ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
অণ্ডকোষ চেপে চেকে সাক্ষর নেওয়া বিএনপি কর্মী লিটু গ্রেপ্তার পুলিশের ৬ ডিআইজিসহ ৯ কর্মকর্তাকে বদলি নারায়ণগঞ্জে ফের খুন, এবার ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী মোতালেব কিলিং মিশনের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: তোশকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে ১৩টি এয়ারগান গুলিসহ জব্দ হলেও তালিকা অস্পষ্ট জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় জনগনের জন্য উন্মুক্ত, প্রতি বুধবার গণশুনানি: ডিসি ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগে ওসি আব্দুল বারীকে প্রত্যাহার চাঁদা না দেয়ায় অপপ্রচারের শিকার, দাবি রূপগঞ্জ ইউএনও’র মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা না’গঞ্জের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নিকার সভা আগামীকাল না’গঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলেন সদর ইউএনও ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা এনবিআর’র নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আহসান হাবিব নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে নৃশংশভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এসিল্যান্ডসহ ৮ কর্মকর্তাকে শোকজ শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ তুরাগ নদী থেকে দুই দিনে ৩ লাশ উদ্ধার, ‘রহস্যের ধূম্রজাল’ জর্ডানকে ৩-১ হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য চালু ভারতের পর্যটন ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে কক্সবাজারে বিজিবির মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল ও চোলাই মদসহ আটক-১ মৌলভীবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ পিতার মৃত্যু আগামীকাল সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন টেকনাফে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে চুরি যাওয়া প্রাইভেট কারটি উদ্ধার,আটক-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি-১৩০ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ছবিসহ এনআইডি নবায়ন, ফি কত টাকা? কুষ্টিয়ায় কালী নদীতে ভাসছিল যুবকের মরদেহ  নারায়ণগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত-২০ মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা: সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে আবেদন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলে ক্ষুব্ধ ব্রাজিল, ফিফায় অভিযোগ নতুন পে-স্কেল: রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মীরা কী এই সুবিধা পাবেন? কুষ্টিয়ায় কর কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক-৪ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ দেশের ২২ জেলা ও দায়রা জজকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি মেসির জোড়া গোল,অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনা ফতুল্লায় পুলিশি অভিযানে বরপুত্র সিএ হাবিব মল্লিকের শ্বশুর সানাউল্লাহ্ গ্রেপ্তার না’গঞ্জ সদর উপজেলার ৬’শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামলো আজ নারায়ণগঞ্জে দূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলায় ফের সেনা মোতায়েন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে নারায়ণগঞ্জে এমপি পুত্র যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম আটক ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে শতভাগ সাফল্যের পথে ঢাকা জেলা প্রশাসন চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা পঞ্চবটী-পাগলা পুরাতন সড়কটি না’গঞ্জ সওজ’র আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির বকশীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, চালকসহ নিহত-২ আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সাংবাদিক রেজানুর গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে ১৫ শ্রমিক আহত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব’ নিয়ে বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত, সেমিফাইনালে ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুটবলের ছন্দের যাদুকর নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিলো ব্রাজিল রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির মেসির দুর্দন্ত হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বজয়ের অভিযান শুরু আর্জেন্টিনার এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুভসূচনা পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, ওসিসহ আহত-৩০ সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি জমায়: ডিসি রায়হান কবির ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো পদ্মা-রেলসেতু সংযোগ পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটা নারায়ণগঞ্জে ৬০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬’শ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৪ দিন পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ কক্সবাজারে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঢাকার পর এবার নারায়ণগঞ্জে মিললো গুলির খোসাসহ অত্যাধুনিক পেনগান ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশে কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশীর মরদেহ হস্তান্তর টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার প্রথমার্ধে পুরো মাঠে ছন্নছাড়া ব্রাজিল, সুশৃঙ্খল মরক্কোর ১-১ গোলে সমতা ১০ জেলার মানুষ আজ থেকে পাচ্ছে আইসিইউ না’গঞ্জে ফের আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা, এবার শিকার পুলিশ ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভিসির দায়িত্বে মাসুদুজ্জামান নাসিক বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার অকাল মৃত্যু টেকনাফে পুলিশের অভিযানে, ২৪ ঘন্টা মধ্যে ৫ অপহৃত উদ্ধার বাতিল হচ্ছে ৬ বিষয়ে অনার্স, যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কোর্স রূপগঞ্জে ওজু শেখানোর নামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করবে: মির্জা ফখরুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত মতিঝিলে দিনের আলোয় জনসম্মুখে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই শিশু রামিসা ধ/র্ষ/ণ-হ/ত্যা/য় ঘাতক দম্পতি সোহেল-স্বপ্নার মৃ/ত্যু/দণ্ড অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নতুন নীতিমালা করছে সরকার লক্ষ্মীপুর জেলায় ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করে গেজেট প্রকাশ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে পরিচালক পদে জয় পেয়েছেন মাসুদুজ্জামান আজ ৭ই জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস বক্তাবলী-আলীরটেক’র মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর আহ্বান সদর ইউএনও’র বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে লড়ছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান প্রিয় দল ব্রাজিলের শাড়িতে ‘হেক্সা’র বার্তা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিমি

সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে: জনমনে কষ্ট ব্যবসায়িদের বাঁচার লড়াই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫ ৪৩৫ বার পড়া হয়েছে

ইব্রাহীম হোসেন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।।

গত ১লা মে ২০২৫ থেকে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সরকার নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫ শতাংশ কম দামে ঔষধ বিক্রি শুরু হয়েছে। যা ইতিপূর্বে ১০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। হঠাৎ করে সাতক্ষীরার জনগণের কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ ক্রয় করার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওযুধের এই দাম‌ বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীনি আলী জানান, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখা ইতিপূর্বে বিগত ফ্যাসিস্টদের দখলে ছিল, অর্থনৈতিকভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সাতক্ষীরা জেলা ভরে গেছিল। সাতক্ষীরা জেলার জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সকল ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় বন্ধ, লাইসেন্স বিহীন দোকান বন্ধ করা, নির্ধারিত তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণ করা, প্রতিটি দোকানে ফার্মাসিস্ট রাখা, ব্রোকার বা ফরিয়াদের কাছ থেকে ঔষধ ক্রয় না করে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে থেকে জনস্বার্থে পাঁচ শতাংশ কম দামে ওষুধ বিক্রয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা ১মে ২০২৫ তারিখ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভেজাল ও নিম্নমানের নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে না চালিয়ে সরকারি সকল নীতিমালার আলোকে সঠিক নিয়মে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এটি সাধারণ দৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে জনস্বার্থে কম নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত, ভোক্তা অধিকার সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত মূল্যের পণ্য বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দেশের অধিকাংশ জেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করা হয়। কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সেখানে জনস্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের উভয়দিক বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম জীবন জীবিকা নির্বাহ এবং ওষুধের ব্যবসাটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় সাতক্ষীরায় ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে তিনি জেলা সকল ওষুধের ব্যবসায়ী এবং ওষুধ ক্রেতাদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার বলে সমিতির সিদ্ধান্তে কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ বিক্রি শুরু করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ঔষধ ব্যবসায়ীদের সমিতির নিকট পুনরায় পূর্বের মূল্যে ঔষধ বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

শহরের রফিকুল ইসলাম নামের (৬৮) একজন রোগী জানান তিনি হাই ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয় এবং ওষুধ খেতে হয়। পেশাই তিনি ছিলেন একজন রং মিস্ত্রি। বর্তমানে অক্ষম শরীরে কোন কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে ছোট্ট একটি মুদি দোকানদার। দ্রব্যমূল্যের বাজারে ছেলেটির একার আয়ে সংসারের ব্যায়ভার বহন করা এবং ওষুধ ক্রাই করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রওশন আলী নামের (৭৫) একজন জানান তিনি হাই প্রেসারের রোগী। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। ছেলে ভাড়ার পিকআপ চালান। এ কারণে তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেন না। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমান দাম বৃদ্ধিতে আরো কষ্টকর হয়ে গেছে। আগে যে ওষুধ ৯০ টাকায় কিনতেন এখন সেটি ৯৫ টাকা কিনতে হচ্ছে।

অপর দিকে শহরের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি উচ্চশিক্ষিত, চাকরি না পেয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ওষুধের দোকান করেন। ২০ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করা ব্যবসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলে তিনি সেখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে মাত্র ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গ্রামের ভিতরে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। তার অনেক ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বছরের পর বছর পড়ে আছে। দুই একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানির প্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ গুলো যথা সময়ে ফেরত নেননি। কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে গেলেও তার পরিবর্তে অন্য ঔষধ প্রদান বা ইনভয়েচ এ এডজাস্ট করেনি। আবার অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়ার সময় একজন প্রতিনিধি ওই কোম্পানির সমস্ত গ্রুপের ওষুধ অর্ডার নেন এবং একসাথে এক কাটুনে সরবরাহ করেন। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এটি অন্য গ্রুপের, ওটি অন্য গ্রুপের, এটা আমার গ্রুপের না এমন তালবাহানা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো উঠায় নিয়ে যায় না। পাতা কাটা ওষুধ, বক্সের ত্রুটি, কোম্পানির পলিসি ইত্যাদি বলে বহুত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পরিবর্তন করতে উঠায় নিয়ে যায় না। তিনি আরো জানান বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সময় কিছু বিশেষ ওষুধের জন্য ক্যাম্পেইন করে ডাক্তারদেরকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন করান। সাময়িক সময় সে ঔষধ গুলো প্রচুর বিক্রি হয়। যার ফলে ফার্মেসি গুলো ঐ ওষুধ রাখতে বাধ্য হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একটি প্রেসক্রিপশনে একজন কাস্টমারের যে কয়টি ওষুধ থাকে তার মধ্যে একটি ওষুধ না পাইলে ওই দোকান থেকে তিনি অন্য দোকানে চলে যান। ক্যাম্পেইন শেষ হলে ডাক্তারেরা ঐ ওষুধ আর লেখেন না। ফলে ঐ ওষুধগুলো বছরের পর বছর পরে থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। মূলধনের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর বসে থাকে।

এসব কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তার মত এমন ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ ব্যবসায়ীর অনেক আছে বলে তিনি জানান।

পারুলিয়া এলাকার একজন ঔষধ ব্যবসায়ী নাহিদ হাসান জানান, অত্র এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওষুধ বিক্রি করে। দেশী ওষুধ ক্রয় মূল্য থেকেও কম দামে বিক্রি করে ইন্ডিয়ান ওষুধ দিগুন থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করেন। এটিতে তারা লাভবান হলেও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে টিকে থাকার জন্য দেশী ওষুধ বিক্রয় করতে ব্যবসায়ীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। যে কারণে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড়েও তারা ওষুধ বিক্রি করে এসেছে। দেশের ভালো মানের ওষুধ কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে দোকানগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রয় করলে ৫ শতাংশ লাভ থাকে। যে লভ্যাংশ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সে কারণে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় করতে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়েছে।

আর যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করিনি এখন তারা মুলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আলিপুর এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায় আক্তারুল ইসলাম জানান, এলাকার মুদিখানার বিভিন্ন দোকানে কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে গিয়ে ফেরি করে ওইসব নিম্নমানের কোম্পানির ঔষধ মুদিখানার দোকানদারদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই মুদিখানার দোকানদারদের কাছ থেকে এলাকার সহজ সরল মানুষ নিম্নমানের ওই ধরনের সব ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অপরদিকে প্রকৃত ঔষধ ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওয়াপাড়া এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী উচ্চশিক্ষিত আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রনি জানান, সকল প্রকার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গ্রামের ভিতরে বলে কোয়ালিটি সম্পন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা সেখানে জান না বা অর্ডার কাটেন না। অনেক সময় অর্ডার কাটলেও ঠিকমতো ঔষধ ডেলিভারি দেন না। যে কারণে ভালো মানের ঔষধের জন্য দোকান বন্ধ রেখে অথবা বাড়তি একজন লোক শহরে গিয়ে যাতায়াতের বাড়তি খরচ করে শহরের দোকানগুলো থেকে পাইকারি ওষুধ কিনে অতি সামান্য লাভে বিক্রি করতে হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শহরের বড় দোকানগুলো বেশি বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। অনেক সময় বড় দোকানগুলো মিটফোর্ড বা হেরাজ মার্কেটের মত জায়গা থেকে নিম্নমানের ওষুধ কুরিয়ারের মাধ্যমে নিয়ে এসে নিয়ে ছোট ছোট দোকানদার ও সাধারণ জনগনের কাছে বিক্রি করে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। এ সকল ওষুধ কোথা থেকে নিয়ে আসা হয় তার জন্য কোম্পানির নির্ধারিত এলাকা কোডের সিল কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের কাছে প্রমোশনের জন্য দেয়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও টার্গেট পূরণের জন্য বড় দোকানগুলোতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাড়তি সুবিধা হিসেবে দিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্ডার নেন। এছাড়া অনেক বড় বড় দোকানগুলোর অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করে। অপরদিকে প্রেসক্রিপশন ঠিকানা দেখে বা যেকোনো ভবে বুঝতে পেরে দূর থেকে আসা অপরিচিত মানুষদের কাছে ওষুধের মূল্য না জানাই তাদের সাথে প্রতারণা করে ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব কারণে বড় দোকানগুলো ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি করে আসছে। অপরদিকে ছোট ছোট দোকানগুলো দিন দিন লস করতে থেকে মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান। দিশেহারা হয়ে পড়েছে বহু ওষুধ ব্যবসায়ী। ঋণের জর্জরিত হয়ে ঠিকমতো ঋণের কিস্তি না দিতে পারে তারা অনেকেই এখন বাড়ি ছাড়া। এছাড়া গ্রামে ওষুধ কিনতে আসা ওষুধ অধিকাংশ মানুষই বাকি লেনদেন করেন। যা বছরে পর বছর হালখাতা করেও পরিশোধ করে না। চলমান এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি জানান।

সুলতানপুর এলাকায় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তিন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন। একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি ড্রাগ লাইসেন্স, একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সনদধরী ফার্মাসিস্ট। সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় ছোট ফার্মেসির জন্য সাইনবোর্ড কর সহ ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। প্রতি দুই বছর পর পর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন কাগজপত্র প্রদান করতে হয়। যেখানে প্রতিবছর আয়কর পরিষদের সনদপত্র প্রদান করতে হয়। প্রতি বছর সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা আই কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ ফার্মেসির জন্য একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সি ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট এবং মডেল ফার্মেসির জন্য এ ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। এই ফার্মাসিস্ট সনদপত্র পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে নবায়ন করতে হয়। অনলাইনে আবেদনের ১৫ দিন পর সনদধারীকে সশরীরে ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সনদপত্র নবায়ন করতে হয়। অনেক সময় একাধিকবার আবেদন করা প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে ঔষধ সংরক্ষণ করার নিয়ম আছে। বর্তমান আবহাওয়ায় এসি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যায় বহুল।

সর্বোপরি সাতক্ষীরায় চলমান ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে একদিকে জনগণের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদিকে ব্যাবসায়ীদের বাঁচার লড়াই এর বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে: জনমনে কষ্ট ব্যবসায়িদের বাঁচার লড়াই

আপডেট সময়- ০১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

ইব্রাহীম হোসেন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।।

গত ১লা মে ২০২৫ থেকে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সরকার নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫ শতাংশ কম দামে ঔষধ বিক্রি শুরু হয়েছে। যা ইতিপূর্বে ১০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। হঠাৎ করে সাতক্ষীরার জনগণের কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ ক্রয় করার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওযুধের এই দাম‌ বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীনি আলী জানান, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখা ইতিপূর্বে বিগত ফ্যাসিস্টদের দখলে ছিল, অর্থনৈতিকভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সাতক্ষীরা জেলা ভরে গেছিল। সাতক্ষীরা জেলার জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সকল ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় বন্ধ, লাইসেন্স বিহীন দোকান বন্ধ করা, নির্ধারিত তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণ করা, প্রতিটি দোকানে ফার্মাসিস্ট রাখা, ব্রোকার বা ফরিয়াদের কাছ থেকে ঔষধ ক্রয় না করে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে থেকে জনস্বার্থে পাঁচ শতাংশ কম দামে ওষুধ বিক্রয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা ১মে ২০২৫ তারিখ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভেজাল ও নিম্নমানের নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে না চালিয়ে সরকারি সকল নীতিমালার আলোকে সঠিক নিয়মে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এটি সাধারণ দৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে জনস্বার্থে কম নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত, ভোক্তা অধিকার সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত মূল্যের পণ্য বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দেশের অধিকাংশ জেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করা হয়। কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সেখানে জনস্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের উভয়দিক বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম জীবন জীবিকা নির্বাহ এবং ওষুধের ব্যবসাটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় সাতক্ষীরায় ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে তিনি জেলা সকল ওষুধের ব্যবসায়ী এবং ওষুধ ক্রেতাদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার বলে সমিতির সিদ্ধান্তে কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ বিক্রি শুরু করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ঔষধ ব্যবসায়ীদের সমিতির নিকট পুনরায় পূর্বের মূল্যে ঔষধ বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

শহরের রফিকুল ইসলাম নামের (৬৮) একজন রোগী জানান তিনি হাই ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয় এবং ওষুধ খেতে হয়। পেশাই তিনি ছিলেন একজন রং মিস্ত্রি। বর্তমানে অক্ষম শরীরে কোন কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে ছোট্ট একটি মুদি দোকানদার। দ্রব্যমূল্যের বাজারে ছেলেটির একার আয়ে সংসারের ব্যায়ভার বহন করা এবং ওষুধ ক্রাই করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রওশন আলী নামের (৭৫) একজন জানান তিনি হাই প্রেসারের রোগী। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। ছেলে ভাড়ার পিকআপ চালান। এ কারণে তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেন না। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমান দাম বৃদ্ধিতে আরো কষ্টকর হয়ে গেছে। আগে যে ওষুধ ৯০ টাকায় কিনতেন এখন সেটি ৯৫ টাকা কিনতে হচ্ছে।

অপর দিকে শহরের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি উচ্চশিক্ষিত, চাকরি না পেয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ওষুধের দোকান করেন। ২০ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করা ব্যবসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলে তিনি সেখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে মাত্র ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গ্রামের ভিতরে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। তার অনেক ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বছরের পর বছর পড়ে আছে। দুই একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানির প্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ গুলো যথা সময়ে ফেরত নেননি। কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে গেলেও তার পরিবর্তে অন্য ঔষধ প্রদান বা ইনভয়েচ এ এডজাস্ট করেনি। আবার অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়ার সময় একজন প্রতিনিধি ওই কোম্পানির সমস্ত গ্রুপের ওষুধ অর্ডার নেন এবং একসাথে এক কাটুনে সরবরাহ করেন। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এটি অন্য গ্রুপের, ওটি অন্য গ্রুপের, এটা আমার গ্রুপের না এমন তালবাহানা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো উঠায় নিয়ে যায় না। পাতা কাটা ওষুধ, বক্সের ত্রুটি, কোম্পানির পলিসি ইত্যাদি বলে বহুত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পরিবর্তন করতে উঠায় নিয়ে যায় না। তিনি আরো জানান বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সময় কিছু বিশেষ ওষুধের জন্য ক্যাম্পেইন করে ডাক্তারদেরকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন করান। সাময়িক সময় সে ঔষধ গুলো প্রচুর বিক্রি হয়। যার ফলে ফার্মেসি গুলো ঐ ওষুধ রাখতে বাধ্য হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একটি প্রেসক্রিপশনে একজন কাস্টমারের যে কয়টি ওষুধ থাকে তার মধ্যে একটি ওষুধ না পাইলে ওই দোকান থেকে তিনি অন্য দোকানে চলে যান। ক্যাম্পেইন শেষ হলে ডাক্তারেরা ঐ ওষুধ আর লেখেন না। ফলে ঐ ওষুধগুলো বছরের পর বছর পরে থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। মূলধনের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর বসে থাকে।

এসব কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তার মত এমন ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ ব্যবসায়ীর অনেক আছে বলে তিনি জানান।

পারুলিয়া এলাকার একজন ঔষধ ব্যবসায়ী নাহিদ হাসান জানান, অত্র এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওষুধ বিক্রি করে। দেশী ওষুধ ক্রয় মূল্য থেকেও কম দামে বিক্রি করে ইন্ডিয়ান ওষুধ দিগুন থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করেন। এটিতে তারা লাভবান হলেও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে টিকে থাকার জন্য দেশী ওষুধ বিক্রয় করতে ব্যবসায়ীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। যে কারণে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড়েও তারা ওষুধ বিক্রি করে এসেছে। দেশের ভালো মানের ওষুধ কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে দোকানগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রয় করলে ৫ শতাংশ লাভ থাকে। যে লভ্যাংশ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সে কারণে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় করতে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়েছে।

আর যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করিনি এখন তারা মুলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আলিপুর এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায় আক্তারুল ইসলাম জানান, এলাকার মুদিখানার বিভিন্ন দোকানে কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে গিয়ে ফেরি করে ওইসব নিম্নমানের কোম্পানির ঔষধ মুদিখানার দোকানদারদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই মুদিখানার দোকানদারদের কাছ থেকে এলাকার সহজ সরল মানুষ নিম্নমানের ওই ধরনের সব ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অপরদিকে প্রকৃত ঔষধ ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওয়াপাড়া এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী উচ্চশিক্ষিত আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রনি জানান, সকল প্রকার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গ্রামের ভিতরে বলে কোয়ালিটি সম্পন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা সেখানে জান না বা অর্ডার কাটেন না। অনেক সময় অর্ডার কাটলেও ঠিকমতো ঔষধ ডেলিভারি দেন না। যে কারণে ভালো মানের ঔষধের জন্য দোকান বন্ধ রেখে অথবা বাড়তি একজন লোক শহরে গিয়ে যাতায়াতের বাড়তি খরচ করে শহরের দোকানগুলো থেকে পাইকারি ওষুধ কিনে অতি সামান্য লাভে বিক্রি করতে হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শহরের বড় দোকানগুলো বেশি বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। অনেক সময় বড় দোকানগুলো মিটফোর্ড বা হেরাজ মার্কেটের মত জায়গা থেকে নিম্নমানের ওষুধ কুরিয়ারের মাধ্যমে নিয়ে এসে নিয়ে ছোট ছোট দোকানদার ও সাধারণ জনগনের কাছে বিক্রি করে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। এ সকল ওষুধ কোথা থেকে নিয়ে আসা হয় তার জন্য কোম্পানির নির্ধারিত এলাকা কোডের সিল কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের কাছে প্রমোশনের জন্য দেয়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও টার্গেট পূরণের জন্য বড় দোকানগুলোতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাড়তি সুবিধা হিসেবে দিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্ডার নেন। এছাড়া অনেক বড় বড় দোকানগুলোর অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করে। অপরদিকে প্রেসক্রিপশন ঠিকানা দেখে বা যেকোনো ভবে বুঝতে পেরে দূর থেকে আসা অপরিচিত মানুষদের কাছে ওষুধের মূল্য না জানাই তাদের সাথে প্রতারণা করে ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব কারণে বড় দোকানগুলো ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি করে আসছে। অপরদিকে ছোট ছোট দোকানগুলো দিন দিন লস করতে থেকে মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান। দিশেহারা হয়ে পড়েছে বহু ওষুধ ব্যবসায়ী। ঋণের জর্জরিত হয়ে ঠিকমতো ঋণের কিস্তি না দিতে পারে তারা অনেকেই এখন বাড়ি ছাড়া। এছাড়া গ্রামে ওষুধ কিনতে আসা ওষুধ অধিকাংশ মানুষই বাকি লেনদেন করেন। যা বছরে পর বছর হালখাতা করেও পরিশোধ করে না। চলমান এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি জানান।

সুলতানপুর এলাকায় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তিন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন। একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি ড্রাগ লাইসেন্স, একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সনদধরী ফার্মাসিস্ট। সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় ছোট ফার্মেসির জন্য সাইনবোর্ড কর সহ ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। প্রতি দুই বছর পর পর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন কাগজপত্র প্রদান করতে হয়। যেখানে প্রতিবছর আয়কর পরিষদের সনদপত্র প্রদান করতে হয়। প্রতি বছর সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা আই কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ ফার্মেসির জন্য একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সি ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট এবং মডেল ফার্মেসির জন্য এ ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। এই ফার্মাসিস্ট সনদপত্র পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে নবায়ন করতে হয়। অনলাইনে আবেদনের ১৫ দিন পর সনদধারীকে সশরীরে ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সনদপত্র নবায়ন করতে হয়। অনেক সময় একাধিকবার আবেদন করা প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে ঔষধ সংরক্ষণ করার নিয়ম আছে। বর্তমান আবহাওয়ায় এসি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যায় বহুল।

সর্বোপরি সাতক্ষীরায় চলমান ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে একদিকে জনগণের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদিকে ব্যাবসায়ীদের বাঁচার লড়াই এর বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন।