নারায়ণগঞ্জে এক নিরাপত্তাকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময়- ০৫:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদক।।
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রানকেন্দ্র নিতাইগঞ্জে একটি তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে মো. আরিফুল ইসলাম (মাসুম) (৩৮) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বাদ জুমা নগরীর নিতাইগঞ্জের ডাইলপট্টি পুরাতন বি.কে. রোডের ওই ভবন থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত মো. আরিফুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বইরকাঠি এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়ায় বসবাস করতেন এবং পাশ্ববর্তী জামাল শপিং বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফুল চাকরির সুবাদে গত ৭ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী নিপা খানম, মেয়ে সুমাইয়া ও ছেলে আদিব হাওলাদারকে নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি কর্মস্থলে যান। রাতে মধ্যে দু-একবার বাড়িতে এসে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।
পরদিন দুপুরে তার স্ত্রী ছাদে কাপড় শুকাতে গেলে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে ঝুলন্ত মরদেহ দেখে ততক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে প্রেরন করে।
নিহতের স্ত্রী নিপা খানম জানান, আরিফুল ইসলাম মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে গত চার মাস ধরে পারিবারিক কলহের জেরে মনোমালিন্য চলছিল। তিনি আমার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতেন না। গতকাল রাতে দু-একবার আসলেও কথা বলেননি। আমিও কিছু জিজ্ঞাসা করিনি।
এদিকে নিহতের মা রুমা বেগমের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে নিপা খানম তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে আমার কাছে চলে আসছিল। পরে কেমন করে আমার ছেলেকে আবার নিয়ে গেছে। ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বাবা যাইবা না? সে বলেছিল, কাজটা শেষ করে যাব। আমাকে হুমকি দিয়েছিল। বলেছিল, ‘আমি (নিপা) বললে মারব। পরে আমার ওপর দোষ দিতে পারবা না।’ আমি বলেছিলাম, আমার ছেলেকে যদি পুলিশে দাও, দাও। তুমি যদি তোমার স্বামীকে শেষ করে শান্তি পাও, তাহলে করো।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি মরদেহ টিভি কেবলের তারে ঝুলছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ









































































































































































