রূপগঞ্জে রায়হান খুন; ডাকাতি ও দস্যুতার অর্থ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ফের গ্রেপ্তার-২
- আপডেট সময়- ০৮:৩১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক।।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় অজ্ঞাতনামা এক যুবক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের গাছা ও শ্রীপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার(এসপি) মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, শনিবার দুপুরে রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের গাছা থানাধীন বগারটেক এলাকা থেকে মো. রুহুল আমীন (৩৯)-কে আটক করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন জৈনাবাজার এলাকা থেকে মো. বেলাল ওরফে বিল্লাল হোসেন মানিক মিয়া (৪১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, রূপগঞ্জ থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকায় নিঝুম পল্লি রিসোর্ট চত্বরের দক্ষিণ পাশে রূপগঞ্জ থেকে কালীগঞ্জগামী হাইওয়ে সড়কে ১২ জানুয়ারি এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত ব্যক্তি নাম আবু রায়হান রিপন (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই লাল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আবু রায়হান রিপন ১০ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় স্ত্রী আখি আক্তারের গাজীপুরের বাসন এলাকার ভাড়া বাসায় যান।
এরপর ১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক পৌনে একটার দিকে তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। এরপর রাত একটার পর রায়হান বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরদিন রূপগঞ্জ থানার পুলিশ নিঝুম পল্লী রিসোর্টের পাশের সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ১৩ জানুয়ারি রূপগঞ্জ থানায় হত্যা ও লাশ গুমের ধারায় মামলা হয়।
এর পরবর্তীতে সুষ্ঠু তদন্তের সার্থে মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই স্ব-উদ্যোগে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনকে। চৌকস কর্মকর্তার তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে এটি একট পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করে পিবিআই।
গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। পিবিআই জানায়, নিহত আবু রায়হান রিপন ও গ্রেপ্তার আসামিরা পূর্বে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলো বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। এসকল অপরাধ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধসহ দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিপনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
পিবিআই আরো জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ১৫ থেকে ২০টি মামলা রয়েছে। ১৮ জানুয়ারি তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে মো. বেলাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং সহযোগী অন্যান্য জড়িত আসামিদের নাম উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এর আগে প্রথম ১৫ জানুয়ারি মো. ইয়াছিন (২৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই’র এ কর্মকর্তা(এসপি)
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ











































































































































