‘নির্বাচনে ভিলেন না হিরো সিদ্ধান্ত আপনার’,.।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে বন্দর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী প্রার্থীদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, “যে প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন, তার একটু কাজে লাগাতে পারলে শুধু বন্দর কেন, বাংলাদেশের যেকোনো উপজেলার চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে। যিনি জয়ী হন না কেন, এগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করবেন। যারা পরাজিত হবেন, তারাও জনপ্রতিনিধি; কারণ তারাও মানুষের ভোট পাবেন। তার মানে সমাজের একটা অংশ আপনাদের পছন্দ করে। সবাইকে নিয়ে কাজ করলে বন্দর উপজেলা আরও উন্নত হবে।
২৪-এর বিপ্লবের পর জাতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট যদি সুন্দরভাবে শেষ করতে পারি, জনগণের চাহিদা আলোকে সরকার গঠিত হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক যে ধারা ব্যাহত হয়েছিল; গত ১৫ বছর যে দুঃশাসনের ভেতরে ছিলাম সেখান থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারব। যদি একটা ভুল আচরণে আবার সেই একই দুঃশাসনে ফিরে যাই, তবে ক্ষতি হবে। আশা করব, আপনারা গণতন্ত্রের সারথি হিসেবে কেউ এটা চাইবেন না। তাই কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে পারবেন না।
ডিসি আরও বলেন, “প্রত্যেকটা মানুষ, নাগরিক, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সমান। প্রত্যেকটা জায়গায়, অঞ্চলে প্রচারণার অধিকার আছে, বাধা দেওয়া যাবে না। আপনার লক্ষ্যমাত্রা ও উদ্দেশ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। জনগণ যাকে ভালো মনে করবে, তাকে বেছে নেবে। কিন্তু আরেকজনের ক্ষতি করে কিছু করতে পারবেন না। আরেকজনের মান-সম্মানের ক্ষতি হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসে এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না। একই জায়গায় জনসভা বরদাস্ত করা হবে না। জনসভার জন্য কিছু জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। রাস্তা আটকে জনগণের চলাচলে ভোগান্তি হয় এমন জায়গায় নির্বাচনী সমাবেশ করা যাবে না। সরকারি জায়গায় নির্বাচনী ক্যাম্প করা যাবে না। পাঁচ আসনে এখন পর্যন্ত ভালো আছে। এই দায়িত্বশীল আচরণ যেন স্থায়ী থাকে।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডিসি বলেন, “নির্বাচনের দিন ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো, জাল ভোট, কেন্দ্র দখলের চিন্তা থাকলে দয়া করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সামান্যতম কোনো আইনশৃঙ্খলা, আচরণবিধি বা নির্বাচনী আইনের সঙ্গে যায় না এমন কিছু সহ্য করব না। এ নির্বাচনে আপনাদের যেমন দায়, আমাদেরও তেমন দায়। জাতি হিসেবে সঠিক নির্বাচন আমাদের করতে হবে, যেন পরবর্তী প্রজন্ম বলতে পারে—২০২৬-এর নির্বাচন আমাদের রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা, ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করবেন না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আপনারা সহায়তা করবেন। যানবাহন নিয়ে শোডাউন, মশাল মিছিল করা যাবে না। প্রতিপক্ষের ওপর কোনো হামলা আমরা সহ্য করব না। কোনো ধরনের সহিংসতা মেনে নেব না।নির্বাচনী মাঠে সবাইকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সকলকে বৈধ প্রচারণায় সহায়তা করব। সভায় পুলিশি নিরাপত্তা দরকার হলে দেওয়া হবে। প্রার্থী সবাই সমান নির্বাচন পর্যন্ত আমরা আপনাদের প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করব। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন হয় জ্ঞান, তথ্য, প্রতিশ্রুতি ও ভালো কাজনির্ভর; কাউকে ছোট করা, হেয় করা বা চরিত্র হননের মাধ্যমে নয়। ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে আপনার ভোট নষ্ট হবে, বাড়বে না। সুতরাং এই বিষয়গুলো আপনারা মাথায় রাখবেন।





































































































