সর্বশেষ:-
প্রচ্ছদ /
অর্থ ও বাণিজ্য, আইন আদালত, উপজেলা প্রশাসন, কুমারখালি, কুষ্টিয়া, খুলনা, গণমাধ্যম, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, দেশজুড়ে, নারী ও শিশু, বাংলাদেশ, ভেড়ামারা
কুষ্টিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের পর জ্বলেনি শহরের ২৬৬ সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতি

প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময়- ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫ ১৯০ বার পড়া হয়েছে

হৃদয় রায়হান,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়ক (এনএস রোড)। কুষ্টিয়া শহরে এসেছেন, কিন্তু এই সড়কের নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেই সড়কে ২৬৬টি সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতি ছিল গত বছরও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহিংসতায় ভাঙা পড়ে ১২টি সড়ক বাতি। এরপর বাকিগুলো খুলে ফেলে কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। একসময় আলো ঝলমলে শহরের স্বপ্নিল বাতিগুলো এখন পড়ে আছে পৌরসভার অন্ধকার গোডাউনে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পৌর বাসিন্দারা। এছাড়া শহরজুড়ে স্থাপিত সড়কের দুই পাশের সড়কবাতিগুলোও নিভে যাচ্ছে দিনের পর দিন। অনেক এলাকায় সড়কবাতি নষ্ট হওয়ার পর আর প্রতিস্থাপন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এমনকি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীও হিসাব দিতে পারেননি আদৌ সেসব সড়কবাতি প্রতিস্থাপিত হয়েছে কি না।
জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পৌরসভার একটি বড় প্যাকেজের অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয় সৌন্দর্যবর্ধক বাতিগুলো। তবে এগুলোর স্থাপন ব্যয় জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, কিছু সড়কবাতি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ায় নতুন বৈদ্যুতিক তার ক্রয়সহ ল্যাম্প স্থাপন বাবদ পৌরসভা থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের সেই ৩০ লাখ টাকা কোথায় কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলন সংগ্রামে সৌন্দর্যবর্ধক অনেকগুলো ল্যাম্পপোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাকিগুলোও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সবগুলো খুলে পৌরসভায় এনে রাখা হয়েছে। এখন বাতিগুলো ব্যবহার অনুপযোগী।
তিনি জানান, রাজশাহীর আদলে সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতি স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে। এজন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবও করা হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। তবে আদৌ অনুমোদন মিলবে কি না? আর মিললেও সেটি কবে হবে সে ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
কুষ্টিয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. জামিউল বলেন, ৫ আগস্টের পর পৌরসভার দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়ার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সাবেক পৌর প্রশাসক শারমিন আখতার স্যারের নির্দেশে সড়কবাতি গুলো খুলে রাখা হয়েছে।
পৌরসভার সড়কবাতি ও সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতি না জ্বলার বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পৌর নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু বলেন, সৌন্দর্যবর্ধক সড়কবাতি গুলো আগেই খুলে ফেলা হয়েছে। এখন বর্ষায় সড়কের পার্শ্ববর্তী বাতিগুলোও প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। আমরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার কথা বলেছি। উনারা দাবি করেছেন, সড়কের পার্শ্ববর্তী সড়কবাতি গুলো অকেজো হলেই প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার সর্বশেষ মেয়র ছিলেন আনোয়ার আলী। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার কুষ্টিয়া পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেন। বর্তমানে মো. মিজানুর রহমান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এসব বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভায় এই মুহূর্তে ৮ হাজার সড়কবাতি আছে। এগুলো নষ্ট হলেই প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে গত এক বছরে কী পরিমাণ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।
সৌন্দর্যবর্ধক বাতির বিষয়ে তিনি বলেন, আগেরগুলো পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। এখন নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি
নিউজটি শেয়ার করুন..
ট্যাগস:-

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ