বেরিয়ে এলো সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয়সহ লোমহর্ষক হত্যা রহস্য
- আপডেট সময়- ০৫:২৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডিজিটাল ডেস্ক।।
সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের আসল নাম ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নয়, বরং তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, সবুজ শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা পান্না শেখ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে তিন ভাই ও চার বোন। সবুজ ওই পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। উল্লেখযোগ্য যে, তার এক বড় বোন শারমিন এবং পরিবারের একটি অংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।
পুলিশের দাবি, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত ওই সিরিয়াল কিলার। সেসব নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করলে সে তাদের হত্যা করতো। এসব ঘটনায় তার দেয়া স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করে দেখছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, সবশেষ ঘটনার ৩-৪ দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এনে রাখে। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্ক করলে প্রথমে তাকে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় নিয়ে হত্যা করে সবুজ। এরপর ওই ভবঘুরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে দোতলার টয়লেটে ঢুকিয়ে দুজনকে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাভার থানার সামনে থেকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সবুজকে আটক করে পুলিশ। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজ শেখ ওরফে সম্রাটকে গত রাতেই কারাগারে পাঠান আদালত।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট ওরফে সবুজ প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সবুজ হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন।
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ










































































































