এআই প্রযুক্তি শুধু নতুন সফটওয়্যার নয়; এটি অর্থনীতি-
- আপডেট সময়- ০৬:১০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

এআই বিপ্লবের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ: প্রস্তুতি কতদূর..?
সাদিয়া ইসলাম ইরা (কলামিস্ট) আয়ারল্যান্ড।।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়। বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে প্রযুক্তিটি দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প উৎপাদন, শিক্ষা, ব্যাংকিং, পরিবহন, গণমাধ্যম—সব খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। উন্নত দেশগুলো যেখানে নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে বড় বিনিয়োগ করছে, সেখানে বাংলাদেশও এ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এআই যুগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা বাস্তব?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এআই নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে, কিছু বাস্তব প্রয়োগও শুরু হয়েছে। কিন্তু সক্ষমতার ভিত্তি—ডেটা, গবেষণা, মানবসম্পদ ও নীতিগত কাঠামো—এখনো যথেষ্ট শক্ত নয়। ফলে এআই বিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিও বাড়ছে।
☞ নীতিগত প্রস্তুতি: উদ্যোগ আছে,
➤ সমন্বয় দুর্বল বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে এআইকে সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি সেবা ডিজিটাল করা, তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সাইবার নিরাপত্তা, স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনা—এসব জায়গায় এআই ব্যবহারের কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে। কিছু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ইনোভেশন প্রকল্প ও পরীক্ষামূলক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা হলো—এআইকে কেন্দ্র করে সমন্বিত কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার মান একরকম নয়। এআই বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—ডেটা—বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, মানসম্মত নয়, কিংবা ডিজিটাল আকারেই নেই।
এ ছাড়া সরকারি পর্যায়ে এআই ব্যবহারে একটি বড় প্রশ্ন হলো—দায়বদ্ধতা। কোনো এআই সিস্টেম ভুল সিদ্ধান্ত দিলে দায় কার? মানবিক যাচাইয়ের স্তর কোথায়? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর ছাড়া বড় আকারে এআই বাস্তবায়ন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
☞ শিক্ষা ও গবেষণা: আগ্রহ বাড়ছে,
➤ সক্ষমতা সীমিত বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স ও এআই নিয়ে পাঠদান হচ্ছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই শেখার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। অনলাইন কোর্স, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, ওপেন সোর্স কমিউনিটি ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনেকে দক্ষতা অর্জন করছেন। দেশের ভেতরেও বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্মেলন ও হ্যাকাথনে এআই-ভিত্তিক কাজ দেখা যাচ্ছে।
তবে গবেষণা পর্যায়ে বড় সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানের এআই গবেষণার জন্য প্রয়োজন—
• উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং (GPU/সার্ভার) সুবিধা
• পর্যাপ্ত গবেষণা অনুদান
• দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনা
• গবেষণা-শিল্পখাত সংযোগ
• মানসম্মত ডেটাসেট
বাংলাদেশে এসব উপাদান এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে বড় আকারের এআই মডেল তৈরি বা বিশ্বমানের গবেষণা প্রকাশে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
☞ শিল্পখাত: ব্যবহার বাড়ছে,
➤ কিন্তু নির্ভরতা বেশি বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, ফিনটেক, ই-কমার্স, টেলিকম, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও গ্রাহকসেবায় এআই-ভিত্তিক সমাধান দেখা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কাস্টমার সাপোর্টে চ্যাটবট ব্যবহার করছে। কেউ কেউ বিক্রয় পূর্বাভাস, গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ বা জালিয়াতি শনাক্তকরণে এআই ব্যবহার করছে।
কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতেও কিছু উদ্যোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কৃষিতে রোগ শনাক্তকরণ, ফলন পূর্বাভাস, আবহাওয়া বিশ্লেষণ বা কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় এআই নিয়ে কাজ হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে রোগ নির্ণয়ে সহায়ক টুল, মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ বা টেলিমেডিসিনে এআইয়ের ব্যবহার পরীক্ষামূলকভাবে দেখা যাচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো, এসব উদ্যোগের বড় অংশই বিদেশি প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্মনির্ভর। অর্থাৎ এআই মডেল, ক্লাউড অবকাঠামো, ডেটা প্রসেসিং টুল—অনেকটাই আন্তর্জাতিক কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল। এতে স্বল্পমেয়াদে কাজ এগোলেও দীর্ঘমেয়াদে দুটি সমস্যা দেখা দিতে পারে—
১) খরচ ও নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যায়
২) স্থানীয় ভাষা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি তৈরির গতি কমে
☞ ডেটা সংকট: এআই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা
➤ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের এআই প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ডেটা। উন্নত মানের এআই সিস্টেম তৈরির জন্য দরকার বিশাল পরিমাণ তথ্য—যা নির্ভরযোগ্য, পরিষ্কার (clean), শ্রেণিবদ্ধ (labeled) এবং আইনি অনুমতির মধ্যে ব্যবহারযোগ্য।
⇨ কিন্তু বাংলাদেশে—
• সরকারি ডেটা অনেক ক্ষেত্রে অডিজিটাল বা বিচ্ছিন্ন
• ডেটার মান ও আপডেট নিয়মিত নয়
• বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ডেটা ভাগাভাগি কাঠামো দুর্বল
• গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য উন্মুক্ত ডেটাসেট খুব সীমিত
এ ছাড়া ডেটা শেয়ারিং নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন হলো—ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা। কোনো ডেটাসেট তৈরি বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য যাতে অপব্যবহার না হয়, তার নিশ্চয়তা এখনো যথেষ্ট শক্ত নয়—এমন উদ্বেগও রয়েছে।
☞ বাংলা ভাষার এআই: বড় সম্ভাবনা, বড় ঘাটতি
➤ এআই প্রযুক্তির বড় অংশ এখন ভাষাভিত্তিক। চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ, তথ্য অনুসন্ধান—সবখানেই ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বাংলা ভাষার ব্যবহার ব্যাপক হলেও বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই প্রযুক্তি এখনও তুলনামূলক দুর্বল।
⇨ এর প্রধান কারণ—
• উচ্চমানের বাংলা ডেটাসেটের ঘাটতি
• আঞ্চলিক ভাষা ও উপভাষার বৈচিত্র্য
• বাংলা ভাষার টেক্সট ও অডিও ডেটা সংগ্রহের কাঠামোর অভাব
• গবেষণা ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ কম
ফলে বাংলায় নির্ভুল ভয়েস রিকগনিশন, উন্নত অনুবাদ, কিংবা প্রাসঙ্গিকতা বোঝে এমন চ্যাটবট তৈরিতে সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়—এটি ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির (digital inclusion) প্রশ্নও। কারণ বাংলা-সমর্থিত প্রযুক্তি দুর্বল হলে সাধারণ মানুষের কাছে এআই সুবিধা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
☞ মানবসম্পদ: আগ্রহ আছে, কিন্তু গভীর দক্ষতা কম
➤ বাংলাদেশের তরুণদের বড় অংশ প্রযুক্তি-আগ্রহী। আইটি খাতে ফ্রিল্যান্সিং ও সফটওয়্যার সেবায় বাংলাদেশের অবস্থানও দৃশ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে এআই ও ডেটা সায়েন্সে দক্ষতা অর্জনের প্রবণতা বাড়ছে। অনেক তরুণ আন্তর্জাতিক অনলাইন কোর্সে শিখছেন, কেউ কেউ ওপেন সোর্সে অবদান রাখছেন।
তবে শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী যে “উচ্চস্তরের দক্ষ জনবল” প্রয়োজন—তার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই খাতে শুধু প্রোগ্রামিং জানা যথেষ্ট নয়। দরকার—
• শক্তিশালী গণিত ও পরিসংখ্যান ভিত্তি
• ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা
• বড় স্কেলে মডেল ডিপ্লয় ও মেইনটেন করার অভিজ্ঞতা
• এআই নিরাপত্তা ও নৈতিকতা বোঝার সক্ষমতা
• বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রোডাক্ট থিংকিং
এই দক্ষতা তৈরি করতে সময় ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ দরকার। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ না থাকায় দক্ষ জনবল তৈরি হলেও অনেক সময় তাদের কাজের সুযোগ ও গবেষণার পরিবেশ তৈরি হয় না।
☞ নিরাপত্তা ও নৈতিকতা: নতুন ঝুঁকির বাস্তবতা
➤ এআই প্রযুক্তি যত দ্রুত ছড়াচ্ছে, তত দ্রুত বাড়ছে নতুন ধরনের ঝুঁকি। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে এআই-ভিত্তিক কিছু ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে বা সামনে আসতে পারে—
• ডিপফেক ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি
• স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুয়া খবর/ভুল তথ্য তৈরি
• অনলাইন প্রতারণা ও ভয়েস ক্লোনিং
• ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও অপব্যবহার
• অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতের কারণে বৈষম্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু আইন থাকলেই হবে না। দরকার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সচেতনতা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নীতিমালা। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের জন্যও এটি বড় চ্যালেঞ্জ—কারণ সত্য-মিথ্যা যাচাই আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
☞ কর্মসংস্থান: সুযোগও আছে, চাপও আসছে
➤ এআই নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। এআই একদিকে নতুন চাকরি তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে কিছু চাকরি কমিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো শ্রমঘন অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
⇨ বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে—
• কিছু রুটিন অফিস কাজ অটোমেটেড হতে পারে
• কল সেন্টার বা কাস্টমার সার্ভিসে পরিবর্তন আসতে পারে
• পোশাক ও উৎপাদন খাতে অটোমেশন বাড়তে পারে
• নতুন ধরনের চাকরি (ডেটা অ্যানালিস্ট, এআই ট্রেইনার, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি) তৈরি হতে পারে
কিন্তু সমস্যা হলো, নতুন চাকরির জন্য যে দক্ষতা দরকার, তা যদি দ্রুত তৈরি না হয়, তাহলে একটি “স্কিল গ্যাপ” তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ চাকরি থাকবে, কিন্তু উপযুক্ত লোক থাকবে না—এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
☞ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: বড় সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব
➤ সব সীমাবদ্ধতার পরও বাংলাদেশে এআইয়ের সম্ভাবনা কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের কয়েকটি খাতে এআই দ্রুত কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে—
• কৃষি: রোগ শনাক্তকরণ, আবহাওয়া বিশ্লেষণ, ফলন পূর্বাভাস
• স্বাস্থ্য: প্রাথমিক স্ক্রিনিং, রিপোর্ট বিশ্লেষণ, টেলিমেডিসিন সহায়তা
• শিল্প: মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন পরিকল্পনা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা
• ব্যাংকিং/ফিনটেক: জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ঝুঁকি বিশ্লেষণ
• শিক্ষা: ব্যক্তিকেন্দ্রিক শেখার সহায়তা, স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন
এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের ভেতরেই এআই সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। কারণ প্রযুক্তি শুধু ব্যবহার করলেই হয় না; দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ, নীতিগত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক লাভ ধরে রাখতে নিজস্ব সক্ষমতা জরুরি।
☞ সামনে কী করণীয়: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
➤ প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এআই প্রস্তুতি জোরদার করতে চাইলে কয়েকটি জায়গায় অগ্রাধিকার দিতে হবে—
⇨ ১) ডেটা অবকাঠামো ও মানদণ্ড
সরকারি-বেসরকারি ডেটা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের একক মানদণ্ড তৈরি, এবং গবেষণার জন্য নিরাপদভাবে ডেটা ব্যবহারের কাঠামো গড়ে তোলা।
⇨ ২) গবেষণা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে GPU/কম্পিউটিং সুবিধা, গবেষণা অনুদান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।
⇨ ৩) দক্ষ জনবল তৈরির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
শিক্ষাক্রম আধুনিক করা, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ বাড়ানো, এবং উন্নত প্রশিক্ষণ ও স্কলারশিপ চালু করা।
⇨ ৪) নৈতিকতা ও নিরাপত্তা কাঠামো
এআই-ভিত্তিক ভুল তথ্য, ডিপফেক, গোপনীয়তা ও বৈষম্য মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি।
⇨ ৫) দেশীয় ভাষা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট
বাংলা ভাষা ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই এআই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
☞ উপসংহার: প্রস্তুতি চলছে, কিন্তু গতি বাড়াতে হবে
➤ সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ এআই যুগে প্রবেশ করেছে। তরুণদের আগ্রহ, শিল্পখাতে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবং প্রযুক্তি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা—এসব ইতিবাচক দিক। কিন্তু ডেটা সংকট, গবেষণা সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি এবং নীতিগত সমন্বয়ের দুর্বলতা—এই চারটি জায়গায় বড় উন্নতি ছাড়া এআই বিপ্লবের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে।
এআই প্রযুক্তি শুধু নতুন সফটওয়্যার নয়; এটি অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সামাজিক কাঠামোর বড় রূপান্তর। বাংলাদেশ সেই রূপান্তরের পথে দাঁড়িয়ে আছে। এখন প্রশ্ন হলো—দেশ কত দ্রুত এবং কত পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে।

































































































































