ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক গনতন্ত্র ও মানবাধিকার সংগঠনে মনোনীত যারা জাপানের একটি জনহীন রেলওয়ে স্টেশন শুধুমাত্র এক ছাত্রীর জন্য এখনও চালু রয়েছে মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙনে ঝুঁকিতে পুরাতন ঐতিহ্যবাহী দিঘিরপাড় বাজার শ্রীমঙ্গলে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আইনজীবী নিহত,আহত-২ নকলায় জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্ত প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কুলাউড়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে ভিক্ষুকের অর্থ আত্মসাৎ মাথিউড়া চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি: চা শ্রমিক ফেডারেশন মৌলভীবাজারে বন্যার পানি না নামায়, ২৩৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ  সোনারগাঁয়ে ঔষধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: ৭০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট নকলার ইউএনও শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ায় যুবফোরামের সম্মাননা স্মারক প্রদান

ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত মৌলভীবাজারের পাঁচ উপজেলা 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪ ২৯ বার পড়া হয়েছে
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।
টানা বৃষ্টিতে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাৎ করে মৌলভীবাজার জেলার ৫ উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই পাঁচ উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলারই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তন্মধ্যে বড়লেখা উপজেলার ৪টি, জুড়ি উপজেলার ৩টি, কুলাউড়া উপজেলার ৩টি, সদর উপজেলার ৪টি এবং রাজনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।। এছাড়া পশু কোরবানি দিতে গিয়েও চরম বিড়ম্বনায় পড়েন মানুষ। বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় আশ্রয়কেন্দ্রে ছুঁটছে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন। বন্যা আতঙ্কে নির্মুঘ রাত পার করছেন হাজার হাজার মানুষ।
জানা যায়, ঈদুল আযহার দিন ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত হয়। এতে করে নিম্নাঞ্চলের রাস্তা ঘাট প্লাবিত হলে ঈদের দিনে টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক ঈদগাহে পানি উঠে যাওয়ায় ঈদের নামাজ হয় উচুঁ স্থান ও মসজিদে। এতে করে জেলার প্রায় সাতটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
সোমবার রাতে প্লাবিত হয়ে যায় কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ এলাকা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মঙ্গলবার সারাদিন বৃষ্টি হওয়ার পর পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কুরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাঘটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুঠাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজিপুর আংশিক, পুরন্দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়।
এদিকে পানিবন্দি মানুষদের খোঁজখবর নিতে হাকালুকি হাওর তীরবর্তী ভূকশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এদিকে জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ২টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকালে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার বেড়ে গিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যার কারণে ওই এলাকার কিছু জায়গা প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা যায়, জেলার বড়লেখা উপজেলার ৪টি, জুড়ি উপজেলার ৩টি, কুলাউড়া উপজেলার ৩টি, সদর উপজেলার ৪টি এবং রাজনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যাক্রান্ত উপজেলাসমূহে সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জুড়ি, বড়লেখা এবং কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ভুক্তভোগী মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
কুলাউড়ার রাবেয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা কাদিপুর ইউনিয়নের মৈন্তাম গ্রামের আক্কাস আলী (৪৫) বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ঘরের ভেতর হাঁটুপানি। একটু পানি বাড়লেই বিছানায় পানি উঠবে। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের দিন বিকেলে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। কখনো কল্পনাও করিনি এইভাবে নিজের বাড়ি ছাড়া হয়ে ঈদ করবো। এখানে কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক এম আতিকুর রহমান আখইকে শুকনো খাবার করতে দেখা দেখা গেছে।
ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, হাকালুকি হাওরের পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের ২২টি গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। শহরের সাথে প্রধান সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়ে সরকারের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করছি।
কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ গিলমান বলেন, পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শিমুল আলী বলেন, কুলাউড়ায় এখন পর্যন্ত ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত মৌলভীবাজারের পাঁচ উপজেলা 

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।
টানা বৃষ্টিতে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাৎ করে মৌলভীবাজার জেলার ৫ উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই পাঁচ উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলারই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তন্মধ্যে বড়লেখা উপজেলার ৪টি, জুড়ি উপজেলার ৩টি, কুলাউড়া উপজেলার ৩টি, সদর উপজেলার ৪টি এবং রাজনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।। এছাড়া পশু কোরবানি দিতে গিয়েও চরম বিড়ম্বনায় পড়েন মানুষ। বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় আশ্রয়কেন্দ্রে ছুঁটছে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন। বন্যা আতঙ্কে নির্মুঘ রাত পার করছেন হাজার হাজার মানুষ।
জানা যায়, ঈদুল আযহার দিন ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত হয়। এতে করে নিম্নাঞ্চলের রাস্তা ঘাট প্লাবিত হলে ঈদের দিনে টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক ঈদগাহে পানি উঠে যাওয়ায় ঈদের নামাজ হয় উচুঁ স্থান ও মসজিদে। এতে করে জেলার প্রায় সাতটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
সোমবার রাতে প্লাবিত হয়ে যায় কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ এলাকা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মঙ্গলবার সারাদিন বৃষ্টি হওয়ার পর পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কুরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাঘটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুঠাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজিপুর আংশিক, পুরন্দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়।
এদিকে পানিবন্দি মানুষদের খোঁজখবর নিতে হাকালুকি হাওর তীরবর্তী ভূকশিমইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এদিকে জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ২টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকালে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার বেড়ে গিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যার কারণে ওই এলাকার কিছু জায়গা প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা যায়, জেলার বড়লেখা উপজেলার ৪টি, জুড়ি উপজেলার ৩টি, কুলাউড়া উপজেলার ৩টি, সদর উপজেলার ৪টি এবং রাজনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যাক্রান্ত উপজেলাসমূহে সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জুড়ি, বড়লেখা এবং কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ভুক্তভোগী মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
কুলাউড়ার রাবেয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা কাদিপুর ইউনিয়নের মৈন্তাম গ্রামের আক্কাস আলী (৪৫) বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ঘরের ভেতর হাঁটুপানি। একটু পানি বাড়লেই বিছানায় পানি উঠবে। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের দিন বিকেলে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। কখনো কল্পনাও করিনি এইভাবে নিজের বাড়ি ছাড়া হয়ে ঈদ করবো। এখানে কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক এম আতিকুর রহমান আখইকে শুকনো খাবার করতে দেখা দেখা গেছে।
ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, হাকালুকি হাওরের পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের ২২টি গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। শহরের সাথে প্রধান সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। প্রশাসনের নির্দেশনা পেয়ে সরকারের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করছি।
কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ গিলমান বলেন, পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শিমুল আলী বলেন, কুলাউড়ায় এখন পর্যন্ত ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে।