নারায়ণগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন
- আপডেট সময়- ০৬:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (১৭ মে) পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ, গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রহস্য উদ্ঘাটনের সকল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ফতুল্লা থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটি তদন্তের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং ছায়া তদন্তের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। একই এলাকার আরেক বিকাশ ব্যবসায়ী আলী সম্রাট ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। পরে রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আতিকুল তার বন্ধু মাসুম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান।
একপর্যায়ে মাসুম সাময়িকভাবে সেখান থেকে চলে গেলে এর পরবর্তীতে আতিকুল নিখোঁজ হন। এর দুই দিন পর ১১ নভেম্বর সকালে আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে সূত্রে পিবিআই জানতে পারে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে ধার নেওয়া ৫০ হাজার টাকা আতিকুলকে ফেরত দেন আলী সম্রাট। পরে গ্রেপ্তার আসামিরা ওই টাকা ও আতিকুলের কাছে থাকা আরও অর্থ ছিনিয়ে নেন।
একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি ঘুমের প্রচেষ্টায় পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।পিবিআই আরও জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ১৩ মে ভোরে ফতুল্লার আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি শান্ত হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতভর অভিযান পরিচালনা করে আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভকে (২৫) ফতুল্লা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শান্ত হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এবং পরে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ছাড়াও এ মামলায় রিমান্ডে নেওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে আহাদ আলীও আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছেন।
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ



































































































