সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল: ভাতা দেওয়া শুরু হবে ২০২৮ সালে
- আপডেট সময়- ০৭:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর পুরোপুরি বাস্তবায় হবে তিন ধাপে। এছাড়া নতুন বেতন কাঠামোয় ভাতা দেওয়া শুরু হবে ২০২৮ সালে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রিসভা নতুন এই বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে।
অনুমোদিত ‘জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬’-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রেখেই মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন (২০তম গ্রেডের জন্য) ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন (১ম গ্রেডের জন্য) ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।ন্যায্যতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনা করে সরকার সম্পূর্ণ বেতনস্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ ও আগামী ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়িত হবে। তবে স্বল্প আয়ের কথা বিবেচনা করে এই বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে কর্মচারীদের ভাতাসমূহ ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা সংস্থান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরসমূহের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।সরকার মনে করে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। সেখানে বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিস্তারিত বিধান বর্ণিত থাকবে।।একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে অনুমোদিত বেতনস্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হবে।




































































































