ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
মাগুরায় প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে মারধর মেহেরপুরে ‘বই’ দেখে পরীক্ষা দেয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিককে মারধর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজটে নাজেহাল ফেসবুকে এআই ‘চোর-পুলিশ’ ছবিতে সয়লাব, ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে সিলেট-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জের সার্বিক দায়িত্ব পেলেন এক হুইপ দুই মন্ত্রী কক্সবাজারে র‍্যাবের চেকপোস্টে এক লাখ ইয়াবা ও ব্যবহৃত পিকআপসহ গ্রেপ্তার-২ বাসসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী ৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঢাকাসহ পুরো দেশ অবৈধ ৩১ অ্যাপে লেনদেন না করতে সতর্ক করল গোয়েন্দা সংস্থা: বিএফআইইউ চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ টাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে সরকার আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সিইসির না’গঞ্জ সদর ইউএনও’র প্রচেষ্টায় দখলমুক্ত তিন কোটি টাকা মূল্যমানের সরকারি সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিলেন না’গঞ্জের সাবেক মন্ত্রী গাজী ও কাউন্সিলর মতি নারায়ণগঞ্জের পূর্ণ তদারকির দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ আপিলের শর্তে জামিন আবেদন নামঞ্জুর, প্রতারণার মামলার সাজায় কারাগারে বিদিশা নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫; ভারতীয়সহ নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক টেকনাফে কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৫ হাজার ইয়াবা জব্দ সাগর-পাহাড়ের হাতছানি, পর্যটনের নতুন সম্ভাবনায় টেকনাফ আজ ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার যে কারনে গ্রেপ্তার হলেন বিদিশা  নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: এবার ছুরিকাঘাতে পরিবহন শ্রমিক খুন  টেকনাফে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও নিপীড়ন দিবসে সমাবেশ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভুয়া পুলিশসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার-২৪ টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে বিদেশি এসএমজি ও ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক টেকনাফে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণে আইস ও ইয়াবাসহ আটক-১ রংপুরে একই পরিবারের ৪ জন খুন: দুই আসামির স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ সদস্যের সৎকার সম্পন্ন নারায়ণগঞ্জে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা সহায়তায় পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ইউএনও  রূপগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে নারীকে আটকে রেখে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার-৩ না’গঞ্জ আদালত চত্বরে হত্যা মামলার আসামি সিফাতকে পুলিশের সামনেই বিবস্ত্র করে গণপিটুনি রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আবু আউয়াল বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে মালবাহী জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ-২২ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের  উদ্বোধন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ মিডটাউন ইনস্টলেশন অনুষ্ঠিত ডিএমপির তেজগাঁও ও পল্টন থানার দুই ওসি প্রত্যাহার রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের শিশুসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যত বড় নেতা হোক ছাড় নয়: শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, ৩০ যাত্রীকে জানালা ভেঙে উদ্ধার এই প্রথম এক মন্ত্রণালয়ে ২ প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে দেশীয় মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক নতুন ৪ মন্ত্রীসহ ২ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বুলবুল হত্যাকান্ড: সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ আটক-৯ এনবিআরে রদবদল, সিআইসির প্রথম নারী ডিজি সেলিনা সুলতানা না’গঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ প্রেমিক ও নিজ বাবার সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া না’গঞ্জের সিভিল সার্জন মুশিউর রহমানকে ওএসডি, নতুন দায়িত্বে ডা. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা খুন মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ডিসি রায়হান কবির শতবর্ষী বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী হাসান আলীর পাশে রূপগঞ্জের মানবিক ইউএনও আড়াইহাজারে পুকুরে ডুবে একসাথে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার একযোগে ফের তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ আর নেই ‘এআই’ অটোফাইন সিস্টেম’ চালুর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-৪ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হারুন র‍্যাবের জালে টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ আজ থেকে ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’ ফের বদলে গেলো এয়ারটেল, এবার ‘সার্কেল’ নামে নবযাত্রা দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে সাক্ষর চূড়ান্ত, কার বেতন কত বাড়ল শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড নারায়ণগঞ্জ জেলা নাজিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন-মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত একটি কুচক্রী মহল ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে নতুন ‘এসআরবি’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন, থাকবে পুলিশের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু; ইউএনও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্কাউটসের উদ্যোগে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত কোটি টাকার প্রকল্পের মাঝেও পুড়ছে সেন্টমার্টিনের কেয়াবন ভারতীয় ভিসার নামে সারাদেশে স্লট বাণিজ্যের সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা  নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণকারী ৩ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ আটক-১১ মৌলভীবাজারের মাথিউরা চা বাগানে দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রূপগঞ্জে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-১০, গ্রেপ্তার-১ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট ১ বছরের মধ্যে সমাধান সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত-১ আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ আড়াইহাজারে অতিরিক্ত মদপানে দুই যুবকের করুন মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ, আটক-২ ফেনীর বহুল আলোচিত চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি টেকনাফে গ্রেপ্তার র‍্যাব পরিবর্তন করে এসআরবি: খসড়া আইনের মতামতে মিলছে না সাড়া ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’ ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য,নতুন রণতরি, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার কক্সবাজারে অপহরণ মামলায় কিশোরী ভিকটিম উদ্ধার, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে ৯৫০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন এসএসসি’তে শতভাগ ফেল করা, ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওরে পুরোনো পরিবেশে ফিরে নিতে চায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৫:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ৫ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। মিঠাপানির এ হাওর ঘিরে রয়েছে অনেক ঐতিহ্য। জলজ, মৎস্য, কৃষি এই তিন উপাদানের জন্য এক সময় হাওরটি বিখ্যাত হলেও জলজ উদ্ভিদ ছাড়া মৎস্য ও কৃষিতে সফলতা রয়েছে হাওরের বুকে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, এশিয়ার অন্যতম ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। ছোটবড় মিলে প্রায় ২৩৬টি বিল রয়েছে এই হাওরে। অসংখ্য খালগুলো দিয়ে কৃষকরা পানি সেচ করে কৃষি চাষ করেন। এসব খাল, বিলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষা মৌসুমে খাল বিলের পানিতে একাকার হয়ে যায়। শীতকালে প্রচুর বিদেশি পাখির আগমন ঘটে এই হাওরে। বরফে ঢাকা পশ্চিমা দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাখিগুলো আসে। শীতকমে গেলে তারা আবার ও তাদের দেশে ফিরে যায়।

বোরো আমন চাষের জন্য হাকালুকি হাওর প্রসিদ্ধ। শীতের কনকনে শীতে কৃষক ভোরে সূর্যের আলো ছড়ার সাথে সাথে হাওরে গিয়ে কৃষিকাজ করেন।

বর্ষাকালে হাওরের সবটুকুজুড়ে পানি আর পানি। সেই পানিতে বাস করেন হাজার রকমের ছোট বড় দেশীয় মাছ। বর্ষা মৌসুম চলে গেলে পানি কমে যাওয়ার কারণে মাছগুলো আশ্রয় নেয় ছোট বড় বিলগুলোতে। এসব বিলগুলো ইজারা দিয়ে কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে বাংলাদেশ সরকার।

মৎস্য, কৃষি কিংবা অতিথি পাখির কোলাহলে ভরপুর হাকালুকিতে একটা সময় বনাঞ্চল ছিল। প্রায় ৩০-৪০ বছর পূর্বেও হাকালুকি হাওরের বনে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ছিল। এসবের মধ্যে মেছো বিড়াল (মেছো বাঘ) শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বসবাস ছিল। হাওরের মধ্যে হিজল, করচের বন ছিল পাহাড়ি জঙ্গলের মত। এসব বনের গাছের নিচে মাছগুলো ডিম দিত, যাতে শিকারিরা সহজে জাল ফেলে পোনা মারতে না পারে। হাওরগুলো নিলামে দেওয়ার কারণে ইজারাদাররা এসব বন কেটে বিলে কাঁটা হিসেবে ব্যবহৃত করার কারনে আগেরমত সেই বনাঞ্চল নেই হাওরে। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে কাঁটা হয় এসব গাছ। শুধু ২০২১ সালে বাঁধ নির্মাণের অজুহাতে এক মালাম বিল থেকে প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটা হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৫০ হাজার হিজল, করচ ও বরুন গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেওয়ার কারণে পূর্বেরমতো ইজারাদাররা সহজে গাছ কাটতে পারেন না। প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষা, মাছের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ বনাঞ্চল রক্ষার দাবি এলাকাবাসীর।

হাওরপাড়ের বসবাসকারী বাসিন্দারা বলেন, হাওরে আগে মাছের পাশাপাশি অনেক গাছ ছিল। আমরা মাছ মারতে গেলে সহজে জাল ফেলা যেত না। কিছুদিন আগে থেকে এসব গাছ রোপণ করার কারণে কিছুটা সৌন্দর্য ফিরে আসছে।

সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, একটা সময় হাকালুকি হাওরে প্রচুর জলজ গাছ ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের আওতা থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাওরের ভূমির দায়িত্ব চলে যায়। এরপর থেকে তদারকির অভাবে গাছ কেটে জমি তৈরির কারনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের আওতায় সেই পুরনো বনাঞ্চল ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের সফলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার ও জলজ বৃক্ষে হাকালুকি তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে এ কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন।

পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, হাকালুকি হাওরে জলজ ও হিজল-করচসহ অনেক বনের বৈচিত্র্যময় গাছপালা ছিল। এগুলো অনেকটাই উজাড় হয়ে গেছে। এখন যারা এই উদ্যোগ নিয়েছে নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু তখনই এটিই পরিপূর্ণতা পাবে যখন আগের মতো গাছগুলো দেখা যাবে। এ ছাড়া আর অজুহাতে কোন

দুষ্কৃতিকারীরা এই গাছগুলো কাটতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

হাকালুকি হাওর এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হওয়ায় এখানে হিজল-তমাল জাতীয় জলাভূমি উপযোগী গাছের আধিক্য রয়েছে যা মাছের প্রজনন ও আশ্রয়স্থল।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, সিএনআরএস যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটি খুব ভালো। হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি এ ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ প্রশংসনীয়। এ ছাড়া আমাদের সাথে আলাপ করে এসবের পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওরে পুরোনো পরিবেশে ফিরে নিতে চায়

আপডেট সময়- ০৫:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ৫ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। মিঠাপানির এ হাওর ঘিরে রয়েছে অনেক ঐতিহ্য। জলজ, মৎস্য, কৃষি এই তিন উপাদানের জন্য এক সময় হাওরটি বিখ্যাত হলেও জলজ উদ্ভিদ ছাড়া মৎস্য ও কৃষিতে সফলতা রয়েছে হাওরের বুকে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, এশিয়ার অন্যতম ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। ছোটবড় মিলে প্রায় ২৩৬টি বিল রয়েছে এই হাওরে। অসংখ্য খালগুলো দিয়ে কৃষকরা পানি সেচ করে কৃষি চাষ করেন। এসব খাল, বিলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষা মৌসুমে খাল বিলের পানিতে একাকার হয়ে যায়। শীতকালে প্রচুর বিদেশি পাখির আগমন ঘটে এই হাওরে। বরফে ঢাকা পশ্চিমা দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাখিগুলো আসে। শীতকমে গেলে তারা আবার ও তাদের দেশে ফিরে যায়।

বোরো আমন চাষের জন্য হাকালুকি হাওর প্রসিদ্ধ। শীতের কনকনে শীতে কৃষক ভোরে সূর্যের আলো ছড়ার সাথে সাথে হাওরে গিয়ে কৃষিকাজ করেন।

বর্ষাকালে হাওরের সবটুকুজুড়ে পানি আর পানি। সেই পানিতে বাস করেন হাজার রকমের ছোট বড় দেশীয় মাছ। বর্ষা মৌসুম চলে গেলে পানি কমে যাওয়ার কারণে মাছগুলো আশ্রয় নেয় ছোট বড় বিলগুলোতে। এসব বিলগুলো ইজারা দিয়ে কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে বাংলাদেশ সরকার।

মৎস্য, কৃষি কিংবা অতিথি পাখির কোলাহলে ভরপুর হাকালুকিতে একটা সময় বনাঞ্চল ছিল। প্রায় ৩০-৪০ বছর পূর্বেও হাকালুকি হাওরের বনে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ছিল। এসবের মধ্যে মেছো বিড়াল (মেছো বাঘ) শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বসবাস ছিল। হাওরের মধ্যে হিজল, করচের বন ছিল পাহাড়ি জঙ্গলের মত। এসব বনের গাছের নিচে মাছগুলো ডিম দিত, যাতে শিকারিরা সহজে জাল ফেলে পোনা মারতে না পারে। হাওরগুলো নিলামে দেওয়ার কারণে ইজারাদাররা এসব বন কেটে বিলে কাঁটা হিসেবে ব্যবহৃত করার কারনে আগেরমত সেই বনাঞ্চল নেই হাওরে। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে কাঁটা হয় এসব গাছ। শুধু ২০২১ সালে বাঁধ নির্মাণের অজুহাতে এক মালাম বিল থেকে প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটা হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৫০ হাজার হিজল, করচ ও বরুন গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেওয়ার কারণে পূর্বেরমতো ইজারাদাররা সহজে গাছ কাটতে পারেন না। প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষা, মাছের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ বনাঞ্চল রক্ষার দাবি এলাকাবাসীর।

হাওরপাড়ের বসবাসকারী বাসিন্দারা বলেন, হাওরে আগে মাছের পাশাপাশি অনেক গাছ ছিল। আমরা মাছ মারতে গেলে সহজে জাল ফেলা যেত না। কিছুদিন আগে থেকে এসব গাছ রোপণ করার কারণে কিছুটা সৌন্দর্য ফিরে আসছে।

সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, একটা সময় হাকালুকি হাওরে প্রচুর জলজ গাছ ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের আওতা থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাওরের ভূমির দায়িত্ব চলে যায়। এরপর থেকে তদারকির অভাবে গাছ কেটে জমি তৈরির কারনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের আওতায় সেই পুরনো বনাঞ্চল ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের সফলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার ও জলজ বৃক্ষে হাকালুকি তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে এ কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন।

পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, হাকালুকি হাওরে জলজ ও হিজল-করচসহ অনেক বনের বৈচিত্র্যময় গাছপালা ছিল। এগুলো অনেকটাই উজাড় হয়ে গেছে। এখন যারা এই উদ্যোগ নিয়েছে নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু তখনই এটিই পরিপূর্ণতা পাবে যখন আগের মতো গাছগুলো দেখা যাবে। এ ছাড়া আর অজুহাতে কোন

দুষ্কৃতিকারীরা এই গাছগুলো কাটতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

হাকালুকি হাওর এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হওয়ায় এখানে হিজল-তমাল জাতীয় জলাভূমি উপযোগী গাছের আধিক্য রয়েছে যা মাছের প্রজনন ও আশ্রয়স্থল।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, সিএনআরএস যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটি খুব ভালো। হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি এ ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ প্রশংসনীয়। এ ছাড়া আমাদের সাথে আলাপ করে এসবের পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করছি।