ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
অণ্ডকোষ চেপে চেকে সাক্ষর নেওয়া বিএনপি কর্মী লিটু গ্রেপ্তার পুলিশের ৬ ডিআইজিসহ ৯ কর্মকর্তাকে বদলি নারায়ণগঞ্জে ফের খুন, এবার ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী মোতালেব কিলিং মিশনের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: তোশকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে ১৩টি এয়ারগান গুলিসহ জব্দ হলেও তালিকা অস্পষ্ট জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় জনগনের জন্য উন্মুক্ত, প্রতি বুধবার গণশুনানি: ডিসি ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগে ওসি আব্দুল বারীকে প্রত্যাহার চাঁদা না দেয়ায় অপপ্রচারের শিকার, দাবি রূপগঞ্জ ইউএনও’র মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা না’গঞ্জের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নিকার সভা আগামীকাল না’গঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলেন সদর ইউএনও ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা এনবিআর’র নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আহসান হাবিব নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে নৃশংশভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এসিল্যান্ডসহ ৮ কর্মকর্তাকে শোকজ শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ তুরাগ নদী থেকে দুই দিনে ৩ লাশ উদ্ধার, ‘রহস্যের ধূম্রজাল’ জর্ডানকে ৩-১ হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য চালু ভারতের পর্যটন ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে কক্সবাজারে বিজিবির মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল ও চোলাই মদসহ আটক-১ মৌলভীবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ পিতার মৃত্যু আগামীকাল সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন টেকনাফে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে চুরি যাওয়া প্রাইভেট কারটি উদ্ধার,আটক-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি-১৩০ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ছবিসহ এনআইডি নবায়ন, ফি কত টাকা? কুষ্টিয়ায় কালী নদীতে ভাসছিল যুবকের মরদেহ  নারায়ণগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত-২০ মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা: সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে আবেদন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলে ক্ষুব্ধ ব্রাজিল, ফিফায় অভিযোগ নতুন পে-স্কেল: রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মীরা কী এই সুবিধা পাবেন? কুষ্টিয়ায় কর কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক-৪ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ দেশের ২২ জেলা ও দায়রা জজকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি মেসির জোড়া গোল,অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনা ফতুল্লায় পুলিশি অভিযানে বরপুত্র সিএ হাবিব মল্লিকের শ্বশুর সানাউল্লাহ্ গ্রেপ্তার না’গঞ্জ সদর উপজেলার ৬’শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামলো আজ নারায়ণগঞ্জে দূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলায় ফের সেনা মোতায়েন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে নারায়ণগঞ্জে এমপি পুত্র যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম আটক ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে শতভাগ সাফল্যের পথে ঢাকা জেলা প্রশাসন চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা পঞ্চবটী-পাগলা পুরাতন সড়কটি না’গঞ্জ সওজ’র আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির বকশীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, চালকসহ নিহত-২ আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সাংবাদিক রেজানুর গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে ১৫ শ্রমিক আহত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব’ নিয়ে বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত, সেমিফাইনালে ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুটবলের ছন্দের যাদুকর নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিলো ব্রাজিল রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির মেসির দুর্দন্ত হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বজয়ের অভিযান শুরু আর্জেন্টিনার এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুভসূচনা পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, ওসিসহ আহত-৩০ সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি জমায়: ডিসি রায়হান কবির ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো পদ্মা-রেলসেতু সংযোগ পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটা নারায়ণগঞ্জে ৬০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬’শ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৪ দিন পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ কক্সবাজারে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঢাকার পর এবার নারায়ণগঞ্জে মিললো গুলির খোসাসহ অত্যাধুনিক পেনগান ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশে কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশীর মরদেহ হস্তান্তর টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার প্রথমার্ধে পুরো মাঠে ছন্নছাড়া ব্রাজিল, সুশৃঙ্খল মরক্কোর ১-১ গোলে সমতা ১০ জেলার মানুষ আজ থেকে পাচ্ছে আইসিইউ না’গঞ্জে ফের আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা, এবার শিকার পুলিশ ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভিসির দায়িত্বে মাসুদুজ্জামান নাসিক বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার অকাল মৃত্যু টেকনাফে পুলিশের অভিযানে, ২৪ ঘন্টা মধ্যে ৫ অপহৃত উদ্ধার বাতিল হচ্ছে ৬ বিষয়ে অনার্স, যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কোর্স রূপগঞ্জে ওজু শেখানোর নামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করবে: মির্জা ফখরুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত মতিঝিলে দিনের আলোয় জনসম্মুখে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই শিশু রামিসা ধ/র্ষ/ণ-হ/ত্যা/য় ঘাতক দম্পতি সোহেল-স্বপ্নার মৃ/ত্যু/দণ্ড অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নতুন নীতিমালা করছে সরকার লক্ষ্মীপুর জেলায় ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করে গেজেট প্রকাশ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে পরিচালক পদে জয় পেয়েছেন মাসুদুজ্জামান আজ ৭ই জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস বক্তাবলী-আলীরটেক’র মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর আহ্বান সদর ইউএনও’র বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে লড়ছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান প্রিয় দল ব্রাজিলের শাড়িতে ‘হেক্সা’র বার্তা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিমি

কেবল নয় ফলাফলমুখী শিক্ষা বিকশিত হোক মানবতার দীক্ষা’- জাহিদুল ইসলাম মিঞা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৩:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ২৮৮ বার পড়া হয়েছে
ছবি: সমকালীন কাগজ
সম্পাদকীয়…..

‘শিক্ষা ভাবনা’

প্রকৃত মানুষ করার জীবনব্যাপী সব আয়োজনই শিক্ষা। একটি জাতি তথা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম..

প্রকৃত মানুষ করার জীবনব্যাপী সব আয়োজনই শিক্ষা। একটি জাতি তথা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। কিন্তু শিক্ষা মানবসভ্যতার বিকাশের অন্যতম প্রধান উপাদান হলেও আজ তা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে কেবল জিপিএ ৫, সার্টিফিকেট অর্জন অথবা চাকরি পাওয়ার মধ্যে। কিন্তু পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান বাড়ছে না। সন্তান কতটা মানবিক জ্ঞানসম্পন্ন হলো, কতটা সুশিক্ষিত হলো সেদিকে আমাদের খেয়াল নেই। সবাই আমরা ব্যস্ত কেবল নিজেদের নিয়ে। অর্থের বিনিময়ে অর্জিত শিক্ষায় দেশপ্রেম, ভদ্রতা, সভ্যতা, মানবিক মূল্যবোধ আজ প্রায় বিলুপ্ত। সমাজে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার দৃঢ় মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের বড্ড অভাব। তাই আমাদের স্লোগান হোক, ‘কেবল নয় ফলাফলমুখী শিক্ষা, বিকশিত হোক মানবতার দীক্ষা’। এ কথা সত্য, যে শিক্ষা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটায় না, বিবেক জাগ্রত করে না, মনের দিগন্ত প্রসারিত করে না, মানবতাবোধ জাগ্রত করে না তা প্রকৃত শিক্ষা নয়। তাই শিক্ষা হতে হবে মানবিক ও নৈতিকতানির্ভর, যা শিক্ষার্থীর নৈতিক মানদণ্ডকে উন্নত করার পাশাপাশি অন্তরের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে। কারণ নৈতিকতাবিবর্জিত বিদ্বান ব্যক্তি সমাজ সংস্কারে কিংবা সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের বিষয়টি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এ ত্রিভূজ সম্পর্কের ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষার সামাজিক প্রভাব কী? সমাজ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে মেধা না অর্থ? সম্মানিত কে অর্থশালী না বিদ্বান? মানুষ ছুটছে অর্থ না বিদ্যার পেছনে? জাতির মেরুদণ্ড কি শিক্ষা না অর্থনীতি? শিক্ষা কি সমাজ গড়ছে না সাম্রাজ্য? আমাদের রোল মডেল কি দুর্নীতিবাজ না সস্তা জনপ্রিয়তার কেউ? শিক্ষার উদ্দেশ্য কি সমস্যার সমাধান না অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো? শিক্ষা কি আমাদের বিবেককে প্রসার ঘটাচ্ছে না অন্ধ অনুকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছে? মানুষ কি বিবেকের প্রেরণায় না হুজুগে চলছে? মুক্ত চিন্তার প্রকাশ কোথায়? তরুণ সমাজের লক্ষ্য কী? শিক্ষা কি আজ মানুষকে রোবট বানাচ্ছে? সমাজের আলোচনার বিষয়বস্তু কী? আমরা শিক্ষিত হচ্ছি কুশিক্ষায় না সুশিক্ষায়?

পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সর্বত্র আজ মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিকতা আর উদারতা প্রায় ম্রিয়মাণ। সমাজ হয়ে পড়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বার্থপর ও অসহিষ্ণু। দৃষ্টি কেবল স্বার্থের চোখে নিবদ্ধ, মানবিকতার চোখ কার্যত অন্ধ। আমাদের তরুণ সমাজের কাছে আজ সবচেয়ে বড় সংকট অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের। কাকে অনুসরণ করে স্বপ্ন বুনবে, কার চরিত্র অনুকরণ করবে, কার আদর্শে নিজেকে আলোকিত করবে তার কোনো সমাধান নেই। তাই আমরা দেখতে পাই নৈতিকতাবিবর্জিত এ সমাজে বড় অপরাধীরাও বড় ডিগ্রিধারী। অন্তত পুঁথিগত বিদ্যায় তারা বেশ এগিয়ে।

সমাজ জীবনে স্নেহ-প্রীতি-ভালোবাসা প্রায় অবলুপ্ত, মানবতা-নৈতিকতা-উদারতা বিলীন প্রায়, শ্রদ্ধা-বিনয় অদৃশ্য, দুর্নীতি ও ভ্রষ্টাচারে সামাজিক পরিমণ্ডল কলুষিত। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, অপহরণ, ইত্যাদি স্বাভাবিক জীবনকে ছন্দহীন করে তুলেছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ বেড়ে চলেছে। অপকর্মের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আমাদের শিশু-ছাত্র-যুবারা দিন দিন মানসিকভাবে আহত হয়ে বিপথগামী হতে চলেছে। এ অবস্থা একটি জাতির জন্য খুবই ভয়ংকর। তাই আজকের তরুণ প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যে প্রজন্ম কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না তারা হবে ছোটদের প্রতি স্নেহশীল, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দেশপ্রেম উজ্জীবিত। তারা অন্যের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এবং সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাবে। সৃজনশীল বিকাশ ছাড়া সমাজকে আলোকিত করা সম্ভব নয়। আলোকিত তরুণরাই হবে আলোকিত ভবিষ্যৎ।

একজন মানুষের চিন্তা, কর্ম, আচরণের প্রভাবের সূতিকাগার হচ্ছে পরিবার। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নীতি-নৈতিকতা কিংবা অন্যের মতামত গ্রহণ করার মতো মানসিকতার শিক্ষা পরিবার থেকেই নিতে হয়। শিশুর প্রথম শিক্ষালয় তার পরিবার ও প্রথম শিক্ষক তার মা-বাবা। সেহেতু শিশুকে পারিবারিক মূল্যবোধ, উন্নত চরিত্র, সৎ আদর্শবান নাগরিক ও উন্নত চরিত্রের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান হচ্ছে পরিবার। তাই শিশুদের নৈতিকভাবে বিকশিত করতে হলে পরিবারের সদস্যদের নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন হতে হবে। কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ যেমন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত তেমনি ধ্যান-ধারণা ও চিন্তায় এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু আমরা যদি নিজেরাই সততা ও নৈতিকতার মূর্ত প্রতীক কিংবা সহানুভূতির প্রতিচ্ছবি না হতে পারি, তবে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা কিংবা উন্নত মানুষ গড়া প্রায় অসম্ভব। বাবা-মা রাত ১২টায় ঘরে ফিরে যদি প্রত্যাশা করে তার সন্তান সন্ধ্যায় ঘরে ফিরবে তা কি হয়? বাবা-মা এবং অভিভাবকরা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সন্তানদের নৈতিক শিক্ষার পরিবর্তে সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষায় প্রলুব্ধ করছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কার সন্তান কত শিক্ষিত হলো, কার পরীক্ষায় কি রেজাল্ট হলো, কে কোথায় পড়ে, পড়া শেষে কী করবে, কার ছেলে বিজ্ঞানী হলো, ইঞ্জিনিয়ার হলো—যা মুখ্য আলোচনার বিষয়বস্তু হলেও নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম কিংবা সত্যিকারের মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার বিষয়ে কোনো প্রকার আলোকপাত নেই।

শিক্ষকতা মহান পেশা/যারা মানুষের শ্রদ্ধা, আদর্শ ও অনুকরণের প্রেরণা। মহানুভবতা, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সচ্চরিত্রের মতো মানবীয় গুণাবলির জন্য একজন শিক্ষক সবার অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে ওঠেন। মানবিক মূল্যবোধের এসব গুণাবলি সমাজজীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। শিক্ষক হয়ে উঠেন গুরু, ছাত্র হয় শিষ্য। শিক্ষক ছাত্রকে শুধু শিক্ষা নয়, সাথে দেন দীক্ষাও। কারণ শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠদান, সিলেবাসের প্রশ্ন শেখানো কিংবা পরীক্ষায় পাস করানো নয়। বরং শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ, মানবিক মানুষ তৈরি, বিবেকবোধ জাগ্রত করা, উন্নত চরিত্র গঠন, যা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ছাত্রছাত্রীদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমুখতা, শিক্ষকের বিরুদ্ধাচরণ কিংবা শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন, দলাদলি আজকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক সাধারণ চিত্র। আবার অনেক শিক্ষকও হয়ে পড়েছেন বাণিজ্যমুখী। তাই ক্লাস থেকে কোচিং-প্রাইভেটেই মনোযোগ বেশি। বিদ্যা আজ বাক্সবন্দি, পড়াশোনা কেবল পরীক্ষামুখী। বিদ্যালয়গুলো এখন কেবল পাসের হার, গ্রেড আর নম্বরের পেছনে ছোটাছুটি। কি শেখানো হচ্ছে আর কি শেখানো দরকার তা নিয়ে কোনো আয়োজন নেই; নেই কোনো লাগসই পরিকল্পনা। শিক্ষার্থীরা আজ অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যেমন আপন করে ভাবতে পারছে না তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও আগ্রহ বা আকর্ষণের জায়গা হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। পড়ালেখা যেন তাদের কাছে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা, সার্টিফিকেট প্রাপ্তিই এর মূল উদ্দেশ্য। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, পরীক্ষার আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপ, হতাশা ও ক্লান্তি এমনভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে যে, তারা কখনো কখনো পরীক্ষা কেন্দ্র ভাংচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় লিপ্ত হচ্ছে। এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক ও মানসিক দুর্বলতার প্রতিফলন। এ কারণেই শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাবোধের স্থানটি আজ অনেকটা বিবর্ণ। ছাত্রসমাজের সামনে আজ অনুকরণীয় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বের বড় অভাব। পাঠদান কেবল পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বইয়ের বাইরে শেখা হচ্ছে না কিছুই। মানসম্মত শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ আজ কেবল অতীতস্মৃতি। সমাজে আজ আদর্শবান ব্যক্তির অভাব, বিত্তবানরাই যেন আদর্শ, আর পেশিশক্তির অধিকারীরাই যেন সমাজপতি। তাই সমাজ আর গড়ে উঠছে না, উঠছে সাম্রাজ্য। চাকরি পাওয়া বা আর্থিকভাবে সচ্ছলতা আনতেই ব্যস্ত মুখস্থনির্ভর আজকের শিক্ষা-সংস্কৃতি। ফলে বিত্ত-বৈভব আর প্রাচুর্যে জীবনকে রাঙিয়ে তোলার প্রবল বাসনায় ব্যক্তি বা সমাজের জন্য মহৎ কিছু করার স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের মূল চালিকাশক্তি-সততা ও নিষ্ঠার মতো মানবিক গুণাবলি। আমরা ভুলেই যাচ্ছি জীবন শুধুই একটি ভ্রমণযাত্রা, কোনো প্রতিযোগিতা নয়।

আমরা যদি সত্যিই একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে হতে হবে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক। যে শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক মানদণ্ডকে উন্নত করার পাশাপাশি তার ভেতরকার মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকবে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষকরা হবেন সবার অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, অভিভাবকদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল নয়; লক্ষ্য হবে আদর্শ মানুষ গড়ার। যারা হবে মেধাবী, মানবিক, নৈতিকতাবোধসম্পন্ন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক প্রজন্ম। যেখানে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে থাকবে না কোনো ভয়, থাকবে না কোনো শঙ্কা। সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। প্রযুক্তির পরিবর্তনকে আলিঙ্গন এবং প্রযুক্তির মতো উন্নত সংস্করণে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে যোগ্যতার মানদণ্ডে উন্নীত হবে। এরূপ শিক্ষা কেবল মনুষ্যত্ববোধ ও বিবেক জাগ্রত করবে না, বরং শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে কর্মপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং জীবনের গভীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলবে। তাহলেই আগামী প্রজন্মের কাছে এ দেশ থাকবে নিরাপদ। অর্জিত হবে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ। কারণ তরুণরাই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ।

 

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

–জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

কেবল নয় ফলাফলমুখী শিক্ষা বিকশিত হোক মানবতার দীক্ষা’- জাহিদুল ইসলাম মিঞা

আপডেট সময়- ০৩:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
ছবি: সমকালীন কাগজ
সম্পাদকীয়…..

‘শিক্ষা ভাবনা’

প্রকৃত মানুষ করার জীবনব্যাপী সব আয়োজনই শিক্ষা। একটি জাতি তথা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম..

প্রকৃত মানুষ করার জীবনব্যাপী সব আয়োজনই শিক্ষা। একটি জাতি তথা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। কিন্তু শিক্ষা মানবসভ্যতার বিকাশের অন্যতম প্রধান উপাদান হলেও আজ তা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে কেবল জিপিএ ৫, সার্টিফিকেট অর্জন অথবা চাকরি পাওয়ার মধ্যে। কিন্তু পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান বাড়ছে না। সন্তান কতটা মানবিক জ্ঞানসম্পন্ন হলো, কতটা সুশিক্ষিত হলো সেদিকে আমাদের খেয়াল নেই। সবাই আমরা ব্যস্ত কেবল নিজেদের নিয়ে। অর্থের বিনিময়ে অর্জিত শিক্ষায় দেশপ্রেম, ভদ্রতা, সভ্যতা, মানবিক মূল্যবোধ আজ প্রায় বিলুপ্ত। সমাজে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার দৃঢ় মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের বড্ড অভাব। তাই আমাদের স্লোগান হোক, ‘কেবল নয় ফলাফলমুখী শিক্ষা, বিকশিত হোক মানবতার দীক্ষা’। এ কথা সত্য, যে শিক্ষা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটায় না, বিবেক জাগ্রত করে না, মনের দিগন্ত প্রসারিত করে না, মানবতাবোধ জাগ্রত করে না তা প্রকৃত শিক্ষা নয়। তাই শিক্ষা হতে হবে মানবিক ও নৈতিকতানির্ভর, যা শিক্ষার্থীর নৈতিক মানদণ্ডকে উন্নত করার পাশাপাশি অন্তরের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে। কারণ নৈতিকতাবিবর্জিত বিদ্বান ব্যক্তি সমাজ সংস্কারে কিংবা সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের বিষয়টি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এ ত্রিভূজ সম্পর্কের ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষার সামাজিক প্রভাব কী? সমাজ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে মেধা না অর্থ? সম্মানিত কে অর্থশালী না বিদ্বান? মানুষ ছুটছে অর্থ না বিদ্যার পেছনে? জাতির মেরুদণ্ড কি শিক্ষা না অর্থনীতি? শিক্ষা কি সমাজ গড়ছে না সাম্রাজ্য? আমাদের রোল মডেল কি দুর্নীতিবাজ না সস্তা জনপ্রিয়তার কেউ? শিক্ষার উদ্দেশ্য কি সমস্যার সমাধান না অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো? শিক্ষা কি আমাদের বিবেককে প্রসার ঘটাচ্ছে না অন্ধ অনুকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছে? মানুষ কি বিবেকের প্রেরণায় না হুজুগে চলছে? মুক্ত চিন্তার প্রকাশ কোথায়? তরুণ সমাজের লক্ষ্য কী? শিক্ষা কি আজ মানুষকে রোবট বানাচ্ছে? সমাজের আলোচনার বিষয়বস্তু কী? আমরা শিক্ষিত হচ্ছি কুশিক্ষায় না সুশিক্ষায়?

পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সর্বত্র আজ মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিকতা আর উদারতা প্রায় ম্রিয়মাণ। সমাজ হয়ে পড়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বার্থপর ও অসহিষ্ণু। দৃষ্টি কেবল স্বার্থের চোখে নিবদ্ধ, মানবিকতার চোখ কার্যত অন্ধ। আমাদের তরুণ সমাজের কাছে আজ সবচেয়ে বড় সংকট অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের। কাকে অনুসরণ করে স্বপ্ন বুনবে, কার চরিত্র অনুকরণ করবে, কার আদর্শে নিজেকে আলোকিত করবে তার কোনো সমাধান নেই। তাই আমরা দেখতে পাই নৈতিকতাবিবর্জিত এ সমাজে বড় অপরাধীরাও বড় ডিগ্রিধারী। অন্তত পুঁথিগত বিদ্যায় তারা বেশ এগিয়ে।

সমাজ জীবনে স্নেহ-প্রীতি-ভালোবাসা প্রায় অবলুপ্ত, মানবতা-নৈতিকতা-উদারতা বিলীন প্রায়, শ্রদ্ধা-বিনয় অদৃশ্য, দুর্নীতি ও ভ্রষ্টাচারে সামাজিক পরিমণ্ডল কলুষিত। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, অপহরণ, ইত্যাদি স্বাভাবিক জীবনকে ছন্দহীন করে তুলেছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ বেড়ে চলেছে। অপকর্মের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আমাদের শিশু-ছাত্র-যুবারা দিন দিন মানসিকভাবে আহত হয়ে বিপথগামী হতে চলেছে। এ অবস্থা একটি জাতির জন্য খুবই ভয়ংকর। তাই আজকের তরুণ প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যে প্রজন্ম কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না তারা হবে ছোটদের প্রতি স্নেহশীল, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দেশপ্রেম উজ্জীবিত। তারা অন্যের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এবং সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাবে। সৃজনশীল বিকাশ ছাড়া সমাজকে আলোকিত করা সম্ভব নয়। আলোকিত তরুণরাই হবে আলোকিত ভবিষ্যৎ।

একজন মানুষের চিন্তা, কর্ম, আচরণের প্রভাবের সূতিকাগার হচ্ছে পরিবার। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নীতি-নৈতিকতা কিংবা অন্যের মতামত গ্রহণ করার মতো মানসিকতার শিক্ষা পরিবার থেকেই নিতে হয়। শিশুর প্রথম শিক্ষালয় তার পরিবার ও প্রথম শিক্ষক তার মা-বাবা। সেহেতু শিশুকে পারিবারিক মূল্যবোধ, উন্নত চরিত্র, সৎ আদর্শবান নাগরিক ও উন্নত চরিত্রের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান হচ্ছে পরিবার। তাই শিশুদের নৈতিকভাবে বিকশিত করতে হলে পরিবারের সদস্যদের নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন হতে হবে। কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ যেমন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত তেমনি ধ্যান-ধারণা ও চিন্তায় এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু আমরা যদি নিজেরাই সততা ও নৈতিকতার মূর্ত প্রতীক কিংবা সহানুভূতির প্রতিচ্ছবি না হতে পারি, তবে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা কিংবা উন্নত মানুষ গড়া প্রায় অসম্ভব। বাবা-মা রাত ১২টায় ঘরে ফিরে যদি প্রত্যাশা করে তার সন্তান সন্ধ্যায় ঘরে ফিরবে তা কি হয়? বাবা-মা এবং অভিভাবকরা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সন্তানদের নৈতিক শিক্ষার পরিবর্তে সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষায় প্রলুব্ধ করছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কার সন্তান কত শিক্ষিত হলো, কার পরীক্ষায় কি রেজাল্ট হলো, কে কোথায় পড়ে, পড়া শেষে কী করবে, কার ছেলে বিজ্ঞানী হলো, ইঞ্জিনিয়ার হলো—যা মুখ্য আলোচনার বিষয়বস্তু হলেও নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম কিংবা সত্যিকারের মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার বিষয়ে কোনো প্রকার আলোকপাত নেই।

শিক্ষকতা মহান পেশা/যারা মানুষের শ্রদ্ধা, আদর্শ ও অনুকরণের প্রেরণা। মহানুভবতা, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সচ্চরিত্রের মতো মানবীয় গুণাবলির জন্য একজন শিক্ষক সবার অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে ওঠেন। মানবিক মূল্যবোধের এসব গুণাবলি সমাজজীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। শিক্ষক হয়ে উঠেন গুরু, ছাত্র হয় শিষ্য। শিক্ষক ছাত্রকে শুধু শিক্ষা নয়, সাথে দেন দীক্ষাও। কারণ শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠদান, সিলেবাসের প্রশ্ন শেখানো কিংবা পরীক্ষায় পাস করানো নয়। বরং শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ, মানবিক মানুষ তৈরি, বিবেকবোধ জাগ্রত করা, উন্নত চরিত্র গঠন, যা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ছাত্রছাত্রীদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমুখতা, শিক্ষকের বিরুদ্ধাচরণ কিংবা শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন, দলাদলি আজকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক সাধারণ চিত্র। আবার অনেক শিক্ষকও হয়ে পড়েছেন বাণিজ্যমুখী। তাই ক্লাস থেকে কোচিং-প্রাইভেটেই মনোযোগ বেশি। বিদ্যা আজ বাক্সবন্দি, পড়াশোনা কেবল পরীক্ষামুখী। বিদ্যালয়গুলো এখন কেবল পাসের হার, গ্রেড আর নম্বরের পেছনে ছোটাছুটি। কি শেখানো হচ্ছে আর কি শেখানো দরকার তা নিয়ে কোনো আয়োজন নেই; নেই কোনো লাগসই পরিকল্পনা। শিক্ষার্থীরা আজ অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যেমন আপন করে ভাবতে পারছে না তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও আগ্রহ বা আকর্ষণের জায়গা হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। পড়ালেখা যেন তাদের কাছে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা, সার্টিফিকেট প্রাপ্তিই এর মূল উদ্দেশ্য। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, পরীক্ষার আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপ, হতাশা ও ক্লান্তি এমনভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে যে, তারা কখনো কখনো পরীক্ষা কেন্দ্র ভাংচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় লিপ্ত হচ্ছে। এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক ও মানসিক দুর্বলতার প্রতিফলন। এ কারণেই শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাবোধের স্থানটি আজ অনেকটা বিবর্ণ। ছাত্রসমাজের সামনে আজ অনুকরণীয় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বের বড় অভাব। পাঠদান কেবল পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বইয়ের বাইরে শেখা হচ্ছে না কিছুই। মানসম্মত শিক্ষক না থাকায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ আজ কেবল অতীতস্মৃতি। সমাজে আজ আদর্শবান ব্যক্তির অভাব, বিত্তবানরাই যেন আদর্শ, আর পেশিশক্তির অধিকারীরাই যেন সমাজপতি। তাই সমাজ আর গড়ে উঠছে না, উঠছে সাম্রাজ্য। চাকরি পাওয়া বা আর্থিকভাবে সচ্ছলতা আনতেই ব্যস্ত মুখস্থনির্ভর আজকের শিক্ষা-সংস্কৃতি। ফলে বিত্ত-বৈভব আর প্রাচুর্যে জীবনকে রাঙিয়ে তোলার প্রবল বাসনায় ব্যক্তি বা সমাজের জন্য মহৎ কিছু করার স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের মূল চালিকাশক্তি-সততা ও নিষ্ঠার মতো মানবিক গুণাবলি। আমরা ভুলেই যাচ্ছি জীবন শুধুই একটি ভ্রমণযাত্রা, কোনো প্রতিযোগিতা নয়।

আমরা যদি সত্যিই একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, তবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে হতে হবে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক। যে শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক মানদণ্ডকে উন্নত করার পাশাপাশি তার ভেতরকার মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকবে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষকরা হবেন সবার অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, অভিভাবকদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল নয়; লক্ষ্য হবে আদর্শ মানুষ গড়ার। যারা হবে মেধাবী, মানবিক, নৈতিকতাবোধসম্পন্ন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক প্রজন্ম। যেখানে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে থাকবে না কোনো ভয়, থাকবে না কোনো শঙ্কা। সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। প্রযুক্তির পরিবর্তনকে আলিঙ্গন এবং প্রযুক্তির মতো উন্নত সংস্করণে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে যোগ্যতার মানদণ্ডে উন্নীত হবে। এরূপ শিক্ষা কেবল মনুষ্যত্ববোধ ও বিবেক জাগ্রত করবে না, বরং শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে কর্মপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং জীবনের গভীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলবে। তাহলেই আগামী প্রজন্মের কাছে এ দেশ থাকবে নিরাপদ। অর্জিত হবে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ। কারণ তরুণরাই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ।

 

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

–জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ