সর্বশেষ:-
প্রচ্ছদ /
অর্থ ও বাণিজ্য, আইন আদালত, ইসলাম ও জীবন, উপজেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, দেশজুড়ে, নারী ও শিশু, বাংলাদেশ, রংপুর
ঈদের ছুটিতে গাইবান্ধায় তিন দিনে ৪ শতাধিক বিয়ে সম্পন্ন

প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময়- ০৫:০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ ২১ বার পড়া হয়েছে

ফেরদৌস আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
সুন্দরগঞ্জের মাঠে-ময়দানে এই যে এতগুলো মিষ্টি ছড়িয়ে পড়েছে, তা কিন্তু শুধু ঈদের মিষ্টি নয়—বরং ৩ দিনে ৪০০ বিয়ের সিন্ধুক ভেঙে বর-কনের মিষ্টিমুখের ফল্গুধারা! গাইবান্ধার এই অঞ্চলটি হঠাৎ করে পরিণত হয়েছে ‘বিয়ে এক্সপ্রেস’-এ, যেখানে মাইকের আওয়াজে “কাবিননামা সই করুন আগে, ভাত খাবেন পরে” ধ্বনিতে পুরো এলাকা মাতোয়ারা।
স্থানীয় এক প্যান্ডেল ব্যবসায়ী জানান, “গতকাল একই মাঠে তিনটি বিয়ে হলো। এক বরের দল যেতে না যেতেই আরেক বরের বারণ্ডিক্স আসছে। কনে দেখতে গিয়ে ভুল করে অন্য বরের গায়ে হলুদ লাগিয়ে দিয়েছে এক আত্মীয়!” এমন ভিড়ে কেউ কেউ তো শ্বশুরবাড়ি ঢুকতেই ভুল করে পাশের বাড়ির রান্নাঘরে চলে যাচ্ছেন—সেখানে ঝোল-ভাত খাওয়া হয়ে গেলে পরই টের পাচ্ছেন, “এটা তো আমার শ্বশুরবাড়ি না!”
এদিকে, স্থানীয় কাবিন রেজিস্ট্রার সাহেবের কলমে ধোঁয়া উঠেছে। তিনি বলেন, “আমি তো তিন দিন ধরে শুধু নাম-ঠিকানা লিখেই চলেছি। হাতের কবজিতে ব্যথা হয়ে গেছে! একজনের কাবিননামায় স্বামীর নাম লিখতে গিয়ে স্ত্রীর নাম লিখে ফেলেছি—এত জড়তা!”
বিয়ের বাড়ির মেনুতে পরিবর্তন এসেছে এবার। আগে গরুর মাংস-পোলাওয়ের আয়োজন থাকলেও, এখন সময় বাঁচাতে “ফাস্ট ফুড স্টাইল”-এ লুচি-আলুর দম কিংবা হালিম সরবরাহ করা হচ্ছে। এক অতিথি বলেন, “আগে বিয়েতে গেলে তিন বেলা খাওয়া যেত, এখন এক বিয়েতে খেলে পরের বিয়েতে জায়গা হয় না পেটে!”
স্থানীয় যুবক রবিন মিয়ার কথায়, “আমি তো তিন বিয়েতে বরযাত্রী হয়েছি। এক কনে আমাকে দেখে বলল, ‘আপনি আবার কনে চিনে ফেলবেন না!’ আসলে আমি তো ভুল বিয়েতেই গিয়ে বসেছিলাম!”
এত বিয়ের ভিড়ে সমস্যা হয়েছে ফটোগ্রাফারদেরও। এক ফটোগ্রাফার বলেন, “একই জায়গায় পাঁচ বিয়ের গ্রুপ ফটো তুলেছি। এখন ছবি এডিট করে আলাদা করতে হবে—নাহলে ফেসবুকে অ্যালবাম দিলে সবাই কমেন্টে লিখবে, ‘এটা তো আমার বিয়ের ছবি না!'”
সর্বোপরি, সুন্দরগঞ্জের এই ‘বিয়ে ম্যারাথন’ দেখে মনে হচ্ছে, এখানে প্রেম-ভালোবাসার চেয়ে “ডেট লাইন মিস করলে সারা বছর অপেক্ষা”—এই ফর্মুলাটাই বেশি কাজ করছে! যাই হোক, ঈদের আনন্দে সবাই মেতেছে, আর বিয়ের মিষ্টি খেয়ে ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়ানোর প্রতিযোগিতাও চলছে জোরেশোরে।