আসছে বাজেটে অটোরিকশা থেকে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের চিন্তা
- আপডেট সময়- ০৬:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়করের আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে শুধু সিএনজিচালিত থ্রি হুইলার থেকে শুরু করে প্রাইভেট কার, জিপ, পিকআপ, বাস ও ট্রাক প্রভৃতি যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেওয়া হয়। এবার সে তালিকায় যুক্ত হচ্ছে অটোরিকশাও।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম–শহর ভিত্তিতে করের হার ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় নির্ধারণের চিন্তা করছে সরকার। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে এ হার কমে অর্ধেক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, রাস্তায় শৃঙ্খলা আনয়ন এবং রাজস্ব আয়ের পরিধি বাড়ানোর জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারি কোনো দপ্তরে। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সমীক্ষায় এই সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এসব অটোরিকশার ৯০ শতাংশই এখন দেশে তৈরি হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারও কারও মতে, রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ হতে পারে।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সারা দেশে অটোরিকশার সংখ্যা ১ কোটির কম হবে না। সে হিসাবে গড়ে যদি ১ হাজার টাকা করেও কর আদায় করা যায়, তাহলে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। বাজেট তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে বলেন, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে অটোরিকশা থেকে কর আদায়ের বিষয়টি এখন পর্যন্ত সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তবে কত টাকা করে আদায় করা হবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অবশ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি সূত্র বলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশার বার্ষিক নিবন্ধন ফি বা কর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ হাজার, পৌরসভায় ২ হাজার এবং ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই করের হার ৫০ শতাংশ কমিয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ হাজার ৫০০, পৌরসভায় ১ হাজার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। রাজধানীতে নীতিমালার মাধ্যমে এসব রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান রাজস্ব কর্মকর্তারা। এখন ঢাকায় এসব রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম থমকে আছে প্যাডেলচালিত রিকশাচালকদের মামলার কারণে। তারা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধন না দেওয়ার জন্য এ মামলা করেছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করে সরকার। ওই খসড়ায় নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে এনবিআর নির্ধারিত হারে শুল্ক ও কর আদায়ের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, গত বছরের ২৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ সংশোধন করা হয়। এতে সিটি করপোরেশনকে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারের নিবন্ধন ও অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, যানবাহনের মালিকদের প্রতিবছর গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় নির্ধারিত হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। একইভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল মালিকদের ভবিষ্যতে অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।
এদিকে, করারোপ নিয়ে অটোরিকশাচালকেরা অবশ্য চিন্তিত নন। কারণ, ঢাকার অধিকাংশ অটোরিকশাই ভাড়ায় চলে। করের ভার নেবেন মহাজন বা মালিকেরা। তাই কর নিয়ে শঙ্কিত নন চালকেরা। কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে এমন বক্তব্যই পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে এসে তিন বছর ধরে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন জজ মিয়া। তিনি আজ রোরববার প্রথম আলোকে জানান, মহাজনেরা ইতিমধ্যে করের ভার গ্রহণ করবেন বলেছেন। আর সে জন্য নতুন করে জমা (ভাড়া) বাড়ানো হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দিনে ৪০০ টাকা জমা হিসেবে দিতে হয়।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের সুলতান মিয়া পাঁচ বছর ধরে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, চিকন চাকার অটোরিকশা অনেক বেড়েছে। তাই আয় কমেছে। নতুন করে হাইড্রোলিক ব্র্যাকের রিকশা নিবন্ধন করে অনুমোদন দেওয়া হলে রিকশা কমবে। তখন তাঁদের আয় বাড়তে পারে।
সূত্র : সংগৃহীত




































































































