ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
নারায়ণগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা ও নারীসহ গ্রেপ্তার-৩ গাইবান্ধায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই আ’লীগ নেতা কুষ্টিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৫ একুশের প্রথম প্রহরে নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে ডিসি-এসপির শ্রদ্ধা শহীদদের স্মরণে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ভাষা শহীদদের প্রতি জিয়া পরিবারের শ্রদ্ধা নিবেদন এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওরে পুরোনো পরিবেশে ফিরে নিতে চায় মৌলভীবাজারের ৬০৩ টি বিদ্যালয়ে নেই কোন “শহিদ মিনার” দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন নারায়ণগঞ্জে র‍্যাব-ডিবি পরিচয়ধারী চাঁদাবাজ ‘সোর্স বাবু’ অস্ত্রসহ র‍্যাবের জালে দায়িত্ব নিয়েই মৌলভীবাজারে সফরে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক মৌলভীবাজারে র‍্যাব-৯’র অভিযানে হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত নারী আসামি গ্রেপ্তার  উখিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার রূপগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যাকান্ড; পিবিআই’র রহস্য উদ্ঘাটন, ১জনের মৃত্যুদণ্ড, অপর সহোদরের কারাদণ্ড টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ২ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার অচলাবস্থা, রোগীকেই কিনতে হচ্ছে গজ-ব্যান্ডেজ টেকনাফ সদর দম্বরী সৈকতে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার হিমাগারের অভাবে মৌলভীবাজারের কৃষকেরা বিপাকে কলেজে ঈদের ছুটি নিয়ে বড় সুখবর স্কুলে ঈদের ছুটি কবে? জানাল মাউশি সচিবালয়ে আজ প্রথম অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষাসহ ৫ দপ্তর নিজেই সামলাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আ’লীগের ৩ নেতার জামিন বুধবার চাঁদ দেখা গেলে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু প্রধানমন্ত্রীর পিএস-এপিএস-প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ পেলেন যারা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন ভোটার হওয়ার ৪৯ দিনের মাথায় সংসদ সদস্য ৫৩ দিনেই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম বিভাগ থেকেই ১০ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান কমলগঞ্জে পারিবারিক কলহে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহনন রাজনগরে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার এআই প্রযুক্তি শুধু নতুন সফটওয়্যার নয়; এটি অর্থনীতি- কুষ্টিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ-৩ গাইবান্ধায় যুবদল নেতার হাতের আঙুল বিচ্ছিন্নসহ দুই পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে আরাকান আর্মির হাতে আটক ৭৩ জেলের প্রত্যাবর্তন নিজ কর্মফলের প্রায়শ্চিত্ত করুন, রিজওয়ানার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক জুলকারনাইন আজ জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী নারায়ণগঞ্জে সেপটিক ট্যাংকে মিলল নারীর ক্ষতবিক্ষত অর্ধগলিত মরদেহ আজ পদত্যাগের পর দেশ ছাড়তে পারেন ২ উপদেষ্টা কুষ্টিয়ায় চার সংসদীয় আসনে ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত নবনির্বাচিত সরকারের শপথের পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ আটক-২ সম্ভাব্য দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল বঙ্গভবন নয়, নতুন সরকারের শপথ এবার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে  নির্বাচিত নতুন সরকারের শপথ মঙ্গলবার, ১৩ দেশের সরকারপ্রধান আমন্ত্রিত  ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, শেখ হাসিনাকে ফেরানোসহ যেসকল বিষয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন টেকনাফে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, অপহৃত কিশোর উদ্ধার দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের শরীফুল আলম গাইবান্ধায় জাপা’র ভরাডুবি: মহাসচিব শামীম হায়দারসহ ২৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি আজ পহেলা ফাগুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘ফাঁসির মঞ্চ’ থেকে ফিরে সংসদ সদস্য হলেন বাবর-পিন্টু-আজহার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তুড়ি দিয়ে চার হেভিওয়েট প্রার্থীদের উড়িয়ে এনসিপির জয় নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় ৫টি আসনের ৪টিতে বিএনপি, ১টিতে এনসিপির জয় রংপুরে জাতীয় পার্টির ধস, জয় মেলেনি একটি আসনেও বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী আমির খসরু কক্সবাজার-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারিয়ে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের জয় আজও মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, চলবে অন্যসকল বাহন সংসদ নির্বাচনে ৭ নারী প্রার্থীর বিশাল জয় ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২,আসনে বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নারায়ণগঞ্জ-৫, আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ নারায়ণগঞ্জ-৩, আসনে জামায়াতকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী আজহারুল ইসলাম মান্নান কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান পটুয়াখালী-৩, আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী নুরুল হক নূর ভোলা-১’ জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে ২য় বার জয়ী আন্দালিব রহমান পার্থ নারায়ণগঞ্জ-০১,বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী দিপু ভূঁইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম অবরুদ্ধ, লাঠিচার্জে বিএনপির মুন্সীগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক-৫ ভোটগ্রহণ শেষ, শুরু হয়েছে গণনা কুমিল্লা-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন দৌলতপুরে সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ গুলি উদ্ধার না’গঞ্জে ঝুঁকিপূর্ন বলে কোন কথা নেই, নিরাপত্তার চাদরে পুরো জেলা: জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাল ভোট দিলেই সাত বছরের কারাদণ্ড সারাদেশে মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে ৪ ধরনের যান চলাচল নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে করণীয় ও বর্জনীয় না’গঞ্জে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৩হাজার ফোর্স মাঠে থাকবে: ডিসি নির্বাচনকালীন বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে ২২ʼশ পুলিশ সদস্য  প্রচারণার শেষ দিনেও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন বিএনপি প্রার্থী শরিফুল ইসলাম গাইবান্ধায় ২১ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে ৪০ প্রার্থীর শেষ প্রতিশ্রুতি সারাদেশে ২৯৯ আসনে ব্যালট পেপার সরবরাহ সম্পন্ন পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান জাতীয় প্রেসক্লাবের টয়লেটে পড়েছিল সাংবাদিক আলী মাসুদের নিথর মরদেহ দেশজুড়ে নির্বাচনকালীন অপরাধ দমনে মাঠে নামছে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘আজ টেডি ডে’ প্রিয় মানুষকে টেডি উপহার দেওয়ার দিন কক্সবাজারে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় কুষ্টিয়ায় সাবলেট বাসা থেকে মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার মঙ্গলবার সকাল থেকে সকল ধরনের মিছিল-সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটির আওতায় বাইরে থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ‘ব্লেইম গেম’ এর সুযোগ নেই: চট্রগ্রাম ডিসি জাহিদুল ইসলাম ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়টি প্রত্যাহার করেছে ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় জানাল ইসি সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি চাকুরিজীবিরা ফের টানা ৪ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য‘ ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির দৃষ্টান্ত’: টিআইবি

সবার উপরে ‘মায়ের আঁচল’ তাহার উপরে নাই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৩:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪ ৪০৬ বার পড়া হয়েছে

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
তখন খুবই ছোট। হামাগুড়ি পর্ব শেষ করে হাঁটতে শুরু করেছি। হোঁচট খেতেই মা কোলে তুলে আঁচল দিয়ে চোট লাগা জায়গাটি মুছে দিতেন। যাতে ধুলো, বালি না থাকে। মা জোর কোরে দুধ,ভাত বা অন্যা খাবার মুখে তুলে দিতেন। খাবার মুখ থেকে গড়িয়ে পড়লে আঁচল দিয়ে মুছে দিতেন। আরো কত কি!!!
আজকাল মায়েদের আঁচল কোথায়? সালোয়ার কামিজ, জিন্সের প্যান্ট , বেলবটস আজ অতীতের সেই মায়ের মুখকে কেড়ে নিয়েছে। আঁচলে মায়ের মধ্যে যে হাসিটি ফুটে উঠতো,সেটি তো আজ ইতিহাস হয়ে পড়েছে। আঁচল কী তা আজকের বাচ্চারা জানে না , কারণ আজকাল মায়েরা আর শাড়ি পরে না। আঁচল অতীতের জিনিস।
আঁচলের কথা মনে এলেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায়। সেখানেই মা যেতেন আমি তার আঁচল ধরেই যেতাম। আচার অনুষ্ঠান, পুজা মন্ডপ, বিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও।
আঁচল মানেই মাতৃত্বের প্রকাশ।
আগে মায়ের আঁচল ছিল বহুমুখী। সেই আঁচলে ” একই অঙ্গে এতো রূপ, দেখিনা এখন”।
 তখন কতো কাজে লাগতো মায়ের এই আঁচল।
 উনুন থেকে গরম কোন পাত্র নামানোর সময় মা আঁচলটি ব্যবহার করতেন । কোন গরম প্যান,কেটলি ধরতেও আঁচলের খুব ব্যবহার হতো।
আঁচল ছিল এক অনন্য বস্তু । আঁচলের মহিমার উপরে লিখতে গেলে বোধ হয় একটা ছোটখাট বই লেখা হয়ে যাবে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের অনেক শিশুর সুখ স্মৃতি।
 মা আমার রোদে পোড়া মুখের,শরীরের ঘাম পুছে দিতেন। স্কুলের ক্লাস ছুটি না হওয়া পর্যন্ত মা স্কুলের কাছে কোন বাড়ির রোয়াকে অন্যান্য মায়েদের সঙ্গে বসে অপেক্ষা করতেন স্কুলের ঘণ্টা বাজা পর্যন্ত।
আমি বেরিয়ে আসতেই মা আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে, নাকের সর্দি মুছতে, নোংরা কান, মুখ পরিষ্কার করে দিতেন। তারপর বাড়ি থেকে আনা খাবারটি টিফিন বক্স থেকে বের করে খাইয়ে দিতেন। জল খাইয়ে দেবার পর আবার আঁচল দিয়ে মুখ মুছে দিতেন। ঠিক যেন একটা তোয়ালে। আঁচলকে তোয়ালে হিসাবে ব্যবহার করতেন। খাবার খেয়ে মায়ের আঁচলে মুখটা পরিষ্কার করিয়ে নেওয়াও ছিল আমাদের কাছে একটি খুশীর বিষয় ।
 কখনও কখনও, চোখের ব্যথার ক্ষেত্রে মা তার আঁচলকে গোল করে পাকিয়ে তাতে ফুঁ দিয়ে দিয়ে গরম করে চোখের উপর রাখতেন, সমস্ত ব্যথা তখন অদৃশ্য হয়ে যেত ।
 মায়ের কোলে ঘুমন্ত বাচ্চার জন্য কোলটি গদি এবং মায়ের আঁচল শরীরকে ঢাকার চাদর হিসাবে কাজ করত ।
 যখন খুব ছোট ছিলাম তখন কোনও অচেনা লোক বাড়ীতে আসত, আমি মায়ের আঁচলের একটি আড়াল নিয়ে তাকে দেখতাম। যখনই কোনও বিষয়ে লজ্জা বোধ করতাম, তখন ঐ আঁচল দিয়ে মুখটি ঢেকে রাখতাম এবং আঁচলের ভেতর লুকিয়ে পড়তাম ।
শুধু আমি কেন,সকল শিশুরাই এমনটি করতো। যখন বাচ্চারা মায়ের সাথে বাইরে যেত, তখন মায়ের আঁচল পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করত । যতক্ষণ শিশুটির হাত আঁচল ধরে থাকত পুরো জগৎ তার মুঠোয় থাকত ।
 শীতকালে প্রচন্ড কনকনে ঠান্ডায় মা তার আঁচল দিয়ে আমাকে ঢেকে রাখতেন,যাতে কোনমতেই যেন ঠান্ডা লাগতে না পারে। পাড়ায় কোন রাতের অনুষ্ঠান হলে মায়ের সঙ্গে যেতাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়তাম জানি না। মা সহত্নে আঁচল দিয়ে ঢেকে কোলে শুইয়ে দিতেন।
গ্রাম গঞ্জে গাছ থেকে পড়া আম, জাম, খেজুর এবং মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত ফুল কুড়িয়ে আনতেও ব্যবহৃত হত মায়ের এই আঁচল। সরস্বতী পূজার সময় খুব সকালে মাকে দেখেছি ঘাসের উপর ঝরে পড়া শিউলী ফুল অত্যন্ত সন্তর্পণে আঁচলে তুলে নিতে। আমাদের বাড়ির বারান্দার বাইরেই ছিল মস্তবড় দুটি শিউলী ফুলের গাছ। বাড়িতে প্রবেশের মুখে গেটের দুপাশেই লাগানো হয়েছিল গাছ দুটি। গেট খুলে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ফুলের বাগান। নুড়ি পাথরের ছোট্ট রাস্তা চলে গেছে বাড়ির সিড়ি পর্যন্ত। সিঁড়ির দুপাশে দুটো মস্তবড় গ্লান্ডিফ্লোরা গাছ।এই দুটি গাছের ডাল বাবা এনেছিলেন এক চা বাগানের ম্যানেজারের বাড়ি থেকে। কী সুন্দর ফুল হতো। সাদা বিশাল পাপড়ি মেলে ফুটে উঠতো ফুল।
মা শিউলী ফুল কুড়িয়ে এনে ঠাকুর ঘরে নিয়ে আসতেন। তার আগে মা সরস্বতীর আসন টি নিজের আঁচল দিয়েই পরিপাটি করে পুছে নিয়ে মূর্তিটি বসিয়ে ফুলের গোছা একটি তামার পাত্রে ঢেলে দিতেন। তারপর সেই শিউলী ফুলের মালা গেঁথে রাখতেন মা।
মায়ের আঁচলের গিঁটে বাধা থাকতো বাড়ির এক গোছা চাবি। আবার আঁচলেই ছিল মায়ের চলতি ফিরতি একটা ব্যাংক। কাউকে কিছু দিতে,কিছু কিনে আনতে মা ব্যাংকের গিঁট খুলে টাকা,পয়সা দিতেন। অনুষ্ঠান বাড়িতে গেলেও মায়ের এই আঁচলে ঘরের চাবি ও চলতি ফিরতি ব্যাংক থাকতো। মা ঠোঁট লাল করে পান খেয়ে অনুষ্ঠান বাড়ির কাজের মাসিকে এই ব্যাংক থেকে বকশিস দেবার সময় ছোট্ট আমি মায়ের নির্দেশে এই আঁচলের ব্যাংকের তালা খুলে দিতাম। মা গুনে গুনে টাকা বের করতেন। আজকের দিনের মায়েদের অবশ্য সেই দিন গুলো নেই। তারা সহজেই গর্ব বোধ করে জিন্সের প্যান্ট থেকে টাকা বের করতে পারেন।
কথায় কথায় একটা কাগজের টুকরো চেকে সই করে টাকা দিয়ে থাকেন আজকের মায়েরা।
আজকাল শুধু জিন্সের প্যান্টই নয়, মায়েরা পুরুষদের মতো ছোট চুল রাখছেন। শার্ট, হাফ প্যান্টও পড়ছেন।
 মায়ের আঁচল এক মায়াবী অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি পুরানো প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বদা আমার মায়ের ভালবাসা এবং স্নেহ অনুভব করি, যা আজকের প্রজন্মের সম্ভবত বোঝার বাইরে ।
বাবার সেই ধুতি কোথায়???
 আজকাল বাবাদের ধুতি পড়তে দেখাই যায় না। অনেকের বাবাকেও দেখছি আগের দিনের মায়ের মতো লম্বা চুল রাখতে। অনেক বাবাকে দেখা যাচ্ছে কানে দুল এবং হাতে বালা পড়তে।
শুধু কোন পূজা ও উৎসব উপলক্ষ্যে অথবা বিয়ে বাড়িতে সেই পুরোনো ঐতিহ্যমূলক কোঁচা দেয়া ধুতি পড়তে দেখা যায় বাবাদের। আর মায়েরা লাল পেড়ে শাড়ি পড়ে পুজা মণ্ডপ ও বিয়ে বাড়িতে গিয়ে থাকেন। অতীতের মায়েদের বিপরীতে এখানকার মায়েরা পুরুষের মতো ছোট চুল রাখছেন। সিঁথিতে নেই সিঁদুরের চিহ্ন। এ এক অদ্ভুত আজগুবি জীবন।
ছোট শিশুকে আজ আর মায়েরা আঁচল দিয়ে ঘিরে রাখেনা। নিজেরা দেখাশোনা না করে অনেকেই আয়ার হাতে ছেড়ে চলে যান। ফলে এই শিশুদের মনে মায়ের প্রতি তেমন অনুভূতিও জাগে না।
আগে মায়েরা আচার অনুষ্ঠান,উৎসবে গেলে অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিতেন, হাসি মস্করা করতেন। আজকের মায়েদের সেই সময় কোথায়!! হাতে সর্বক্ষণ চলছে মোবাইলে টিকটিক করা। হিয়ারিং এইড কানে দিয়ে কী যে বিড়বিড় করে চলেন,আবার হাসতে থাকেন তাতে অনভিজ্ঞ মানুষ পাগল বলেও ভাবতে পারেন।
মায়ের আঁচলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে সেদিনের মায়ের চাঁদের আলোয় মিষ্টি হাসিও। এটা ভেবেই বুঝি বিখ্যাত কিংবদন্তি গায়ক অখিল বন্ধু গেয়েছিলেন, ” মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে পড়ে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে”।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

সবার উপরে ‘মায়ের আঁচল’ তাহার উপরে নাই

আপডেট সময়- ০৩:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
তখন খুবই ছোট। হামাগুড়ি পর্ব শেষ করে হাঁটতে শুরু করেছি। হোঁচট খেতেই মা কোলে তুলে আঁচল দিয়ে চোট লাগা জায়গাটি মুছে দিতেন। যাতে ধুলো, বালি না থাকে। মা জোর কোরে দুধ,ভাত বা অন্যা খাবার মুখে তুলে দিতেন। খাবার মুখ থেকে গড়িয়ে পড়লে আঁচল দিয়ে মুছে দিতেন। আরো কত কি!!!
আজকাল মায়েদের আঁচল কোথায়? সালোয়ার কামিজ, জিন্সের প্যান্ট , বেলবটস আজ অতীতের সেই মায়ের মুখকে কেড়ে নিয়েছে। আঁচলে মায়ের মধ্যে যে হাসিটি ফুটে উঠতো,সেটি তো আজ ইতিহাস হয়ে পড়েছে। আঁচল কী তা আজকের বাচ্চারা জানে না , কারণ আজকাল মায়েরা আর শাড়ি পরে না। আঁচল অতীতের জিনিস।
আঁচলের কথা মনে এলেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায়। সেখানেই মা যেতেন আমি তার আঁচল ধরেই যেতাম। আচার অনুষ্ঠান, পুজা মন্ডপ, বিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও।
আঁচল মানেই মাতৃত্বের প্রকাশ।
আগে মায়ের আঁচল ছিল বহুমুখী। সেই আঁচলে ” একই অঙ্গে এতো রূপ, দেখিনা এখন”।
 তখন কতো কাজে লাগতো মায়ের এই আঁচল।
 উনুন থেকে গরম কোন পাত্র নামানোর সময় মা আঁচলটি ব্যবহার করতেন । কোন গরম প্যান,কেটলি ধরতেও আঁচলের খুব ব্যবহার হতো।
আঁচল ছিল এক অনন্য বস্তু । আঁচলের মহিমার উপরে লিখতে গেলে বোধ হয় একটা ছোটখাট বই লেখা হয়ে যাবে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের অনেক শিশুর সুখ স্মৃতি।
 মা আমার রোদে পোড়া মুখের,শরীরের ঘাম পুছে দিতেন। স্কুলের ক্লাস ছুটি না হওয়া পর্যন্ত মা স্কুলের কাছে কোন বাড়ির রোয়াকে অন্যান্য মায়েদের সঙ্গে বসে অপেক্ষা করতেন স্কুলের ঘণ্টা বাজা পর্যন্ত।
আমি বেরিয়ে আসতেই মা আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে, নাকের সর্দি মুছতে, নোংরা কান, মুখ পরিষ্কার করে দিতেন। তারপর বাড়ি থেকে আনা খাবারটি টিফিন বক্স থেকে বের করে খাইয়ে দিতেন। জল খাইয়ে দেবার পর আবার আঁচল দিয়ে মুখ মুছে দিতেন। ঠিক যেন একটা তোয়ালে। আঁচলকে তোয়ালে হিসাবে ব্যবহার করতেন। খাবার খেয়ে মায়ের আঁচলে মুখটা পরিষ্কার করিয়ে নেওয়াও ছিল আমাদের কাছে একটি খুশীর বিষয় ।
 কখনও কখনও, চোখের ব্যথার ক্ষেত্রে মা তার আঁচলকে গোল করে পাকিয়ে তাতে ফুঁ দিয়ে দিয়ে গরম করে চোখের উপর রাখতেন, সমস্ত ব্যথা তখন অদৃশ্য হয়ে যেত ।
 মায়ের কোলে ঘুমন্ত বাচ্চার জন্য কোলটি গদি এবং মায়ের আঁচল শরীরকে ঢাকার চাদর হিসাবে কাজ করত ।
 যখন খুব ছোট ছিলাম তখন কোনও অচেনা লোক বাড়ীতে আসত, আমি মায়ের আঁচলের একটি আড়াল নিয়ে তাকে দেখতাম। যখনই কোনও বিষয়ে লজ্জা বোধ করতাম, তখন ঐ আঁচল দিয়ে মুখটি ঢেকে রাখতাম এবং আঁচলের ভেতর লুকিয়ে পড়তাম ।
শুধু আমি কেন,সকল শিশুরাই এমনটি করতো। যখন বাচ্চারা মায়ের সাথে বাইরে যেত, তখন মায়ের আঁচল পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করত । যতক্ষণ শিশুটির হাত আঁচল ধরে থাকত পুরো জগৎ তার মুঠোয় থাকত ।
 শীতকালে প্রচন্ড কনকনে ঠান্ডায় মা তার আঁচল দিয়ে আমাকে ঢেকে রাখতেন,যাতে কোনমতেই যেন ঠান্ডা লাগতে না পারে। পাড়ায় কোন রাতের অনুষ্ঠান হলে মায়ের সঙ্গে যেতাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়তাম জানি না। মা সহত্নে আঁচল দিয়ে ঢেকে কোলে শুইয়ে দিতেন।
গ্রাম গঞ্জে গাছ থেকে পড়া আম, জাম, খেজুর এবং মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত ফুল কুড়িয়ে আনতেও ব্যবহৃত হত মায়ের এই আঁচল। সরস্বতী পূজার সময় খুব সকালে মাকে দেখেছি ঘাসের উপর ঝরে পড়া শিউলী ফুল অত্যন্ত সন্তর্পণে আঁচলে তুলে নিতে। আমাদের বাড়ির বারান্দার বাইরেই ছিল মস্তবড় দুটি শিউলী ফুলের গাছ। বাড়িতে প্রবেশের মুখে গেটের দুপাশেই লাগানো হয়েছিল গাছ দুটি। গেট খুলে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ফুলের বাগান। নুড়ি পাথরের ছোট্ট রাস্তা চলে গেছে বাড়ির সিড়ি পর্যন্ত। সিঁড়ির দুপাশে দুটো মস্তবড় গ্লান্ডিফ্লোরা গাছ।এই দুটি গাছের ডাল বাবা এনেছিলেন এক চা বাগানের ম্যানেজারের বাড়ি থেকে। কী সুন্দর ফুল হতো। সাদা বিশাল পাপড়ি মেলে ফুটে উঠতো ফুল।
মা শিউলী ফুল কুড়িয়ে এনে ঠাকুর ঘরে নিয়ে আসতেন। তার আগে মা সরস্বতীর আসন টি নিজের আঁচল দিয়েই পরিপাটি করে পুছে নিয়ে মূর্তিটি বসিয়ে ফুলের গোছা একটি তামার পাত্রে ঢেলে দিতেন। তারপর সেই শিউলী ফুলের মালা গেঁথে রাখতেন মা।
মায়ের আঁচলের গিঁটে বাধা থাকতো বাড়ির এক গোছা চাবি। আবার আঁচলেই ছিল মায়ের চলতি ফিরতি একটা ব্যাংক। কাউকে কিছু দিতে,কিছু কিনে আনতে মা ব্যাংকের গিঁট খুলে টাকা,পয়সা দিতেন। অনুষ্ঠান বাড়িতে গেলেও মায়ের এই আঁচলে ঘরের চাবি ও চলতি ফিরতি ব্যাংক থাকতো। মা ঠোঁট লাল করে পান খেয়ে অনুষ্ঠান বাড়ির কাজের মাসিকে এই ব্যাংক থেকে বকশিস দেবার সময় ছোট্ট আমি মায়ের নির্দেশে এই আঁচলের ব্যাংকের তালা খুলে দিতাম। মা গুনে গুনে টাকা বের করতেন। আজকের দিনের মায়েদের অবশ্য সেই দিন গুলো নেই। তারা সহজেই গর্ব বোধ করে জিন্সের প্যান্ট থেকে টাকা বের করতে পারেন।
কথায় কথায় একটা কাগজের টুকরো চেকে সই করে টাকা দিয়ে থাকেন আজকের মায়েরা।
আজকাল শুধু জিন্সের প্যান্টই নয়, মায়েরা পুরুষদের মতো ছোট চুল রাখছেন। শার্ট, হাফ প্যান্টও পড়ছেন।
 মায়ের আঁচল এক মায়াবী অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি পুরানো প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বদা আমার মায়ের ভালবাসা এবং স্নেহ অনুভব করি, যা আজকের প্রজন্মের সম্ভবত বোঝার বাইরে ।
বাবার সেই ধুতি কোথায়???
 আজকাল বাবাদের ধুতি পড়তে দেখাই যায় না। অনেকের বাবাকেও দেখছি আগের দিনের মায়ের মতো লম্বা চুল রাখতে। অনেক বাবাকে দেখা যাচ্ছে কানে দুল এবং হাতে বালা পড়তে।
শুধু কোন পূজা ও উৎসব উপলক্ষ্যে অথবা বিয়ে বাড়িতে সেই পুরোনো ঐতিহ্যমূলক কোঁচা দেয়া ধুতি পড়তে দেখা যায় বাবাদের। আর মায়েরা লাল পেড়ে শাড়ি পড়ে পুজা মণ্ডপ ও বিয়ে বাড়িতে গিয়ে থাকেন। অতীতের মায়েদের বিপরীতে এখানকার মায়েরা পুরুষের মতো ছোট চুল রাখছেন। সিঁথিতে নেই সিঁদুরের চিহ্ন। এ এক অদ্ভুত আজগুবি জীবন।
ছোট শিশুকে আজ আর মায়েরা আঁচল দিয়ে ঘিরে রাখেনা। নিজেরা দেখাশোনা না করে অনেকেই আয়ার হাতে ছেড়ে চলে যান। ফলে এই শিশুদের মনে মায়ের প্রতি তেমন অনুভূতিও জাগে না।
আগে মায়েরা আচার অনুষ্ঠান,উৎসবে গেলে অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিতেন, হাসি মস্করা করতেন। আজকের মায়েদের সেই সময় কোথায়!! হাতে সর্বক্ষণ চলছে মোবাইলে টিকটিক করা। হিয়ারিং এইড কানে দিয়ে কী যে বিড়বিড় করে চলেন,আবার হাসতে থাকেন তাতে অনভিজ্ঞ মানুষ পাগল বলেও ভাবতে পারেন।
মায়ের আঁচলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে সেদিনের মায়ের চাঁদের আলোয় মিষ্টি হাসিও। এটা ভেবেই বুঝি বিখ্যাত কিংবদন্তি গায়ক অখিল বন্ধু গেয়েছিলেন, ” মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে পড়ে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে”।