বাজেটে পর ফের বাড়ছে সিগারেটের মূল্য, মন্ত্রীসভায় অনুমোদন
- আপডেট সময়- ০৬:৩০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে ফের বাড়ছে কমদামি তথা নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’-এর স্থলে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই মূল্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে সিগারেটের দাম নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাস হয়। মূলত নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ করা এবং এই খাতে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি কমিয়ে আনাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম ১০ শলাকার প্যাকেটে ২ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তার মধ্যে সিগারেটের নতুন মূল্যস্তর (প্রতি ১০ শলাকা) ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল।
বৈঠকে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
এর ফলে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন বা ৬ মাস পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হবে।
সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের সার্বিক বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে, যা জনজীবনের ভোগান্তি কমাবে এবং শিল্প উৎপাদন সচল রেখে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করতে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে একটি বিশেষ বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তিটি দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে হংকং বর্তমানে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে, যাদের বড় অংশই এ দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করেছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর এবং স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয় পক্ষ চাইলে চুক্তিটি সংশোধন করতে পারবে। এই চুক্তির ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে, যা দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ



































































































