ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
প্রিমিয়ার ব্যাংকে না’গঞ্জ শাখায় বিশাল অংকের ‘অর্থ আত্মসাত করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা টেকনাফে ৪’শ জেলে পরিবারের মাঝে বিজিবির খাদ্য সহায়তা টেকনাফ থানা পরিদর্শনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ব্রিটেনের কাউন্সিলর নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ৮জন নির্বাচিত  নারায়ণগঞ্জে ডিশ ব্যবসায়ী নাছির হত্যা মামলায় আসামি-১০, গ্রেপ্তার-৪ যোগদানের মাত্র সাত দিনের মধ্যে মৌলভীবাজার এসপি প্রত্যাহার মৌলভীবাজারে নিখোঁজের তিনদিন পর মিললো যুবকের কাঁটা লাশ নারায়ণগঞ্জে লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: পাঁচজনের কেউই আর বেচে নেই গাজীপুরে পাঁচ খুন: হত্যাকারী সেই ফোরকানকে নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর মোড় চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজায় নিষিদ্ধ আ’লীগের মিছিল, স্লোগান টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে ৩২ হাজার ইয়াবা জব্দ ঢাকাগামী লবণের ট্রাকে ১ লাখ ইয়াবা, আটক-২ নারায়ণগঞ্জে আবারও খূন: এবার ডিশ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা কমলগঞ্জে শুক্লা সিনহা নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতা শাকের মাঝি আটক কুষ্টিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ছিনতাই সাবেক মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই অপরাধ দমন ও মাদক নির্মূলে পুরস্কৃত নারায়ণগঞ্জ র‍্যাব-১১ চট্টগ্রামে সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নিথর দেহ গাজীপুরে নৃশংস ৫ খু/ন: ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো লোমহর্ষক তথ্য ঢাকা মেডিকেলে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ আখ্যা দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ফের আইভীর জামিন স্থগিতাদেশ চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ’সহ ইয়াবা জব্দ নারায়ণগঞ্জে ফের গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ; একই পরিবারের দগ্ধ-৫ পরকীয়া সন্দেহের জেরে ইয়াছিনকে শ্বাসরোধে হত্যা: পিবিআই ১০ মামলায় আইভীর জামিন পূর্ণবহাল, মুক্তিতে আপাতত কোনও বাধা নেই মরদেহের ওপর রাখা চিরকুটে মিলল পরকীয়া ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গাজীপুরে নারী ও শিশুসহ ৫ লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য নাসিক কোরবানির হাট: এবার বসবে ২৩টি পশুর হাট গাজীপুরে নির্মম হত্যাযজ্ঞ: একই পরিবারের দুজনসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী নারায়ণগঞ্জে বাল্কহেড-নৌযানের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে টানা ৭ দিনের ছুটি নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-১ নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ভ্রাম্যমাণ অভিযান, ৭ জনের কারাদণ্ড মৌলভীবাজারে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক বসতবাড়ি লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: কুষ্টিয়া সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি কক্সবাজারে র‍্যাবের অভিযানে ১৩ হাজার ৮’শ পিস ইয়াবাসহ আটক-১ টেকনাফে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ফেনসিডিলসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জে তালাবদ্ধ ঘরে মিললো গার্মেন্টস কর্মীর হাত-পা বাধা গলাকাটা মরদেহ আগামী জুনের মধ্যে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ডিসিদের জনকল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী সেন্টমার্টিন-টেকনাফে কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযান, আটক-১৩ কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে কিশোর নিহত কুষ্টিয়ায় পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার কুলাউড়ায় নবাগত ইউএনও’র দায়িত্বে সানজিদা আক্তার সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের জামিন নেত্রকোনায় শিশু ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আলোচিত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার না’গঞ্জে র‍্যাব-পুলিশের চিরুনি অভিযানে নগদ অর্থ ও বিপুল মাদক-অস্ত্রসহ আটক-১০ রাজধানীর আলোচিত ডিসি মাসুদ এবার চট্টগ্রামের এসপি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপিসহ ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি নারায়ণগঞ্জে র‍্যাবের ওপর ফের হামলা, আহত-৩ বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে দেড় টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসির টেকনাফে ৪৪ বোতল বিদেশি মদসহ আটক-১ কেরালার বাম দুর্গে মুসলিম তরুণী ফাতেমা তাহলিয়ার নিরংকুশ বিজয় মেয়ের জন্মদিনে আনন্দঘন মুহূর্তের পোস্টে প্রশংসায় ভাসছে পরীমণি মুসলিমরা মমতাকে ভোট দিয়েছেন,তাকে দেয়নি: শুভেন্দু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করছে বিজেপি  নির্বাচনের ফলাফলকে ‘লুট’ ও ‘অনৈতিক বিজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মমতা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে নরেন্দ্র মোদি যা বললেন কোনো সংবাদিক বিনা অপরাধে কারাগারে থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ এমপি শপথ নিলেন ঢাকায় ৪ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএমপির ৩ থানায় নতুন ওসি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখা যাবে  শ্রীমঙ্গলে মসজিদে ঢুকে প্রকাশ্যে মুসল্লিকে কুপিয়ে হত্যা সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ সারাদেশের থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর  রূপগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১৯’শ ৬৮ পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক শ্রীমঙ্গলে এমআর টিকাদানে অনিয়ম: সমন্বয়হীনতায় ঝুঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য মৌলভীবাজারে পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন আরও দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন আইভী আইভীর দুই মামলার জামিন আদেশ আজ : হাইকোর্ট চট্টগ্রাম নগরী পানির নিচে ভাসছে না; প্রতিমন্ত্রী দেশের সবকটি জেলায় রাতেই ১০০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা নারায়ণগঞ্জে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের লুট হওয়া পিস্তল ও গুলি উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টে এবার ট্রাম্পের ছবি ভোজ্যতেলের দামে ফের ধাক্কা, লিটারে ৪ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম ট্রেনের নিচে পরে যাওয়া শিশুসন্তান, ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করলেন বাবা মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গ্ৰামের পর গ্ৰাম প্লাবিত রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক আটক মৌলভীবাজারে ২৪ ঘন্টায় ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড মেরিন ড্রাইভে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত, আহত-২ সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্যসহ ১৩ পাচারকারী আটক না’গঞ্জে পর্যাপ্ত পেট্রল আছে, যানবাহন না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছে পাম্প কর্মীরা কিংবদন্তী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কুলাউড়ার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় সিগারেট জব্দ কুলাউড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লণ্ডভণ্ড ইয়াকুব-তাজুল ডিগ্রি কলেজ না’গঞ্জের সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার না দেখানোর নির্দেশ হাইকোর্টের না’গঞ্জে সাত খুনের ১যুগ পেরিয়ে গেলেও বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে গাঁজা ও বিদেশি মদসহ আটক-১ টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ১৫ হাজার ইয়াবা জব্দ গাইবান্ধায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত-৪, আহত-১ কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদকসহ চোরাই পণ্য জব্দ টেকনাফে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রাসেল আটক টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত একাধিক মামলার পলাতক আসামি ইদ্রিস গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৩:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

 

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক ধরনের সর্বগ্রাসী আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্যতম ভিন্ন কিছু বললেও আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে।

আল জাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও বেশি। গণমাধ্যমের স্বাধীন চিন্তাভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। কিন্তু একইসঙ্গে সেই সর্বগ্রাসী আতঙ্কও রয়েছে—কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্য সরে গেলেই আমার ওপর হামলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, অনেক সময় আমরা শব্দচয়নেও খুব সতর্ক থাকি—ভাবি এই শব্দটি ব্যবহার করব, নাকি ওই শব্দটি! এই ভাবনাটি স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও সেটাই এখন করতে হচ্ছে।’

দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সরাসরি হামলা চালিয়ে ভবনে আগুন দিয়েছে, তারা সম্ভবত ডেইলি স্টারের পাঠক নন।

‘তাহলে তারা কেন এটা করেছে?’ প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার ধারনা এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাদের রাজনৈতিক ও আর্থিক মোটিভেশন ছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্র, বহুমতের স্বীকৃতি ও ভিন্নমতকে সমর্থন করা উদার সাংবাদিকতার ঐতিহ্যকে বড় পরিসরে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যদি কোনো ভুল থাকে, সেটা বলতে পারেন, আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা—আমার মতে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

ডেইলি স্টার ভবনে হামলার রাতটিকে ‘চরম আতঙ্কের’ রাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের (ভবনে আটকে পড়া ডেইলি স্টারের কর্মীদের) নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আমি ফোনে নিউজরুমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলছিল, “মাহফুজ ভাই, হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।” তারা তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, বন্ধুদের ফোন করে বলছিল, হয়তো আর কখনো দেখা হবে না।’

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনেক মানুষ মত প্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে এই স্বাধীনতার ফল হিসেবে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মতোই এখানেও ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগও’ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেরও এক বাস্তবতা’ হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ ও হেয় প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। কিছু রাজনৈতিক দল আলাদা টিম গঠন করে এর ‘ভালোই সুযোগ নিয়েছে’।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে হঠাৎ করেই দেখবেন শত শত মানুষ আপনাকে গালি দিতে শুরু করবে। ভালো বললে শত শত মানুষ প্রশংসা করতে শুরু করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন রাজনৈতিক ব্যবহার এখন খুবই প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘(ডেইলি স্টার ভবনে হামলার) সেই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নজর রেখেছেন, তারা সবাই জানেন যে একজন ইনফ্লুয়েন্সার বলেছিলেন, “প্রথম আলো ডান, ডেইলি স্টারে চলে আসেন”।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। অনেক সময় আমাদের বক্তব্যকে একেবারে প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে। সবমিলিয়ে এটি ছিল খুবই সচেতন, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, বাংলাদেশের দুটি প্রভাবশালী মূলধারার গণমাধ্যমকে হেয় করার এক কার্যকর পদ্ধতি।’

গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ কীভাবে জনআস্থা ক্ষয় করেছে সেই বিষয়ে তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিকরা রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হয়েছেন—কেউ এই দলের সঙ্গে তো কেউ অপর দলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কল্পনা করুন, যে সাংবাদিকের কাজ সত্য বলা, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা দেখে সেই গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পত্রিকার পাঠক বা টেলিভিশনের দর্শকের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারণ, সাংবাদিক সমাজের ভেতরকার রাজনৈতিক বিভাজন।’

মাহফুজ আনাম বলেন, তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর জনগণ এখন চতুর্থটির দিকে এগোচ্ছে। এবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমন একটি ভোট দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক না কেন, তারা হাসিনার পতনের কারণটা মনে রাখবে। তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল তার সরকারের দমনমূলক চরিত্র এবং গণমাধ্যমের প্রতি তার সরকারের আচরণ।’

মাহফুজ আনাম আল জাজিরাকে বলেন, হাসিনা শাসনামলের শেষ ১৫ বছরকে ‘একটি কাজের মাধ্যমেই সংক্ষেপে বোঝানো যায়, আর সেটি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্নমতের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেই স্পষ্ট করে। সেখানে শাস্তির ২০টি বিধান ছিল, যার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। এটা করা হয়েছিল একটা ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরির জন্য। যার কারণে সমাজ পুরোপুরি চুপ হয়ে যায়।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার কাউকেই ছাড় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য পোস্ট করার জন্য গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে কার্টুনিস্ট ও শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকীয় কণ্ঠগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিচারিক হয়রানি পর্যন্ত করা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘হাসিনা আমার বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা করেছেন। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর ফলে আমাদের আয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যায়। আমার কোনো প্রতিবেদককেই কখনো প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করেছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে সহায়ক হবে।

সংগৃহীত ;

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম

আপডেট সময়- ০৩:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক ধরনের সর্বগ্রাসী আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্যতম ভিন্ন কিছু বললেও আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে।

আল জাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও বেশি। গণমাধ্যমের স্বাধীন চিন্তাভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। কিন্তু একইসঙ্গে সেই সর্বগ্রাসী আতঙ্কও রয়েছে—কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্য সরে গেলেই আমার ওপর হামলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, অনেক সময় আমরা শব্দচয়নেও খুব সতর্ক থাকি—ভাবি এই শব্দটি ব্যবহার করব, নাকি ওই শব্দটি! এই ভাবনাটি স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও সেটাই এখন করতে হচ্ছে।’

দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সরাসরি হামলা চালিয়ে ভবনে আগুন দিয়েছে, তারা সম্ভবত ডেইলি স্টারের পাঠক নন।

‘তাহলে তারা কেন এটা করেছে?’ প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার ধারনা এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাদের রাজনৈতিক ও আর্থিক মোটিভেশন ছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্র, বহুমতের স্বীকৃতি ও ভিন্নমতকে সমর্থন করা উদার সাংবাদিকতার ঐতিহ্যকে বড় পরিসরে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যদি কোনো ভুল থাকে, সেটা বলতে পারেন, আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা—আমার মতে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

ডেইলি স্টার ভবনে হামলার রাতটিকে ‘চরম আতঙ্কের’ রাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের (ভবনে আটকে পড়া ডেইলি স্টারের কর্মীদের) নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আমি ফোনে নিউজরুমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলছিল, “মাহফুজ ভাই, হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।” তারা তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, বন্ধুদের ফোন করে বলছিল, হয়তো আর কখনো দেখা হবে না।’

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনেক মানুষ মত প্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে এই স্বাধীনতার ফল হিসেবে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মতোই এখানেও ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগও’ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেরও এক বাস্তবতা’ হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ ও হেয় প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। কিছু রাজনৈতিক দল আলাদা টিম গঠন করে এর ‘ভালোই সুযোগ নিয়েছে’।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে হঠাৎ করেই দেখবেন শত শত মানুষ আপনাকে গালি দিতে শুরু করবে। ভালো বললে শত শত মানুষ প্রশংসা করতে শুরু করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন রাজনৈতিক ব্যবহার এখন খুবই প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘(ডেইলি স্টার ভবনে হামলার) সেই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নজর রেখেছেন, তারা সবাই জানেন যে একজন ইনফ্লুয়েন্সার বলেছিলেন, “প্রথম আলো ডান, ডেইলি স্টারে চলে আসেন”।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। অনেক সময় আমাদের বক্তব্যকে একেবারে প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে। সবমিলিয়ে এটি ছিল খুবই সচেতন, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, বাংলাদেশের দুটি প্রভাবশালী মূলধারার গণমাধ্যমকে হেয় করার এক কার্যকর পদ্ধতি।’

গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ কীভাবে জনআস্থা ক্ষয় করেছে সেই বিষয়ে তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিকরা রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হয়েছেন—কেউ এই দলের সঙ্গে তো কেউ অপর দলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কল্পনা করুন, যে সাংবাদিকের কাজ সত্য বলা, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা দেখে সেই গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পত্রিকার পাঠক বা টেলিভিশনের দর্শকের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারণ, সাংবাদিক সমাজের ভেতরকার রাজনৈতিক বিভাজন।’

মাহফুজ আনাম বলেন, তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর জনগণ এখন চতুর্থটির দিকে এগোচ্ছে। এবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমন একটি ভোট দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক না কেন, তারা হাসিনার পতনের কারণটা মনে রাখবে। তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল তার সরকারের দমনমূলক চরিত্র এবং গণমাধ্যমের প্রতি তার সরকারের আচরণ।’

মাহফুজ আনাম আল জাজিরাকে বলেন, হাসিনা শাসনামলের শেষ ১৫ বছরকে ‘একটি কাজের মাধ্যমেই সংক্ষেপে বোঝানো যায়, আর সেটি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্নমতের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেই স্পষ্ট করে। সেখানে শাস্তির ২০টি বিধান ছিল, যার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। এটা করা হয়েছিল একটা ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরির জন্য। যার কারণে সমাজ পুরোপুরি চুপ হয়ে যায়।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার কাউকেই ছাড় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য পোস্ট করার জন্য গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে কার্টুনিস্ট ও শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকীয় কণ্ঠগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিচারিক হয়রানি পর্যন্ত করা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘হাসিনা আমার বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা করেছেন। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর ফলে আমাদের আয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যায়। আমার কোনো প্রতিবেদককেই কখনো প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করেছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে সহায়ক হবে।

সংগৃহীত ;