ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে প্রযুক্তিগত ত্রুটির জটিলতা কেটে গেছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম নির্বাচন-গণভোটে মোটরসাইকেল চলাচলে ৩ দিনের বিধি-নিষেধ আরোপ দৌলতপুরে বিজিবি’র অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক-১ অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ৮–১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’ টেকনাফে নির্বাচনকালীন আইনশৃংখলা বিষয়ক পূর্ব প্রস্তুতিমূলক বিজিবির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত আবারও ৩.০ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক-১৭৭৪ শুরু হলো রক্তে রাঙানো গৌরবময় ভাষার মাস নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়লেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, লিভ টু আপিলও খারিজ শ্রমিকদের শাটডাউন ও পুলিশের নিষেধাজ্ঞা; কঠোর অবস্থানে বন্দর কর্তৃপক্ষ মৌলভীবাজারে সর্বোচ্চ স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্পন্ন করেছে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আচরণবিধি বা নির্বাচনী আইনের সঙ্গে যায় না এমন কিছু সহ্য করব না: ডিসির হুশিয়ারী দেশের বাজারে কমলো সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ইসিতে অনলাইনে পর্যবেক্ষক কার্ড আবেদন, ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস নির্বাচনে না’গঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি-৬২ ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত দৌলতপুর সীমান্তে অস্ত্র পাচার বাড়ছে, নির্বাচনে বিরূপ প্রভাবের শঙ্কা টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণে ইয়াবাসহ আটক-১০ সিদ্ধিরগঞ্জে কোনো সন্ত্রাস-মাদক-চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের ঠাঁই হবে না: মান্নান গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ: ইসি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে, যা জানাল সরকার শেরপুরে এএসআইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ৫০তম বিসিএস’র প্রিলি আজ, পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৯০ হাজার  চা বাগান শ্রমিক ও শ্রামগঞ্জের মানুষের জানা নেই গনভোট কি?  শনিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর শাটডাউনের ঘোষণা শ্রমিকদের উখিয়া ও হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির টানা অভিযানে ৫৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দুটি বিওপি উদ্বোধন করলেন বিজিবি মহাপরিচালক শরীরে যেসব সমস্যার কারনে চোখের নিচে কালি পড়ে রাজধানীসহ তিন জেলায় বৃহস্পতিবার থেকে নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি  শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত , আহত অর্ধশতাধিক মৌলভীবাজারে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু-নারী ও বৃদ্ধসহ আহত-৫২ কুলাউড়ায় নদীর চর কেটে কোটি টাকার বালু বিক্রির অভিযোগ লীজ গ্রহীতার শীলখালীতে ইয়াবা পাচারকালে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ চালক আটক গাইবান্ধায় জামিনে বেরিয়েই বাদীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও হামলা, আহত-৭ সীমান্তে অনিশ্চয়তার ছায়া:  টেকনাফে দুই কিশোর আহত টেকনাফে প্রাইভেটকারে ইয়াবা পাচারকালে ২৬হাজার ৫’শ ইয়াবাসহ চালক আটক কক্সবাজারে ছয় লাখ ত্রিশ হাজার ইয়াবা ও দশ কেজি হিরোইনসহ আটক-২ গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির বিশেষ পরিপত্র জারি গাইবান্ধায় পোস্টাল ব্যালটের ৪৬ বাক্সে তালা, খোলা হবে ১২ই ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবাভাতা পদ্মা সেতুর টোল আদায় ৩ হাজার কোটি ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ শ্রীমঙ্গলে বিপুল পরিমান চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীসহ আটক-১ বেরিয়ে এলো সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয়সহ লোমহর্ষক হত্যা রহস্য উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গভীর রাতে আগুন, শতাধিক ঘর পুরে ছাই আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ ২ ভ্যানগার্ড বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ কুমিল্লায় আটক সকল মতভেদ ভূলে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মাসুদুজ্জামানের নারায়ণগঞ্জে ঔষধ প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড না’গঞ্জে র‍্যাবের পরিচয়ে ৮০ লাখ টাকা ছিনতাই; প্রধান আসামি বেল্লাল গ্রেপ্তার সিদ্ধিরগঞ্জে ১৭ভবনে ৫’শ ও রেড চিলি ক্যাটারিং’র সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ ১লক্ষ ৪৫ হাজার অর্থদন্ড নারায়ণগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাত সাব্বিরসহ ২ সহযোগী র‍্যাবের জালে সাভারে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ছয় মাসে নারী শিশুসহ পাঁচ বিভৎস মরদেহ উদ্ধার,আটক-১ রূপগঞ্জে রায়হান খুন; ডাকাতি ও দস্যুতার অর্থ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ফের গ্রেপ্তার-২ আসন্ন নির্বাচনে না’গঞ্জে ৪৫১ ভোটকেন্দ্র বডি অন ক্যামেরায় পর্যবেক্ষন করা হবে: এসপি নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ সমর্থকের ওপর হামলাসহ অর্থ লুটের অভিযোগ কুলাউড়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ উখিয়ার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ সিএনজি চালক আটক মহেশখালীতে যৌথ অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার গাইবান্ধায় ক্ষমতার পালাবদলে লাপাত্তা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন জুড়ে সেবা অচল সাহসী ও স্বাধীন সাংবাদিকতার লক্ষ্যে রাজধানীতে আজ নোয়াবের ‘গণমাধ্যম সম্মিলন’ রূপগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণে মাদকদ্রব্যসহ আটক-৩ রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবনে আগুন, নারীসহ নিহত-৩, আহত-১৩’র অধিক আজ পবিত্র শবে মেরাজ নারায়ণগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে হোসিয়ারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চালক-হেলপারসহ আটক-৩ অর্থ লেনদেনের জেরেই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড সংঘটিত: পিবিআই মায়ানমারে বিপুল পরিমাণে নিত্যপণ্য পাচারকালে আটক-১০ গাইবান্ধায় আপিল শুনানির পর প্রার্থীতা ফিরে পেলো ৮ জন কক্সবাজারে সাংবাদিক নেতা নুরুল হোসাইনকে গ্রেপ্তারে তীব্র নিন্দা বাংলাদেশ,পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট চট্টগ্রাম বন্দরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন ৯ ‘জুলাইযোদ্ধা’ ৩৬তম বিসিএস বাঞ্ছারামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু রাজধানীতে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা নারায়ণগঞ্জ জেল হাজতে কারাবন্দী আ’লীগ নেতার মৃত্যু কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ আগুন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ভোটের এক মাস পূর্বেই মাঠে পৌঁছাল গণভোটের ব্যালট নারায়ণগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় বাবুর্চিকে কুপিয়ে হত্যা সিস্টেমের ত্রুটিসহ ভালো দিকগুলো তুলে ধরে সাংবাদিকরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন: ডিসি মৌলভীবাজারে সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতি মামলায় ডিবির রিমান্ড আবেদন  টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে এক লাখ ইয়াবাসহ আটক-১ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ নতুন শিক্ষাবর্ষের ১১ দিন পার: এখনো ৩ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী বইয়ের সংকটে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়েতে লাগবে না ১ম স্ত্রীর পূর্বানুমতি: হাইকোর্ট জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলা; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম জামিন মুছাব্বির হত্যা: ১৫ লাখ টাকায় কিলিং মিশন,জড়িত ৩ সহোদর গণভোট ও সংসদ নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার কাজ করছে: ডিসি নান্দাইলে ৪ শতাধিক এতিম-অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কক্সবাজার সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের অভিযান: আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৯ ডাকাত আটক, নিহত-১ মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রান গেল স্কুলছাত্রীর নারায়ণগঞ্জে আকিজ সিমেন্ট কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ-৮ নারায়ণগঞ্জে যুবদল-ছাত্রদল সংঘর্ষ: আটকের পর মুচলেকায় মুক্তি নারায়ণগঞ্জে আধুনিক ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কৃষক নিহত কুষ্টিয়ায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চরম সংকট, বিপাকে রোগীরা কুলাউড়ায় র‍্যাবের অভিযানে অপহৃত স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, গ্রেপ্তার-১ মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ডাকাত সহযোগী আটক, দুই মাঝি উদ্ধার উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৩:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

 

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক ধরনের সর্বগ্রাসী আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্যতম ভিন্ন কিছু বললেও আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে।

আল জাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও বেশি। গণমাধ্যমের স্বাধীন চিন্তাভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। কিন্তু একইসঙ্গে সেই সর্বগ্রাসী আতঙ্কও রয়েছে—কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্য সরে গেলেই আমার ওপর হামলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, অনেক সময় আমরা শব্দচয়নেও খুব সতর্ক থাকি—ভাবি এই শব্দটি ব্যবহার করব, নাকি ওই শব্দটি! এই ভাবনাটি স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও সেটাই এখন করতে হচ্ছে।’

দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সরাসরি হামলা চালিয়ে ভবনে আগুন দিয়েছে, তারা সম্ভবত ডেইলি স্টারের পাঠক নন।

‘তাহলে তারা কেন এটা করেছে?’ প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার ধারনা এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাদের রাজনৈতিক ও আর্থিক মোটিভেশন ছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্র, বহুমতের স্বীকৃতি ও ভিন্নমতকে সমর্থন করা উদার সাংবাদিকতার ঐতিহ্যকে বড় পরিসরে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যদি কোনো ভুল থাকে, সেটা বলতে পারেন, আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা—আমার মতে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

ডেইলি স্টার ভবনে হামলার রাতটিকে ‘চরম আতঙ্কের’ রাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের (ভবনে আটকে পড়া ডেইলি স্টারের কর্মীদের) নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আমি ফোনে নিউজরুমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলছিল, “মাহফুজ ভাই, হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।” তারা তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, বন্ধুদের ফোন করে বলছিল, হয়তো আর কখনো দেখা হবে না।’

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনেক মানুষ মত প্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে এই স্বাধীনতার ফল হিসেবে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মতোই এখানেও ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগও’ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেরও এক বাস্তবতা’ হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ ও হেয় প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। কিছু রাজনৈতিক দল আলাদা টিম গঠন করে এর ‘ভালোই সুযোগ নিয়েছে’।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে হঠাৎ করেই দেখবেন শত শত মানুষ আপনাকে গালি দিতে শুরু করবে। ভালো বললে শত শত মানুষ প্রশংসা করতে শুরু করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন রাজনৈতিক ব্যবহার এখন খুবই প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘(ডেইলি স্টার ভবনে হামলার) সেই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নজর রেখেছেন, তারা সবাই জানেন যে একজন ইনফ্লুয়েন্সার বলেছিলেন, “প্রথম আলো ডান, ডেইলি স্টারে চলে আসেন”।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। অনেক সময় আমাদের বক্তব্যকে একেবারে প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে। সবমিলিয়ে এটি ছিল খুবই সচেতন, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, বাংলাদেশের দুটি প্রভাবশালী মূলধারার গণমাধ্যমকে হেয় করার এক কার্যকর পদ্ধতি।’

গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ কীভাবে জনআস্থা ক্ষয় করেছে সেই বিষয়ে তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিকরা রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হয়েছেন—কেউ এই দলের সঙ্গে তো কেউ অপর দলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কল্পনা করুন, যে সাংবাদিকের কাজ সত্য বলা, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা দেখে সেই গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পত্রিকার পাঠক বা টেলিভিশনের দর্শকের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারণ, সাংবাদিক সমাজের ভেতরকার রাজনৈতিক বিভাজন।’

মাহফুজ আনাম বলেন, তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর জনগণ এখন চতুর্থটির দিকে এগোচ্ছে। এবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমন একটি ভোট দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক না কেন, তারা হাসিনার পতনের কারণটা মনে রাখবে। তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল তার সরকারের দমনমূলক চরিত্র এবং গণমাধ্যমের প্রতি তার সরকারের আচরণ।’

মাহফুজ আনাম আল জাজিরাকে বলেন, হাসিনা শাসনামলের শেষ ১৫ বছরকে ‘একটি কাজের মাধ্যমেই সংক্ষেপে বোঝানো যায়, আর সেটি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্নমতের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেই স্পষ্ট করে। সেখানে শাস্তির ২০টি বিধান ছিল, যার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। এটা করা হয়েছিল একটা ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরির জন্য। যার কারণে সমাজ পুরোপুরি চুপ হয়ে যায়।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার কাউকেই ছাড় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য পোস্ট করার জন্য গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে কার্টুনিস্ট ও শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকীয় কণ্ঠগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিচারিক হয়রানি পর্যন্ত করা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘হাসিনা আমার বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা করেছেন। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর ফলে আমাদের আয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যায়। আমার কোনো প্রতিবেদককেই কখনো প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করেছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে সহায়ক হবে।

সংগৃহীত ;

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম

আপডেট সময়- ০৩:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক ধরনের সর্বগ্রাসী আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্যতম ভিন্ন কিছু বললেও আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে।

আল জাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও বেশি। গণমাধ্যমের স্বাধীন চিন্তাভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। কিন্তু একইসঙ্গে সেই সর্বগ্রাসী আতঙ্কও রয়েছে—কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্য সরে গেলেই আমার ওপর হামলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, অনেক সময় আমরা শব্দচয়নেও খুব সতর্ক থাকি—ভাবি এই শব্দটি ব্যবহার করব, নাকি ওই শব্দটি! এই ভাবনাটি স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও সেটাই এখন করতে হচ্ছে।’

দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সরাসরি হামলা চালিয়ে ভবনে আগুন দিয়েছে, তারা সম্ভবত ডেইলি স্টারের পাঠক নন।

‘তাহলে তারা কেন এটা করেছে?’ প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার ধারনা এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাদের রাজনৈতিক ও আর্থিক মোটিভেশন ছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্র, বহুমতের স্বীকৃতি ও ভিন্নমতকে সমর্থন করা উদার সাংবাদিকতার ঐতিহ্যকে বড় পরিসরে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যদি কোনো ভুল থাকে, সেটা বলতে পারেন, আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা—আমার মতে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

ডেইলি স্টার ভবনে হামলার রাতটিকে ‘চরম আতঙ্কের’ রাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের (ভবনে আটকে পড়া ডেইলি স্টারের কর্মীদের) নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আমি ফোনে নিউজরুমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলছিল, “মাহফুজ ভাই, হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।” তারা তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, বন্ধুদের ফোন করে বলছিল, হয়তো আর কখনো দেখা হবে না।’

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনেক মানুষ মত প্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে এই স্বাধীনতার ফল হিসেবে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মতোই এখানেও ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগও’ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেরও এক বাস্তবতা’ হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ ও হেয় প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। কিছু রাজনৈতিক দল আলাদা টিম গঠন করে এর ‘ভালোই সুযোগ নিয়েছে’।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে হঠাৎ করেই দেখবেন শত শত মানুষ আপনাকে গালি দিতে শুরু করবে। ভালো বললে শত শত মানুষ প্রশংসা করতে শুরু করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন রাজনৈতিক ব্যবহার এখন খুবই প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘(ডেইলি স্টার ভবনে হামলার) সেই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নজর রেখেছেন, তারা সবাই জানেন যে একজন ইনফ্লুয়েন্সার বলেছিলেন, “প্রথম আলো ডান, ডেইলি স্টারে চলে আসেন”।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। অনেক সময় আমাদের বক্তব্যকে একেবারে প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে। সবমিলিয়ে এটি ছিল খুবই সচেতন, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, বাংলাদেশের দুটি প্রভাবশালী মূলধারার গণমাধ্যমকে হেয় করার এক কার্যকর পদ্ধতি।’

গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ কীভাবে জনআস্থা ক্ষয় করেছে সেই বিষয়ে তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিকরা রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হয়েছেন—কেউ এই দলের সঙ্গে তো কেউ অপর দলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কল্পনা করুন, যে সাংবাদিকের কাজ সত্য বলা, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা দেখে সেই গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পত্রিকার পাঠক বা টেলিভিশনের দর্শকের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারণ, সাংবাদিক সমাজের ভেতরকার রাজনৈতিক বিভাজন।’

মাহফুজ আনাম বলেন, তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর জনগণ এখন চতুর্থটির দিকে এগোচ্ছে। এবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমন একটি ভোট দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক না কেন, তারা হাসিনার পতনের কারণটা মনে রাখবে। তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল তার সরকারের দমনমূলক চরিত্র এবং গণমাধ্যমের প্রতি তার সরকারের আচরণ।’

মাহফুজ আনাম আল জাজিরাকে বলেন, হাসিনা শাসনামলের শেষ ১৫ বছরকে ‘একটি কাজের মাধ্যমেই সংক্ষেপে বোঝানো যায়, আর সেটি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্নমতের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেই স্পষ্ট করে। সেখানে শাস্তির ২০টি বিধান ছিল, যার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। এটা করা হয়েছিল একটা ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরির জন্য। যার কারণে সমাজ পুরোপুরি চুপ হয়ে যায়।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার কাউকেই ছাড় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য পোস্ট করার জন্য গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে কার্টুনিস্ট ও শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকীয় কণ্ঠগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিচারিক হয়রানি পর্যন্ত করা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘হাসিনা আমার বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা করেছেন। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর ফলে আমাদের আয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যায়। আমার কোনো প্রতিবেদককেই কখনো প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করেছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে সহায়ক হবে।

সংগৃহীত ;