ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
পদ্মা সেতুর টোল আদায় ৩ হাজার কোটি ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ শ্রীমঙ্গলে বিপুল পরিমান চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীসহ আটক-১ বেরিয়ে এলো সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয়সহ লোমহর্ষক হত্যা রহস্য উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গভীর রাতে আগুন, শতাধিক ঘর পুরে ছাই আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ ২ ভ্যানগার্ড বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ কুমিল্লায় আটক সকল মতভেদ ভূলে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মাসুদুজ্জামানের নারায়ণগঞ্জে ঔষধ প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড না’গঞ্জে র‍্যাবের পরিচয়ে ৮০ লাখ টাকা ছিনতাই; প্রধান আসামি বেল্লাল গ্রেপ্তার সিদ্ধিরগঞ্জে ১৭ভবনে ৫’শ ও রেড চিলি ক্যাটারিং’র সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ ১লক্ষ ৪৫ হাজার অর্থদন্ড নারায়ণগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাত সাব্বিরসহ ২ সহযোগী র‍্যাবের জালে সাভারে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ছয় মাসে নারী শিশুসহ পাঁচ বিভৎস মরদেহ উদ্ধার,আটক-১ রূপগঞ্জে রায়হান খুন; ডাকাতি ও দস্যুতার অর্থ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ফের গ্রেপ্তার-২ আসন্ন নির্বাচনে না’গঞ্জে ৪৫১ ভোটকেন্দ্র বডি অন ক্যামেরায় পর্যবেক্ষন করা হবে: এসপি নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ সমর্থকের ওপর হামলাসহ অর্থ লুটের অভিযোগ কুলাউড়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ উখিয়ার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ সিএনজি চালক আটক মহেশখালীতে যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার গাইবান্ধায় ক্ষমতার পালাবদলে লাপাত্তা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন জুড়ে সেবা অচল সাহসী ও স্বাধীন সাংবাদিকতার লক্ষ্যে রাজধানীতে আজ নোয়াবের ‘গণমাধ্যম সম্মিলন’ রূপগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদকদ্রব্যসহ আটক-৩ রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবনে আগুন, নারীসহ নিহত-৩, আহত-১৩’র অধিক আজ পবিত্র শবে মেরাজ নারায়ণগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে হোসিয়ারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চালক-হেলপারসহ আটক-৩ অর্থ লেনদেনের জেরেই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড সংঘটিত: পিবিআই মায়ানমারে বিপুল পরিমাণে নিত্যপণ্য পাচারকালে আটক-১০ গাইবান্ধায় আপিল শুনানির পর প্রার্থীতা ফিরে পেলো ৮ জন কক্সবাজারে সাংবাদিক নেতা নুরুল হোসাইনকে গ্রেপ্তারে তীব্র নিন্দা বাংলাদেশ,পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট চট্টগ্রাম বন্দরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন ৯ ‘জুলাইযোদ্ধা’ ৩৬তম বিসিএস বাঞ্ছারামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু রাজধানীতে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা নারায়ণগঞ্জ জেল হাজতে কারাবন্দী আ’লীগ নেতার মৃত্যু কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ আগুন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ভোটের এক মাস পূর্বেই মাঠে পৌঁছাল গণভোটের ব্যালট নারায়ণগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় বাবুর্চিকে কুপিয়ে হত্যা সিস্টেমের ত্রুটিসহ ভালো দিকগুলো তুলে ধরে সাংবাদিকরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন: ডিসি মৌলভীবাজারে সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতি মামলায় ডিবির রিমান্ড আবেদন  টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে এক লাখ ইয়াবাসহ আটক-১ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ নতুন শিক্ষাবর্ষের ১১ দিন পার: এখনো ৩ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী বইয়ের সংকটে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়েতে লাগবে না ১ম স্ত্রীর পূর্বানুমতি: হাইকোর্ট জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলা; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম জামিন মুছাব্বির হত্যা: ১৫ লাখ টাকায় কিলিং মিশন,জড়িত ৩ সহোদর গণভোট ও সংসদ নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার কাজ করছে: ডিসি নান্দাইলে ৪ শতাধিক এতিম-অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কক্সবাজার সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের অভিযান: আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৯ ডাকাত আটক, নিহত-১ মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রান গেল স্কুলছাত্রীর নারায়ণগঞ্জে আকিজ সিমেন্ট কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ-৮ নারায়ণগঞ্জে যুবদল-ছাত্রদল সংঘর্ষ: আটকের পর মুচলেকায় মুক্তি নারায়ণগঞ্জে আধুনিক ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কৃষক নিহত কুষ্টিয়ায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চরম সংকট, বিপাকে রোগীরা কুলাউড়ায় র‍্যাবের অভিযানে অপহৃত স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, গ্রেপ্তার-১ মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ডাকাত সহযোগী আটক, দুই মাঝি উদ্ধার উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ ফরিদপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়ার দাফন সম্পন্ন অদম্য স্বপ্নের সারথি জয় দাসের ‘দ্য সিক্রেট টু সাকসেস’ ও একুশ শতকের তারুণ্য’ আমি আপনাদেরই সন্তান, এ-ই মা-মাটির সন্তান: কাসেমী টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ১ লক্ষ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আসন্ন নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড পেতে আবেদন অনলাইনে মুন্সীগঞ্জে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শুটার ইয়াসিন গ্রেপ্তার চতুর্থ দিনেও ইসিতে-১৭৪ আপিল,সর্বমোট আবেদন-৪৬৯ নারায়ণগঞ্জে মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তরুণ নিহত, গুরুতর আহত-৪ জকসু নির্বাচনে ২১ পদের ১৫টিতে শিবির, ছাত্রদল ৫টি আর স্বতন্ত্রের ১টিতে জয় জকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় কুষ্টিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে চাপাতি দিয়ে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টেকনাফ উপজেলা সভাপতি ইয়াবাসহ আটক খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় না’গঞ্জ ফল আড়ৎদার মালিক সমিতির দোয়া উখিয়ায় বিজিবির চেকপোস্টে ৯৫৫ পিস ইয়াবাসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসা পড়ুয়া এতিম শিশুদের কম্বল বিতরণ ডিসি রায়হান কবির যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে তিন বিমানবন্দর ছাড়া ঢুকতে পারবে না বাংলাদেশিরা রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বিরসহ গুলিবিদ্ধ-২ নারায়ণগঞ্জে ‘র‍্যাব’ পরিচয়ে ৮০ লাখ টাকা ছিনতাই জকসু নির্বাচন: আরো দুই কেন্দ্রের ফলাফলে শিবির এগিয়ে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত বিএনপির বিদ্রোহী হতে চাইনি বলেই রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়েছি- মো. আলী নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামানের জন্মদিন আজ টেকনাফে সৈয়দ মিয়া হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার দীর্ঘ দুই দশক পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জকসু নির্বাচন সারাদেশের সকল হাসপাতাল গুলোকে জরুরি নির্দেশনা চট্টগ্রামে ফের যুবদল নেতাকে গুলি করে হ/ত্যা শ্রীমঙ্গল পুলিশের অভিযানে ৫০ বোতল মদসহ আটক-১ গাইবান্ধায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে, অপর ট্রাকের ধাক্কা, নিহত-২ না’গঞ্জ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের খালেদা জিয়া জন্য দোয়া  নারায়ণগঞ্জে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন বিএনপি নেতা এ্যাড. টিপু শুধুমাত্র বেঁচে থাকার নামই জীবন নয়, লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে: ডিসি টেকনাফে বিজিবির অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে উদ্ধার-৩ আজ মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু আবারও ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেপে উঠলো সারাদেশ খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় না’গঞ্জ মহানগর বিএনপির দোয়া না’গঞ্জে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় মাসুদুজ্জামানের উদ্যোগে দোয়া উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ মাদক কারবারি খালেদা জিয়া বাংলার মানুষের মনে-প্রাণে আজীবন গাঁথা থাকবেন: স্মরণ সভায় মাসুদুজ্জামান নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে শুরু হচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযান

যৌনপীড়ন, ধর্ষণ ও নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৯:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫ ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ ফেরদৌস আলম।।

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নারীরা আজও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, নারী সুরক্ষা নীতিমালা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ সত্ত্বেও এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা, এর পেছনের কারণ, আইনি কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয় –

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা:
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, ২০২২ সালে ১,০০০ এরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জা, ভয় ও আইনি জটিলতার কারণে অভিযোগ দায়ের করে না।
ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। তবে শহরাঞ্চলেও এই ধরনের ঘটনা কম নয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, আদিবাসী সম্প্রদায় এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। যেমন, স্কুলছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, এমনকি শিশুদেরও ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের পেছনের কারণ:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের সমাজে এখনও নারীকে পুরুষের চেয়ে নিম্নস্তরের হিসেবে দেখা হয়। নারীরা পুরুষের সম্পত্তি বা ভোগের বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মানসিকতা যৌন সহিংসতাকে উৎসাহিত করে।
দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল প্রয়োগ। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধর্ষণের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ হয় না। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সামাজিক চাপের কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়।

তৃতীয়ত, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা জানেই না যে তাদের অধিকার কী এবং কীভাবে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া, পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে অনেক পুরুষ হতাশায় ভোগে, যা তাদের সহিংস আচরণের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া, নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী ও শিশুরা সহিংসতার শিকার হলে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আইনি কাঠামো ও এর সীমাবদ্ধতা:
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যান্য রূপ যেমন, যৌন হয়রানি, এসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিবাহ ইত্যাদির বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রয়েছে।
তবে আইনের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রথমত, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পায় না। দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্নীতির কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়। তৃতীয়ত, আইনের প্রয়োগে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যায়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা:
গণমাধ্যম যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভুক্তভোগীদের সাহস জুগিয়েছে।
তবে গণমাধ্যমের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। এছাড়া, কিছু মিডিয়া সংবাদকে সেনসেশনাল করে তোলে, যা ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে।

নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নারী নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে আমাদের নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা উচিত:

১. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন:
লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার দূরীকরণ: নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।
পুরুষদের সম্পৃক্ততা: পুরুষদের নারী নিরাপত্তা ও সমতা বিষয়ে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে। নারী সুরক্ষা শুধু নারীদের বিষয় নয়, পুরুষদেরও এই লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

২. আইনি সংস্কার ও প্রয়োগ: নারী নির্যাতন ও বৈষম্য রোধে বিদ্যমান আইনগুলির সংস্কার ও প্রয়োগ কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, গৃহস্থালি সহিংসতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত: নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।নারীদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
৪. শিক্ষা ও সচেতনতা: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে লিঙ্গ সমতা ও নারী

অধিকার বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নারী নিরাপত্তা ও সমতা সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারাভিযান চালানো প্রয়োজন। নারী সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নারী ও শিশুদের তাদের অধিকার ও আইনি সহায়তা সম্পর্কে জানাতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রচারণা চালাতে হবে।
৫. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা: পরিবার থেকে নারীদের প্রতি সম্মান ও সমতা শিক্ষা দিতে হবে। সমাজের সকল স্তরে নারীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।
৬. নারী ক্ষমতায়ন:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: নারীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ:
সরকারি নীতি: সরকারকে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
বেসরকারি সংস্থা: এনজিও ও সুশীল সমাজকে নারী অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের প্রতিটি স্তরকে প্রভাবিত করে। এই সমস্যা সমাধানে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। নারী সুরক্ষা শুধু নারীর বিষয় নয়, এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই লড়াইয়ে অংশ নিই এবং একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

যৌনপীড়ন, ধর্ষণ ও নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়

আপডেট সময়- ০৯:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

 

মোঃ ফেরদৌস আলম।।

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নারীরা আজও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, নারী সুরক্ষা নীতিমালা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ সত্ত্বেও এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা, এর পেছনের কারণ, আইনি কাঠামো, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয় –

বাংলাদেশে যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বর্তমান অবস্থা:
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, ২০২২ সালে ১,০০০ এরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জা, ভয় ও আইনি জটিলতার কারণে অভিযোগ দায়ের করে না।
ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। তবে শহরাঞ্চলেও এই ধরনের ঘটনা কম নয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, আদিবাসী সম্প্রদায় এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। যেমন, স্কুলছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, এমনকি শিশুদেরও ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের পেছনের কারণ:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের সমাজে এখনও নারীকে পুরুষের চেয়ে নিম্নস্তরের হিসেবে দেখা হয়। নারীরা পুরুষের সম্পত্তি বা ভোগের বস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মানসিকতা যৌন সহিংসতাকে উৎসাহিত করে।
দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বল প্রয়োগ। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ধর্ষণের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ হয় না। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সামাজিক চাপের কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়।

তৃতীয়ত, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা জানেই না যে তাদের অধিকার কী এবং কীভাবে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া, পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে অনেক পুরুষ হতাশায় ভোগে, যা তাদের সহিংস আচরণের দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া, নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী ও শিশুরা সহিংসতার শিকার হলে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আইনি কাঠামো ও এর সীমাবদ্ধতা:
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যান্য রূপ যেমন, যৌন হয়রানি, এসিড নিক্ষেপ, বাল্যবিবাহ ইত্যাদির বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রয়েছে।
তবে আইনের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রথমত, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পায় না। দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্নীতির কারণে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যায়। তৃতীয়ত, আইনের প্রয়োগে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যায়।

গণমাধ্যমের ভূমিকা:
গণমাধ্যম যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভুক্তভোগীদের সাহস জুগিয়েছে।
তবে গণমাধ্যমের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। এছাড়া, কিছু মিডিয়া সংবাদকে সেনসেশনাল করে তোলে, যা ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে।

নারী সুরক্ষায় আমাদের করণীয়:
যৌনপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নারী নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে আমাদের নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা উচিত:

১. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন:
লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার দূরীকরণ: নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। লিঙ্গ ভিত্তিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।
পুরুষদের সম্পৃক্ততা: পুরুষদের নারী নিরাপত্তা ও সমতা বিষয়ে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে। নারী সুরক্ষা শুধু নারীদের বিষয় নয়, পুরুষদেরও এই লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। পুরুষদের মধ্যে নারী অধিকার ও সম্মান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

২. আইনি সংস্কার ও প্রয়োগ: নারী নির্যাতন ও বৈষম্য রোধে বিদ্যমান আইনগুলির সংস্কার ও প্রয়োগ কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া, আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, গৃহস্থালি সহিংসতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত: নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।নারীদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
৪. শিক্ষা ও সচেতনতা: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে লিঙ্গ সমতা ও নারী

অধিকার বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নারী নিরাপত্তা ও সমতা সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারাভিযান চালানো প্রয়োজন। নারী সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নারী ও শিশুদের তাদের অধিকার ও আইনি সহায়তা সম্পর্কে জানাতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রচারণা চালাতে হবে।
৫. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা: পরিবার থেকে নারীদের প্রতি সম্মান ও সমতা শিক্ষা দিতে হবে। সমাজের সকল স্তরে নারীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।
৬. নারী ক্ষমতায়ন:
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: নারীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

৭. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ:
সরকারি নীতি: সরকারকে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
বেসরকারি সংস্থা: এনজিও ও সুশীল সমাজকে নারী অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

যৌনপীড়ন ও ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের প্রতিটি স্তরকে প্রভাবিত করে। এই সমস্যা সমাধানে নারী নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। নারী সুরক্ষা শুধু নারীর বিষয় নয়, এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই লড়াইয়ে অংশ নিই এবং একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।