ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
কমলগঞ্জে মজুরি ও রেশন বন্ধে মানবেতর জীবনযাপন করছে চা শ্রমিকরা কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাশিয়া থেকে তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র নতুন আরও একটি উপজেলা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস; স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু আজ নতুন দুই দিবস পালন করবে সরকার, ছুটি থাকছে একটিতে না’গঞ্জে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শীতলক্ষ্যায় পরে গেল প্রাইভেট কার কুষ্টিয়ায় রাসেল ভাইপারের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু জ্বালানি সংকট ও ট্রাফিকের অব্যবস্থাপনায় স্থবির রাজধানী ঢাকা দেশে হাম-হামের উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু,আক্রান্ত ২০ হাজার ছাড়ালো দেশে প্রায় সাড়ে ৪০ লাখ মামলার জট নিরসনে সরকারের ৯ বিশেষ পদক্ষেপ হজ্বের প্রথম ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল, এবছর হজ্ব যাত্রী ৭৮ হাজার ৫’শ হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী হামে প্রতিটি শিশু মৃত্যুর জন্য ‘হত্যা মামলা’ হওয়া উচিত: মাসুদ কামাল বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে শ্রীমঙ্গলে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা খুন,বড় ভাই গুরুতর আহত টেকনাফে কোস্টগার্ডর অভিযানে ২২ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ টেকনাফে ৩৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় ভূমিসেবা সহজতর হবে; বিভাগীয় কমিশনার নারায়ণগঞ্জে প্রবাসী মাসুম হত্যার অন্যতম আসামি শাকিল গ্রেপ্তার হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর মব করে হামলা করেছে যুবদল: যুবশক্তি চট্টগ্রামে আ’লীগ নেতার বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ বর্ষবরণে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ ছেঁড়া-ফাটা নোট গ্রহণ ও বিনিময়মূল্য প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমাণ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মদ উদ্ধার বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ২৭৩ প্রাণের শঙ্কা, টেকনাফে স্বজনদের আহাজারি দুপুরে জামিন,বিকেলে কারামুক্ত সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জামিন পেলেন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার, মাঠে প্রশাসন কুষ্টিয়ায় ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা-ভাঙচুর-আগুন, নিহত-১ কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় মাদক জব্দ জাতীয় সংসদে পাস হলো, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন না’গঞ্জের কৃতি সন্তান সাংবাদিক মুন্না বাংলার জয়যাত্রা জাহাজকে হরমুজ প্রণালীতে আটকে দিলো ইরান নারায়ণগঞ্জে মেহেদী এন্টারপ্রাইজ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ,গ্রেপ্তার-২ টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে সাতকোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক-২ কুষ্টিয়ায় কবরস্থানে মাটি ভরাট নিয়ে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত-১৫ ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল আজ, মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ-২ কুষ্টিয়ায় ৩১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা মূল্যমানের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত যুবকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার গাইবান্ধায় পেট্রোল নিয়ে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত-৩, আটক-১ সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইনে ক্লাস: শিক্ষকরা স্কুল এসে নেবেন: শিক্ষামন্ত্রী সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজ অর্থায়নে জরুরি ঔষধ নিয়ে হাজির হলেন এমপি মান্নান কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টেকনাফে মিনিপিক‌আপ বোঝাই বিপুল পরিমাণে ইয়াবাসহ আটক-২ নারায়ণগঞ্জে তিন থানায় নতুন ওসি বলৎকারের তথ্য ফাঁস হওয়ার শঙ্কায় সৈকতকে হত্যা, অভিযুক্ত কিশোর আটক সারাদেশে পর্যাক্রমে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রম টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২৩ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ জ্বালানি সংকটে কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল বাজারে ধস সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন’র রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ গত দেড় বছর যেভাবে আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন না’গঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটসহ গৃহকর্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ইউএনও হোসনে আরাকে সাতক্ষীরা থেকে এবার রাজশাহীতে বদলি যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজ বাসা থেকে আটক টেকনাফে সড়কের পাশের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ টেকনাফে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ কারবারি নারায়নগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শুভ হত্যার অন্যতম আসামি ‘লাল শুভ’ আটক না’গঞ্জে ফের খু/ন! নিখোঁজের ১দিন পর মিললো মাদ্রাসা ছাত্রের গ/লা/কা/টা মরদেহ না’গঞ্জে মেডিস্টার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকসহ ৩ স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড ড. ইউনূসসহ সকল উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ সোনারগাঁয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা দুই ডিআইজিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা জ্বালানি সংকটে বন্ধ  নারায়ণগঞ্জে একযোগে দুই থানার ওসি প্রত্যাহার রূপগঞ্জে দায়িত্ব নিলেন নবনিযুক্ত ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক অবৈধ স্থাপন উচ্ছেদ কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশে ড্রোন সদৃশ রহস্যময় বস্তু টেকনাফ স্থলবন্দর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত  না’গঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রানার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ ওঠা যুবকের লাশ শনাক্ত আজ থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার আইনের আওতায় আসবে: শিক্ষামন্ত্রী দেশে জ্বালানি সাশ্রয়: আজ থেকে অফিস-ব্যাংকের নতুন সূচি নারায়ণগঞ্জে বন্ধ পোশাক কারখানায় নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার আ’লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ হচ্ছে আইন,থাকছে শাস্তির বিধান নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক-২ সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত-৯৪৭ নারায়ণগঞ্জে চৌদ্দ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়া মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরানো সেই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, দোকান-মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় ইবি শিক্ষক আসমা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ নারায়ণগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিকে ‘সময়ক্ষেপনে’ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শাকিবের হাত জ্যোতির কোমরে,ফারিণের কাঁধে; সমালোচনার ঝড় সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস কুলাউড়ায় ক্ষেতের জমির পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুর মৃ/ত্যু শ্রীমঙ্গলে আলোচিত জুনায়েদ হত্যাকাণ্ডের দুই আসামি গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৯০ শিশু  সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস শুরুর প্রথম ৪০ মিনিট নিজ কক্ষে অবস্থান বাধ্যতামূলক সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন, সারাদেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ  সাবেক নাসিক মেয়র আইভীর জামিন নামঞ্জুর মৌলভীবাজারে মাইক্রোবাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৩ শ্রীমঙ্গলে এক কিশোর নিখোঁজের দু’দিন পর লাশ উদ্ধার

স্বাধীনতার আগে চন্ডী পাঠ করতেন মুসলিম বাচিক শিল্পী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ১০:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৪ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে
ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
আজ ধর্ম নিয়ে হানাহানি। মানুষে মানুষে বিভেদ। কিন্তু কিছুকাল আগেও এমনটা ছিল না। ধর্ম ছিল একটা আচ্ছাদন। এই খোলাসের বাইরে ছিল একটা আত্মীয়তার বন্ধন।
আমরা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জানি। তিনি মুসলিম হয়েও একাধিক শ্যামাসঙ্গীত লিখেছেন। সুরও দিয়েছেন।সেই গান প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
দুর্গাপূজা বাঙালির সবচয়ে বড় উৎসব। মহালয়া তেই পাওয়া যায় দুর্গা পূজার প্রাণের স্পন্দন। এই মহালয়া বলতে সকলেই জানেন, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চন্ডী পাঠ। ভোর হতেই সকলে উদগ্রীব হয়ে পড়েন মর্মস্পর্শী চন্ডী পাঠ শোনার জন্য। বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র ছাড়া মহালয়ার অনুষ্ঠান অর্থহীন।
কিন্তু অনেকেই জানেন না, স্বাধীনতার আগেও লাগাতার ৫ টি বছর রেডিওতে চন্ডী পাঠ করতেন এখন মুসলিম বাচিক শিল্পী। তখন ধর্ম নিয়ে কোন ভেদাভেদ ছিল না।
দেশটা ভাগ হতেই আমরা ভাগ হয়ে গেলাম হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ে। দুর্ভাগ্যজনক।
অথচ দেশ ভাগের আগে মহালয়াতে চন্ডী পাঠ করতেন মুসলিম বাচিক শিল্পী, নাজির আহমেদ । অনেকেই জানেন না।
১৯৭৬ এর ‘দেবী দুর্গতিহারিনী’তে উত্তম কুমার আর চিরাচরিত ভদ্রবাবু ছাড়াও বাঙালি কিন্তু মহালয়ার সকালে অন্য একজনের কণ্ঠেও চণ্ডীপাঠ শুনেছে।
এটা অনেকেরই অজানা থাকতেই পারে। সেই বিখ্যাত বা অখ্যাত ব্যক্তি হলেন ‘নাজির আহমেদ’। শুনলে অনেকেই চমকে উঠবেন।
শুরুতে যেখানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্ত্রোত্র উচ্চারণ নিয়েই অনেক মানুষের আপত্তি ছিল সেখানে ভারতের স্বাধীনতার আগের শেষ পাঁচ বছর একটানা আকাশবাণীর সদর থেকে গোটা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল একজন শুধু অব্রাহ্মণ না, একজন অহিন্দুর কণ্ঠ। দেশ ভাগ না হলে হয় তো আজও আমরা শুনতে পেতাম সেই কণ্ঠ।
আসলে ঘটনাটা ঘটে খুবই আশ্চর্যভাবে, ১৯৪২ এর মহালয়ার ভোরে স্টুডিওতে আসতে দেরি করছেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র, অথচ চন্ডী পথের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে.. অতঃকিম্?
তরুণ বাচিক শিল্পী নাজির এসে প্রস্তাব দিল, “আমি স্কুলে থাকতে সংস্কৃতে পাকা ছিলাম, ম্যাট্রিকে লেটার মার্কসও আছে, অনুমতি দিলে চেষ্টা করে দেখতে পারি।”
কোনো রাস্তা না পেয়ে পঙ্কজ মল্লিক বললেন, “বেশ তবে চন্ডী পাঠ করো ,যদি পারো।”
কিছু পরে স্টুডিওতে এসে হাজির বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, স্ত্রোত্র উচ্চারণ শুনে তিনিও মুগ্ধ হয়ে বললেন, “নাজিরই করুক নাহ্ , বেশ করছে তো।”
অদ্ভুতভাবে পরের বছরও একই ঘটনা, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র বলেন, “আহাঃ পঙ্কজদা, নাজির উঠতি শিল্পী, আমরা বুড়োরা আর কতদিন করবো? এরপর থেকে ওইই করুক না। গলা তো ছেলের খাসা।”
এরপর থেকে ১৯৪৬ এর শরৎ পর্যন্ত এই দায়ভার সামলে গেছেন এই মুসলমান বাচিক শিল্পী নাজির আহমদ। মাঝে একটা বেশ বড়ো বদল ঘটে গিয়েছিল অবশ্য, কিন্তু তার খোঁজও কেউ রাখেন না। ১৯৪৪-৪৫ এর মধ্যে কর্তৃপক্ষের সাথে মনোমালিন্যের জন্য দ্বায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান পঙ্কজ মল্লিক। তার জায়গায় আসেন উঠতি শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। প্রথম বছর একই সুরে কোনোকিছু না পাল্টে একই ভাবে অনুষ্ঠান হলেও দ্বিতীয় বছরে অন্যরকম কিছু করতে গিয়ে জনগণের মধ্যে তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ১৯৪৬ এ পঙ্কজ বাবু ফিরে এলে আবার পুরোনো মেজাজে ফিরে আসে মহিষাসুরমর্দিনী।
কিন্তু ভাগ্যের বিপর্যয়ে ১৯৪৭ এ নেমে এলো সেই অভিশাপ। হলো দেশভাগ। নাজির আহমেদ ফিরে গেলেন তার নিজের মাটিতে। ঢাকা রেডিওতে যোগ দেন তিনি এবং আবার পুরোনো জায়গায় ফিরতেই হয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে।
তবে শুধু বাচিক শিল্পীর কথা কেন, যন্ত্র শিল্পীরাই বা কেন বাদ যাবেন?
সারেঙ্গী নিয়ে বসতেন মুন্সী। চেলো নিয়ে থাকতেন তারই ভাই আলী আর হারমোনিয়ামে মোহাম্মদ। এরা তিনজন তো হিন্দু নয়ই উপরন্তু বাঙালিও নন। মাতৃ ভাষা উর্দু। আর সেই জন্যই ওদের করে ফেলা একটা ভুলের জন্য আমাদের মহালয়ার সকাল অন্য মাত্রা পায়। কি সেই ভুল?
রিহার্সাল শুরুর আগে সবাইকে বোঝানো হয় বাংলা পাঠ চলাকালীন তারা আবহ বাজাবেন কিন্তু সংস্কৃত স্তোত্র উচ্চারণ করার সময় তা থেমে যাবে। কিন্তু ওরা বোঝেননি ভাষা সমস্যায়। বীরেন বাবু ভাষা পাল্টে বাংলা থেকে সংস্কৃততে চলে গেলেও ওঁরা বুঝতে না পেরে বাজাতেই থাকেন, সবাই দেখতেও থাকেন যে কোনরকম প্রস্তুতি ছাড়াই তিনজন বাজিয়ে চলেছেন আর অদ্ভুত ভাবে তা মিলেও যাচ্ছে ভাষ্যের সাথে।
শুধু ওদের এই ভুলটার জন্যই পঙ্কজকুমার মল্লিক এর মতো আত্মপ্রত্যয়ী মানুষও নিজের পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে এসে সংস্কৃত স্তোত্র উচ্চারনের মাঝেও যন্ত্রানুসঙ্গ যোগ করেন। এ প্রসঙ্গে পরে তিনি বলেছিলেন, “সেদিন মুন্সীদের তথাকথিত সেই ভুল কান্ডটা আমার চোখ আরও বেশি খুলে দিল । আরও বেশি করে স্পষ্ট হল যে সঙ্গীতের কাছে, সুরের কাছে ভাষাটা কোনো প্রতিবন্ধকতাই নয়।”
এসবের বাইরেও এই অনুষ্ঠানের অন্যতম একটি গান ‘শান্তি দিলে ভরি’র সুরকার কিন্তু হিন্দু নন, মোল্লার ছেলে উস্তাদ সাগীরউদ্দিন খাঁ।
পঙ্কজ মল্লিক সেদিন যে কথা বলেছিলেন সেটি কতো বড় সত্যি সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
“উৎসবের আবার বামুন-কায়েত কি? যে ভাষায় নজরুল ইসলাম কীর্তন থেকে শ্যামাসঙ্গীত সব লেখেন সেই ভাষায় কোনো জাতপাত টানবেন না।'”
নাজির আহমেদ কে অনেকেই ভুলে গেছেন, কিন্তু যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন ঢাকা রেডিওর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মহালয়ার কথা সকলকে বলতেন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা সেটা ভালো চোখে দেখত না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

স্বাধীনতার আগে চন্ডী পাঠ করতেন মুসলিম বাচিক শিল্পী

আপডেট সময়- ১০:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৪
ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
আজ ধর্ম নিয়ে হানাহানি। মানুষে মানুষে বিভেদ। কিন্তু কিছুকাল আগেও এমনটা ছিল না। ধর্ম ছিল একটা আচ্ছাদন। এই খোলাসের বাইরে ছিল একটা আত্মীয়তার বন্ধন।
আমরা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জানি। তিনি মুসলিম হয়েও একাধিক শ্যামাসঙ্গীত লিখেছেন। সুরও দিয়েছেন।সেই গান প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
দুর্গাপূজা বাঙালির সবচয়ে বড় উৎসব। মহালয়া তেই পাওয়া যায় দুর্গা পূজার প্রাণের স্পন্দন। এই মহালয়া বলতে সকলেই জানেন, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চন্ডী পাঠ। ভোর হতেই সকলে উদগ্রীব হয়ে পড়েন মর্মস্পর্শী চন্ডী পাঠ শোনার জন্য। বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র ছাড়া মহালয়ার অনুষ্ঠান অর্থহীন।
কিন্তু অনেকেই জানেন না, স্বাধীনতার আগেও লাগাতার ৫ টি বছর রেডিওতে চন্ডী পাঠ করতেন এখন মুসলিম বাচিক শিল্পী। তখন ধর্ম নিয়ে কোন ভেদাভেদ ছিল না।
দেশটা ভাগ হতেই আমরা ভাগ হয়ে গেলাম হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ে। দুর্ভাগ্যজনক।
অথচ দেশ ভাগের আগে মহালয়াতে চন্ডী পাঠ করতেন মুসলিম বাচিক শিল্পী, নাজির আহমেদ । অনেকেই জানেন না।
১৯৭৬ এর ‘দেবী দুর্গতিহারিনী’তে উত্তম কুমার আর চিরাচরিত ভদ্রবাবু ছাড়াও বাঙালি কিন্তু মহালয়ার সকালে অন্য একজনের কণ্ঠেও চণ্ডীপাঠ শুনেছে।
এটা অনেকেরই অজানা থাকতেই পারে। সেই বিখ্যাত বা অখ্যাত ব্যক্তি হলেন ‘নাজির আহমেদ’। শুনলে অনেকেই চমকে উঠবেন।
শুরুতে যেখানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্ত্রোত্র উচ্চারণ নিয়েই অনেক মানুষের আপত্তি ছিল সেখানে ভারতের স্বাধীনতার আগের শেষ পাঁচ বছর একটানা আকাশবাণীর সদর থেকে গোটা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল একজন শুধু অব্রাহ্মণ না, একজন অহিন্দুর কণ্ঠ। দেশ ভাগ না হলে হয় তো আজও আমরা শুনতে পেতাম সেই কণ্ঠ।
আসলে ঘটনাটা ঘটে খুবই আশ্চর্যভাবে, ১৯৪২ এর মহালয়ার ভোরে স্টুডিওতে আসতে দেরি করছেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র, অথচ চন্ডী পথের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে.. অতঃকিম্?
তরুণ বাচিক শিল্পী নাজির এসে প্রস্তাব দিল, “আমি স্কুলে থাকতে সংস্কৃতে পাকা ছিলাম, ম্যাট্রিকে লেটার মার্কসও আছে, অনুমতি দিলে চেষ্টা করে দেখতে পারি।”
কোনো রাস্তা না পেয়ে পঙ্কজ মল্লিক বললেন, “বেশ তবে চন্ডী পাঠ করো ,যদি পারো।”
কিছু পরে স্টুডিওতে এসে হাজির বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, স্ত্রোত্র উচ্চারণ শুনে তিনিও মুগ্ধ হয়ে বললেন, “নাজিরই করুক নাহ্ , বেশ করছে তো।”
অদ্ভুতভাবে পরের বছরও একই ঘটনা, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র বলেন, “আহাঃ পঙ্কজদা, নাজির উঠতি শিল্পী, আমরা বুড়োরা আর কতদিন করবো? এরপর থেকে ওইই করুক না। গলা তো ছেলের খাসা।”
এরপর থেকে ১৯৪৬ এর শরৎ পর্যন্ত এই দায়ভার সামলে গেছেন এই মুসলমান বাচিক শিল্পী নাজির আহমদ। মাঝে একটা বেশ বড়ো বদল ঘটে গিয়েছিল অবশ্য, কিন্তু তার খোঁজও কেউ রাখেন না। ১৯৪৪-৪৫ এর মধ্যে কর্তৃপক্ষের সাথে মনোমালিন্যের জন্য দ্বায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান পঙ্কজ মল্লিক। তার জায়গায় আসেন উঠতি শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। প্রথম বছর একই সুরে কোনোকিছু না পাল্টে একই ভাবে অনুষ্ঠান হলেও দ্বিতীয় বছরে অন্যরকম কিছু করতে গিয়ে জনগণের মধ্যে তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ১৯৪৬ এ পঙ্কজ বাবু ফিরে এলে আবার পুরোনো মেজাজে ফিরে আসে মহিষাসুরমর্দিনী।
কিন্তু ভাগ্যের বিপর্যয়ে ১৯৪৭ এ নেমে এলো সেই অভিশাপ। হলো দেশভাগ। নাজির আহমেদ ফিরে গেলেন তার নিজের মাটিতে। ঢাকা রেডিওতে যোগ দেন তিনি এবং আবার পুরোনো জায়গায় ফিরতেই হয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে।
তবে শুধু বাচিক শিল্পীর কথা কেন, যন্ত্র শিল্পীরাই বা কেন বাদ যাবেন?
সারেঙ্গী নিয়ে বসতেন মুন্সী। চেলো নিয়ে থাকতেন তারই ভাই আলী আর হারমোনিয়ামে মোহাম্মদ। এরা তিনজন তো হিন্দু নয়ই উপরন্তু বাঙালিও নন। মাতৃ ভাষা উর্দু। আর সেই জন্যই ওদের করে ফেলা একটা ভুলের জন্য আমাদের মহালয়ার সকাল অন্য মাত্রা পায়। কি সেই ভুল?
রিহার্সাল শুরুর আগে সবাইকে বোঝানো হয় বাংলা পাঠ চলাকালীন তারা আবহ বাজাবেন কিন্তু সংস্কৃত স্তোত্র উচ্চারণ করার সময় তা থেমে যাবে। কিন্তু ওরা বোঝেননি ভাষা সমস্যায়। বীরেন বাবু ভাষা পাল্টে বাংলা থেকে সংস্কৃততে চলে গেলেও ওঁরা বুঝতে না পেরে বাজাতেই থাকেন, সবাই দেখতেও থাকেন যে কোনরকম প্রস্তুতি ছাড়াই তিনজন বাজিয়ে চলেছেন আর অদ্ভুত ভাবে তা মিলেও যাচ্ছে ভাষ্যের সাথে।
শুধু ওদের এই ভুলটার জন্যই পঙ্কজকুমার মল্লিক এর মতো আত্মপ্রত্যয়ী মানুষও নিজের পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে এসে সংস্কৃত স্তোত্র উচ্চারনের মাঝেও যন্ত্রানুসঙ্গ যোগ করেন। এ প্রসঙ্গে পরে তিনি বলেছিলেন, “সেদিন মুন্সীদের তথাকথিত সেই ভুল কান্ডটা আমার চোখ আরও বেশি খুলে দিল । আরও বেশি করে স্পষ্ট হল যে সঙ্গীতের কাছে, সুরের কাছে ভাষাটা কোনো প্রতিবন্ধকতাই নয়।”
এসবের বাইরেও এই অনুষ্ঠানের অন্যতম একটি গান ‘শান্তি দিলে ভরি’র সুরকার কিন্তু হিন্দু নন, মোল্লার ছেলে উস্তাদ সাগীরউদ্দিন খাঁ।
পঙ্কজ মল্লিক সেদিন যে কথা বলেছিলেন সেটি কতো বড় সত্যি সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
“উৎসবের আবার বামুন-কায়েত কি? যে ভাষায় নজরুল ইসলাম কীর্তন থেকে শ্যামাসঙ্গীত সব লেখেন সেই ভাষায় কোনো জাতপাত টানবেন না।'”
নাজির আহমেদ কে অনেকেই ভুলে গেছেন, কিন্তু যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন ঢাকা রেডিওর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মহালয়ার কথা সকলকে বলতেন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা সেটা ভালো চোখে দেখত না।