ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
এক ক্লিকেই মিলবে ঢাকা জেলার সকল সেবা, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের শুভ সূচনা জামায়াতের আলোচিত এমপির বিয়ের কাবিননামার গোমর ফাঁস করলেন কাজী এবার পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে রিট ফের পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল, চার ডিআইজিসহ ১৪ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বদলি নারায়ণগঞ্জে পুলিশি পাহারার মধ্যেই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিলো দূর্বৃত্তরা কাশিমপুর মহিলা কারাগারে কয়েদি পলায়ন, জেল সুপার বদলি, জেলার সাময়িক বরখাস্ত নারায়ণগঞ্জে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, নারীসহ আহত-৮ সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা মামলার বাদীকে পিটিয়ে হত্যা,আটক-১ বিশ্বকাপ ট্রফি নেইমারকে কেনো উৎসর্গ করলেন নিকো উইলিয়ামস আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় পাঁচ জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা,সতর্কীকরণ আর্জেন্টিনার হার, ‘‘বিয়েটা আর করতে হলো না: পরীমনি হারের পর মেজাজ হারিয়ে মারামারি করলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার মেসিকে হতাশ করে গোল্ডেন বল জিতলেন স্প্যানিশ রদ্রি বিশ্বকাপ জয়ের পর ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামালের উচ্ছ্বাস বিশ্বকাপ জয়ের রাতেই আরেক বিশ্বরেকর্ড, টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন  বড়লেখায় প্রবাসির স্ত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক-২ সারাদেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে: না’গঞ্জে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ১০ গোলের লড়াইয়ের ম্যাচে সাকার হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত জয় ইংলিশদের মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এমবাপ্পের মৌলভীবাজারে ডিবির অভিযানে ইয়াবা ও দেশীয় মদসহ আটক-২ সৈকতে হঠাৎ টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড কক্সবাজার, আতঙ্কে শহর ছাড়ছেন পর্যটকেরা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ফের ভাঙা হচ্ছে, কারা ভাঙছে জানেনা প্রশাসনের কেউ এবার রাজধানীতে ৭ মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা দুই মাসের নিরপরাধ শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া অভিযুক্ত চাচি র‍্যাবের জালে দুই দেশের সমঝোতা ছাড়া শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই ফিফা কোনো স্বাধীন ক্রীড়া সংস্থা নয়, বরং রাজনৈতিক হাতিয়ার প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় সময় টিভির সাবেক এমডির জামিন নামঞ্জুর কক্সবাজারে ২ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা সুন্দরী নারী আটক মৌলভীবাজারে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, জনর্ভোগ চরমে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ শেষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা টেকনাফে নারকোটিস’র বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১ নারী আটক ভেড়ামারার একমাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবহেলিত মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত অণ্ডকোষ চেপে চেকে সাক্ষর নেওয়া বিএনপি কর্মী লিটু গ্রেপ্তার পুলিশের ৬ ডিআইজিসহ ৯ কর্মকর্তাকে বদলি নারায়ণগঞ্জে ফের খুন, এবার ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী মোতালেব কিলিং মিশনের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: তোশকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে ১৩টি এয়ারগান গুলিসহ জব্দ হলেও তালিকা অস্পষ্ট জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় জনগনের জন্য উন্মুক্ত, প্রতি বুধবার গণশুনানি: ডিসি ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগে ওসি আব্দুল বারীকে প্রত্যাহার চাঁদা না দেয়ায় অপপ্রচারের শিকার, দাবি রূপগঞ্জ ইউএনও’র মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা না’গঞ্জের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নিকার সভা আগামীকাল না’গঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলেন সদর ইউএনও ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা এনবিআর’র নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আহসান হাবিব নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে নৃশংশভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এসিল্যান্ডসহ ৮ কর্মকর্তাকে শোকজ শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ তুরাগ নদী থেকে দুই দিনে ৩ লাশ উদ্ধার, ‘রহস্যের ধূম্রজাল’ জর্ডানকে ৩-১ হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য চালু ভারতের পর্যটন ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে কক্সবাজারে বিজিবির মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল ও চোলাই মদসহ আটক-১ মৌলভীবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ পিতার মৃত্যু আগামীকাল সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন টেকনাফে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে চুরি যাওয়া প্রাইভেট কারটি উদ্ধার,আটক-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি-১৩০ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ছবিসহ এনআইডি নবায়ন, ফি কত টাকা? কুষ্টিয়ায় কালী নদীতে ভাসছিল যুবকের মরদেহ  নারায়ণগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত-২০ মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা: সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে আবেদন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলে ক্ষুব্ধ ব্রাজিল, ফিফায় অভিযোগ নতুন পে-স্কেল: রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মীরা কী এই সুবিধা পাবেন? কুষ্টিয়ায় কর কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক-৪ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ দেশের ২২ জেলা ও দায়রা জজকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি মেসির জোড়া গোল,অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনা ফতুল্লায় পুলিশি অভিযানে বরপুত্র সিএ হাবিব মল্লিকের শ্বশুর সানাউল্লাহ্ গ্রেপ্তার না’গঞ্জ সদর উপজেলার ৬’শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামলো আজ নারায়ণগঞ্জে দূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলায় ফের সেনা মোতায়েন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে নারায়ণগঞ্জে এমপি পুত্র যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম আটক ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে শতভাগ সাফল্যের পথে ঢাকা জেলা প্রশাসন চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা পঞ্চবটী-পাগলা পুরাতন সড়কটি না’গঞ্জ সওজ’র আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির বকশীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, চালকসহ নিহত-২ আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সাংবাদিক রেজানুর গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে ১৫ শ্রমিক আহত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব’ নিয়ে বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত, সেমিফাইনালে ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুটবলের ছন্দের যাদুকর নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিলো ব্রাজিল রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির

যৌনপীড়ন, ধর্ষণ ও নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৯:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫ ৪১৫ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ ফেরদৌস আলম।।

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নারীরা আজও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, নারী সুরক্ষা নীতিমালা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ সত্ত্বেও এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা, এর পেছনের কারণ, আইনি কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয় –

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা:
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, ২০২২ সালে ১,০০০ এরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জা, ভয় ও আইনি জটিলতার কারণে অভিযোগ দায়ের করে না।
ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। তবে শহরাঞ্চলেও এই ধরনের ঘটনা কম নয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, আদিবাসী সম্প্রদায় এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। যেমন, স্কুলছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, এমনকি শিশুদেরও ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের পেছনের কারণ:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের সমাজে এখনও নারীকে পুরুষের চেয়ে নিম্নস্তরের হিসেবে দেখা হয়। নারীরা পুরুষের সম্পত্তি বা ভোগের বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মানসিকতা যৌন সহিংসতাকে উৎসাহিত করে।
দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল প্রয়োগ। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধর্ষণের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ হয় না। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সামাজিক চাপের কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়।

তৃতীয়ত, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা জানেই না যে তাদের অধিকার কী এবং কীভাবে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া, পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে অনেক পুরুষ হতাশায় ভোগে, যা তাদের সহিংস আচরণের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া, নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী ও শিশুরা সহিংসতার শিকার হলে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আইনি কাঠামো ও এর সীমাবদ্ধতা:
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যান্য রূপ যেমন, যৌন হয়রানি, এসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিবাহ ইত্যাদির বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রয়েছে।
তবে আইনের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রথমত, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পায় না। দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্নীতির কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়। তৃতীয়ত, আইনের প্রয়োগে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যায়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা:
গণমাধ্যম যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভুক্তভোগীদের সাহস জুগিয়েছে।
তবে গণমাধ্যমের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। এছাড়া, কিছু মিডিয়া সংবাদকে সেনসেশনাল করে তোলে, যা ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে।

নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নারী নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে আমাদের নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা উচিত:

১. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন:
লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার দূরীকরণ: নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।
পুরুষদের সম্পৃক্ততা: পুরুষদের নারী নিরাপত্তা ও সমতা বিষয়ে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে। নারী সুরক্ষা শুধু নারীদের বিষয় নয়, পুরুষদেরও এই লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

২. আইনি সংস্কার ও প্রয়োগ: নারী নির্যাতন ও বৈষম্য রোধে বিদ্যমান আইনগুলির সংস্কার ও প্রয়োগ কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, গৃহস্থালি সহিংসতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত: নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।নারীদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
৪. শিক্ষা ও সচেতনতা: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে লিঙ্গ সমতা ও নারী

অধিকার বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নারী নিরাপত্তা ও সমতা সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারাভিযান চালানো প্রয়োজন। নারী সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নারী ও শিশুদের তাদের অধিকার ও আইনি সহায়তা সম্পর্কে জানাতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রচারণা চালাতে হবে।
৫. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা: পরিবার থেকে নারীদের প্রতি সম্মান ও সমতা শিক্ষা দিতে হবে। সমাজের সকল স্তরে নারীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।
৬. নারী ক্ষমতায়ন:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: নারীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ:
সরকারি নীতি: সরকারকে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
বেসরকারি সংস্থা: এনজিও ও সুশীল সমাজকে নারী অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের প্রতিটি স্তরকে প্রভাবিত করে। এই সমস্যা সমাধানে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। নারী সুরক্ষা শুধু নারীর বিষয় নয়, এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই লড়াইয়ে অংশ নিই এবং একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

যৌনপীড়ন, ধর্ষণ ও নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়

আপডেট সময়- ০৯:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

 

মোঃ ফেরদৌস আলম।।

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নারীরা আজও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, নারী সুরক্ষা নীতিমালা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ সত্ত্বেও এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা, এর পেছনের কারণ, আইনি কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয় –

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা:
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, ২০২২ সালে ১,০০০ এরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জা, ভয় ও আইনি জটিলতার কারণে অভিযোগ দায়ের করে না।
ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। তবে শহরাঞ্চলেও এই ধরনের ঘটনা কম নয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, আদিবাসী সম্প্রদায় এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। যেমন, স্কুলছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, এমনকি শিশুদেরও ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের পেছনের কারণ:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের সমাজে এখনও নারীকে পুরুষের চেয়ে নিম্নস্তরের হিসেবে দেখা হয়। নারীরা পুরুষের সম্পত্তি বা ভোগের বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মানসিকতা যৌন সহিংসতাকে উৎসাহিত করে।
দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল প্রয়োগ। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধর্ষণের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ হয় না। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সামাজিক চাপের কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়।

তৃতীয়ত, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা জানেই না যে তাদের অধিকার কী এবং কীভাবে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া, পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে অনেক পুরুষ হতাশায় ভোগে, যা তাদের সহিংস আচরণের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া, নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী ও শিশুরা সহিংসতার শিকার হলে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আইনি কাঠামো ও এর সীমাবদ্ধতা:
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যান্য রূপ যেমন, যৌন হয়রানি, এসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিবাহ ইত্যাদির বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রয়েছে।
তবে আইনের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রথমত, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পায় না। দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্নীতির কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়। তৃতীয়ত, আইনের প্রয়োগে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যায়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা:
গণমাধ্যম যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভুক্তভোগীদের সাহস জুগিয়েছে।
তবে গণমাধ্যমের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। এছাড়া, কিছু মিডিয়া সংবাদকে সেনসেশনাল করে তোলে, যা ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে।

নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নারী নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে আমাদের নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা উচিত:

১. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন:
লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার দূরীকরণ: নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।
পুরুষদের সম্পৃক্ততা: পুরুষদের নারী নিরাপত্তা ও সমতা বিষয়ে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে। নারী সুরক্ষা শুধু নারীদের বিষয় নয়, পুরুষদেরও এই লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

২. আইনি সংস্কার ও প্রয়োগ: নারী নির্যাতন ও বৈষম্য রোধে বিদ্যমান আইনগুলির সংস্কার ও প্রয়োগ কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, গৃহস্থালি সহিংসতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত: নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।নারীদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
৪. শিক্ষা ও সচেতনতা: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে লিঙ্গ সমতা ও নারী

অধিকার বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নারী নিরাপত্তা ও সমতা সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারাভিযান চালানো প্রয়োজন। নারী সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নারী ও শিশুদের তাদের অধিকার ও আইনি সহায়তা সম্পর্কে জানাতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রচারণা চালাতে হবে।
৫. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা: পরিবার থেকে নারীদের প্রতি সম্মান ও সমতা শিক্ষা দিতে হবে। সমাজের সকল স্তরে নারীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।
৬. নারী ক্ষমতায়ন:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: নারীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ:
সরকারি নীতি: সরকারকে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
বেসরকারি সংস্থা: এনজিও ও সুশীল সমাজকে নারী অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের প্রতিটি স্তরকে প্রভাবিত করে। এই সমস্যা সমাধানে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। নারী সুরক্ষা শুধু নারীর বিষয় নয়, এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই লড়াইয়ে অংশ নিই এবং একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।