সর্বশেষ:-
প্রচ্ছদ /
অর্থ ও বাণিজ্য, আইন আদালত, আন্তর্জাতিক, আবহাওয়া ও জলবায়ু, উপজেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক), দেশজুড়ে, নারী ও শিশু, পূর্বাভাস, প্রেসক্রিপশন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ, রংপুর, স্বাস্থ্য কথা
গাইবান্ধায় নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে টর্চার সেল, রোগীকে গ্রিলে ঝুলিয়ে পিটুনির অভিযোগ
প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময়- ০৫:০৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

ফেরদৌস আলম,
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধা শহরের জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক মানসিক রোগীর ওপর চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন। মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া, লোহার রড দিয়ে পিটুনি, এমনকি পা বেঁধে গ্রিলে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে ওই কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবক এখন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগীর নাম মুর্শিদ হক্কানী, বয়স ৩৭ বছর। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তাকে সুস্থ করার আশায় গত বছরের আগস্টে পরিবারের সদস্যরা জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করেন। শুরুতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিলেও কিছুদিন পরই নানা অজুহাতে তা বন্ধ করে দেয়।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বজনরা জেদ ধরে দেখা করতে চাইলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুর্শিদকে তাদের সামনে আনা হয়। তখন তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। তাকে দ্রুত বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর বেরিয়ে আসে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র।
মুর্শিদ জানান, কেন্দ্রের ভেতরে একটি ঘরে তাকে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে চিৎকার করতে বাধা দেওয়া হতো। এরপর লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এমনকি পা বেঁধে জানালার গ্রিলের সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হতো তাকে। যন্ত্রণায় তিনি বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন। ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মুর্শিদকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ১০ দিন চিকিৎসা শেষে এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. আসিফ উর রহমান জানান, মুর্শিদের শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
এ ঘটনায় মুর্শিদের বড় ভাই আওরঙ্গজেব হক্কানী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গণউন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক এম আব্দুস সালামসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তিন-চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রথম নয়, এর আগেও ওই কেন্দ্রে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। কমপক্ষে ছয়জন চিকিৎসা নিতে গিয়ে টর্চারের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২২ সালের ৩১ মে নাঈম নামের এক রোগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় ওই কেন্দ্র থেকে। তখন নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ ও তদন্তের দাবি জানালেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণউন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক এম আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন (২০১৩-২০২৪) ধরে কমিউনিটি পুলিশিং জেলা সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেত না বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিইউকের কাউন্সেলর মো. কাবিউল আজাদ বলেন, মুর্শিদ হক্কানীর সঙ্গে নিরাময় কেন্দ্রের অন্য রোগীদের মারামারি হয়েছিল। অফিসের কেউ তাকে মারধর করেনি।
জিইউকের সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তে প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে গণউন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক এম আব্দুস সালামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গণউন্নয়ন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে যা তদন্তাধীন। পরিচালক পর্যায়ের কেউ ইন্ধনদাতা কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন..
ট্যাগস:-

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ













































































































































































