ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আবু আউয়াল বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে মালবাহী জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ-২২ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের  উদ্বোধন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রোটারি ক্লাব অব নারায়ণগঞ্জ মিডটাউন ইনস্টলেশন অনুষ্ঠিত ডিএমপির তেজগাঁও ও পল্টন থানার দুই ওসি প্রত্যাহার রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের শিশুসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যত বড় নেতা হোক ছাড় নয়: শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, ৩০ যাত্রীকে জানালা ভেঙে উদ্ধার এই প্রথম এক মন্ত্রণালয়ে ২ প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে দেশীয় মদসহ দুই মাদক কারবারি আটক নতুন ৪ মন্ত্রীসহ ২ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বুলবুল হত্যাকান্ড: সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ আটক-৯ এনবিআরে রদবদল, সিআইসির প্রথম নারী ডিজি সেলিনা সুলতানা না’গঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ প্রেমিক ও নিজ বাবার সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া না’গঞ্জের সিভিল সার্জন মুশিউর রহমানকে ওএসডি, নতুন দায়িত্বে ডা. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা খুন মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ডিসি রায়হান কবির শতবর্ষী বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী হাসান আলীর পাশে রূপগঞ্জের মানবিক ইউএনও আড়াইহাজারে পুকুরে ডুবে একসাথে ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের সাথে সাথেই এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এক শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার একযোগে ফের তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ আর নেই ‘এআই’ অটোফাইন সিস্টেম’ চালুর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-৪ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হারুন র‍্যাবের জালে টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ৭০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ আজ থেকে ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে চালু হচ্ছে নারীদের ‘পিংক বাস’ ফের বদলে গেলো এয়ারটেল, এবার ‘সার্কেল’ নামে নবযাত্রা দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে সাক্ষর চূড়ান্ত, কার বেতন কত বাড়ল শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড নারায়ণগঞ্জ জেলা নাজিরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন-মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত একটি কুচক্রী মহল ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে নতুন ‘এসআরবি’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন, থাকবে পুলিশের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু; ইউএনও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্কাউটসের উদ্যোগে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত কোটি টাকার প্রকল্পের মাঝেও পুড়ছে সেন্টমার্টিনের কেয়াবন ভারতীয় ভিসার নামে সারাদেশে স্লট বাণিজ্যের সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা  নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণকারী ৩ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ আটক-১১ মৌলভীবাজারের মাথিউরা চা বাগানে দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রূপগঞ্জে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত-১০, গ্রেপ্তার-১ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট ১ বছরের মধ্যে সমাধান সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত-১ আজ কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ আড়াইহাজারে অতিরিক্ত মদপানে দুই যুবকের করুন মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান: বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ, আটক-২ ফেনীর বহুল আলোচিত চার অপহরণ মামলার পলাতক আসামি টেকনাফে গ্রেপ্তার র‍্যাব পরিবর্তন করে এসআরবি: খসড়া আইনের মতামতে মিলছে না সাড়া ‘আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি’ ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য,নতুন রণতরি, হরমুজে টানা অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার কক্সবাজারে অপহরণ মামলায় কিশোরী ভিকটিম উদ্ধার, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মার ভাঙনে ৯৫০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন এসএসসি’তে শতভাগ ফেল করা, ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ হবিগঞ্জে গ্যাস সংকটে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু, বেশ কয়েকজন হতাহত পুলিশের ৫৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে দম্ভ দেখিয়ে মারধর করা আলোচিত ইউএনও’র শেষ রক্ষা হলো না, অবশেষে বদলি বসুন্ধরায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের ৫৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার প্রত্যেকেই নারায়ণগঞ্জের টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক মাদক নিয়ন্ত্রণে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান; আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউএনও ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে সমন্বিত নীতিমালা আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে মোট ৩টি মনোনয়নপত্র জমা: ইসি তীব্র গ্যাস সংকটে অচল ফিলিং স্টেশন-জনজীবন, বাসাবাড়িতে ভোগান্তি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) রফিকুল ইসলাম আর নেই মন্ত্রীদের রদবদল; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুলিশে ফের বড় রদবদল, ৩ জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ দিয়েছে সরকার  মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ৪৬০ অভিবাসী বাংলাদেশি ময়মনসিংহে তুচ্ছ ঘটনায় ইজারাদারের কর্মচারীকে পেটালেন ইউএনও, দেশজুড়ে তোলপাড়  রাত ৮টার মধ্যে সকল মার্কেট-শপিংমল বন্ধ দায়িত্ব নেয়ার মাত্র নয় মাসে ফের নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের বদলি না’গঞ্জে যানজট নিরসনে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ; দিনে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কক্সবাজারে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ কুলাউড়ায় ডিবির অভিযানে ১০ বোতল বিদেশি মদসহ যুবক গ্রেপ্তার সাভারে ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে গান পাউডারসহ ৯টি বিস্ফোরক উদ্ধার উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কক্সবাজারের কুখ্যাত ডাকাত চক্র ‘সাদ্দাম গ্রুপ’-এর সদস্য হামিদ আটক কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবককের মরদেহ হস্তান্তর আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র মানবিকতায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পেল ল্যাপটপ উপহার নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ স্ত্রী ও ছেলের পর স্বামী মাইদুলের মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে ৫ ইউনিয়ন নাসিক অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত, ‘বুধবার থেকে সাড়াশি অভিযান নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মী তানিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বামী: পিবিআই  নাফ নদীতে বিজিবির অভিযান, ৭০ হাজার ইয়াবাসহ নৌকা জব্দ নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ

কলকাতার স্বপ্নের জাদুকর ট্রাম তুলে দেওয়ার অশনি সংকেত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৭:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১৬ বার পড়া হয়েছে

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,
কলকাতা প্রতিনিধি।।
সারা বিশ্বে যতোই আধুনিকতার ছোঁয়াচ লাগুক না কেন, যতোই দ্রুতগামী যানবাহন, বুলেট ট্রেন, মনোরেল,স্পুটনিক, রকেট এসে সাড়া জাগিয়ে দিক না কেন, ভারতে ব্রিটিশের বপন করা ট্রাম যুগে যুগে বাঙালির স্বপ্নে, চলনে,ভাবনায় জড়িয়ে রয়েছে। প্রেম,ভালবাসা, আড্ডা, নিরাপদে যাত্রার একমাত্র সহায়ক ছিল এই ট্রাম।ট্রাম অনুভূতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে।
সেই স্কুল জীবনের শুরু থেকেই ট্রামে শুরু হয়েছে পথ চলা।
ট্রেনের সেই হো হুস শব্দ করে স্টার্ট করা , তারপর অংআং শব্দ করে গতি নেয়া একটা স্বপ্নের মতো মনে হয় আজও।
ট্রাম – সেকেন্ড ক্লাস কামরা । এটাতে কোনো পাখা নেই ।
ছোটবেলার বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ১ নম্বর , ২ নম্বর , ১১ নম্বর ট্রামে করে হিন্দু স্কুলে যাওয়ার স্মৃতিটা মনে পাকাপাকি ভাবে গেঁথে আছে ।অফিস টাইমে ওয়ান-ওয়ে হয়ে যাওয়া কলেজ স্ট্রীট ধরে সোজা স্কুলের গেট অবধি  পৌঁছে যাওয়ার  আর কোনো উপায়ই ছিল না । বাবা মাও নিশ্চিন্তে ট্রামে তুলে দিয়ে কাজে চলে যেতেন । জানতেন কন্ডাক্টর কাকু ঠিকই আমাদের সাবধানে নামিয়ে দেবেন । ফেরার সময়ও একই রুটিন । স্কুলের কোনো স্টাফ ট্রামে তুলে দিত ।  কোনো রাস্তা পার হতে হত না । বাস স্টপে নেমে এক ছুটে সোজা বাড়ি ।
অফিস টাইমে ভয়াবহ ভিড় হত সেই ট্রামে । আমরা অবশ্যই কোনো কাকুর কোলে বা জানলার ধারে । সৌজন্যে কন্ডাক্টর কাকু । সেই ট্রামের জানলা দিয়ে দেখতাম বেনারসী প্যালেস , সংস্কৃত বুক ডিপো , নজরুল ইসলাম এর ছবি  সহ অগ্নি বীণার মুরাল  ( ডি. এম. লাইব্রেরি ) , কখনো স্বামীজীর বাড়ির তলায় অধুনা লুপ্ত চাচার হোটেল থেকে প্রেমিকার রুমালে মুখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসছে কলেজ ফেরত প্রেমিক ।  আসল ফাউল কাটলেট পাওয়া যেত সে দোকানে । পুরু মুরগির ফিলে ভর্তি গোলাকার স্বর্গীয়  কাটলেট- থেকে একটা  হাড় সুকৌশলে বেরিয়ে আছে । সঙ্গে প্রমাণ সাইজের চাকা চাকা গোলাকৃতি একটুকরো করে পেঁয়াজ , টমেটো ও শসা । শ্রীমানি মার্কেটের উল্টো দিকে সেই চৌধুরী ওয়াচ কোম্পানির গাড়িবারান্দা ওলা বিশাল ঘড়ির দোকানটা, যার বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং এ চা বাগানে নিবিড় মনে  চা পাতা  বাছাতে ব্যস্ত এক রমণী কে দেখা যেত । একটি আধুনিক ঘড়ি তার হাতে শোভা পাচ্ছে । আর্য্য সমাজ , ব্রাহ্ম সমাজের বড় বড় বাড়িগুলো দেখতে দেখতে কখন যে স্কুলের গেটে পৌঁছে যেতাম খেয়ালই নেই । কন্ডাক্টর কাকু মৃদু প্রশ্রয় মিশ্রিত বকুনি দিয়ে নামিয়ে দিতেন । কখনো ফেরার সময় ওয়াই এম সি এর ক্যান্টিন থেকে ঘুগনি খেতে খেতেই ছুট । এপার থেকে চিৎকার করে ডাকলে গাড়ি দাঁড়িয়ে যেত । ড্রাইভার কাকু ধমক দিয়ে তুলে নিতেন । পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়েও বকুনি খেতে  হত মাঝে মাঝেই । ট্রামের ভেতরে একটা খাপ মত। তাতে একটা তারিখ লেখা কার্ড থাকত । সেটা বোধ হয় অল ডে পাস বা মান্থলি করার তারিখ । স্কুলের অনেক বন্ধু কেই দেখেছি পকেট থেকে একটা মান্থলি বের করে কন্ডাক্টর কাকু কে দেখিয়ে তার একধার থেকে দৈনিক একটা করে  কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দিতে  । সেই ট্রামে আবার মাঝে মাঝে চেকার উঠত । তার কাজ ছিল টিকিট টা দেখে আরেকটি পাঞ্চ করে ফেরত দেওয়া । দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরায় পাখা থাকত না । ভাড়াও একটু কম পড়ত যত দূর মনে পড়ে।
আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে জীর্ণ বিবর্ণ হয়েও  সেসবের কিছু কিছু আজও টিকে আছে ।  নেই শুধু চাচার হোটেল আর বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ছাড়া ট্রাম গুলো । স্বামীজীর বাড়িটা সংস্কার হওয়ার সময় উল্টো ফুটে স্থানান্তরিত হয়েছিল চাচার হোটেল। তারপর থেকে আর বিশেষ চলেনি বোধ হয় । শেষ বছর দুয়েক আগে সরস্বতী পুজোয় কাটলেট খেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল ঠিক ভালো চলছে না । তারপর তো বন্ধ ই দেখি । এদিকে বছর কয়েক আগে বেলগাছিয়া ব্রিজের ট্রাম লাইনের  কাজ শুরু হল । জানতাম লাইন সংস্কার হচ্ছে । কিন্তু তারপর তো আর  চালুই  হল না । আগেই বন্ধ হয়ে গেছিল গ্যালিফ স্ট্রীট  ট্রাম ডিপো । বেলাগাছিয়া ডিপোর ট্রাম চালু না হলে চির তরে হারিয়ে যাবে শ্যামবাজার থেকে শিয়ালদা গামী ট্রাম ।  ক্লাস সিক্স-সেভেন  নাগাদ একবার বর্ষা কালে বিধান সরণি তে ট্রাম বন্ধ হয়ে খুব মুশকিলে পড়েছিলাম । তখন ভরসা ছিল গ্যালিফ স্ট্রীট ডিপোর ১২/১৫ নম্বর । সে ট্রাম আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড হয়ে শিয়ালদা জগৎ সিনেমার সামনে থেকে বেঁকে কলেজ স্ট্রীট হয়ে হাওড়া ব্রিজের তলার ডিপোতে চলে যেত যতদূর মনে পড়ে ।
আবছা মনে পড়ে।  হয়ত হাওড়া ব্রিজের ওপর ট্রাম চলতে ও আমি দেখেছি । তখন স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে বোধ হয়। বিনুর স্বপ্নে দেখা মস্ত বিছের মত ট্রামের এলীগরী ভালোই অনুভূত হয়েছিল ।  কতদিন দেখেছি গ্যালিফ স্ট্রীট এ রোববারের  শখের বাজারের অসহ্য ভিড়ের মধ্যে ডিপো থেকে আধপথ বেরিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়  স্থাণু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মহাকালের মত একটি ট্রাম । ফ্যান্সি মার্কেট থেকে বেড়িয়ে ময়দানের ঘাস চিরে ছুটে গেছি ট্রামে করে ।বাগবাজার লকগেটের পাশের ডিপো টা বোধ হয় চালু ছিল কিছুদিন আগেও । বন্ধুরা মিলে ডিপোর পাশের গেট দিয়ে ঢুকে যেতাম লকগেটের কাছে । আড্ডা দিতে দিতে সূর্যাস্ত , যতক্ষণ না মশার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে উঠতে হচ্ছে । বেরিয়েই চলন্ত ট্রামে একলাফে উঠে পড়তাম দীর্ঘ পথশ্রমের খাটনি খানিকটা লাঘব করার ধান্দায় ।
পি সি সরকারের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে ট্রাম যেত শুনেছি গড়িয়া হাট ডিপো তে । জানিনা সে এখন চলে কিনা । সম্ভবত রবীন্দ্র সরণী বা অন্য কোনো বেশ প্রাচীন ট্রাম লাইনের ধার ঘেষে ল্যাম্প পোস্ট এর মত  ব্রিটিশ স্থাপত্যের তোরণ থাকত , যা থেকে  ট্রামের তার ঝুলে থাকত । আজকের মত পুরোপুরি ওভারহেড ইলেকট্রিক কেবলিং নয় সেটা  । পুরোনো লোহার সি টি সি র স্থায়ী ট্রাম স্টপেজ বোর্ড । লেখা – এখানে ট্রাম থামবে । ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কাছে অনেকদিন অবধি ছিল ট্রামের ঘোড়ার জল খাওয়ার জায়গা । সেটাই বোধ হয় এখন একটা বড় পানীয় জলের কলতলা আর মুক্ত স্নানাগার । এরকম অনেক জলের আধার শুনেছি রাস্তায় থাকত ঘোড়ায় চলা ট্রামের ধুলো ওড়া কমানোর জন্য আর ট্রাম লাইনকে মসৃন রাখার জন্য । নোনাপুকুরে ছিল ট্রাম কোম্পানির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র । পরবর্তী কালে খরচা কমানোর জন্য  কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই এর সাথে চুক্তি করার পর সে ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় ।
ট্রাম কোম্পানি ট্রাম কে বাঁচানোর , জনপ্রিয় করার অনেক চেষ্টা করছে ।  আগেকার মত দ্বিতীয় শ্রেণী বলে এখন আর কিছু নেই । একটি রঙিন ট্রাম খাদ্য পণ্যের বিপণনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে । ভাড়া লাগবে না ।  চড়ে বসলেই হল। সুন্দর শহরের বুকে এক টুকরো জয় রাইড হয়ে যাবে ।সঙ্গে মিলবে নানা রকমের মুখরোচক খাবার । আছে একটি নামি জামা কাপড়ের সংস্থার বিপণন ট্রাম । আস্ত একটা দু কামরার শপিং মল সেটি । শহর জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ছোট এক কামরার সুসজ্জিত শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাম । আছে গোটা দিন ট্রাম ভাড়া করে ঘোরার ব্যবস্থা । তখন মাধ্যমিক । রোববার করে মাঝে মাঝেই দেখতাম চিতপুর থেকে গ্রে স্ট্রীট ধরে ছুটে যাচ্ছে হেরিটেজ সফরের ট্রাম । বছর খানেক আগে একবার পুজোর সময় বোধ হয়, দেখেছিলাম বয়স্কদের পুজো ঘোরানোর জন্য বিশেষ ট্রাম । ধর্মতলায় ট্রাম ডিপোর একটি ট্র্যাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আছে ট্রাম জাদুঘর স্মরণিকা ।  পরিবেশ বান্ধব এই যান জড়িয়ে আছে শহরের প্রতিটি শিরায় ধমনীতে । শ্যামবাজার থেকে ট্রামে উঠে ধর্মতলা হয়ে এসপ্লেনেডে যেতাম। মনুমেন্ট এর পাশ দিয়ে হেঁটে শহরের শোভা দেখতে দেখতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে যেতাম। ফুচকা খেতে খেতে পার্কে ঘুরতাম। আবার ট্রামে চেপে ফিরে আসতাম শ্যামবাজারে। সেগুলো আজ সেলুলয়েডের মতো ভেসে ওঠে। বেঁচে থাকুক ট্রাম । বেঁচে থাকুক ভালোবাসা ।
পুনশ্চ : কয়েক বছর আগের লেখা । এর মধ্যে অনেক ট্রাম রুট বন্ধ হয়ে গেছে । শ্যামবাজার ডিপো থেকে ধর্মতলা গামী  ঐতিহ্যবাহী ৫ নম্বর ট্রাম ও মাঝে বন্ধ ছিল । আবার চালু হয়েছে ।পরিসেবা আগের মত নেই। অনেক দাঁড়ালে কদাচিৎ একটার দেখা মেলে। আর এখন তো শুনছি যাত্রী পরিবাহী ট্রামই নাকি আর থাকবে না। পুজো পরিক্রমার ট্রাম ও এবার আর চলবে না । তবুও চাইব । বেঁচে থাকুক ট্রাম ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

কলকাতার স্বপ্নের জাদুকর ট্রাম তুলে দেওয়ার অশনি সংকেত

আপডেট সময়- ০৭:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,
কলকাতা প্রতিনিধি।।
সারা বিশ্বে যতোই আধুনিকতার ছোঁয়াচ লাগুক না কেন, যতোই দ্রুতগামী যানবাহন, বুলেট ট্রেন, মনোরেল,স্পুটনিক, রকেট এসে সাড়া জাগিয়ে দিক না কেন, ভারতে ব্রিটিশের বপন করা ট্রাম যুগে যুগে বাঙালির স্বপ্নে, চলনে,ভাবনায় জড়িয়ে রয়েছে। প্রেম,ভালবাসা, আড্ডা, নিরাপদে যাত্রার একমাত্র সহায়ক ছিল এই ট্রাম।ট্রাম অনুভূতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে।
সেই স্কুল জীবনের শুরু থেকেই ট্রামে শুরু হয়েছে পথ চলা।
ট্রেনের সেই হো হুস শব্দ করে স্টার্ট করা , তারপর অংআং শব্দ করে গতি নেয়া একটা স্বপ্নের মতো মনে হয় আজও।
ট্রাম – সেকেন্ড ক্লাস কামরা । এটাতে কোনো পাখা নেই ।
ছোটবেলার বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ১ নম্বর , ২ নম্বর , ১১ নম্বর ট্রামে করে হিন্দু স্কুলে যাওয়ার স্মৃতিটা মনে পাকাপাকি ভাবে গেঁথে আছে ।অফিস টাইমে ওয়ান-ওয়ে হয়ে যাওয়া কলেজ স্ট্রীট ধরে সোজা স্কুলের গেট অবধি  পৌঁছে যাওয়ার  আর কোনো উপায়ই ছিল না । বাবা মাও নিশ্চিন্তে ট্রামে তুলে দিয়ে কাজে চলে যেতেন । জানতেন কন্ডাক্টর কাকু ঠিকই আমাদের সাবধানে নামিয়ে দেবেন । ফেরার সময়ও একই রুটিন । স্কুলের কোনো স্টাফ ট্রামে তুলে দিত ।  কোনো রাস্তা পার হতে হত না । বাস স্টপে নেমে এক ছুটে সোজা বাড়ি ।
অফিস টাইমে ভয়াবহ ভিড় হত সেই ট্রামে । আমরা অবশ্যই কোনো কাকুর কোলে বা জানলার ধারে । সৌজন্যে কন্ডাক্টর কাকু । সেই ট্রামের জানলা দিয়ে দেখতাম বেনারসী প্যালেস , সংস্কৃত বুক ডিপো , নজরুল ইসলাম এর ছবি  সহ অগ্নি বীণার মুরাল  ( ডি. এম. লাইব্রেরি ) , কখনো স্বামীজীর বাড়ির তলায় অধুনা লুপ্ত চাচার হোটেল থেকে প্রেমিকার রুমালে মুখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসছে কলেজ ফেরত প্রেমিক ।  আসল ফাউল কাটলেট পাওয়া যেত সে দোকানে । পুরু মুরগির ফিলে ভর্তি গোলাকার স্বর্গীয়  কাটলেট- থেকে একটা  হাড় সুকৌশলে বেরিয়ে আছে । সঙ্গে প্রমাণ সাইজের চাকা চাকা গোলাকৃতি একটুকরো করে পেঁয়াজ , টমেটো ও শসা । শ্রীমানি মার্কেটের উল্টো দিকে সেই চৌধুরী ওয়াচ কোম্পানির গাড়িবারান্দা ওলা বিশাল ঘড়ির দোকানটা, যার বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং এ চা বাগানে নিবিড় মনে  চা পাতা  বাছাতে ব্যস্ত এক রমণী কে দেখা যেত । একটি আধুনিক ঘড়ি তার হাতে শোভা পাচ্ছে । আর্য্য সমাজ , ব্রাহ্ম সমাজের বড় বড় বাড়িগুলো দেখতে দেখতে কখন যে স্কুলের গেটে পৌঁছে যেতাম খেয়ালই নেই । কন্ডাক্টর কাকু মৃদু প্রশ্রয় মিশ্রিত বকুনি দিয়ে নামিয়ে দিতেন । কখনো ফেরার সময় ওয়াই এম সি এর ক্যান্টিন থেকে ঘুগনি খেতে খেতেই ছুট । এপার থেকে চিৎকার করে ডাকলে গাড়ি দাঁড়িয়ে যেত । ড্রাইভার কাকু ধমক দিয়ে তুলে নিতেন । পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়েও বকুনি খেতে  হত মাঝে মাঝেই । ট্রামের ভেতরে একটা খাপ মত। তাতে একটা তারিখ লেখা কার্ড থাকত । সেটা বোধ হয় অল ডে পাস বা মান্থলি করার তারিখ । স্কুলের অনেক বন্ধু কেই দেখেছি পকেট থেকে একটা মান্থলি বের করে কন্ডাক্টর কাকু কে দেখিয়ে তার একধার থেকে দৈনিক একটা করে  কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দিতে  । সেই ট্রামে আবার মাঝে মাঝে চেকার উঠত । তার কাজ ছিল টিকিট টা দেখে আরেকটি পাঞ্চ করে ফেরত দেওয়া । দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরায় পাখা থাকত না । ভাড়াও একটু কম পড়ত যত দূর মনে পড়ে।
আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে জীর্ণ বিবর্ণ হয়েও  সেসবের কিছু কিছু আজও টিকে আছে ।  নেই শুধু চাচার হোটেল আর বেলাগাছিয়া ট্রাম ডিপো থেকে ছাড়া ট্রাম গুলো । স্বামীজীর বাড়িটা সংস্কার হওয়ার সময় উল্টো ফুটে স্থানান্তরিত হয়েছিল চাচার হোটেল। তারপর থেকে আর বিশেষ চলেনি বোধ হয় । শেষ বছর দুয়েক আগে সরস্বতী পুজোয় কাটলেট খেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল ঠিক ভালো চলছে না । তারপর তো বন্ধ ই দেখি । এদিকে বছর কয়েক আগে বেলগাছিয়া ব্রিজের ট্রাম লাইনের  কাজ শুরু হল । জানতাম লাইন সংস্কার হচ্ছে । কিন্তু তারপর তো আর  চালুই  হল না । আগেই বন্ধ হয়ে গেছিল গ্যালিফ স্ট্রীট  ট্রাম ডিপো । বেলাগাছিয়া ডিপোর ট্রাম চালু না হলে চির তরে হারিয়ে যাবে শ্যামবাজার থেকে শিয়ালদা গামী ট্রাম ।  ক্লাস সিক্স-সেভেন  নাগাদ একবার বর্ষা কালে বিধান সরণি তে ট্রাম বন্ধ হয়ে খুব মুশকিলে পড়েছিলাম । তখন ভরসা ছিল গ্যালিফ স্ট্রীট ডিপোর ১২/১৫ নম্বর । সে ট্রাম আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড হয়ে শিয়ালদা জগৎ সিনেমার সামনে থেকে বেঁকে কলেজ স্ট্রীট হয়ে হাওড়া ব্রিজের তলার ডিপোতে চলে যেত যতদূর মনে পড়ে ।
আবছা মনে পড়ে।  হয়ত হাওড়া ব্রিজের ওপর ট্রাম চলতে ও আমি দেখেছি । তখন স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে বোধ হয়। বিনুর স্বপ্নে দেখা মস্ত বিছের মত ট্রামের এলীগরী ভালোই অনুভূত হয়েছিল ।  কতদিন দেখেছি গ্যালিফ স্ট্রীট এ রোববারের  শখের বাজারের অসহ্য ভিড়ের মধ্যে ডিপো থেকে আধপথ বেরিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়  স্থাণু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মহাকালের মত একটি ট্রাম । ফ্যান্সি মার্কেট থেকে বেড়িয়ে ময়দানের ঘাস চিরে ছুটে গেছি ট্রামে করে ।বাগবাজার লকগেটের পাশের ডিপো টা বোধ হয় চালু ছিল কিছুদিন আগেও । বন্ধুরা মিলে ডিপোর পাশের গেট দিয়ে ঢুকে যেতাম লকগেটের কাছে । আড্ডা দিতে দিতে সূর্যাস্ত , যতক্ষণ না মশার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে উঠতে হচ্ছে । বেরিয়েই চলন্ত ট্রামে একলাফে উঠে পড়তাম দীর্ঘ পথশ্রমের খাটনি খানিকটা লাঘব করার ধান্দায় ।
পি সি সরকারের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে ট্রাম যেত শুনেছি গড়িয়া হাট ডিপো তে । জানিনা সে এখন চলে কিনা । সম্ভবত রবীন্দ্র সরণী বা অন্য কোনো বেশ প্রাচীন ট্রাম লাইনের ধার ঘেষে ল্যাম্প পোস্ট এর মত  ব্রিটিশ স্থাপত্যের তোরণ থাকত , যা থেকে  ট্রামের তার ঝুলে থাকত । আজকের মত পুরোপুরি ওভারহেড ইলেকট্রিক কেবলিং নয় সেটা  । পুরোনো লোহার সি টি সি র স্থায়ী ট্রাম স্টপেজ বোর্ড । লেখা – এখানে ট্রাম থামবে । ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কাছে অনেকদিন অবধি ছিল ট্রামের ঘোড়ার জল খাওয়ার জায়গা । সেটাই বোধ হয় এখন একটা বড় পানীয় জলের কলতলা আর মুক্ত স্নানাগার । এরকম অনেক জলের আধার শুনেছি রাস্তায় থাকত ঘোড়ায় চলা ট্রামের ধুলো ওড়া কমানোর জন্য আর ট্রাম লাইনকে মসৃন রাখার জন্য । নোনাপুকুরে ছিল ট্রাম কোম্পানির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র । পরবর্তী কালে খরচা কমানোর জন্য  কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই এর সাথে চুক্তি করার পর সে ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় ।
ট্রাম কোম্পানি ট্রাম কে বাঁচানোর , জনপ্রিয় করার অনেক চেষ্টা করছে ।  আগেকার মত দ্বিতীয় শ্রেণী বলে এখন আর কিছু নেই । একটি রঙিন ট্রাম খাদ্য পণ্যের বিপণনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে । ভাড়া লাগবে না ।  চড়ে বসলেই হল। সুন্দর শহরের বুকে এক টুকরো জয় রাইড হয়ে যাবে ।সঙ্গে মিলবে নানা রকমের মুখরোচক খাবার । আছে একটি নামি জামা কাপড়ের সংস্থার বিপণন ট্রাম । আস্ত একটা দু কামরার শপিং মল সেটি । শহর জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ছোট এক কামরার সুসজ্জিত শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাম । আছে গোটা দিন ট্রাম ভাড়া করে ঘোরার ব্যবস্থা । তখন মাধ্যমিক । রোববার করে মাঝে মাঝেই দেখতাম চিতপুর থেকে গ্রে স্ট্রীট ধরে ছুটে যাচ্ছে হেরিটেজ সফরের ট্রাম । বছর খানেক আগে একবার পুজোর সময় বোধ হয়, দেখেছিলাম বয়স্কদের পুজো ঘোরানোর জন্য বিশেষ ট্রাম । ধর্মতলায় ট্রাম ডিপোর একটি ট্র্যাকে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আছে ট্রাম জাদুঘর স্মরণিকা ।  পরিবেশ বান্ধব এই যান জড়িয়ে আছে শহরের প্রতিটি শিরায় ধমনীতে । শ্যামবাজার থেকে ট্রামে উঠে ধর্মতলা হয়ে এসপ্লেনেডে যেতাম। মনুমেন্ট এর পাশ দিয়ে হেঁটে শহরের শোভা দেখতে দেখতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে যেতাম। ফুচকা খেতে খেতে পার্কে ঘুরতাম। আবার ট্রামে চেপে ফিরে আসতাম শ্যামবাজারে। সেগুলো আজ সেলুলয়েডের মতো ভেসে ওঠে। বেঁচে থাকুক ট্রাম । বেঁচে থাকুক ভালোবাসা ।
পুনশ্চ : কয়েক বছর আগের লেখা । এর মধ্যে অনেক ট্রাম রুট বন্ধ হয়ে গেছে । শ্যামবাজার ডিপো থেকে ধর্মতলা গামী  ঐতিহ্যবাহী ৫ নম্বর ট্রাম ও মাঝে বন্ধ ছিল । আবার চালু হয়েছে ।পরিসেবা আগের মত নেই। অনেক দাঁড়ালে কদাচিৎ একটার দেখা মেলে। আর এখন তো শুনছি যাত্রী পরিবাহী ট্রামই নাকি আর থাকবে না। পুজো পরিক্রমার ট্রাম ও এবার আর চলবে না । তবুও চাইব । বেঁচে থাকুক ট্রাম ।