নারায়ণগঞ্জে ফের মারধরের শিকার পুলিশ সদস্য, আটক-২
- আপডেট সময়- ০৬:০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জে মারধরের শিকার হয়েছেন ইউনিফর্ম পরা রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও সঙ্গে থাকা আরেক কনস্টেবল। মারধর করা ব্যক্তিদের অভিযোগ, তাদের মধ্যে দু’জনকে মাদক-সংশ্লিষ্টতার ‘মিথ্যা অভিযোগে’ গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেছিলেন ওই দুই পুলিশ সদস্য।
তবে, থানা পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা, জিআরপি পুলিশ নিয়মিত টহলের সময় দু’জনকে গাঁজাসহ আটক করলে অন্য সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার (১৪ মার্চ) বিকেল পাঁচটার দিকে শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের পাশের সংযোগ সড়কে এ মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানান সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
এসময় মারধরের শিকার এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল মো. আরিফ নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত বলে জানান ওসি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা ওই এসআই এবং টি-শার্ট পরা কনস্টেবলকে মারধর করছেন কয়েকজন যুবক।
ভিডিওতে নিজেকে হোসিয়ারি কারখানার কর্মী পরিচয় দিয়ে রমজান নামে এক যুবক বলেন, তাকে এবং তার আরেক পরিচিত আরেক ব্যক্তিকে রাস্তায় আটকে তল্লাশি করতে থাকেন ওই পুলিশ সদস্য ও তার সোর্স (ইনফরমার)। তারা“আমাদের কাছে কিছু পায় নাই, কিন্তু হ্যান্ডকাফ পরিয়ে গাড়িতে তুলতে চেয়েছিল। তখন স্থানীয় থান কাপড়ের দোকানের কয়েকজন আমাকের ঠেকিয়ে রাখে”, বলেন ওই যুবক।তারা দু’জন ঈদের কেনাকাটা করতে যাচ্ছিলেন বলেও দাবি করতে শোনা যায় ওই ভিডিওতে।
এদিকে, আহত পুলিশ কর্মকর্তা মিজান ও অপর কনস্টেবল নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল মান্নান।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “রেললাইনে নিয়মিত টহলে ছিলেন রেল পুলিশের ওই কর্মকর্তা ও কনস্টেবল। তখন গাঁজাসহ দু’জনকে আটক করে নিয়ে যাবার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশের দুই সদস্যদের বেধরক মারধর করেন।” তিনি আরও জানান“জিআরপি পুলিশের কাছে অস্ত্র থাকে না। তাই অস্ত্র না থাকার ফলে তারা এ বিষয়ে কোনো রেসিস্ট করতে পারেনি।”বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা তারেক।
এদিকে, রেলওয়ে পুলিশের এসআই মিজানের উপর হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো অনিক ও মিস্টার। ১৫ মার্চ রাতে ঘটনা ঘটার ২ঘন্টার মধ্যেই এ দুইজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো,শহরের গলাচিপা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অনিক এবং অপরজন মিস্টার একই এলাকার হারুন শেখের ছেলে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল হালিম জানান, নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির এসআই মিজান ও একজন কনস্টেবল রেললাইন সংলগ্ন থানকাপড় মার্কেটের সামনে থেকে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে একটি সিএনজিতে তুলছিল। এসময় অপরাপর মাদক ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
এসময় তারা উপস্থিত ব্যবসায়ী ও জনতাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে মব সৃষ্টির চেষ্টা করে, এতে করে জনতাও পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আমাদের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলকে উদ্ধার করে।
এরপর পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। ইতোমধ্যে অনিক ও মিস্টার নামে ২ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের আটকে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন এসআই মিজান তার এক সোর্সকে সঙ্গে নিয়ে হোসিয়ারী কর্মচারী রমজান ও তার এক সহযোগীকে আটক করে সিএনজিতে তুলে হ্যান্ডকাপ লাগানোর চেষ্টা করছিল। এসময় ওই দুই যুবকের আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে এসআই মিজানসহ তার সোর্সকে আটক করে। এসময় তাদের পরিচয় জানতে চাইলে সোর্স নিজেকে র্যাবের লোক বলে পরিচয় দেয়। তখন স্থানীয় লোকজন তাদের থান কাপড়ের একটি অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোন সদুত্তর দিতে না পারলে ভুয়া পুলিশ বলে তাদের মারধর শুরু করেন। এতে করে ওই পুলিশ কর্মকর্তার জামাকাপড় ছিড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ





























































































































































