ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
অণ্ডকোষ চেপে চেকে সাক্ষর নেওয়া বিএনপি কর্মী লিটু গ্রেপ্তার পুলিশের ৬ ডিআইজিসহ ৯ কর্মকর্তাকে বদলি নারায়ণগঞ্জে ফের খুন, এবার ‘ছিনতাইকারী’ তকমা লাগিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মৌলভীবাজারে পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী মোতালেব কিলিং মিশনের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের হত্যাকান্ড: তোশকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে ১৩টি এয়ারগান গুলিসহ জব্দ হলেও তালিকা অস্পষ্ট জেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় জনগনের জন্য উন্মুক্ত, প্রতি বুধবার গণশুনানি: ডিসি ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করে বিক্রির অভিযোগে ওসি আব্দুল বারীকে প্রত্যাহার চাঁদা না দেয়ায় অপপ্রচারের শিকার, দাবি রূপগঞ্জ ইউএনও’র মৌলভীবাজারের নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা না’গঞ্জের প্রশাসনিক সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে নিকার সভা আগামীকাল না’গঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলেন সদর ইউএনও ঢাকার নতুন বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঞা এনবিআর’র নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আহসান হাবিব নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জে স্বামীকে নৃশংশভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এসিল্যান্ডসহ ৮ কর্মকর্তাকে শোকজ শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২১ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোবিপ্রবির শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি এ বছরই দেশে ফিরব; ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ তুরাগ নদী থেকে দুই দিনে ৩ লাশ উদ্ধার, ‘রহস্যের ধূম্রজাল’ জর্ডানকে ৩-১ হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য চালু ভারতের পর্যটন ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে কক্সবাজারে বিজিবির মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল ও চোলাই মদসহ আটক-১ মৌলভীবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের কুড়ালের আঘাতে বৃদ্ধ পিতার মৃত্যু আগামীকাল সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন টেকনাফে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ নারায়ণগঞ্জ আদালত চত্বরে চুরি যাওয়া প্রাইভেট কারটি উদ্ধার,আটক-৩ নারায়ণগঞ্জে ফের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি-১৩০ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ছবিসহ এনআইডি নবায়ন, ফি কত টাকা? কুষ্টিয়ায় কালী নদীতে ভাসছিল যুবকের মরদেহ  নারায়ণগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত-২০ মালয়েশিয়া ও চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা: সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে আবেদন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলে ক্ষুব্ধ ব্রাজিল, ফিফায় অভিযোগ নতুন পে-স্কেল: রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মীরা কী এই সুবিধা পাবেন? কুষ্টিয়ায় কর কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক-৪ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ দেশের ২২ জেলা ও দায়রা জজকে একযোগে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি মেসির জোড়া গোল,অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনা ফতুল্লায় পুলিশি অভিযানে বরপুত্র সিএ হাবিব মল্লিকের শ্বশুর সানাউল্লাহ্ গ্রেপ্তার না’গঞ্জ সদর উপজেলার ৬’শ শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামলো আজ নারায়ণগঞ্জে দূষণ কমাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলায় ফের সেনা মোতায়েন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে নারায়ণগঞ্জে এমপি পুত্র যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম আটক ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে শতভাগ সাফল্যের পথে ঢাকা জেলা প্রশাসন চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা পঞ্চবটী-পাগলা পুরাতন সড়কটি না’গঞ্জ সওজ’র আওতায় আনার নির্দেশ ডিসির বকশীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, চালকসহ নিহত-২ আজ বিশ্ব বাবা দিবস: ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সাংবাদিক রেজানুর গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফয়সাল গ্রেপ্তার হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল নারায়ণগঞ্জে বয়লার বিস্ফোরণে ১৫ শ্রমিক আহত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাব’ নিয়ে বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত, সেমিফাইনালে ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফুটবলের ছন্দের যাদুকর নেইমারকে নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিলো ব্রাজিল রোনালদোর পর পাঁচ বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড মেসির মেসির দুর্দন্ত হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বজয়ের অভিযান শুরু আর্জেন্টিনার এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুভসূচনা পুলিশের গাড়িবহরে হামলা: ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর, ওসিসহ আহত-৩০ সঠিক তথ্যের অভাবে মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি জমায়: ডিসি রায়হান কবির ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো পদ্মা-রেলসেতু সংযোগ পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটা নারায়ণগঞ্জে ৬০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬’শ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন কুষ্টিয়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৪ দিন পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ কক্সবাজারে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঢাকার পর এবার নারায়ণগঞ্জে মিললো গুলির খোসাসহ অত্যাধুনিক পেনগান ভেড়ামারায় আদালতের নির্দেশে কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশীর মরদেহ হস্তান্তর টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার প্রথমার্ধে পুরো মাঠে ছন্নছাড়া ব্রাজিল, সুশৃঙ্খল মরক্কোর ১-১ গোলে সমতা ১০ জেলার মানুষ আজ থেকে পাচ্ছে আইসিইউ না’গঞ্জে ফের আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর হামলা, এবার শিকার পুলিশ ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩ মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভিসির দায়িত্বে মাসুদুজ্জামান নাসিক বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার অকাল মৃত্যু টেকনাফে পুলিশের অভিযানে, ২৪ ঘন্টা মধ্যে ৫ অপহৃত উদ্ধার বাতিল হচ্ছে ৬ বিষয়ে অনার্স, যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কোর্স রূপগঞ্জে ওজু শেখানোর নামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করবে: মির্জা ফখরুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত মতিঝিলে দিনের আলোয় জনসম্মুখে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই শিশু রামিসা ধ/র্ষ/ণ-হ/ত্যা/য় ঘাতক দম্পতি সোহেল-স্বপ্নার মৃ/ত্যু/দণ্ড অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য নতুন নীতিমালা করছে সরকার লক্ষ্মীপুর জেলায় ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করে গেজেট প্রকাশ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে পরিচালক পদে জয় পেয়েছেন মাসুদুজ্জামান আজ ৭ই জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস বক্তাবলী-আলীরটেক’র মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর আহ্বান সদর ইউএনও’র বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে লড়ছেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান প্রিয় দল ব্রাজিলের শাড়িতে ‘হেক্সা’র বার্তা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিমি

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৩:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

 

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক ধরনের সর্বগ্রাসী আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্যতম ভিন্ন কিছু বললেও আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে।

আল জাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও বেশি। গণমাধ্যমের স্বাধীন চিন্তাভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। কিন্তু একইসঙ্গে সেই সর্বগ্রাসী আতঙ্কও রয়েছে—কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্য সরে গেলেই আমার ওপর হামলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, অনেক সময় আমরা শব্দচয়নেও খুব সতর্ক থাকি—ভাবি এই শব্দটি ব্যবহার করব, নাকি ওই শব্দটি! এই ভাবনাটি স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও সেটাই এখন করতে হচ্ছে।’

দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সরাসরি হামলা চালিয়ে ভবনে আগুন দিয়েছে, তারা সম্ভবত ডেইলি স্টারের পাঠক নন।

‘তাহলে তারা কেন এটা করেছে?’ প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার ধারনা এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাদের রাজনৈতিক ও আর্থিক মোটিভেশন ছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্র, বহুমতের স্বীকৃতি ও ভিন্নমতকে সমর্থন করা উদার সাংবাদিকতার ঐতিহ্যকে বড় পরিসরে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যদি কোনো ভুল থাকে, সেটা বলতে পারেন, আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা—আমার মতে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

ডেইলি স্টার ভবনে হামলার রাতটিকে ‘চরম আতঙ্কের’ রাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের (ভবনে আটকে পড়া ডেইলি স্টারের কর্মীদের) নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আমি ফোনে নিউজরুমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলছিল, “মাহফুজ ভাই, হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।” তারা তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, বন্ধুদের ফোন করে বলছিল, হয়তো আর কখনো দেখা হবে না।’

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনেক মানুষ মত প্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে এই স্বাধীনতার ফল হিসেবে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মতোই এখানেও ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগও’ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেরও এক বাস্তবতা’ হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ ও হেয় প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। কিছু রাজনৈতিক দল আলাদা টিম গঠন করে এর ‘ভালোই সুযোগ নিয়েছে’।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে হঠাৎ করেই দেখবেন শত শত মানুষ আপনাকে গালি দিতে শুরু করবে। ভালো বললে শত শত মানুষ প্রশংসা করতে শুরু করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন রাজনৈতিক ব্যবহার এখন খুবই প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘(ডেইলি স্টার ভবনে হামলার) সেই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নজর রেখেছেন, তারা সবাই জানেন যে একজন ইনফ্লুয়েন্সার বলেছিলেন, “প্রথম আলো ডান, ডেইলি স্টারে চলে আসেন”।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। অনেক সময় আমাদের বক্তব্যকে একেবারে প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে। সবমিলিয়ে এটি ছিল খুবই সচেতন, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, বাংলাদেশের দুটি প্রভাবশালী মূলধারার গণমাধ্যমকে হেয় করার এক কার্যকর পদ্ধতি।’

গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ কীভাবে জনআস্থা ক্ষয় করেছে সেই বিষয়ে তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিকরা রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হয়েছেন—কেউ এই দলের সঙ্গে তো কেউ অপর দলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কল্পনা করুন, যে সাংবাদিকের কাজ সত্য বলা, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা দেখে সেই গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পত্রিকার পাঠক বা টেলিভিশনের দর্শকের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারণ, সাংবাদিক সমাজের ভেতরকার রাজনৈতিক বিভাজন।’

মাহফুজ আনাম বলেন, তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর জনগণ এখন চতুর্থটির দিকে এগোচ্ছে। এবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমন একটি ভোট দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক না কেন, তারা হাসিনার পতনের কারণটা মনে রাখবে। তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল তার সরকারের দমনমূলক চরিত্র এবং গণমাধ্যমের প্রতি তার সরকারের আচরণ।’

মাহফুজ আনাম আল জাজিরাকে বলেন, হাসিনা শাসনামলের শেষ ১৫ বছরকে ‘একটি কাজের মাধ্যমেই সংক্ষেপে বোঝানো যায়, আর সেটি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্নমতের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেই স্পষ্ট করে। সেখানে শাস্তির ২০টি বিধান ছিল, যার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। এটা করা হয়েছিল একটা ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরির জন্য। যার কারণে সমাজ পুরোপুরি চুপ হয়ে যায়।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার কাউকেই ছাড় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য পোস্ট করার জন্য গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে কার্টুনিস্ট ও শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকীয় কণ্ঠগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিচারিক হয়রানি পর্যন্ত করা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘হাসিনা আমার বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা করেছেন। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর ফলে আমাদের আয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যায়। আমার কোনো প্রতিবেদককেই কখনো প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করেছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে সহায়ক হবে।

সংগৃহীত ;

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম

আপডেট সময়- ০৩:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক ধরনের সর্বগ্রাসী আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্যতম ভিন্ন কিছু বললেও আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কাজ করছে।

আল জাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও বেশি। গণমাধ্যমের স্বাধীন চিন্তাভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। কিন্তু একইসঙ্গে সেই সর্বগ্রাসী আতঙ্কও রয়েছে—কোনো গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া মনোভাব থেকে সামান্য সরে গেলেই আমার ওপর হামলা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, অনেক সময় আমরা শব্দচয়নেও খুব সতর্ক থাকি—ভাবি এই শব্দটি ব্যবহার করব, নাকি ওই শব্দটি! এই ভাবনাটি স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও সেটাই এখন করতে হচ্ছে।’

দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সরাসরি হামলা চালিয়ে ভবনে আগুন দিয়েছে, তারা সম্ভবত ডেইলি স্টারের পাঠক নন।

‘তাহলে তারা কেন এটা করেছে?’ প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার ধারনা এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাদের রাজনৈতিক ও আর্থিক মোটিভেশন ছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্র, বহুমতের স্বীকৃতি ও ভিন্নমতকে সমর্থন করা উদার সাংবাদিকতার ঐতিহ্যকে বড় পরিসরে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যদি কোনো ভুল থাকে, সেটা বলতে পারেন, আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা—আমার মতে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

ডেইলি স্টার ভবনে হামলার রাতটিকে ‘চরম আতঙ্কের’ রাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের (ভবনে আটকে পড়া ডেইলি স্টারের কর্মীদের) নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আমি ফোনে নিউজরুমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলছিল, “মাহফুজ ভাই, হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।” তারা তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, বন্ধুদের ফোন করে বলছিল, হয়তো আর কখনো দেখা হবে না।’

মাহফুজ আনাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনেক মানুষ মত প্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে এই স্বাধীনতার ফল হিসেবে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মতোই এখানেও ‘বিপুল পরিমাণ ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগও’ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেরও এক বাস্তবতা’ হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ ও হেয় প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। কিছু রাজনৈতিক দল আলাদা টিম গঠন করে এর ‘ভালোই সুযোগ নিয়েছে’।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে হঠাৎ করেই দেখবেন শত শত মানুষ আপনাকে গালি দিতে শুরু করবে। ভালো বললে শত শত মানুষ প্রশংসা করতে শুরু করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন রাজনৈতিক ব্যবহার এখন খুবই প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘(ডেইলি স্টার ভবনে হামলার) সেই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নজর রেখেছেন, তারা সবাই জানেন যে একজন ইনফ্লুয়েন্সার বলেছিলেন, “প্রথম আলো ডান, ডেইলি স্টারে চলে আসেন”।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। অনেক সময় আমাদের বক্তব্যকে একেবারে প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে। সবমিলিয়ে এটি ছিল খুবই সচেতন, অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, বাংলাদেশের দুটি প্রভাবশালী মূলধারার গণমাধ্যমকে হেয় করার এক কার্যকর পদ্ধতি।’

গণমাধ্যমের রাজনীতিকরণ কীভাবে জনআস্থা ক্ষয় করেছে সেই বিষয়ে তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে সাংবাদিকরা রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হয়েছেন—কেউ এই দলের সঙ্গে তো কেউ অপর দলের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কল্পনা করুন, যে সাংবাদিকের কাজ সত্য বলা, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এটা দেখে সেই গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পত্রিকার পাঠক বা টেলিভিশনের দর্শকের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারণ, সাংবাদিক সমাজের ভেতরকার রাজনৈতিক বিভাজন।’

মাহফুজ আনাম বলেন, তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর জনগণ এখন চতুর্থটির দিকে এগোচ্ছে। এবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এমন একটি ভোট দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক না কেন, তারা হাসিনার পতনের কারণটা মনে রাখবে। তার পতনের অন্যতম কারণ ছিল তার সরকারের দমনমূলক চরিত্র এবং গণমাধ্যমের প্রতি তার সরকারের আচরণ।’

মাহফুজ আনাম আল জাজিরাকে বলেন, হাসিনা শাসনামলের শেষ ১৫ বছরকে ‘একটি কাজের মাধ্যমেই সংক্ষেপে বোঝানো যায়, আর সেটি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্নমতের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেই স্পষ্ট করে। সেখানে শাস্তির ২০টি বিধান ছিল, যার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। এটা করা হয়েছিল একটা ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরির জন্য। যার কারণে সমাজ পুরোপুরি চুপ হয়ে যায়।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার কাউকেই ছাড় দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য পোস্ট করার জন্য গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে কার্টুনিস্ট ও শিক্ষকদের গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকীয় কণ্ঠগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিচারিক হয়রানি পর্যন্ত করা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘হাসিনা আমার বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা করেছেন। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর ফলে আমাদের আয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমে যায়। আমার কোনো প্রতিবেদককেই কখনো প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠান কাভার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আক্রমণ করেছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে সহায়ক হবে।

সংগৃহীত ;