ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
দুই দেশের সমঝোতা ছাড়া শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই ফিফা কোনো স্বাধীন ক্রীড়া সংস্থা নয়, বরং রাজনৈতিক হাতিয়ার প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় সময় টিভির সাবেক এমডির জামিন নামঞ্জুর কক্সবাজারে ২ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা সুন্দরী নারী আটক মৌলভীবাজারে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, জনর্ভোগ চরমে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ শেষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা টেকনাফে নারকোটিস’র বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১ নারী আটক ভেড়ামারার একমাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবহেলিত মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত অণ্ডকোষ চেপে চেকে সাক্ষর নেওয়া বিএনপি কর্মী লিটু গ্রেপ্তার পুলিশের ৬ ডিআইজিসহ ৯ কর্মকর্তাকে বদলি নারায়ণগঞ্জে ফের খুন, এবার ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী মোতালেব কিলিং মিশনের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: তোশকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে ১৩টি এয়ারগান গুলিসহ জব্দ হলেও তালিকা অস্পষ্ট জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় জনগনের জন্য উন্মুক্ত, প্রতি বুধবার গণশুনানি: ডিসি ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগে ওসি আব্দুল বারীকে প্রত্যাহার চাঁদা না দেয়ায় অপপ্রচারের শিকার, দাবি রূপগঞ্জ ইউএনও’র মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা না’গঞ্জের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নিকার সভা আগামীকাল না’গঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলেন সদর ইউএনও ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা এনবিআর’র নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আহসান হাবিব নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে নৃশংশভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এসিল্যান্ডসহ ৮ কর্মকর্তাকে শোকজ শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ তুরাগ নদী থেকে দুই দিনে ৩ লাশ উদ্ধার, ‘রহস্যের ধূম্রজাল’ জর্ডানকে ৩-১ হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য চালু ভারতের পর্যটন ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে কক্সবাজারে বিজিবির মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল ও চোলাই মদসহ আটক-১ মৌলভীবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ পিতার মৃত্যু আগামীকাল সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন টেকনাফে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে চুরি যাওয়া প্রাইভেট কারটি উদ্ধার,আটক-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি-১৩০ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ছবিসহ এনআইডি নবায়ন, ফি কত টাকা? কুষ্টিয়ায় কালী নদীতে ভাসছিল যুবকের মরদেহ  নারায়ণগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত-২০ মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা: সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে আবেদন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলে ক্ষুব্ধ ব্রাজিল, ফিফায় অভিযোগ নতুন পে-স্কেল: রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মীরা কী এই সুবিধা পাবেন? কুষ্টিয়ায় কর কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক-৪ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ দেশের ২২ জেলা ও দায়রা জজকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি মেসির জোড়া গোল,অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনা ফতুল্লায় পুলিশি অভিযানে বরপুত্র সিএ হাবিব মল্লিকের শ্বশুর সানাউল্লাহ্ গ্রেপ্তার না’গঞ্জ সদর উপজেলার ৬’শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামলো আজ নারায়ণগঞ্জে দূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলায় ফের সেনা মোতায়েন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে নারায়ণগঞ্জে এমপি পুত্র যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম আটক ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে শতভাগ সাফল্যের পথে ঢাকা জেলা প্রশাসন চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা পঞ্চবটী-পাগলা পুরাতন সড়কটি না’গঞ্জ সওজ’র আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির বকশীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, চালকসহ নিহত-২ আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সাংবাদিক রেজানুর গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে ১৫ শ্রমিক আহত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব’ নিয়ে বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত, সেমিফাইনালে ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুটবলের ছন্দের যাদুকর নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিলো ব্রাজিল রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির মেসির দুর্দন্ত হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বজয়ের অভিযান শুরু আর্জেন্টিনার এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুভসূচনা পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, ওসিসহ আহত-৩০ সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি জমায়: ডিসি রায়হান কবির ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো পদ্মা-রেলসেতু সংযোগ পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটা নারায়ণগঞ্জে ৬০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬’শ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৪ দিন পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ কক্সবাজারে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঢাকার পর এবার নারায়ণগঞ্জে মিললো গুলির খোসাসহ অত্যাধুনিক পেনগান ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশে কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশীর মরদেহ হস্তান্তর টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার প্রথমার্ধে পুরো মাঠে ছন্নছাড়া ব্রাজিল, সুশৃঙ্খল মরক্কোর ১-১ গোলে সমতা ১০ জেলার মানুষ আজ থেকে পাচ্ছে আইসিইউ না’গঞ্জে ফের আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা, এবার শিকার পুলিশ ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভিসির দায়িত্বে মাসুদুজ্জামান নাসিক বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার অকাল মৃত্যু টেকনাফে পুলিশের অভিযানে, ২৪ ঘন্টা মধ্যে ৫ অপহৃত উদ্ধার বাতিল হচ্ছে ৬ বিষয়ে অনার্স, যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কোর্স রূপগঞ্জে ওজু শেখানোর নামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করবে: মির্জা ফখরুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত

মুন্সীগঞ্জে ভয়াবহ নদী দখল:শাহ সিমেন্টের কবলে ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার মোহনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৫:৪১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫ ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
মুন্সীগঞ্জে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন।এখানকার অধিকাংশ জায়গা ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার অংশ।কিন্তু শাহ সিমেন্ট দুটি নদীরই কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশব্যবস্থায়।অন্তত চারটি সরকারি প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।নথি অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ২০১৮,২০১৯ ও ২০২৩ সালে শাহ সিমেন্টকে ‘দখলদার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।কিন্তু, নদীগুলো রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।
আবুল খায়ের গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান শাহ সিমেন্ট এক লিখিত বিবৃতিতে নদীর জমি দখলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।কিন্তু,তারা দুটি নদীর মাঝের এই জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে রাজি হয়নি।অবৈধ দখল
নথিপত্র এবং বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী,শাহ সিমেন্ট ২০০২ সালে কারখানাটি নির্মাণ করে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কারখানা বিস্তৃত হয় দুই নদীর ভেতরে।কোম্পানিটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী,শাহ সিমেন্ট বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সিমেন্ট কারখানা,যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা এক কোটি টন।২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি,মার্চ ও এপ্রিলে একাধিকবার পরিদর্শনের সময় দেখা যায়,বিশাল স্থাপনা,ভারী যন্ত্রপাতি এবং একটি গুদাম দাঁড়িয়ে আছে দুই নদীর মোহনাস্থলে।মুন্সীগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনারের(ভূমি)অফিসও নিশ্চিত করেছে,শাহ সিমেন্ট মিরেরসরাই মৌজায় আরএস দাগ নম্বর ১৮৪ এবং পূর্ব মুক্তারপুর মৌজায় আরএস দাগ নম্বর ৩০১ থেকে ৩০৮ পর্যন্ত একটি বড় নদী এলাকা দখল করে রেখেছে।গত শনিবার রাতে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল করিম বলেন,আমরা ইতোমধ্যে সার্ভে শেষ করেছি এবং তদন্ত শেষ হলে শাহ সিমেন্টকে নোটিশ দেওয়া হবে।মুন্সীগঞ্জ ভূমি অফিসের রিভিশনাল সার্ভে (আরএস) রেকর্ড অনুযায়ী,দাগ নম্বর ১৮৪ এবং ৩০১ থেকে ৩০৭ নম্বর দাগ নদী ও নদীর তীর হিসেবে চিহ্নিত এবং ‘বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
আরএস দাগ নম্বর ৩০৮- এর জমির রেকর্ড সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।দুই দশক আগে এই সিমেন্ট কারখানাটি স্থাপনের আগে ধলেশ্বরী ছিল একটি জীবন্ত নদী।স্থানীয়রা সেখানে মাছ ধরত,গোসল করত এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিল।মুন্সকগঞ্জের নদীপাড়ের গ্রাম মোল্লারচরের বাসিন্দারা জানান,প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে।কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে।রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলত।২০২৫ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ)মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে দেওয়া এক চিঠিতে জানায়,শাহ সিমেন্টের বালু ফেলার কার্যক্রম শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে,নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।চিঠিতে বলা হয়,শাহ সিমেন্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মোহনায় বালু ও মাটি ফেলে জায়গা উঁচু করছে,যার ফলে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।চিঠিতে আরও বলা হয়,সরকারি নির্দেশনা সত্ত্বেও শাহ সিমেন্ট এখনো অবৈধভাবে ফেলা বালু ও মাটি অপসারণ করেনি।এই কর্মকাণ্ড বন্দর আইন ১৯০৮, বন্দর বিধিমালা ১৯৬৬ এবং উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করছে।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.)এম সাখাওয়াত হোসেন সাম্প্রতিক এক সফরে এলাকাটি পরিদর্শন করে অবৈধ দখল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।যোগাযোগ করা হলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত বলেন,শাহ সিমেন্টের বিরুদ্ধে নদীর কিছু জায়গা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিস্তৃত তদন্ত চলছে।সাইট পরিদর্শন ও রেকর্ড যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এটিই প্রথম নয়,সরকারিভাবে নদী দখল নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া এবং চিঠি চালাচালির ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।দুই বছর আগে-২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন একটি তালিকা প্রস্তুত করে এবং শাহ সিমেন্টকে নদী দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করে।
তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরের সই করা ওই তালিকা অনুযায়ী,১৫টি প্রতিষ্ঠান ধলেশ্বরী নদীর ৩৪ দশমিক ৯৬ একর জায়গা দখল করেছে।এর মধ্যে শাহ সিমেন্ট একাই দখল করেছে ২৪ একর।অর্থাৎ,এখানে তারাই সবচেয়ে বড় দখলদার।এর আগে ২০১৯ সালের ৬ মে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন একটি তালিকা তৈরি করে এবং ৫০টি নদী দখলকারীর মধ্যে শাহ সিমেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করে।সেখানে বলা হয়, কোম্পানিটি মিরেরসরাই মৌজায় আরএস দাগ নম্বর ১৮৪-এর নদীর জমি দখল করেছে।তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সই করা চিঠিতে বলা হয়,এই তালিকাটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে-নোটিশ প্রদান ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে।চিঠিটি দেশের সব নদীর আইনি অভিভাবক জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কাছেও পাঠানো হয়েছিল।জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনও ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে শাহ সিমেন্টকে এই দুই নদীর দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করে।২০১৮ সালের প্রতিবেদনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জানায়,শাহ সিমেন্ট ধীরে ধীরে নদীর জমি দখল করে ভরাট করছে এবং নদীর চরের জায়গায় সাইনবোর্ড টানিয়েছে।পরের বছর ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়,শাহ সিমেন্ট কোম্পানি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরেরসরাই মৌজায় আরএস খতিয়ান নম্বর এক ও আরএস দাগ নম্বর ১৮৪-এ নদীর প্রায় ২৪ একর জায়গা বালু ফেলে ভরাট করে দখল করেছে।জমির শ্রেণি পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে বালু ফেলার মাধ্যমে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,কোম্পানিটি বিশাল কারখানা নির্মাণ করেছে,যার ফলে একদিকে ধলেশ্বরী এবং অন্যদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে-যা দুটি নদীকেই গিলে ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কারখানাটি ধলেশ্বরী নদীতে তরল ও কঠিন বর্জ্য ফেলে।এতে বলা হয়,এই কারণে নদীর পানি, পরিবেশ,বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।প্রায় চার মিটার ব্যাসের একটি বড় পাইপ দিয়ে শাহ সিমেন্ট কারখানা থেকে সরাসরি দূষিত পানি নদীতে গিয়ে পড়ছে; ফ্লাই অ্যাশের দূষণে মাছ,ডলফিন ও পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে গেছে।যোগাযোগ করা হলে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন,আমি ২০১৯ সালে এলাকাটি পরিদর্শন করে কারখানাটিকে নদী দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম।এতদিন ধরে কীভাবে তারা ওই জমি দখল করে থাকে?কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে দুটি নদী ভরাট করে।আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে সিএস ও আরএস রেকর্ড যাচাই করে অবৈধ দখলের একটি প্রতিবেদনও দিয়েছিলাম।কর্মকর্তারা জানান,২০১৮ ও ২০১৯ সালের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ২০২৩ সালের মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তালিকাটি কেবল আরএস দাগ নম্বর ১৮৪-ভিত্তিক-যেখানে শাহ সিমেন্ট ২৪ একর নদীর জমি দখল করে আছে।তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের শুরুতে করা জরিপে অতিরিক্ত আরএস দাগ নম্বর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।এসব থেকে দেখা যায়,বর্তমানে কোম্পানিটি ২৪ একরের বেশি নদীর জমি দখল করে আছে।যোগাযোগ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন,হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন।এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার।তিনি বলেন,আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি-বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর।পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,অন্তর্বর্তী সরকার এই স্বল্প মেয়াদের মধ্যে ১৩টি নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।তিনি বলেন,এই নদীগুলো যদি ওই তালিকায় থাকে,তাহলে আমাদের মেয়াদের মধ্যেই এর ফলাফল দেখা যেতে পারে।বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপপরিচালক মোবারক হোসেন বলেন,নদীর যেসব অংশ দখল হয়ে গেছে, তা শিগগির পুনরুদ্ধার করা হবে।ওই এলাকার ডিজিটাল জরিপ শেষ।শিগগির সীমানা নির্ধারণকারী খুঁটি বসানো হবে।শাহ সিমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর মাধ্যমে।কোম্পানিটি সেসব প্রশ্নের লিখিত জবাব দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়।এরপর ৫ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের গুলশান অফিসে দুই দফা বৈঠক হয় এবং অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য উপস্থাপন করা হয়।কোম্পানিটির অনুরোধে ভূমি-সংক্রান্ত কিছু নথি ও সরকারি প্রতিবেদনের নির্বাচিত অংশও তাদের দেওয়া হয়।একাধিক অনুরোধের পর কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রশ্নগুলোর লিখিত জবাব দেয়।তাদের জবাব ও দাবির ভিত্তিতে আরও নথি সংগ্রহ করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া যায়।সেসব তথ্যের ভিত্তিতে মার্চ মাসজুড়ে কোম্পানিটির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের ব্যাখ্যা ও মতামত চাওয়া হয়।তবে কোম্পানিটি আর কোনো জবাব দেয়নি।
২৬ ফেব্রুয়ারির লিখিত জবাবে কোম্পানিটির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও লিগ্যাল প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ বলেন,দেশের সব আইনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রেখে আমরা কাজ করি।
তিনি বলেন,নদী দখলের বেশিরভাগ অভিযোগ সিএস রেকর্ডের ভিত্তিতে করা হয়েছে।স্বাধীনতার আগে ও পরে আরও বেশ কয়েকটি জরিপ-যেমন: আরএস,এসএ ও বিএস-সম্পন্ন হয়েছে।নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সিএস রেকর্ডের পর এর প্রবাহ নতুন জায়গায় গেছে।এই পরিবর্তনের প্রতিফলন সাম্প্রতিক ভূমি জরিপে দেখা যায়।তিনি আরও বলেন,এই প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় এখনো আদালতে বিচারাধীন।কাজেই যেকোনো প্রতিষ্ঠান যদি সবদিক বিবেচনা না করে, সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে-তা হবে অযৌক্তিক।সংশ্লিষ্ট ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) ও রিভিশনাল সার্ভে(আরএস)রেকর্ড সংগ্রহ করেছে,যেখানে সংশ্লিষ্ট জায়গাকে নদীর জমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।সিএস ও আরএসের মধ্যবর্তী সময়কালে তৈরি হওয়া এসএ রেকর্ডও সংগ্রহ করা হয়েছে।এসএ রেকর্ডেও অধিকাংশ জমিকে নদী হিসেবে শ্রেণিবিন্যস্ত করা হয়েছে।শুধু একটি ছোট অংশকে ঘরবাড়ির সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।তবে ভূমি মন্ত্রণালয় এসএ রেকর্ডকে ‘অপ্রামাণ্য’ বলে বিবেচনা করে, কারণ এসব রেকর্ড মাঠপর্যায়ের জরিপের পরিবর্তে জমির মালিকদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল।
তা ছাড়া, ২০০৯ সালের একটি ঐতিহাসিক রায়ে হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেন,নদীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে সিএস ও আরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে।বুড়িগঙ্গা,তুরাগ,বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ওই রায়ে আদালত স্বীকার করেন,বাংলাদেশের প্রতিটি নদী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে।বাংলাদেশের নদীগুলোর এই প্রবাহপথ পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।কাজেই অত্র রীট মোকদ্দমাটিতে উত্থাপিত সমস্যা সমাধানে সর্ব প্রথম আমাদের নদীগুলির সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।নদীর সীমানা নির্ধারণ করিতে কোন পদ্ধাতি আইন সম্মত হইবে সে সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত লইতে হইবে উল্লেখ্য যে, বিভাগ পূর্ব সমগ্র বৃহত্তর বিংশ শতাদ্বীর প্রথম ভাগে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত জরীপের ভিত্তিতে ম্যাপ ও খতিয়ান প্রস্তুত হয়।এই কারণে সিএস ম্যাপকেই আমরা নদীর সীমানা নির্ধারণের প্রাথমিক হিসাবে ধরিয়া লইতে পারি।অতএব,নদী বলিতে সিএস ম্যাপে যে স্থানে নদী প্রদর্শন করা হইয়াছে সেই স্থানটিকেই নদী বলিয়া আপাত স্বীকৃতি প্রদান করিতে হইবে,রায়ে বলা হয়।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেন,সিএস মানচিত্রে যেভাবে নদীর অবস্থান দেখানো হয়েছে তা থেকে নদীর প্রবাহ পথ পরিবর্তিত হলে সে পরিবর্তনের ফলে নদীর একপাশে যদি কোনো চর জাগে, তাহলেও সেই চর সরকারি মালিকানাধীন হিসেবেই বিবেচিত হবে।রায়ে বলা হয়,উপরে বর্ণিত আইনি অবস্থান অনুসারে,নদীর সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত পরবর্তী জরিপকাজ বাংলাদেশ কর্তৃক প্রণীত আরএস রেকর্ড ও মানচিত্র অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।এই জরিপকাজ দুইভাবে সম্পন্ন করতে হবে-প্রথমত,সিএস মানচিত্র অনুযায়ী এবং দ্বিতীয়ত, আরএস মানচিত্র অনুযায়ী।হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের(এইচআরপিবি)পক্ষে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এসএ ও বিএস জরিপের ভিত্তিতে নদীর জমি চিহ্নিত করা আইনগতভাবে বৈধ নয়।আদালত ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন যে নদীর জমি চিহ্নিত করতে হবে সিএস ও আরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে।
একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শাহ সিমেন্ট জানায়নি যে তারা সেখানে কতটুকু জমির মালিক অথবা সরকারের অনুমোদন নিয়ে কতটুকু নদীর জমি ইজারা নিয়েছে।তারা কেবল জানিয়েছে,’শাহ সিমেন্ট দেশে বিআইডব্লিউটিএর অন্যতম সর্বোচ্চ ভাড়াদাতা এবং আমরা নিকটবর্তী নদীর তীরবর্তী এলাকা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ব্যবহার করি।বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, শাহ সিমেন্ট ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ পোর্ট অফিসের লাইসেন্সে নদীর তীরবর্তী জমি ব্যবহার করছে,যা কারখানা স্থাপনের দুই বছর পর শুরু হয়।বর্তমানে কোম্পানিটির কাছে ১১ দশমিক ২৮ একর নদীর তীরবর্তী জমির ইজারা রয়েছে,যার মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হচ্ছে।ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিটি নদী বা নদী-তীরবর্তী জায়গা ভরাট করতে পারবে না,অতিরিক্ত নদীর জমি ব্যবহার করতে পারবে না,নদীতীর পরিবর্তন করতে পারবে না,নাব্যতা ব্যাহত করতে পারবে না,ইচ্ছামতো জাহাজ ভেড়াতে পারবে না এবং নদীতে বর্জ্য ফেলতে পারবে না।নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ পোর্ট অফিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল বলেন,’শাহ সিমেন্ট চুক্তির শর্ত মানছে না।তারা ধীরে ধীরে নদী ও নদীতীর ভরাট করছে-যার ফলে ওই এলাকায় নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে।আমরা মাঝে মাঝে সাইট পরিদর্শন করি,মৌখিকভাবে তাদের শর্ত মানতে বলি এবং মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালাই।এ বিষয়ে জানতে গত মার্চে যোগাযোগ করা হয় নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে।শাহ সিমেন্ট ‘নদী দখলকারী নয়’-কোম্পানিটির এমন দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদী পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে দেখেছি যে শাহ সিমেন্ট নদী দখল করেছে।তখনই আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম।গতকাল আবারও যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন জরিপ করে এটা নির্ধারণ করে যে শাহ সিমেন্ট ও অন্যান্য কারখানাগুলো কত জমি দখল করেছে।আমি এখন নিশ্চিত না যে এখন পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তবে আমি অবশ্যই বিষয়টি তদারকি করব।
বিস্তারিত আসছে…..! চোখ রাখুন 

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

মুন্সীগঞ্জে ভয়াবহ নদী দখল:শাহ সিমেন্টের কবলে ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার মোহনা

আপডেট সময়- ০৫:৪১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
মুন্সীগঞ্জে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন।এখানকার অধিকাংশ জায়গা ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার অংশ।কিন্তু শাহ সিমেন্ট দুটি নদীরই কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশব্যবস্থায়।অন্তত চারটি সরকারি প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।নথি অনুযায়ী, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ২০১৮,২০১৯ ও ২০২৩ সালে শাহ সিমেন্টকে ‘দখলদার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।কিন্তু, নদীগুলো রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।
আবুল খায়ের গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান শাহ সিমেন্ট এক লিখিত বিবৃতিতে নদীর জমি দখলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।কিন্তু,তারা দুটি নদীর মাঝের এই জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে রাজি হয়নি।অবৈধ দখল
নথিপত্র এবং বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী,শাহ সিমেন্ট ২০০২ সালে কারখানাটি নির্মাণ করে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কারখানা বিস্তৃত হয় দুই নদীর ভেতরে।কোম্পানিটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী,শাহ সিমেন্ট বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সিমেন্ট কারখানা,যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা এক কোটি টন।২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি,মার্চ ও এপ্রিলে একাধিকবার পরিদর্শনের সময় দেখা যায়,বিশাল স্থাপনা,ভারী যন্ত্রপাতি এবং একটি গুদাম দাঁড়িয়ে আছে দুই নদীর মোহনাস্থলে।মুন্সীগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনারের(ভূমি)অফিসও নিশ্চিত করেছে,শাহ সিমেন্ট মিরেরসরাই মৌজায় আরএস দাগ নম্বর ১৮৪ এবং পূর্ব মুক্তারপুর মৌজায় আরএস দাগ নম্বর ৩০১ থেকে ৩০৮ পর্যন্ত একটি বড় নদী এলাকা দখল করে রেখেছে।গত শনিবার রাতে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল করিম বলেন,আমরা ইতোমধ্যে সার্ভে শেষ করেছি এবং তদন্ত শেষ হলে শাহ সিমেন্টকে নোটিশ দেওয়া হবে।মুন্সীগঞ্জ ভূমি অফিসের রিভিশনাল সার্ভে (আরএস) রেকর্ড অনুযায়ী,দাগ নম্বর ১৮৪ এবং ৩০১ থেকে ৩০৭ নম্বর দাগ নদী ও নদীর তীর হিসেবে চিহ্নিত এবং ‘বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
আরএস দাগ নম্বর ৩০৮- এর জমির রেকর্ড সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।দুই দশক আগে এই সিমেন্ট কারখানাটি স্থাপনের আগে ধলেশ্বরী ছিল একটি জীবন্ত নদী।স্থানীয়রা সেখানে মাছ ধরত,গোসল করত এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিল।মুন্সকগঞ্জের নদীপাড়ের গ্রাম মোল্লারচরের বাসিন্দারা জানান,প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে।কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে।রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলত।২০২৫ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ)মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে দেওয়া এক চিঠিতে জানায়,শাহ সিমেন্টের বালু ফেলার কার্যক্রম শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে,নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।চিঠিতে বলা হয়,শাহ সিমেন্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মোহনায় বালু ও মাটি ফেলে জায়গা উঁচু করছে,যার ফলে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।চিঠিতে আরও বলা হয়,সরকারি নির্দেশনা সত্ত্বেও শাহ সিমেন্ট এখনো অবৈধভাবে ফেলা বালু ও মাটি অপসারণ করেনি।এই কর্মকাণ্ড বন্দর আইন ১৯০৮, বন্দর বিধিমালা ১৯৬৬ এবং উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করছে।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.)এম সাখাওয়াত হোসেন সাম্প্রতিক এক সফরে এলাকাটি পরিদর্শন করে অবৈধ দখল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।যোগাযোগ করা হলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত বলেন,শাহ সিমেন্টের বিরুদ্ধে নদীর কিছু জায়গা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিস্তৃত তদন্ত চলছে।সাইট পরিদর্শন ও রেকর্ড যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এটিই প্রথম নয়,সরকারিভাবে নদী দখল নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া এবং চিঠি চালাচালির ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।দুই বছর আগে-২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন একটি তালিকা প্রস্তুত করে এবং শাহ সিমেন্টকে নদী দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করে।
তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরের সই করা ওই তালিকা অনুযায়ী,১৫টি প্রতিষ্ঠান ধলেশ্বরী নদীর ৩৪ দশমিক ৯৬ একর জায়গা দখল করেছে।এর মধ্যে শাহ সিমেন্ট একাই দখল করেছে ২৪ একর।অর্থাৎ,এখানে তারাই সবচেয়ে বড় দখলদার।এর আগে ২০১৯ সালের ৬ মে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন একটি তালিকা তৈরি করে এবং ৫০টি নদী দখলকারীর মধ্যে শাহ সিমেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করে।সেখানে বলা হয়, কোম্পানিটি মিরেরসরাই মৌজায় আরএস দাগ নম্বর ১৮৪-এর নদীর জমি দখল করেছে।তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সই করা চিঠিতে বলা হয়,এই তালিকাটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে-নোটিশ প্রদান ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে।চিঠিটি দেশের সব নদীর আইনি অভিভাবক জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কাছেও পাঠানো হয়েছিল।জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনও ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে শাহ সিমেন্টকে এই দুই নদীর দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করে।২০১৮ সালের প্রতিবেদনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন জানায়,শাহ সিমেন্ট ধীরে ধীরে নদীর জমি দখল করে ভরাট করছে এবং নদীর চরের জায়গায় সাইনবোর্ড টানিয়েছে।পরের বছর ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়,শাহ সিমেন্ট কোম্পানি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরেরসরাই মৌজায় আরএস খতিয়ান নম্বর এক ও আরএস দাগ নম্বর ১৮৪-এ নদীর প্রায় ২৪ একর জায়গা বালু ফেলে ভরাট করে দখল করেছে।জমির শ্রেণি পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে বালু ফেলার মাধ্যমে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,কোম্পানিটি বিশাল কারখানা নির্মাণ করেছে,যার ফলে একদিকে ধলেশ্বরী এবং অন্যদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে-যা দুটি নদীকেই গিলে ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কারখানাটি ধলেশ্বরী নদীতে তরল ও কঠিন বর্জ্য ফেলে।এতে বলা হয়,এই কারণে নদীর পানি, পরিবেশ,বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।প্রায় চার মিটার ব্যাসের একটি বড় পাইপ দিয়ে শাহ সিমেন্ট কারখানা থেকে সরাসরি দূষিত পানি নদীতে গিয়ে পড়ছে; ফ্লাই অ্যাশের দূষণে মাছ,ডলফিন ও পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে গেছে।যোগাযোগ করা হলে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন,আমি ২০১৯ সালে এলাকাটি পরিদর্শন করে কারখানাটিকে নদী দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম।এতদিন ধরে কীভাবে তারা ওই জমি দখল করে থাকে?কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে দুটি নদী ভরাট করে।আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে সিএস ও আরএস রেকর্ড যাচাই করে অবৈধ দখলের একটি প্রতিবেদনও দিয়েছিলাম।কর্মকর্তারা জানান,২০১৮ ও ২০১৯ সালের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ২০২৩ সালের মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তালিকাটি কেবল আরএস দাগ নম্বর ১৮৪-ভিত্তিক-যেখানে শাহ সিমেন্ট ২৪ একর নদীর জমি দখল করে আছে।তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের শুরুতে করা জরিপে অতিরিক্ত আরএস দাগ নম্বর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।এসব থেকে দেখা যায়,বর্তমানে কোম্পানিটি ২৪ একরের বেশি নদীর জমি দখল করে আছে।যোগাযোগ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন,হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন।এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার।তিনি বলেন,আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি-বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর।পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,অন্তর্বর্তী সরকার এই স্বল্প মেয়াদের মধ্যে ১৩টি নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।তিনি বলেন,এই নদীগুলো যদি ওই তালিকায় থাকে,তাহলে আমাদের মেয়াদের মধ্যেই এর ফলাফল দেখা যেতে পারে।বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপপরিচালক মোবারক হোসেন বলেন,নদীর যেসব অংশ দখল হয়ে গেছে, তা শিগগির পুনরুদ্ধার করা হবে।ওই এলাকার ডিজিটাল জরিপ শেষ।শিগগির সীমানা নির্ধারণকারী খুঁটি বসানো হবে।শাহ সিমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর মাধ্যমে।কোম্পানিটি সেসব প্রশ্নের লিখিত জবাব দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়।এরপর ৫ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের গুলশান অফিসে দুই দফা বৈঠক হয় এবং অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য উপস্থাপন করা হয়।কোম্পানিটির অনুরোধে ভূমি-সংক্রান্ত কিছু নথি ও সরকারি প্রতিবেদনের নির্বাচিত অংশও তাদের দেওয়া হয়।একাধিক অনুরোধের পর কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রশ্নগুলোর লিখিত জবাব দেয়।তাদের জবাব ও দাবির ভিত্তিতে আরও নথি সংগ্রহ করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া যায়।সেসব তথ্যের ভিত্তিতে মার্চ মাসজুড়ে কোম্পানিটির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের ব্যাখ্যা ও মতামত চাওয়া হয়।তবে কোম্পানিটি আর কোনো জবাব দেয়নি।
২৬ ফেব্রুয়ারির লিখিত জবাবে কোম্পানিটির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও লিগ্যাল প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ বলেন,দেশের সব আইনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রেখে আমরা কাজ করি।
তিনি বলেন,নদী দখলের বেশিরভাগ অভিযোগ সিএস রেকর্ডের ভিত্তিতে করা হয়েছে।স্বাধীনতার আগে ও পরে আরও বেশ কয়েকটি জরিপ-যেমন: আরএস,এসএ ও বিএস-সম্পন্ন হয়েছে।নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সিএস রেকর্ডের পর এর প্রবাহ নতুন জায়গায় গেছে।এই পরিবর্তনের প্রতিফলন সাম্প্রতিক ভূমি জরিপে দেখা যায়।তিনি আরও বলেন,এই প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় এখনো আদালতে বিচারাধীন।কাজেই যেকোনো প্রতিষ্ঠান যদি সবদিক বিবেচনা না করে, সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ না করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে-তা হবে অযৌক্তিক।সংশ্লিষ্ট ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) ও রিভিশনাল সার্ভে(আরএস)রেকর্ড সংগ্রহ করেছে,যেখানে সংশ্লিষ্ট জায়গাকে নদীর জমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।সিএস ও আরএসের মধ্যবর্তী সময়কালে তৈরি হওয়া এসএ রেকর্ডও সংগ্রহ করা হয়েছে।এসএ রেকর্ডেও অধিকাংশ জমিকে নদী হিসেবে শ্রেণিবিন্যস্ত করা হয়েছে।শুধু একটি ছোট অংশকে ঘরবাড়ির সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।তবে ভূমি মন্ত্রণালয় এসএ রেকর্ডকে ‘অপ্রামাণ্য’ বলে বিবেচনা করে, কারণ এসব রেকর্ড মাঠপর্যায়ের জরিপের পরিবর্তে জমির মালিকদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল।
তা ছাড়া, ২০০৯ সালের একটি ঐতিহাসিক রায়ে হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেন,নদীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে সিএস ও আরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে।বুড়িগঙ্গা,তুরাগ,বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ওই রায়ে আদালত স্বীকার করেন,বাংলাদেশের প্রতিটি নদী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে।বাংলাদেশের নদীগুলোর এই প্রবাহপথ পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।কাজেই অত্র রীট মোকদ্দমাটিতে উত্থাপিত সমস্যা সমাধানে সর্ব প্রথম আমাদের নদীগুলির সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।নদীর সীমানা নির্ধারণ করিতে কোন পদ্ধাতি আইন সম্মত হইবে সে সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত লইতে হইবে উল্লেখ্য যে, বিভাগ পূর্ব সমগ্র বৃহত্তর বিংশ শতাদ্বীর প্রথম ভাগে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত জরীপের ভিত্তিতে ম্যাপ ও খতিয়ান প্রস্তুত হয়।এই কারণে সিএস ম্যাপকেই আমরা নদীর সীমানা নির্ধারণের প্রাথমিক হিসাবে ধরিয়া লইতে পারি।অতএব,নদী বলিতে সিএস ম্যাপে যে স্থানে নদী প্রদর্শন করা হইয়াছে সেই স্থানটিকেই নদী বলিয়া আপাত স্বীকৃতি প্রদান করিতে হইবে,রায়ে বলা হয়।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেন,সিএস মানচিত্রে যেভাবে নদীর অবস্থান দেখানো হয়েছে তা থেকে নদীর প্রবাহ পথ পরিবর্তিত হলে সে পরিবর্তনের ফলে নদীর একপাশে যদি কোনো চর জাগে, তাহলেও সেই চর সরকারি মালিকানাধীন হিসেবেই বিবেচিত হবে।রায়ে বলা হয়,উপরে বর্ণিত আইনি অবস্থান অনুসারে,নদীর সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত পরবর্তী জরিপকাজ বাংলাদেশ কর্তৃক প্রণীত আরএস রেকর্ড ও মানচিত্র অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।এই জরিপকাজ দুইভাবে সম্পন্ন করতে হবে-প্রথমত,সিএস মানচিত্র অনুযায়ী এবং দ্বিতীয়ত, আরএস মানচিত্র অনুযায়ী।হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের(এইচআরপিবি)পক্ষে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এসএ ও বিএস জরিপের ভিত্তিতে নদীর জমি চিহ্নিত করা আইনগতভাবে বৈধ নয়।আদালত ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন যে নদীর জমি চিহ্নিত করতে হবে সিএস ও আরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে।
একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শাহ সিমেন্ট জানায়নি যে তারা সেখানে কতটুকু জমির মালিক অথবা সরকারের অনুমোদন নিয়ে কতটুকু নদীর জমি ইজারা নিয়েছে।তারা কেবল জানিয়েছে,’শাহ সিমেন্ট দেশে বিআইডব্লিউটিএর অন্যতম সর্বোচ্চ ভাড়াদাতা এবং আমরা নিকটবর্তী নদীর তীরবর্তী এলাকা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ব্যবহার করি।বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, শাহ সিমেন্ট ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ পোর্ট অফিসের লাইসেন্সে নদীর তীরবর্তী জমি ব্যবহার করছে,যা কারখানা স্থাপনের দুই বছর পর শুরু হয়।বর্তমানে কোম্পানিটির কাছে ১১ দশমিক ২৮ একর নদীর তীরবর্তী জমির ইজারা রয়েছে,যার মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হচ্ছে।ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিটি নদী বা নদী-তীরবর্তী জায়গা ভরাট করতে পারবে না,অতিরিক্ত নদীর জমি ব্যবহার করতে পারবে না,নদীতীর পরিবর্তন করতে পারবে না,নাব্যতা ব্যাহত করতে পারবে না,ইচ্ছামতো জাহাজ ভেড়াতে পারবে না এবং নদীতে বর্জ্য ফেলতে পারবে না।নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ পোর্ট অফিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল বলেন,’শাহ সিমেন্ট চুক্তির শর্ত মানছে না।তারা ধীরে ধীরে নদী ও নদীতীর ভরাট করছে-যার ফলে ওই এলাকায় নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে।আমরা মাঝে মাঝে সাইট পরিদর্শন করি,মৌখিকভাবে তাদের শর্ত মানতে বলি এবং মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালাই।এ বিষয়ে জানতে গত মার্চে যোগাযোগ করা হয় নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে।শাহ সিমেন্ট ‘নদী দখলকারী নয়’-কোম্পানিটির এমন দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদী পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে দেখেছি যে শাহ সিমেন্ট নদী দখল করেছে।তখনই আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম।গতকাল আবারও যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন জরিপ করে এটা নির্ধারণ করে যে শাহ সিমেন্ট ও অন্যান্য কারখানাগুলো কত জমি দখল করেছে।আমি এখন নিশ্চিত না যে এখন পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তবে আমি অবশ্যই বিষয়টি তদারকি করব।
বিস্তারিত আসছে…..! চোখ রাখুন