংস করেছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মডেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশ্ন: এমন একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আপনার জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আপনার পর্দার আড়ালে আলোচনা হয়েছে। এসব দাবির কোনো সত্যতা আছে কি?

শেখ হাসিনা: জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের প্রচারণা চালায়। এ বিষয়ে আমার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার এসব কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়। এগুলো দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত। একইভাবে ন্যায়বিচারও কোনো দান বা করুণা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কোনো নাগরিক, রাজনৈতিক নেতা বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। রাজনৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল, সাজানো মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা সাক্ষ্য কিংবা বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় না।

আমি সবসময় রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তবে সেই সমাধান হতে হবে প্রকাশ্য, নীতিনিষ্ঠ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে নয়। আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া বা অনুগ্রহ চায় না। আওয়ামী লীগ সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার, জনগণের সমর্থন এবং মানুষের শক্তির ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে।

প্রশ্ন: সম্প্রতি মন্দির ও হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা, পাশাপাশি কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ ও হুমকির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

শেখ হাসিনা: বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক। দুঃখজনক হলেও এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশে যখনই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দুর্বল হয়েছে, যখনই সাম্প্রদায়িক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করেছে, তখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন নেমে এসেছে। তাদের বাড়িঘর, উপাসনালয়, ব্যবসা, জীবন ও মর্যাদা সবই হুমকির মুখে পড়েছে।

৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং সুফি সংশ্লিষ্ট কেউই নিরাপদ নন। মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়িঘরে লুটপাট হয়েছে। চাঁদাবাজি, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বাধা অব্যাহত রয়েছে।

সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এটিই প্রমাণ করে, সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সংখ্যালঘুরা কোনো ভোটব্যাংক নয়, তারা বাংলাদেশের সমমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সেই বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন ও উগ্রবাদের জিম্মি হতে দেওয়া যায় না।

যারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায়, মন্দির ভাঙচুর করে কিংবা ধর্মের নামে মানুষকে হুমকি দেয়, তারা শুধু একটি সম্প্রদায়ের শত্রু নয়। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার শত্রু। যখন কোনো নাগরিক তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়ে থাকে, তখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়। আজ অনেক সংখ্যালঘু পরিবার সেই ভয়ের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তার দাবিতে তাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হুমকির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। যারা শান্তিপূর্ণভাবে সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা হয়রানি করা চলবে না বরং তাদের কথা শুনতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

প্রশ্ন: আপনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ব্যক্তিগতভাবে এই সময়টা আপনি কীভাবে কাটাচ্ছেন? আপনার মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হচ্ছে, নাকি নির্বাসিত জীবন বেশ সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে?

শেখ হাসিনা: দীর্ঘ সময় ধরেই আমার জীবনে ব্যক্তিগত বলে আলাদা কিছু নেই। আমি আমার জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। ১৯৭৫ সালে আমি সবকিছু হারিয়েছি। তারপরও আমাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। পরে দেশে ফিরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লড়াই করেছি। আজ আবার বাংলাদেশ একটি কঠিন সময় পার করছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমি সেখানে থাকতে পারছি না এটাই আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। যে মাটিতে আমার বাবা শায়িত, যে দেশের মাটির সঙ্গে আমার পরিবারের রক্ত মিশে আছে, যে দেশের মানুষের জন্য আমি সারাজীবন কাজ করেছি। নিজের দেশের মানুষের থেকে দূরে থাকা, নিজের মাটির গন্ধ থেকে দূরে থাকা, এবং প্রতিদিন আমার নেতা-কর্মীদের কষ্টের খবর শোনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আজ আমার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে অনেক বড় বিষয় হলো বাংলাদেশের মানুষের অধিকার। দূর থেকেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি। আমাদের নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর নিই। নির্যাতিত পরিবারের গল্প শুনি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার সংগ্রাম থেমে নেই।

আমার শক্তি বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং জাতির পিতার আদর্শ। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আমি প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি । আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। জনগণের শক্তিতে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। আমি সেই সংগ্রামের সঙ্গেই আছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকব।

সংগৃহীত ;

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

আপডেট সময়- ০৫:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।

 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আওয়ামী লীগ তাদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। এ সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এ বছরই দেশে ফিরব।’ তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘শক্তি’। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো হামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাত।

☞ বিশেষ সাক্ষাৎকারের প্রশ্নোত্তরগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনি একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং আপনার সমর্থকেরাও আশাবাদী যে, আপনি শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরবেন। এমনকি দলের কয়েকজন নেতা বলেছেন, আপনি এ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এটি কতটা বাস্তবসম্মত?

শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোন বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য।

আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা ন্যায়বিচার নয়। এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অতীতেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। তখনও তারা ব্যর্থ হয়েছে, এবারও ব্যর্থ হবে।

আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের ভোটে আমি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি এবং দেশের নজিরবিহীন উন্নয়নে কাজ করেছি।

আমার জীবনের প্রায় পুরোটা জুড়েই রয়েছে বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দেশের উন্নয়ন। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।

প্রশ্ন: অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ আবার জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। এই সমর্থনকে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দেওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি কি বর্তমানে আওয়ামী লীগের রয়েছে?

শেখ হাসিনা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোন কাগুজে সংগঠন নয়। এটি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি। ৭৭ বছরের পথচলায় আওয়ামী লীগ বহুবার হামলার শিকার হয়েছে, বহুবার রক্ত দিয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অন্য কারও ব্যর্থতা বা দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আওয়ামী লীগ নিজের পথ তৈরি করে। জনগণের সমর্থন সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। সেই শক্তি নিয়েই সরকারে থেকে আমরা মানুষের উন্নয়নে নিরলস কাজ করেছি।

বাংলাদেশবিরোধী শক্তি জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। কিন্তু সব চেষ্টা করেও তারা মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার অন্তর্বর্তী সরকারের পর এখন সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তবতা নিজের চোখে দেখছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। সংখ্যালঘুরা হামলার শিকার হচ্ছে। উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অকল্পনীয় রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মানুষ তুলনা করতে জানে। তারা বোঝে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে।

সাংগঠনিক শক্তির প্রশ্নে বলতে চাই, বাংলাদেশের রাজনীতির অলিগলি আওয়ামী লীগ হাতের তালুর মতো চেনে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এই দল বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের রক্তে মিশে আছে।

আগুনে যেমন সোনা আরও খাঁটি হয়, তেমনি শাসকের নিপীড়ন ও নির্যাতন আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে।

দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আমার বার্তা খুবই সহজ। ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ান। প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করুন। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করবেন না।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়। এটি অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ মানুষের সঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারো মামলা হয়েছে বলে খবর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে দলটির রাজনৈতিক পুনরুত্থান কতটা সম্ভব?

শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। এটি জনগণের ওপর নির্ভর করে।

অবৈধ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তারা হয়তো আওয়ামী লীগকে একটি সাজানো নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছে। দলের কার্যালয় বন্ধ করেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে দমন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি। সে কারণেই আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। শুধু নেতা-কর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। মায়েরা তাদের সন্তানদের সাহস জোগাচ্ছেন। এগুলোই আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের লক্ষণ।

বর্তমান সরকারের আচরণই প্রমাণ করে, তারা আওয়ামী লীগের শক্তিকে ভয় পায়। সে কারণেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঠেকাতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এটি তাদের দুর্বলতার প্রমাণ।

আওয়ামী লীগকে শক্তি প্রয়োগ করে দমন করা যাবে না। যে দল জনগণের জাগরণ সৃষ্টি করতে পারে, তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে থামানো যায় না। ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ কখনো শাসকের রক্তচক্ষুকে ভয় পায়নি। বরং সেই রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করেই বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু যারা এখন ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা যদি এই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পথও বন্ধ রাখে, তাহলে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ, বেদনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাই আওয়ামী লীগের জন্য নতুন পথ তৈরি করবে।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ তার বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে এবং পাকিস্তানের মতো একটি মডেলের দিকে এগিয়ে গেছে। এই পরিবর্তন বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

শেখ হাসিনা: আমি কখনোই কোনো দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিরোধিতা করিনি। জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই পরিষ্কার ছিল, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ন রেখে বজায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে সামরিক শাসন, বৈষম্য, নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িকতা এবং গণতন্ত্র অস্বীকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলাম, তার ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই ভিত্তিকে দুর্বল করা মানেই বাংলাদেশের মৌলিক পরিচয়ের ওপর আঘাত হানা।

৫ আগস্টের পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ দেখেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়েছে। সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হয়েছে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। জাতির পিতার বাসভবনে বারবার হামলা চালানো হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হয়েছে। মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। সুফি দরগা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম দুর্বল করে উগ্রবাদ বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এক কথায়, বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা একটি স্থিতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলাম। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু আয় পৌঁছেছিল ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলারে। ২৯ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছিল ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পাঁচ গুণ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল।

আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলাম। খাদ্যশস্য উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। শিশুমৃত্যুর হার চার গুণ কমেছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা আট গুণ বেড়েছিল এবং শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছিল। সাক্ষরতার হার বেড়ে হয়েছিল ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৩ দশমিক ৪৪ শতাংশে। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা ১৪ হাজার ৯৮৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছি।

আমরা ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে মর্যাদার সঙ্গে পুনর্বাসন করেছি। প্রায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ১১৫ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ বাড়ির মালিকানা দিয়েছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মতো মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের বৈশ্বিক রোল মডেলে পরিণত করেছি। আমরা প্রমাণ করেছি, সুযোগ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সৎ নেতৃত্ব পেলে বাঙালি জাতি নিজ শক্তিতেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশকে মুক্ত করতে পারে। জনগণ তা বুঝতে পেরেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই বিজয়ী হবে। ইউনূস এবং বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোও এটি খুব ভালোভাবে জানে। এ কারণেই অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে, দলটিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে ধ্বংস করেছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মডেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশ্ন: এমন একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আপনার জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আপনার পর্দার আড়ালে আলোচনা হয়েছে। এসব দাবির কোনো সত্যতা আছে কি?

শেখ হাসিনা: জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের প্রচারণা চালায়। এ বিষয়ে আমার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার এসব কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়। এগুলো দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত। একইভাবে ন্যায়বিচারও কোনো দান বা করুণা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কোনো নাগরিক, রাজনৈতিক নেতা বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তা অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। রাজনৈতিক নির্দেশনায় পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল, সাজানো মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা সাক্ষ্য কিংবা বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় না।

আমি সবসময় রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। তবে সেই সমাধান হতে হবে প্রকাশ্য, নীতিনিষ্ঠ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে নয়। আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া বা অনুগ্রহ চায় না। আওয়ামী লীগ সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার, জনগণের সমর্থন এবং মানুষের শক্তির ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে।

প্রশ্ন: সম্প্রতি মন্দির ও হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা, পাশাপাশি কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ ও হুমকির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

শেখ হাসিনা: বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক। দুঃখজনক হলেও এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশে যখনই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দুর্বল হয়েছে, যখনই সাম্প্রদায়িক শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করেছে, তখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন নেমে এসেছে। তাদের বাড়িঘর, উপাসনালয়, ব্যবসা, জীবন ও মর্যাদা সবই হুমকির মুখে পড়েছে।

৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং সুফি সংশ্লিষ্ট কেউই নিরাপদ নন। মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়িঘরে লুটপাট হয়েছে। চাঁদাবাজি, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বাধা অব্যাহত রয়েছে।

সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনও একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এটিই প্রমাণ করে, সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সংখ্যালঘুরা কোনো ভোটব্যাংক নয়, তারা বাংলাদেশের সমমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সেই বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন ও উগ্রবাদের জিম্মি হতে দেওয়া যায় না।

যারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায়, মন্দির ভাঙচুর করে কিংবা ধর্মের নামে মানুষকে হুমকি দেয়, তারা শুধু একটি সম্প্রদায়ের শত্রু নয়। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার শত্রু। যখন কোনো নাগরিক তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়ে থাকে, তখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়। আজ অনেক সংখ্যালঘু পরিবার সেই ভয়ের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তার দাবিতে তাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হুমকির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। যারা শান্তিপূর্ণভাবে সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা হয়রানি করা চলবে না বরং তাদের কথা শুনতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

প্রশ্ন: আপনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ব্যক্তিগতভাবে এই সময়টা আপনি কীভাবে কাটাচ্ছেন? আপনার মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হচ্ছে, নাকি নির্বাসিত জীবন বেশ সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে?

শেখ হাসিনা: দীর্ঘ সময় ধরেই আমার জীবনে ব্যক্তিগত বলে আলাদা কিছু নেই। আমি আমার জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। ১৯৭৫ সালে আমি সবকিছু হারিয়েছি। তারপরও আমাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। পরে দেশে ফিরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লড়াই করেছি। আজ আবার বাংলাদেশ একটি কঠিন সময় পার করছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে আমি সেখানে থাকতে পারছি না এটাই আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। যে মাটিতে আমার বাবা শায়িত, যে দেশের মাটির সঙ্গে আমার পরিবারের রক্ত মিশে আছে, যে দেশের মানুষের জন্য আমি সারাজীবন কাজ করেছি। নিজের দেশের মানুষের থেকে দূরে থাকা, নিজের মাটির গন্ধ থেকে দূরে থাকা, এবং প্রতিদিন আমার নেতা-কর্মীদের কষ্টের খবর শোনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আজ আমার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে অনেক বড় বিষয় হলো বাংলাদেশের মানুষের অধিকার। দূর থেকেও আমি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি। আমাদের নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর নিই। নির্যাতিত পরিবারের গল্প শুনি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার সংগ্রাম থেমে নেই।

আমার শক্তি বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং জাতির পিতার আদর্শ। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আমি প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি । আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। জনগণের শক্তিতে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। আমি সেই সংগ্রামের সঙ্গেই আছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকব।

সংগৃহীত ;