সর্বশেষ:-
প্রচ্ছদ /
অর্থ ও বাণিজ্য, আইন আদালত, আবহাওয়া ও জলবায়ু, উপজেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম, ক্যাম্পাস নিউজ, গাইবান্ধা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক), দেশজুড়ে, নারী ও শিশু, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ, রংপুর, শিক্ষাঙ্গন
গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতি মামলায় ডিবির রিমান্ড আবেদন
প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময়- ০৫:১৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধা প্রতিনিধি।।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনায় গাইবান্ধায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটকের পর এখন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বিস্তৃত একটি চক্রের নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা করছে। তদন্তকারীরা আদালতে একাধিক আসামির রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিনটি থানায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাশবাড়ীতে তিনটি, সদরে একটি এবং ফুলছড়িতে একটি মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৫৫ জন, যার মধ্যে তিনজন পলাতক রয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে একটি পরিকল্পিত চক্রের অস্তিত্বের তথ্য। এই চক্র আগে থেকে পরীক্ষার্থীদের সাথে চুক্তি করে, ডিভাইস সরবরাহ করে, পরীক্ষার হলে বসে প্রশ্ন বাইরে পাঠায় এবং বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ দ্বারা সমাধান করে রিয়েল-টাইমে উত্তর ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো অপকর্মটি পরিচালনায় একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ নিশ্চিত করেছেন যে, মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তদন্তের মাধ্যমে মূল হোতাদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে।
গাইবান্ধা সদর থানার মামলায় ৪০ জন আসামির মধ্যে ২৬ জন পুরুষ আসামির জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। নারী আসামি এবং শিশুসন্তান রয়েছে এমন কারো বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। পলাশবাড়ী থানার তিনটি পৃথক মামলায় ১২ আসামির মধ্যে ৯ জনের ৭ দিনের এবং বাকি ৩ জনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা ডিবির ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম জানান, তদন্তে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সংঘবদ্ধ চক্রটি কীভাবে কাজ করত, তার কাঠামো উঠে আসছে। পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধায় নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতির এটা প্রথম ঘটনা নয়। গত বছর ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একই রকম অভিযোগে র্যাব ৩৮ জনকে আটক করেছিল। সে বারও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান মিলেছিল, যারা মাস্টার কার্ড, ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করত। চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার্থী সংগ্রহ, ডিভাইস সরবরাহ ও বাইরে থেকে প্রশ্নের সমাধান দিয়ে সহায়তা করত বলে দাবি করা হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষায়ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রবেশের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর একই কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ পরীক্ষায়ও এক নারী পরীক্ষার্থীকে ডিভাইসসহ আটক করা হয়েছিল।
নিউজটি শেয়ার করুন..
ট্যাগস:-

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ



































































































