ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
রংপুরে একই পরিবারের ৪ জন খুন: দুই আসামির স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের ৪ সদস্যের সৎকার সম্পন্ন নারায়ণগঞ্জে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা সহায়তায় পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ইউএনও  রূপগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে নারীকে আটকে রেখে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার-৩ না’গঞ্জ আদালত চত্বরে হত্যা মামলার আসামি সিফাতকে পুলিশের সামনেই বিবস্ত্র করে গণপিটুনি রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আবু আউয়াল বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে মালবাহী জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ-২২ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের  উদ্বোধন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ মিডটাউন ইনস্টলেশন অনুষ্ঠিত ডিএমপির তেজগাঁও ও পল্টন থানার দুই ওসি প্রত্যাহার রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের শিশুসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যত বড় নেতা হোক ছাড় নয়: শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, ৩০ যাত্রীকে জানালা ভেঙে উদ্ধার এই প্রথম এক মন্ত্রণালয়ে ২ প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে দেশীয় মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক নতুন ৪ মন্ত্রীসহ ২ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বুলবুল হত্যাকান্ড: সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ আটক-৯ এনবিআরে রদবদল, সিআইসির প্রথম নারী ডিজি সেলিনা সুলতানা না’গঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ প্রেমিক ও নিজ বাবার সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া না’গঞ্জের সিভিল সার্জন মুশিউর রহমানকে ওএসডি, নতুন দায়িত্বে ডা. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা খুন মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ডিসি রায়হান কবির শতবর্ষী বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী হাসান আলীর পাশে রূপগঞ্জের মানবিক ইউএনও আড়াইহাজারে পুকুরে ডুবে একসাথে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার একযোগে ফের তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ আর নেই ‘এআই’ অটোফাইন সিস্টেম’ চালুর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-৪ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হারুন র‍্যাবের জালে টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ আজ থেকে ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’ ফের বদলে গেলো এয়ারটেল, এবার ‘সার্কেল’ নামে নবযাত্রা দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে সাক্ষর চূড়ান্ত, কার বেতন কত বাড়ল শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড নারায়ণগঞ্জ জেলা নাজিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন-মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত একটি কুচক্রী মহল ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে নতুন ‘এসআরবি’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন, থাকবে পুলিশের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু; ইউএনও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্কাউটসের উদ্যোগে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত কোটি টাকার প্রকল্পের মাঝেও পুড়ছে সেন্টমার্টিনের কেয়াবন ভারতীয় ভিসার নামে সারাদেশে স্লট বাণিজ্যের সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা  নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণকারী ৩ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ আটক-১১ মৌলভীবাজারের মাথিউরা চা বাগানে দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রূপগঞ্জে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-১০, গ্রেপ্তার-১ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট ১ বছরের মধ্যে সমাধান সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত-১ আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ আড়াইহাজারে অতিরিক্ত মদপানে দুই যুবকের করুন মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ, আটক-২ ফেনীর বহুল আলোচিত চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি টেকনাফে গ্রেপ্তার র‍্যাব পরিবর্তন করে এসআরবি: খসড়া আইনের মতামতে মিলছে না সাড়া ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’ ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য,নতুন রণতরি, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার কক্সবাজারে অপহরণ মামলায় কিশোরী ভিকটিম উদ্ধার, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে ৯৫০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন এসএসসি’তে শতভাগ ফেল করা, ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ হবিগঞ্জে গ্যাস সংকটে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু, বেশ কয়েকজন হতাহত পুলিশের ৫৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে দম্ভ দেখিয়ে মারধর করা আলোচিত ইউএনও’র শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে বদলি বসুন্ধরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের ৫৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার প্রত্যেকেই নারায়ণগঞ্জের টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক মাদক নিয়ন্ত্রণে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান; আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউএনও ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে সমন্বিত নীতিমালা আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে মোট ৩টি মনোনয়নপত্র জমা: ইসি তীব্র গ্যাস সংকটে অচল ফিলিং স্টেশন-জনজীবন, বাসাবাড়িতে ভোগান্তি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) রফিকুল ইসলাম আর নেই মন্ত্রীদের রদবদল; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুলিশে ফের বড় রদবদল, ৩ জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ দিয়েছে সরকার  মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ৪৬০ অভিবাসী বাংলাদেশি ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় ইজারাদারের কর্মচারীকে পেটালেন ইউএনও, দেশজুড়ে তোলপাড়  রাত ৮টার মধ্যে সকল মার্কেট-শপিংমল বন্ধ দায়িত্ব নেয়ার মাত্র নয় মাসে ফের নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের বদলি না’গঞ্জে যানজট নিরসনে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ; দিনে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কক্সবাজারে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ কুলাউড়ায় ডিবির অভিযানে ১০ বোতল বিদেশি মদসহ যুবক গ্রেপ্তার সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে গান পাউডারসহ ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কক্সবাজারের কুখ্যাত ডাকাত চক্র ‘সাদ্দাম গ্রুপ’-এর সদস্য হামিদ আটক কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবককের মরদেহ হস্তান্তর আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র মানবিকতায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পেল ল্যাপটপ উপহার নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ স্ত্রী ও ছেলের পর স্বামী মাইদুলের মৃত্যু

আরবি প্রভাষক পদে আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা’ই হঠাৎ কেন ‘অযোগ্য’?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৫:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ২৯১ বার পড়া হয়েছে
বৈষম্যের শিকার আরবি শিক্ষার্থীরা: মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে নতুন নীতিমালায় ক্ষোভের আগুন..!
ফেরদৌস আলম।।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা-২০২৬-এ করা একটি পরিবর্তনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে। গত ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা এই নীতিমালায় সহকারী মৌলভী ও আরবি প্রভাষক পদের জন্য আরবিতে অনার্স-মাস্টার্সের পাশাপাশি দাখিল ও আলিম পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ, দাখিল পাসের পর কেউ যদি এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন, তবুও তিনি মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষক হিসেবে আবেদনের অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।
এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি সুস্পষ্ট বৈষম্য এবং পূর্বঘোষণা ছাড়া নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
নীতিমালায় কী আছে?
নতুন নীতিমালার ১৩(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সহকারী মৌলভী (জুনিয়র মৌলভী) ও আরবি প্রভাষক পদে প্রার্থীকে আরবি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি দাখিল ও আলিম পাস হতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী নীতিমালায় আরবি প্রভাষকের জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকেই মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিগত ৪০ বছর ধরে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিই আরবি শিক্ষকতার জন্য প্রধান যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃত ছিল।
কেন এই শর্ত অযৌক্তিক?
১. নিয়োগ পরীক্ষাই যোগ্যতার প্রকৃত মাপকাঠি
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের মূল মাধ্যম হলো নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করা সম্ভব। দাখিলের পর আলিম না থাকার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরবি ভাষা, সাহিত্য, ব্যাকরণ, ফিকহ, হাদিস, তাফসিরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমেই তো তাঁদের যোগ্যতা নিরূপণ করা সম্ভব। আর কেউ যদি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারেন, সেটা তাঁর অযোগ্যতার কারণে হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগই না দেওয়া মানেই তো তাঁকে পূর্বনির্ধারিতভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২. অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বৈষম্য
নীতিমালার অন্যত্র সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স থাকলেই চলে। এসএসসি বা এইচএসসিতে ওই বিষয় থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, পৌর নীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, গণিতসহ সব বিষয়ে শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিই যথেষ্ট। কিন্তু একমাত্র আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের ক্ষেত্রে বাড়তি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে—দাখিল ও আলিম পাস। এটি চরম বৈষম্য বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে আলিমের শর্ত নেই, চাকরিতে কেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে দাখিল পাসের পর এইচএসসি দিয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন এই শিক্ষার্থীদের আরবিতে উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করেন, তখন একই শিক্ষার্থী কেন চাকরির বাজারে হঠাৎ অযোগ্য হয়ে যাবেন? দাখিল পাসের পর কলেজে গিয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা কেন মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষকতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন?
৪. ১৭ বছরের পড়াশোনা কি মূল্যহীন?
যে শিক্ষার্থী দাখিল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বা ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন, তাঁর মোট পড়াশোনার সময়কাল প্রায় ১৭ বছর। শুধুমাত্র মাঝখানে দুই বছরের আলিম না পড়ার কারণে এই পুরো শিক্ষাজীবন ও বিনিয়োগ কি মূল্যহীন হয়ে যাবে? এটি নীতিগতভাবে যেমন অন্যায়, তেমনি মানবিক বিবেচনাও বর্জিত।
যুক্তি ও প্রতিবাদ
নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী দাখিল পাসের পর জেনারেল শিক্ষায় চলে যান এবং পরে জাতীয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বা ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তাঁরা মাদ্রাসার পরিবেশ ও আরবি ভাষার সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিচিত নন বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও আরবি ভাষা, সাহিত্য, কোরআন, হাদিস, ফিকহসহ সব বিষয়েই পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি মাদ্রাসার তুলনায় অনেক অনেক বেশি বিস্তৃত ও গভীর। তাই তাঁদের অযোগ্য বলার সুযোগ নেই।
অপর একটি যুক্তি হলো, আলিয়া মাদ্রাসার আলিম পর্যায়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাচ্ছে। ভালো শিক্ষার্থীরা দাখিল পাস করে অনেক সময় ভালো কলেজে চলে যাচ্ছেন। এই ধারা রোধ করতেই নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি স্তরে শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর স্বার্থে হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার বিসর্জন দেওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সঙ্গে তুলনা
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে আরবি প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আরবিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিই যথেষ্ট। সেখানে দাখিল বা আলিম পাসের কোনো শর্ত নেই। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে আরবি শিক্ষক হতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিই যথেষ্ট। অথচ একই বিষয়ের শিক্ষক মাদ্রাসায় নিয়োগের জন্য কেন বাড়তি শর্ত? এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে অসামঞ্জস্য বহন করে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শিক্ষক মহলের প্রতিক্রিয়া: ‘আমাদের ছাত্ররা অযোগ্য হলে পরীক্ষায় প্রমাণ করুক’
এনটিআরসিএর এই বৈষম্যমূলক নীতিমালার প্রতিবাদে এখন সরব হয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাবি, রাবি, চবি, ইবি সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, তাঁদের বিভাগ থেকে শিক্ষাগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের জ্ঞানসম্পন্ন এবং তাঁরা আরবি শিক্ষকতার জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর মো: জাহিদুল ইসলাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের বিভাগে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী দাখিল পাসের পর এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি হয়েছে, অতঃপর আমাদের তত্ত্বাবধানে আরবিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেছে, তারা অবশ্যই আরবি প্রভাষক পদে যোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমরা তাদেরকে আরবি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় যথাযথভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলি। এনটিআরসি কর্তৃপক্ষ আমাদের ছাত্রদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, যা একাডেমিক শুদ্ধাচারের পরিপন্থী।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর সালেকুজ্জামান খান বলেন, “আমরা আমাদের ছাত্রদের বিশ্বমানের জ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলি। আরবি ভাষা, সাহিত্য, ব্যাকরণ, অলংকারশাস্ত্র, ফিকহ, হাদিস, তাফসিরসহ প্রতিটি বিষয়ে তারা গভীর ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে। তাঁরা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে যেকোনো সেক্টরেই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম। এনটিআরসি কর্তৃপক্ষ আরবি বিভাগের ছাত্রদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এটি নীতিগতভাবে যেমন অন্যায়, বাস্তবতার বিচারেও তেমনই অগ্রহণযোগ্য ও দুঃখজনক।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(ভারঃ) ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ইফতেখারুল আলম মাসুদ স্পষ্ট ভাষায় তাঁর বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের নীতিমালায় দাখিল ও আলিম বাধ্যতামূলক করার যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতার মাধ্যমে আরবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করেছে। তাঁরা যদি সত্যিই আরবি শিক্ষকতা করার অযোগ্য হন, তাহলে সেটা তাঁদেরকে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে প্রমাণ করা হোক। পরীক্ষায় বসার সুযোগই না দিয়ে তাঁদেরকে অযোগ্য ঘোষণা করা চরম অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তন করে হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের পড়াশোনা, নিরলস অধ্যবসায় ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে এক মুহূর্তে নস্যাৎ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মানবিক ও ন্যায়সংগত হতে পারে না। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, এই বৈষম্যমূলক শর্ত অবিলম্বে বাতিল করে একটি ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা হোক।”
শিক্ষার্থীদের দাবি
এনটিআরসিএর এই নীতিমালার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে—
১. সহকারী মৌলভী ও আরবি প্রভাষক পদে দাখিল ও আলিম বাধ্যতামূলকের শর্ত বাতিল করতে হবে।
২. যাঁরা ইতোমধ্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন বা বর্তমানে অধ্যয়নরত, তাঁদের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পূর্বের ন্যায় আরবিতে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিকেই পূর্ণাঙ্গ যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৩. যদি নতুন শর্ত আরোপ করতেই হয়, তাহলে ২০২৬ সালের পর যারা দাখিলে ভর্তি হবে, তাঁদের জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য করা হোক। আগের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি প্রযোজ্য না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৪. ন্যূনতম তিন-চার বছর সময় দিয়ে ধাপে ধাপে এই শর্ত চালু করা যেত। পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ নীতিমালা পরিবর্তন করে হাজারো শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না। শুধু চাই, আমাদের শিক্ষা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হোক। আমরা যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছি, সেই বিষয়েই শিক্ষকতা করার সুযোগ যেন পাই। আমাদের ভবিষ্যৎ যেন নীতিমালার গলগন্ডে হারিয়ে না যায়।
নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে শিক্ষক মহলের বক্তব্যকে মূল্যায়ন করে একটি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

আরবি প্রভাষক পদে আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা’ই হঠাৎ কেন ‘অযোগ্য’?

আপডেট সময়- ০৫:৩০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
বৈষম্যের শিকার আরবি শিক্ষার্থীরা: মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে নতুন নীতিমালায় ক্ষোভের আগুন..!
ফেরদৌস আলম।।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা-২০২৬-এ করা একটি পরিবর্তনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে। গত ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা এই নীতিমালায় সহকারী মৌলভী ও আরবি প্রভাষক পদের জন্য আরবিতে অনার্স-মাস্টার্সের পাশাপাশি দাখিল ও আলিম পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ, দাখিল পাসের পর কেউ যদি এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন, তবুও তিনি মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষক হিসেবে আবেদনের অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।
এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি সুস্পষ্ট বৈষম্য এবং পূর্বঘোষণা ছাড়া নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
নীতিমালায় কী আছে?
নতুন নীতিমালার ১৩(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সহকারী মৌলভী (জুনিয়র মৌলভী) ও আরবি প্রভাষক পদে প্রার্থীকে আরবি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি দাখিল ও আলিম পাস হতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী নীতিমালায় আরবি প্রভাষকের জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকেই মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিগত ৪০ বছর ধরে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিই আরবি শিক্ষকতার জন্য প্রধান যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃত ছিল।
কেন এই শর্ত অযৌক্তিক?
১. নিয়োগ পরীক্ষাই যোগ্যতার প্রকৃত মাপকাঠি
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের মূল মাধ্যম হলো নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করা সম্ভব। দাখিলের পর আলিম না থাকার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরবি ভাষা, সাহিত্য, ব্যাকরণ, ফিকহ, হাদিস, তাফসিরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমেই তো তাঁদের যোগ্যতা নিরূপণ করা সম্ভব। আর কেউ যদি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারেন, সেটা তাঁর অযোগ্যতার কারণে হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগই না দেওয়া মানেই তো তাঁকে পূর্বনির্ধারিতভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২. অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বৈষম্য
নীতিমালার অন্যত্র সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স থাকলেই চলে। এসএসসি বা এইচএসসিতে ওই বিষয় থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, পৌর নীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, গণিতসহ সব বিষয়ে শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিই যথেষ্ট। কিন্তু একমাত্র আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের ক্ষেত্রে বাড়তি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে—দাখিল ও আলিম পাস। এটি চরম বৈষম্য বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে আলিমের শর্ত নেই, চাকরিতে কেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে দাখিল পাসের পর এইচএসসি দিয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন এই শিক্ষার্থীদের আরবিতে উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করেন, তখন একই শিক্ষার্থী কেন চাকরির বাজারে হঠাৎ অযোগ্য হয়ে যাবেন? দাখিল পাসের পর কলেজে গিয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা কেন মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষকতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন?
৪. ১৭ বছরের পড়াশোনা কি মূল্যহীন?
যে শিক্ষার্থী দাখিল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বা ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন, তাঁর মোট পড়াশোনার সময়কাল প্রায় ১৭ বছর। শুধুমাত্র মাঝখানে দুই বছরের আলিম না পড়ার কারণে এই পুরো শিক্ষাজীবন ও বিনিয়োগ কি মূল্যহীন হয়ে যাবে? এটি নীতিগতভাবে যেমন অন্যায়, তেমনি মানবিক বিবেচনাও বর্জিত।
যুক্তি ও প্রতিবাদ
নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী দাখিল পাসের পর জেনারেল শিক্ষায় চলে যান এবং পরে জাতীয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বা ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তাঁরা মাদ্রাসার পরিবেশ ও আরবি ভাষার সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিচিত নন বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও আরবি ভাষা, সাহিত্য, কোরআন, হাদিস, ফিকহসহ সব বিষয়েই পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি মাদ্রাসার তুলনায় অনেক অনেক বেশি বিস্তৃত ও গভীর। তাই তাঁদের অযোগ্য বলার সুযোগ নেই।
অপর একটি যুক্তি হলো, আলিয়া মাদ্রাসার আলিম পর্যায়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাচ্ছে। ভালো শিক্ষার্থীরা দাখিল পাস করে অনেক সময় ভালো কলেজে চলে যাচ্ছেন। এই ধারা রোধ করতেই নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি স্তরে শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর স্বার্থে হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার বিসর্জন দেওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সঙ্গে তুলনা
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে আরবি প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আরবিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিই যথেষ্ট। সেখানে দাখিল বা আলিম পাসের কোনো শর্ত নেই। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে আরবি শিক্ষক হতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিই যথেষ্ট। অথচ একই বিষয়ের শিক্ষক মাদ্রাসায় নিয়োগের জন্য কেন বাড়তি শর্ত? এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে অসামঞ্জস্য বহন করে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শিক্ষক মহলের প্রতিক্রিয়া: ‘আমাদের ছাত্ররা অযোগ্য হলে পরীক্ষায় প্রমাণ করুক’
এনটিআরসিএর এই বৈষম্যমূলক নীতিমালার প্রতিবাদে এখন সরব হয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাবি, রাবি, চবি, ইবি সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, তাঁদের বিভাগ থেকে শিক্ষাগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের জ্ঞানসম্পন্ন এবং তাঁরা আরবি শিক্ষকতার জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান ডক্টর মো: জাহিদুল ইসলাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের বিভাগে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী দাখিল পাসের পর এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি হয়েছে, অতঃপর আমাদের তত্ত্বাবধানে আরবিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেছে, তারা অবশ্যই আরবি প্রভাষক পদে যোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমরা তাদেরকে আরবি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় যথাযথভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলি। এনটিআরসি কর্তৃপক্ষ আমাদের ছাত্রদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, যা একাডেমিক শুদ্ধাচারের পরিপন্থী।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর সালেকুজ্জামান খান বলেন, “আমরা আমাদের ছাত্রদের বিশ্বমানের জ্ঞানসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলি। আরবি ভাষা, সাহিত্য, ব্যাকরণ, অলংকারশাস্ত্র, ফিকহ, হাদিস, তাফসিরসহ প্রতিটি বিষয়ে তারা গভীর ও পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে। তাঁরা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে যেকোনো সেক্টরেই নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম। এনটিআরসি কর্তৃপক্ষ আরবি বিভাগের ছাত্রদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এটি নীতিগতভাবে যেমন অন্যায়, বাস্তবতার বিচারেও তেমনই অগ্রহণযোগ্য ও দুঃখজনক।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(ভারঃ) ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ইফতেখারুল আলম মাসুদ স্পষ্ট ভাষায় তাঁর বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের নীতিমালায় দাখিল ও আলিম বাধ্যতামূলক করার যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতার মাধ্যমে আরবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পূর্ণ করেছে। তাঁরা যদি সত্যিই আরবি শিক্ষকতা করার অযোগ্য হন, তাহলে সেটা তাঁদেরকে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে প্রমাণ করা হোক। পরীক্ষায় বসার সুযোগই না দিয়ে তাঁদেরকে অযোগ্য ঘোষণা করা চরম অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তন করে হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের পড়াশোনা, নিরলস অধ্যবসায় ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে এক মুহূর্তে নস্যাৎ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মানবিক ও ন্যায়সংগত হতে পারে না। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, এই বৈষম্যমূলক শর্ত অবিলম্বে বাতিল করে একটি ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা হোক।”
শিক্ষার্থীদের দাবি
এনটিআরসিএর এই নীতিমালার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে—
১. সহকারী মৌলভী ও আরবি প্রভাষক পদে দাখিল ও আলিম বাধ্যতামূলকের শর্ত বাতিল করতে হবে।
২. যাঁরা ইতোমধ্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন বা বর্তমানে অধ্যয়নরত, তাঁদের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পূর্বের ন্যায় আরবিতে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিকেই পূর্ণাঙ্গ যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৩. যদি নতুন শর্ত আরোপ করতেই হয়, তাহলে ২০২৬ সালের পর যারা দাখিলে ভর্তি হবে, তাঁদের জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য করা হোক। আগের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি প্রযোজ্য না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৪. ন্যূনতম তিন-চার বছর সময় দিয়ে ধাপে ধাপে এই শর্ত চালু করা যেত। পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ নীতিমালা পরিবর্তন করে হাজারো শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না। শুধু চাই, আমাদের শিক্ষা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হোক। আমরা যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছি, সেই বিষয়েই শিক্ষকতা করার সুযোগ যেন পাই। আমাদের ভবিষ্যৎ যেন নীতিমালার গলগন্ডে হারিয়ে না যায়।
নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে শিক্ষক মহলের বক্তব্যকে মূল্যায়ন করে একটি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।