নিকলী এসিল্যান্ডের প্রতিহিংসার বলি সাংবাদিক আলী জামসেদ
- আপডেট সময়- ১০:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
এসিল্যান্ডের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবশেষে আদালত থেকে সসম্মানে মুক্তি।
নিকলীতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক আলী জামসেদ। অভিযোগ উঠেছে, নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিককে বেআইনিভাবে আটক, হেনস্তা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। তবে সকল নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাংবাদিক আলী জামসেদকে সসম্মানে মুক্তি প্রদান করেছেন।
সূত্র জানায়, এসিল্যান্ড প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে প্রকাশিত দুর্নীতিবিষয়ক সাহসী প্রতিবেদনেই ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিককে হয়রানি করা হয়। গতকাল ১২ মার্চ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সাংবাদিক আলী জামসেদ নিকলী বাজার এলাকায় একটি দোকানে বসে থাকাকালে রাস্তার পাশে পার্ক করা একটি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর অভিযোগ তুলে তাকে আটক করেন এসিল্যান্ড।
সাংবাদিক বারবার দাবি করেন, উক্ত মোটরসাইকেলটি তার নয়। কিন্তু কোনো কথা না শুনে এসিল্যান্ড ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক আটক করে রাখেন। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা তাকে আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটির মালিকানা স্বীকার করানোর জন্য সাংবাদিকের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়। মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে নানা ধরনের হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
বিকেল ৫টার পর নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারকে বৈধতা দিতে এসিল্যান্ড নতুন নাটক সাজান। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘অশোভন আচরণ’-এর ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তাকে নিকলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ তাকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করে।
মামলার নথিপত্র ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আদালত সাংবাদিক আলী জামসেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে না পাওয়ায় তাকে নিঃশর্ত মুক্তির আদেশ দেন। আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—একজন সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
একজন কলম সৈনিকের ওপর প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন নগ্ন প্রতিহিংসার ঘটনায় নিকলীর সচেতন সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এসিল্যান্ড প্রতীক দত্তের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক আচরণের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ




































































































