ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
ঢাকার পর এবার নারায়ণগঞ্জে মিললো গুলির খোসাসহ অত্যাধুনিক পেনগান ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশে কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশীর মরদেহ হস্তান্তর টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার প্রথমার্ধে পুরো মাঠে ছন্নছাড়া ব্রাজিল, সুশৃঙ্খল মরক্কোর ১-১ গোলে সমতা ১০ জেলার মানুষ আজ থেকে পাচ্ছে আইসিইউ না’গঞ্জে ফের আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা, এবার শিকার পুলিশ ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভিসির দায়িত্বে মাসুদুজ্জামান নাসিক বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার অকাল মৃত্যু টেকনাফে পুলিশের অভিযানে, ২৪ ঘন্টা মধ্যে ৫ অপহৃত উদ্ধার বাতিল হচ্ছে ৬ বিষয়ে অনার্স, যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কোর্স রূপগঞ্জে ওজু শেখানোর নামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করবে: মির্জা ফখরুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত মতিঝিলে দিনের আলোয় জনসম্মুখে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই শিশু রামিসা ধ/র্ষ/ণ-হ/ত্যা/য় ঘাতক দম্পতি সোহেল-স্বপ্নার মৃ/ত্যু/দণ্ড অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নতুন নীতিমালা করছে সরকার লক্ষ্মীপুর জেলায় ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করে গেজেট প্রকাশ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে পরিচালক পদে জয় পেয়েছেন মাসুদুজ্জামান আজ ৭ই জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস বক্তাবলী-আলীরটেক’র মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর আহ্বান সদর ইউএনও’র বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে লড়ছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান প্রিয় দল ব্রাজিলের শাড়িতে ‘হেক্সা’র বার্তা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিমি ইরানে আবারও মার্কিন হামলা,  আইআরজিসির পাল্টা আক্রমণ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন মৌলভীবাজারে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যসহ ১৭ আসামি গ্রেপ্তার কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির সঙ্গে পাহারায় গ্রামবাসী ফিফা বিশ্বকাপের লাইভ ম্যাচ দেখাবে দেশীয় তিন টিভি চ্যানেল পদ্মায় পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস উদ্ধার, কোনো হতাহত নেই ফের পদ্মা নদীতে পরে ডুবলো যাত্রীবাহী বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সিআইডি প্রধান আলী আকবর খানের পদত্যাগ রেখা গুনের প্রয়াণে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদের গভীর শোক টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৪ আইভীর বাড়ির সামনে পুলিশের কঠোর নজরদারি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাই শেষে, নারায়ণগঞ্জে ফিরে যেতেন চক্রটি অসহনীয় দাবদাহে পুড়ছে দেশ, অতিষ্ঠ জনজীবন দীর্ঘ এক বছর পর কারামুক্ত হয়ে নিজ কুটিরে ফিরলেন আইভী মার্কিন শিশু অপহরণচেষ্টা: টেকনাফে গ্রেপ্তার-৩ জুড়ীতে বজ্রপাতে প্রান গেল ১৪টি প্রানীর কুষ্টিয়ায় বালু অপসারণকালে দুর্বৃত্তদের গু‌লি, ৪ শ্রমিক আহত মায়ের প্রতি অবহেলা: দায়িত্ব থেকে সরানো হলো সেই যুগ্ম সচিবকে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র সাথে জেলা মহিলা পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অবশেষে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত সাবেক মেয়র আইভী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মহানগরের বাইরে সরানোর চিন্তাভাবনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলি আকবর শিগ্রই মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ, আসতে পারেন যেসব জেলা থেকে রাজধানীজুড়ে অব্যাহত থাকবে তীব্র দাবদাহ এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা খানজাহান আলী মাজারের দিঘিতে এবার এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে কুমির বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন আসছে বাজেটে অটোরিকশা থেকে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের চিন্তা রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা দেশে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম নারায়ণগঞ্জে সোমবার ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না কয়েক এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ কুষ্টিয়ায় ট্রেনের ছাদ থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে একই দিনে দুই শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যু না’গঞ্জে ‘‘জলবায়ু সহিষ্ণু ক্যাম্পাস উদ্যোগ’’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ বিতরণ টেকনাফে ১৬-এপিবিএন পরিদর্শনে অতিরিক্ত আইজিপি নারায়ণগঞ্জে যাত্রীবেশে গলাকেটে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার-১ শনিবারও খোলা থাকবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, লেনদেনের সময় কখন শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ৩দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ১৩ হাটের ইজারা পেলেন যাঁরা নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলায় বিশৃঙ্খলা ছাড়াই হাটের ইজারা সম্পন্ন, প্রশংসিত ইউএনও সারাদেশে একযোগে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ​সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা: প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত নিষ্পত্তির মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে: রায়হান কবির নারায়ণগঞ্জ সদরে এবার ১৩ হাটের বিপরীতে ১৪৮ দরপত্র বিক্রি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক: সিইসি আসন্ন ঈদুল আজহায় এবার সংবাদপত্রে ছুটি ৫ দিন চেম্বার আদালতেও আইভির জামিন, মুক্তিতে এখন আর বাধা নেই ঈদুল আজহার তারিখ জানাল সৌদিআরব, বাংলাদেশে কবে আগামী ১৯ মে থেকে নারায়ণগঞ্জে শুরু ‘ভূমিসেবা মেলা নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন প্রিমিয়ার ব্যাংকে না’গঞ্জ শাখায় বিশাল অংকের ‘অর্থ আত্মসাত করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা টেকনাফে ৪’শ জেলে পরিবারের মাঝে বিজিবির খাদ্য সহায়তা টেকনাফ থানা পরিদর্শনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ব্রিটেনের কাউন্সিলর নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ৮জন নির্বাচিত  নারায়ণগঞ্জে ডিশ ব্যবসায়ী নাছির হত্যা মামলায় আসামি-১০, গ্রেপ্তার-৪ যোগদানের মাত্র সাত দিনের মধ্যে মৌলভীবাজার এসপি প্রত্যাহার মৌলভীবাজারে নিখোঁজের তিনদিন পর মিললো যুবকের কাঁটা লাশ নারায়ণগঞ্জে লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: পাঁচজনের কেউই আর বেচে নেই গাজীপুরে পাঁচ খুন: হত্যাকারী সেই ফোরকানকে নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর মোড় চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজায় নিষিদ্ধ আ’লীগের মিছিল, স্লোগান টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে ৩২ হাজার ইয়াবা জব্দ ঢাকাগামী লবণের ট্রাকে ১ লাখ ইয়াবা, আটক-২ নারায়ণগঞ্জে আবারও খূন: এবার ডিশ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা কমলগঞ্জে শুক্লা সিনহা নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতা শাকের মাঝি আটক কুষ্টিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ছিনতাই সাবেক মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

কলকাতার স্বপ্নের জাদুকর ট্রাম তুলে দেওয়ার অশনি সংকেত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৭:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,
কলকাতা প্রতিনিধি।।
সারা বিশ্বে যতোই আধুনিকতার ছোঁয়াচ লাগুক না কেন, যতোই দ্রুতগামী যানবাহন, বুলেট ট্রেন, মনোরেল,স্পুটনিক, রকেট এসে সাড়া জাগিয়ে দিক না কেন, ভারতে ব্রিটিশের বপন করা ট্রাম যুগে যুগে বাঙালির স্বপ্নে, চলনে,ভাবনায় জড়িয়ে রয়েছে। প্রেম,ভালবাসা, আড্ডা, নিরাপদে যাত্রার একমাত্র সহায়ক ছিল এই ট্রাম।ট্রাম অনুভূতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে।
সেই স্কুল জীবনের শুরু থেকেই ট্রামে শুরু হয়েছে পথ চলা।
ট্রেনের সেই হো হুস শব্দ করে স্টার্ট করা , তারপর অংআং শব্দ করে গতি নেয়া একটা স্বপ্নের মতো মনে হয় আজও।
ট্রাম – সেকেন্ড ক্লাস কামরা । এটাতে কোনো পাখা নেই ।
ছোটবেলার বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ১ নম্বর , ২ নম্বর , ১১ নম্বর ট্রামে করে হিন্দু স্কুলে যাওয়ার স্মৃতিটা মনে পাকাপাকি ভাবে গেঁথে আছে ।অফিস টাইমে ওয়ান-ওয়ে হয়ে যাওয়া কলেজ স্ট্রীট ধরে সোজা স্কুলের গেট অবধি  পৌঁছে যাওয়ার  আর কোনো উপায়ই ছিল না । বাবা মাও নিশ্চিন্তে ট্রামে তুলে দিয়ে কাজে চলে যেতেন । জানতেন কন্ডাক্টর কাকু ঠিকই আমাদের সাবধানে নামিয়ে দেবেন । ফেরার সময়ও একই রুটিন । স্কুলের কোনো স্টাফ ট্রামে তুলে দিত ।  কোনো রাস্তা পার হতে হত না । বাস স্টপে নেমে এক ছুটে সোজা বাড়ি ।
অফিস টাইমে ভয়াবহ ভিড় হত সেই ট্রামে । আমরা অবশ্যই কোনো কাকুর কোলে বা জানলার ধারে । সৌজন্যে কন্ডাক্টর কাকু । সেই ট্রামের জানলা দিয়ে দেখতাম বেনারসী প্যালেস , সংস্কৃত বুক ডিপো , নজরুল ইসলাম এর ছবি  সহ অগ্নি বীণার মুরাল  ( ডি. এম. লাইব্রেরি ) , কখনো স্বামীজীর বাড়ির তলায় অধুনা লুপ্ত চাচার হোটেল থেকে প্রেমিকার রুমালে মুখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসছে কলেজ ফেরত প্রেমিক ।  আসল ফাউল কাটলেট পাওয়া যেত সে দোকানে । পুরু মুরগির ফিলে ভর্তি গোলাকার স্বর্গীয়  কাটলেট- থেকে একটা  হাড় সুকৌশলে বেরিয়ে আছে । সঙ্গে প্রমাণ সাইজের চাকা চাকা গোলাকৃতি একটুকরো করে পেঁয়াজ , টমেটো ও শসা । শ্রীমানি মার্কেটের উল্টো দিকে সেই চৌধুরী ওয়াচ কোম্পানির গাড়িবারান্দা ওলা বিশাল ঘড়ির দোকানটা, যার বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং এ চা বাগানে নিবিড় মনে  চা পাতা  বাছাতে ব্যস্ত এক রমণী কে দেখা যেত । একটি আধুনিক ঘড়ি তার হাতে শোভা পাচ্ছে । আর্য্য সমাজ , ব্রাহ্ম সমাজের বড় বড় বাড়িগুলো দেখতে দেখতে কখন যে স্কুলের গেটে পৌঁছে যেতাম খেয়ালই নেই । কন্ডাক্টর কাকু মৃদু প্রশ্রয় মিশ্রিত বকুনি দিয়ে নামিয়ে দিতেন । কখনো ফেরার সময় ওয়াই এম সি এর ক্যান্টিন থেকে ঘুগনি খেতে খেতেই ছুট । এপার থেকে চিৎকার করে ডাকলে গাড়ি দাঁড়িয়ে যেত । ড্রাইভার কাকু ধমক দিয়ে তুলে নিতেন । পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়েও বকুনি খেতে  হত মাঝে মাঝেই । ট্রামের ভেতরে একটা খাপ মত। তাতে একটা তারিখ লেখা কার্ড থাকত । সেটা বোধ হয় অল ডে পাস বা মান্থলি করার তারিখ । স্কুলের অনেক বন্ধু কেই দেখেছি পকেট থেকে একটা মান্থলি বের করে কন্ডাক্টর কাকু কে দেখিয়ে তার একধার থেকে দৈনিক একটা করে  কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দিতে  । সেই ট্রামে আবার মাঝে মাঝে চেকার উঠত । তার কাজ ছিল টিকিট টা দেখে আরেকটি পাঞ্চ করে ফেরত দেওয়া । দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরায় পাখা থাকত না । ভাড়াও একটু কম পড়ত যত দূর মনে পড়ে।
আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে জীর্ণ বিবর্ণ হয়েও  সেসবের কিছু কিছু আজও টিকে আছে ।  নেই শুধু চাচার হোটেল আর বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ছাড়া ট্রাম গুলো । স্বামীজীর বাড়িটা সংস্কার হওয়ার সময় উল্টো ফুটে স্থানান্তরিত হয়েছিল চাচার হোটেল। তারপর থেকে আর বিশেষ চলেনি বোধ হয় । শেষ বছর দুয়েক আগে সরস্বতী পুজোয় কাটলেট খেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল ঠিক ভালো চলছে না । তারপর তো বন্ধ ই দেখি । এদিকে বছর কয়েক আগে বেলগাছিয়া ব্রিজের ট্রাম লাইনের  কাজ শুরু হল । জানতাম লাইন সংস্কার হচ্ছে । কিন্তু তারপর তো আর  চালুই  হল না । আগেই বন্ধ হয়ে গেছিল গ্যালিফ স্ট্রীট  ট্রাম ডিপো । বেলাগাছিয়া ডিপোর ট্রাম চালু না হলে চির তরে হারিয়ে যাবে শ্যামবাজার থেকে শিয়ালদা গামী ট্রাম ।  ক্লাস সিক্স-সেভেন  নাগাদ একবার বর্ষা কালে বিধান সরণি তে ট্রাম বন্ধ হয়ে খুব মুশকিলে পড়েছিলাম । তখন ভরসা ছিল গ্যালিফ স্ট্রীট ডিপোর ১২/১৫ নম্বর । সে ট্রাম আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড হয়ে শিয়ালদা জগৎ সিনেমার সামনে থেকে বেঁকে কলেজ স্ট্রীট হয়ে হাওড়া ব্রিজের তলার ডিপোতে চলে যেত যতদূর মনে পড়ে ।
আবছা মনে পড়ে।  হয়ত হাওড়া ব্রিজের ওপর ট্রাম চলতে ও আমি দেখেছি । তখন স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে বোধ হয়। বিনুর স্বপ্নে দেখা মস্ত বিছের মত ট্রামের এলীগরী ভালোই অনুভূত হয়েছিল ।  কতদিন দেখেছি গ্যালিফ স্ট্রীট এ রোববারের  শখের বাজারের অসহ্য ভিড়ের মধ্যে ডিপো থেকে আধপথ বেরিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়  স্থাণু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মহাকালের মত একটি ট্রাম । ফ্যান্সি মার্কেট থেকে বেড়িয়ে ময়দানের ঘাস চিরে ছুটে গেছি ট্রামে করে ।বাগবাজার লকগেটের পাশের ডিপো টা বোধ হয় চালু ছিল কিছুদিন আগেও । বন্ধুরা মিলে ডিপোর পাশের গেট দিয়ে ঢুকে যেতাম লকগেটের কাছে । আড্ডা দিতে দিতে সূর্যাস্ত , যতক্ষণ না মশার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে উঠতে হচ্ছে । বেরিয়েই চলন্ত ট্রামে একলাফে উঠে পড়তাম দীর্ঘ পথশ্রমের খাটনি খানিকটা লাঘব করার ধান্দায় ।
পি সি সরকারের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে ট্রাম যেত শুনেছি গড়িয়া হাট ডিপো তে । জানিনা সে এখন চলে কিনা । সম্ভবত রবীন্দ্র সরণী বা অন্য কোনো বেশ প্রাচীন ট্রাম লাইনের ধার ঘেষে ল্যাম্প পোস্ট এর মত  ব্রিটিশ স্থাপত্যের তোরণ থাকত , যা থেকে  ট্রামের তার ঝুলে থাকত । আজকের মত পুরোপুরি ওভারহেড ইলেকট্রিক কেবলিং নয় সেটা  । পুরোনো লোহার সি টি সি র স্থায়ী ট্রাম স্টপেজ বোর্ড । লেখা – এখানে ট্রাম থামবে । ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কাছে অনেকদিন অবধি ছিল ট্রামের ঘোড়ার জল খাওয়ার জায়গা । সেটাই বোধ হয় এখন একটা বড় পানীয় জলের কলতলা আর মুক্ত স্নানাগার । এরকম অনেক জলের আধার শুনেছি রাস্তায় থাকত ঘোড়ায় চলা ট্রামের ধুলো ওড়া কমানোর জন্য আর ট্রাম লাইনকে মসৃন রাখার জন্য । নোনাপুকুরে ছিল ট্রাম কোম্পানির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র । পরবর্তী কালে খরচা কমানোর জন্য  কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই এর সাথে চুক্তি করার পর সে ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় ।
ট্রাম কোম্পানি ট্রাম কে বাঁচানোর , জনপ্রিয় করার অনেক চেষ্টা করছে ।  আগেকার মত দ্বিতীয় শ্রেণী বলে এখন আর কিছু নেই । একটি রঙিন ট্রাম খাদ্য পণ্যের বিপণনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে । ভাড়া লাগবে না ।  চড়ে বসলেই হল। সুন্দর শহরের বুকে এক টুকরো জয় রাইড হয়ে যাবে ।সঙ্গে মিলবে নানা রকমের মুখরোচক খাবার । আছে একটি নামি জামা কাপড়ের সংস্থার বিপণন ট্রাম । আস্ত একটা দু কামরার শপিং মল সেটি । শহর জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ছোট এক কামরার সুসজ্জিত শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাম । আছে গোটা দিন ট্রাম ভাড়া করে ঘোরার ব্যবস্থা । তখন মাধ্যমিক । রোববার করে মাঝে মাঝেই দেখতাম চিতপুর থেকে গ্রে স্ট্রীট ধরে ছুটে যাচ্ছে হেরিটেজ সফরের ট্রাম । বছর খানেক আগে একবার পুজোর সময় বোধ হয়, দেখেছিলাম বয়স্কদের পুজো ঘোরানোর জন্য বিশেষ ট্রাম । ধর্মতলায় ট্রাম ডিপোর একটি ট্র্যাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আছে ট্রাম জাদুঘর স্মরণিকা ।  পরিবেশ বান্ধব এই যান জড়িয়ে আছে শহরের প্রতিটি শিরায় ধমনীতে । শ্যামবাজার থেকে ট্রামে উঠে ধর্মতলা হয়ে এসপ্লেনেডে যেতাম। মনুমেন্ট এর পাশ দিয়ে হেঁটে শহরের শোভা দেখতে দেখতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে যেতাম। ফুচকা খেতে খেতে পার্কে ঘুরতাম। আবার ট্রামে চেপে ফিরে আসতাম শ্যামবাজারে। সেগুলো আজ সেলুলয়েডের মতো ভেসে ওঠে। বেঁচে থাকুক ট্রাম । বেঁচে থাকুক ভালোবাসা ।
পুনশ্চ : কয়েক বছর আগের লেখা । এর মধ্যে অনেক ট্রাম রুট বন্ধ হয়ে গেছে । শ্যামবাজার ডিপো থেকে ধর্মতলা গামী  ঐতিহ্যবাহী ৫ নম্বর ট্রাম ও মাঝে বন্ধ ছিল । আবার চালু হয়েছে ।পরিসেবা আগের মত নেই। অনেক দাঁড়ালে কদাচিৎ একটার দেখা মেলে। আর এখন তো শুনছি যাত্রী পরিবাহী ট্রামই নাকি আর থাকবে না। পুজো পরিক্রমার ট্রাম ও এবার আর চলবে না । তবুও চাইব । বেঁচে থাকুক ট্রাম ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

কলকাতার স্বপ্নের জাদুকর ট্রাম তুলে দেওয়ার অশনি সংকেত

আপডেট সময়- ০৭:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,
কলকাতা প্রতিনিধি।।
সারা বিশ্বে যতোই আধুনিকতার ছোঁয়াচ লাগুক না কেন, যতোই দ্রুতগামী যানবাহন, বুলেট ট্রেন, মনোরেল,স্পুটনিক, রকেট এসে সাড়া জাগিয়ে দিক না কেন, ভারতে ব্রিটিশের বপন করা ট্রাম যুগে যুগে বাঙালির স্বপ্নে, চলনে,ভাবনায় জড়িয়ে রয়েছে। প্রেম,ভালবাসা, আড্ডা, নিরাপদে যাত্রার একমাত্র সহায়ক ছিল এই ট্রাম।ট্রাম অনুভূতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে।
সেই স্কুল জীবনের শুরু থেকেই ট্রামে শুরু হয়েছে পথ চলা।
ট্রেনের সেই হো হুস শব্দ করে স্টার্ট করা , তারপর অংআং শব্দ করে গতি নেয়া একটা স্বপ্নের মতো মনে হয় আজও।
ট্রাম – সেকেন্ড ক্লাস কামরা । এটাতে কোনো পাখা নেই ।
ছোটবেলার বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ১ নম্বর , ২ নম্বর , ১১ নম্বর ট্রামে করে হিন্দু স্কুলে যাওয়ার স্মৃতিটা মনে পাকাপাকি ভাবে গেঁথে আছে ।অফিস টাইমে ওয়ান-ওয়ে হয়ে যাওয়া কলেজ স্ট্রীট ধরে সোজা স্কুলের গেট অবধি  পৌঁছে যাওয়ার  আর কোনো উপায়ই ছিল না । বাবা মাও নিশ্চিন্তে ট্রামে তুলে দিয়ে কাজে চলে যেতেন । জানতেন কন্ডাক্টর কাকু ঠিকই আমাদের সাবধানে নামিয়ে দেবেন । ফেরার সময়ও একই রুটিন । স্কুলের কোনো স্টাফ ট্রামে তুলে দিত ।  কোনো রাস্তা পার হতে হত না । বাস স্টপে নেমে এক ছুটে সোজা বাড়ি ।
অফিস টাইমে ভয়াবহ ভিড় হত সেই ট্রামে । আমরা অবশ্যই কোনো কাকুর কোলে বা জানলার ধারে । সৌজন্যে কন্ডাক্টর কাকু । সেই ট্রামের জানলা দিয়ে দেখতাম বেনারসী প্যালেস , সংস্কৃত বুক ডিপো , নজরুল ইসলাম এর ছবি  সহ অগ্নি বীণার মুরাল  ( ডি. এম. লাইব্রেরি ) , কখনো স্বামীজীর বাড়ির তলায় অধুনা লুপ্ত চাচার হোটেল থেকে প্রেমিকার রুমালে মুখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসছে কলেজ ফেরত প্রেমিক ।  আসল ফাউল কাটলেট পাওয়া যেত সে দোকানে । পুরু মুরগির ফিলে ভর্তি গোলাকার স্বর্গীয়  কাটলেট- থেকে একটা  হাড় সুকৌশলে বেরিয়ে আছে । সঙ্গে প্রমাণ সাইজের চাকা চাকা গোলাকৃতি একটুকরো করে পেঁয়াজ , টমেটো ও শসা । শ্রীমানি মার্কেটের উল্টো দিকে সেই চৌধুরী ওয়াচ কোম্পানির গাড়িবারান্দা ওলা বিশাল ঘড়ির দোকানটা, যার বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং এ চা বাগানে নিবিড় মনে  চা পাতা  বাছাতে ব্যস্ত এক রমণী কে দেখা যেত । একটি আধুনিক ঘড়ি তার হাতে শোভা পাচ্ছে । আর্য্য সমাজ , ব্রাহ্ম সমাজের বড় বড় বাড়িগুলো দেখতে দেখতে কখন যে স্কুলের গেটে পৌঁছে যেতাম খেয়ালই নেই । কন্ডাক্টর কাকু মৃদু প্রশ্রয় মিশ্রিত বকুনি দিয়ে নামিয়ে দিতেন । কখনো ফেরার সময় ওয়াই এম সি এর ক্যান্টিন থেকে ঘুগনি খেতে খেতেই ছুট । এপার থেকে চিৎকার করে ডাকলে গাড়ি দাঁড়িয়ে যেত । ড্রাইভার কাকু ধমক দিয়ে তুলে নিতেন । পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়েও বকুনি খেতে  হত মাঝে মাঝেই । ট্রামের ভেতরে একটা খাপ মত। তাতে একটা তারিখ লেখা কার্ড থাকত । সেটা বোধ হয় অল ডে পাস বা মান্থলি করার তারিখ । স্কুলের অনেক বন্ধু কেই দেখেছি পকেট থেকে একটা মান্থলি বের করে কন্ডাক্টর কাকু কে দেখিয়ে তার একধার থেকে দৈনিক একটা করে  কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দিতে  । সেই ট্রামে আবার মাঝে মাঝে চেকার উঠত । তার কাজ ছিল টিকিট টা দেখে আরেকটি পাঞ্চ করে ফেরত দেওয়া । দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরায় পাখা থাকত না । ভাড়াও একটু কম পড়ত যত দূর মনে পড়ে।
আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে জীর্ণ বিবর্ণ হয়েও  সেসবের কিছু কিছু আজও টিকে আছে ।  নেই শুধু চাচার হোটেল আর বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ছাড়া ট্রাম গুলো । স্বামীজীর বাড়িটা সংস্কার হওয়ার সময় উল্টো ফুটে স্থানান্তরিত হয়েছিল চাচার হোটেল। তারপর থেকে আর বিশেষ চলেনি বোধ হয় । শেষ বছর দুয়েক আগে সরস্বতী পুজোয় কাটলেট খেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল ঠিক ভালো চলছে না । তারপর তো বন্ধ ই দেখি । এদিকে বছর কয়েক আগে বেলগাছিয়া ব্রিজের ট্রাম লাইনের  কাজ শুরু হল । জানতাম লাইন সংস্কার হচ্ছে । কিন্তু তারপর তো আর  চালুই  হল না । আগেই বন্ধ হয়ে গেছিল গ্যালিফ স্ট্রীট  ট্রাম ডিপো । বেলাগাছিয়া ডিপোর ট্রাম চালু না হলে চির তরে হারিয়ে যাবে শ্যামবাজার থেকে শিয়ালদা গামী ট্রাম ।  ক্লাস সিক্স-সেভেন  নাগাদ একবার বর্ষা কালে বিধান সরণি তে ট্রাম বন্ধ হয়ে খুব মুশকিলে পড়েছিলাম । তখন ভরসা ছিল গ্যালিফ স্ট্রীট ডিপোর ১২/১৫ নম্বর । সে ট্রাম আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড হয়ে শিয়ালদা জগৎ সিনেমার সামনে থেকে বেঁকে কলেজ স্ট্রীট হয়ে হাওড়া ব্রিজের তলার ডিপোতে চলে যেত যতদূর মনে পড়ে ।
আবছা মনে পড়ে।  হয়ত হাওড়া ব্রিজের ওপর ট্রাম চলতে ও আমি দেখেছি । তখন স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে বোধ হয়। বিনুর স্বপ্নে দেখা মস্ত বিছের মত ট্রামের এলীগরী ভালোই অনুভূত হয়েছিল ।  কতদিন দেখেছি গ্যালিফ স্ট্রীট এ রোববারের  শখের বাজারের অসহ্য ভিড়ের মধ্যে ডিপো থেকে আধপথ বেরিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়  স্থাণু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মহাকালের মত একটি ট্রাম । ফ্যান্সি মার্কেট থেকে বেড়িয়ে ময়দানের ঘাস চিরে ছুটে গেছি ট্রামে করে ।বাগবাজার লকগেটের পাশের ডিপো টা বোধ হয় চালু ছিল কিছুদিন আগেও । বন্ধুরা মিলে ডিপোর পাশের গেট দিয়ে ঢুকে যেতাম লকগেটের কাছে । আড্ডা দিতে দিতে সূর্যাস্ত , যতক্ষণ না মশার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে উঠতে হচ্ছে । বেরিয়েই চলন্ত ট্রামে একলাফে উঠে পড়তাম দীর্ঘ পথশ্রমের খাটনি খানিকটা লাঘব করার ধান্দায় ।
পি সি সরকারের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে ট্রাম যেত শুনেছি গড়িয়া হাট ডিপো তে । জানিনা সে এখন চলে কিনা । সম্ভবত রবীন্দ্র সরণী বা অন্য কোনো বেশ প্রাচীন ট্রাম লাইনের ধার ঘেষে ল্যাম্প পোস্ট এর মত  ব্রিটিশ স্থাপত্যের তোরণ থাকত , যা থেকে  ট্রামের তার ঝুলে থাকত । আজকের মত পুরোপুরি ওভারহেড ইলেকট্রিক কেবলিং নয় সেটা  । পুরোনো লোহার সি টি সি র স্থায়ী ট্রাম স্টপেজ বোর্ড । লেখা – এখানে ট্রাম থামবে । ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কাছে অনেকদিন অবধি ছিল ট্রামের ঘোড়ার জল খাওয়ার জায়গা । সেটাই বোধ হয় এখন একটা বড় পানীয় জলের কলতলা আর মুক্ত স্নানাগার । এরকম অনেক জলের আধার শুনেছি রাস্তায় থাকত ঘোড়ায় চলা ট্রামের ধুলো ওড়া কমানোর জন্য আর ট্রাম লাইনকে মসৃন রাখার জন্য । নোনাপুকুরে ছিল ট্রাম কোম্পানির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র । পরবর্তী কালে খরচা কমানোর জন্য  কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই এর সাথে চুক্তি করার পর সে ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় ।
ট্রাম কোম্পানি ট্রাম কে বাঁচানোর , জনপ্রিয় করার অনেক চেষ্টা করছে ।  আগেকার মত দ্বিতীয় শ্রেণী বলে এখন আর কিছু নেই । একটি রঙিন ট্রাম খাদ্য পণ্যের বিপণনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে । ভাড়া লাগবে না ।  চড়ে বসলেই হল। সুন্দর শহরের বুকে এক টুকরো জয় রাইড হয়ে যাবে ।সঙ্গে মিলবে নানা রকমের মুখরোচক খাবার । আছে একটি নামি জামা কাপড়ের সংস্থার বিপণন ট্রাম । আস্ত একটা দু কামরার শপিং মল সেটি । শহর জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ছোট এক কামরার সুসজ্জিত শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাম । আছে গোটা দিন ট্রাম ভাড়া করে ঘোরার ব্যবস্থা । তখন মাধ্যমিক । রোববার করে মাঝে মাঝেই দেখতাম চিতপুর থেকে গ্রে স্ট্রীট ধরে ছুটে যাচ্ছে হেরিটেজ সফরের ট্রাম । বছর খানেক আগে একবার পুজোর সময় বোধ হয়, দেখেছিলাম বয়স্কদের পুজো ঘোরানোর জন্য বিশেষ ট্রাম । ধর্মতলায় ট্রাম ডিপোর একটি ট্র্যাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আছে ট্রাম জাদুঘর স্মরণিকা ।  পরিবেশ বান্ধব এই যান জড়িয়ে আছে শহরের প্রতিটি শিরায় ধমনীতে । শ্যামবাজার থেকে ট্রামে উঠে ধর্মতলা হয়ে এসপ্লেনেডে যেতাম। মনুমেন্ট এর পাশ দিয়ে হেঁটে শহরের শোভা দেখতে দেখতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে যেতাম। ফুচকা খেতে খেতে পার্কে ঘুরতাম। আবার ট্রামে চেপে ফিরে আসতাম শ্যামবাজারে। সেগুলো আজ সেলুলয়েডের মতো ভেসে ওঠে। বেঁচে থাকুক ট্রাম । বেঁচে থাকুক ভালোবাসা ।
পুনশ্চ : কয়েক বছর আগের লেখা । এর মধ্যে অনেক ট্রাম রুট বন্ধ হয়ে গেছে । শ্যামবাজার ডিপো থেকে ধর্মতলা গামী  ঐতিহ্যবাহী ৫ নম্বর ট্রাম ও মাঝে বন্ধ ছিল । আবার চালু হয়েছে ।পরিসেবা আগের মত নেই। অনেক দাঁড়ালে কদাচিৎ একটার দেখা মেলে। আর এখন তো শুনছি যাত্রী পরিবাহী ট্রামই নাকি আর থাকবে না। পুজো পরিক্রমার ট্রাম ও এবার আর চলবে না । তবুও চাইব । বেঁচে থাকুক ট্রাম ।