ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
দুই দেশের সমঝোতা ছাড়া শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই ফিফা কোনো স্বাধীন ক্রীড়া সংস্থা নয়, বরং রাজনৈতিক হাতিয়ার প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় সময় টিভির সাবেক এমডির জামিন নামঞ্জুর কক্সবাজারে ২ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা সুন্দরী নারী আটক মৌলভীবাজারে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, জনর্ভোগ চরমে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ শেষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা টেকনাফে নারকোটিস’র বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১ নারী আটক ভেড়ামারার একমাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবহেলিত মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত অণ্ডকোষ চেপে চেকে সাক্ষর নেওয়া বিএনপি কর্মী লিটু গ্রেপ্তার পুলিশের ৬ ডিআইজিসহ ৯ কর্মকর্তাকে বদলি নারায়ণগঞ্জে ফের খুন, এবার ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী মোতালেব কিলিং মিশনের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: তোশকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে ১৩টি এয়ারগান গুলিসহ জব্দ হলেও তালিকা অস্পষ্ট জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় জনগনের জন্য উন্মুক্ত, প্রতি বুধবার গণশুনানি: ডিসি ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগে ওসি আব্দুল বারীকে প্রত্যাহার চাঁদা না দেয়ায় অপপ্রচারের শিকার, দাবি রূপগঞ্জ ইউএনও’র মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা না’গঞ্জের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নিকার সভা আগামীকাল না’গঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলেন সদর ইউএনও ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা এনবিআর’র নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আহসান হাবিব নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে নৃশংশভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এসিল্যান্ডসহ ৮ কর্মকর্তাকে শোকজ শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ তুরাগ নদী থেকে দুই দিনে ৩ লাশ উদ্ধার, ‘রহস্যের ধূম্রজাল’ জর্ডানকে ৩-১ হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য চালু ভারতের পর্যটন ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে কক্সবাজারে বিজিবির মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল ও চোলাই মদসহ আটক-১ মৌলভীবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ পিতার মৃত্যু আগামীকাল সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন টেকনাফে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে চুরি যাওয়া প্রাইভেট কারটি উদ্ধার,আটক-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি-১৩০ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ছবিসহ এনআইডি নবায়ন, ফি কত টাকা? কুষ্টিয়ায় কালী নদীতে ভাসছিল যুবকের মরদেহ  নারায়ণগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত-২০ মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা: সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে আবেদন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলে ক্ষুব্ধ ব্রাজিল, ফিফায় অভিযোগ নতুন পে-স্কেল: রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মীরা কী এই সুবিধা পাবেন? কুষ্টিয়ায় কর কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক-৪ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ দেশের ২২ জেলা ও দায়রা জজকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি মেসির জোড়া গোল,অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনা ফতুল্লায় পুলিশি অভিযানে বরপুত্র সিএ হাবিব মল্লিকের শ্বশুর সানাউল্লাহ্ গ্রেপ্তার না’গঞ্জ সদর উপজেলার ৬’শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামলো আজ নারায়ণগঞ্জে দূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলায় ফের সেনা মোতায়েন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে নারায়ণগঞ্জে এমপি পুত্র যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম আটক ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে শতভাগ সাফল্যের পথে ঢাকা জেলা প্রশাসন চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা পঞ্চবটী-পাগলা পুরাতন সড়কটি না’গঞ্জ সওজ’র আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির বকশীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, চালকসহ নিহত-২ আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সাংবাদিক রেজানুর গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে ১৫ শ্রমিক আহত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব’ নিয়ে বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত, সেমিফাইনালে ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুটবলের ছন্দের যাদুকর নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিলো ব্রাজিল রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির মেসির দুর্দন্ত হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বজয়ের অভিযান শুরু আর্জেন্টিনার এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুভসূচনা পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, ওসিসহ আহত-৩০ সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি জমায়: ডিসি রায়হান কবির ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো পদ্মা-রেলসেতু সংযোগ পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটা নারায়ণগঞ্জে ৬০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬’শ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৪ দিন পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ কক্সবাজারে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঢাকার পর এবার নারায়ণগঞ্জে মিললো গুলির খোসাসহ অত্যাধুনিক পেনগান ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশে কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশীর মরদেহ হস্তান্তর টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার প্রথমার্ধে পুরো মাঠে ছন্নছাড়া ব্রাজিল, সুশৃঙ্খল মরক্কোর ১-১ গোলে সমতা ১০ জেলার মানুষ আজ থেকে পাচ্ছে আইসিইউ না’গঞ্জে ফের আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা, এবার শিকার পুলিশ ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভিসির দায়িত্বে মাসুদুজ্জামান নাসিক বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার অকাল মৃত্যু টেকনাফে পুলিশের অভিযানে, ২৪ ঘন্টা মধ্যে ৫ অপহৃত উদ্ধার বাতিল হচ্ছে ৬ বিষয়ে অনার্স, যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কোর্স রূপগঞ্জে ওজু শেখানোর নামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করবে: মির্জা ফখরুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত

এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওরে পুরোনো পরিবেশে ফিরে নিতে চায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৫:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ৫ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। মিঠাপানির এ হাওর ঘিরে রয়েছে অনেক ঐতিহ্য। জলজ, মৎস্য, কৃষি এই তিন উপাদানের জন্য এক সময় হাওরটি বিখ্যাত হলেও জলজ উদ্ভিদ ছাড়া মৎস্য ও কৃষিতে সফলতা রয়েছে হাওরের বুকে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, এশিয়ার অন্যতম ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। ছোটবড় মিলে প্রায় ২৩৬টি বিল রয়েছে এই হাওরে। অসংখ্য খালগুলো দিয়ে কৃষকরা পানি সেচ করে কৃষি চাষ করেন। এসব খাল, বিলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষা মৌসুমে খাল বিলের পানিতে একাকার হয়ে যায়। শীতকালে প্রচুর বিদেশি পাখির আগমন ঘটে এই হাওরে। বরফে ঢাকা পশ্চিমা দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাখিগুলো আসে। শীতকমে গেলে তারা আবার ও তাদের দেশে ফিরে যায়।

বোরো আমন চাষের জন্য হাকালুকি হাওর প্রসিদ্ধ। শীতের কনকনে শীতে কৃষক ভোরে সূর্যের আলো ছড়ার সাথে সাথে হাওরে গিয়ে কৃষিকাজ করেন।

বর্ষাকালে হাওরের সবটুকুজুড়ে পানি আর পানি। সেই পানিতে বাস করেন হাজার রকমের ছোট বড় দেশীয় মাছ। বর্ষা মৌসুম চলে গেলে পানি কমে যাওয়ার কারণে মাছগুলো আশ্রয় নেয় ছোট বড় বিলগুলোতে। এসব বিলগুলো ইজারা দিয়ে কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে বাংলাদেশ সরকার।

মৎস্য, কৃষি কিংবা অতিথি পাখির কোলাহলে ভরপুর হাকালুকিতে একটা সময় বনাঞ্চল ছিল। প্রায় ৩০-৪০ বছর পূর্বেও হাকালুকি হাওরের বনে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ছিল। এসবের মধ্যে মেছো বিড়াল (মেছো বাঘ) শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বসবাস ছিল। হাওরের মধ্যে হিজল, করচের বন ছিল পাহাড়ি জঙ্গলের মত। এসব বনের গাছের নিচে মাছগুলো ডিম দিত, যাতে শিকারিরা সহজে জাল ফেলে পোনা মারতে না পারে। হাওরগুলো নিলামে দেওয়ার কারণে ইজারাদাররা এসব বন কেটে বিলে কাঁটা হিসেবে ব্যবহৃত করার কারনে আগেরমত সেই বনাঞ্চল নেই হাওরে। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে কাঁটা হয় এসব গাছ। শুধু ২০২১ সালে বাঁধ নির্মাণের অজুহাতে এক মালাম বিল থেকে প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটা হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৫০ হাজার হিজল, করচ ও বরুন গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেওয়ার কারণে পূর্বেরমতো ইজারাদাররা সহজে গাছ কাটতে পারেন না। প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষা, মাছের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ বনাঞ্চল রক্ষার দাবি এলাকাবাসীর।

হাওরপাড়ের বসবাসকারী বাসিন্দারা বলেন, হাওরে আগে মাছের পাশাপাশি অনেক গাছ ছিল। আমরা মাছ মারতে গেলে সহজে জাল ফেলা যেত না। কিছুদিন আগে থেকে এসব গাছ রোপণ করার কারণে কিছুটা সৌন্দর্য ফিরে আসছে।

সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, একটা সময় হাকালুকি হাওরে প্রচুর জলজ গাছ ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের আওতা থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাওরের ভূমির দায়িত্ব চলে যায়। এরপর থেকে তদারকির অভাবে গাছ কেটে জমি তৈরির কারনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের আওতায় সেই পুরনো বনাঞ্চল ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের সফলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার ও জলজ বৃক্ষে হাকালুকি তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে এ কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন।

পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, হাকালুকি হাওরে জলজ ও হিজল-করচসহ অনেক বনের বৈচিত্র্যময় গাছপালা ছিল। এগুলো অনেকটাই উজাড় হয়ে গেছে। এখন যারা এই উদ্যোগ নিয়েছে নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু তখনই এটিই পরিপূর্ণতা পাবে যখন আগের মতো গাছগুলো দেখা যাবে। এ ছাড়া আর অজুহাতে কোন

দুষ্কৃতিকারীরা এই গাছগুলো কাটতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

হাকালুকি হাওর এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হওয়ায় এখানে হিজল-তমাল জাতীয় জলাভূমি উপযোগী গাছের আধিক্য রয়েছে যা মাছের প্রজনন ও আশ্রয়স্থল।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, সিএনআরএস যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটি খুব ভালো। হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি এ ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ প্রশংসনীয়। এ ছাড়া আমাদের সাথে আলাপ করে এসবের পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওরে পুরোনো পরিবেশে ফিরে নিতে চায়

আপডেট সময়- ০৫:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ৫ উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। মিঠাপানির এ হাওর ঘিরে রয়েছে অনেক ঐতিহ্য। জলজ, মৎস্য, কৃষি এই তিন উপাদানের জন্য এক সময় হাওরটি বিখ্যাত হলেও জলজ উদ্ভিদ ছাড়া মৎস্য ও কৃষিতে সফলতা রয়েছে হাওরের বুকে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, এশিয়ার অন্যতম ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকির আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। ছোটবড় মিলে প্রায় ২৩৬টি বিল রয়েছে এই হাওরে। অসংখ্য খালগুলো দিয়ে কৃষকরা পানি সেচ করে কৃষি চাষ করেন। এসব খাল, বিলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষা মৌসুমে খাল বিলের পানিতে একাকার হয়ে যায়। শীতকালে প্রচুর বিদেশি পাখির আগমন ঘটে এই হাওরে। বরফে ঢাকা পশ্চিমা দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাখিগুলো আসে। শীতকমে গেলে তারা আবার ও তাদের দেশে ফিরে যায়।

বোরো আমন চাষের জন্য হাকালুকি হাওর প্রসিদ্ধ। শীতের কনকনে শীতে কৃষক ভোরে সূর্যের আলো ছড়ার সাথে সাথে হাওরে গিয়ে কৃষিকাজ করেন।

বর্ষাকালে হাওরের সবটুকুজুড়ে পানি আর পানি। সেই পানিতে বাস করেন হাজার রকমের ছোট বড় দেশীয় মাছ। বর্ষা মৌসুম চলে গেলে পানি কমে যাওয়ার কারণে মাছগুলো আশ্রয় নেয় ছোট বড় বিলগুলোতে। এসব বিলগুলো ইজারা দিয়ে কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে বাংলাদেশ সরকার।

মৎস্য, কৃষি কিংবা অতিথি পাখির কোলাহলে ভরপুর হাকালুকিতে একটা সময় বনাঞ্চল ছিল। প্রায় ৩০-৪০ বছর পূর্বেও হাকালুকি হাওরের বনে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ছিল। এসবের মধ্যে মেছো বিড়াল (মেছো বাঘ) শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বসবাস ছিল। হাওরের মধ্যে হিজল, করচের বন ছিল পাহাড়ি জঙ্গলের মত। এসব বনের গাছের নিচে মাছগুলো ডিম দিত, যাতে শিকারিরা সহজে জাল ফেলে পোনা মারতে না পারে। হাওরগুলো নিলামে দেওয়ার কারণে ইজারাদাররা এসব বন কেটে বিলে কাঁটা হিসেবে ব্যবহৃত করার কারনে আগেরমত সেই বনাঞ্চল নেই হাওরে। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে কাঁটা হয় এসব গাছ। শুধু ২০২১ সালে বাঁধ নির্মাণের অজুহাতে এক মালাম বিল থেকে প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটা হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৫০ হাজার হিজল, করচ ও বরুন গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেওয়ার কারণে পূর্বেরমতো ইজারাদাররা সহজে গাছ কাটতে পারেন না। প্রকৃতির পরিবেশ রক্ষা, মাছের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ বনাঞ্চল রক্ষার দাবি এলাকাবাসীর।

হাওরপাড়ের বসবাসকারী বাসিন্দারা বলেন, হাওরে আগে মাছের পাশাপাশি অনেক গাছ ছিল। আমরা মাছ মারতে গেলে সহজে জাল ফেলা যেত না। কিছুদিন আগে থেকে এসব গাছ রোপণ করার কারণে কিছুটা সৌন্দর্য ফিরে আসছে।

সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, একটা সময় হাকালুকি হাওরে প্রচুর জলজ গাছ ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের আওতা থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাওরের ভূমির দায়িত্ব চলে যায়। এরপর থেকে তদারকির অভাবে গাছ কেটে জমি তৈরির কারনে গাছগুলো কাটা হয়েছে। সিএনআরএসের নবপল্লব প্রকল্পের আওতায় সেই পুরনো বনাঞ্চল ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের সফলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার ও জলজ বৃক্ষে হাকালুকি তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে এ কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন।

পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, হাকালুকি হাওরে জলজ ও হিজল-করচসহ অনেক বনের বৈচিত্র্যময় গাছপালা ছিল। এগুলো অনেকটাই উজাড় হয়ে গেছে। এখন যারা এই উদ্যোগ নিয়েছে নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু তখনই এটিই পরিপূর্ণতা পাবে যখন আগের মতো গাছগুলো দেখা যাবে। এ ছাড়া আর অজুহাতে কোন

দুষ্কৃতিকারীরা এই গাছগুলো কাটতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

হাকালুকি হাওর এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হওয়ায় এখানে হিজল-তমাল জাতীয় জলাভূমি উপযোগী গাছের আধিক্য রয়েছে যা মাছের প্রজনন ও আশ্রয়স্থল।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, সিএনআরএস যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটি খুব ভালো। হাকালুকি হাওরের বনাঞ্চল পূর্বের মত ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি এ ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ প্রশংসনীয়। এ ছাড়া আমাদের সাথে আলাপ করে এসবের পর্যবেক্ষণের জন্য সংস্থা থেকে পাহারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করছি।