ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
২৫ মার্চ সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দ্রুত সৌদি আরব ছাড়তে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ রাজধানীর বনানীতে তিনতলা থেকে ফেলে গৃহকর্মীকে হত্যা ঈদ উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও সজাগ দৃষ্টি রাখবে: জেলা প্রশাসক টেকনাফে কোস্টগার্ড-র‍্যাবের যৌথ অভিযানে নারী ও শিশুসহ ৩২ জন উদ্ধার কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্য নিহত সিদ্ধিগঞ্জে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারী নিহত, ব্যবহৃত হোন্ডা জ্বালিয়ে দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারায়ণগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযান কুষ্টিয়ায় ‘ইবি’ শিক্ষিকা রুনা হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মানববন্ধন শীলখালী চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক-১ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ ৯ মাদক পাচারকারী আটক ফের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক হলেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জের ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় জুড়ীর হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে অভুতপূর্ব সাফল্যে কৃষকের স্বস্তি  ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জে আবারও গ্যাস বিস্ফোরণ, আহত-৩ ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি আগামী রোববার থেকে যে পদ্ধতিতে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল গাইবান্ধায় অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে এসে ‘অবরুদ্ধ’ বিএডিসি প্রকৌশলী কক্সবাজারে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক গাইবান্ধায় চাঁদা না পেয়ে কারখানায় হামলা, বিএনপির তিন নেতা গ্রেপ্তার নাফ নদীর তীরবর্তী কেওড়া বাগান থেকে অস্ত্র সহ গোলাবারুদ উদ্ধার ঈদে বাড়তি ভাড়া নিলেই রুট পারমিট বাতিল: পরিবহন মন্ত্রী ইবির শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ অবশেষে জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর নির্বাহী আদেশে ১৮ মার্চ থেকে ছুটি ঘোষণা, এবার ঈদের ছুটি ৭ দিন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন; তিন কর্মকর্তার বদলি, ভূমি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ অসত্য অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন এডিআইজি আপেল মাহমুদ খুলনায় শ্রমিকদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা, আটক-১ বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধির শঙ্কা ইরানের ‘সুইসাইড ড্রোনে’ চরম চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন বাহিনী  ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি দিচ্ছে না ভারত বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের ভূমি অফিসের বারান্দায় বসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী, অফিস তখনো খোলেনি শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির আদেশ চলতি ২০২৫-২৬ করবছরে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ৪০ লাখের বেশি করদাতা: এনবিআর ফের দেশের ৬ জেলায় পুলিশে এসপি পদে রদবদল চিকিৎসায় অবহেলায় চার রোগীর মৃত্যু: ১০ চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত নারায়ণগঞ্জে আসন্ন মহাঅষ্টমী পূণ্যস্নান ঘিরে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা মৌলভীবাজারে ১১০ বস্তা ভারতীয় জিরাসহ আটক-১ কুষ্টিয়ায় ছুরিকাঘাতে ইবি সহকারী অধ্যাপক নিহত টেকনাফে কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে সাড়ে ৭ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ, আটক-১ ইনানীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তায় মৌলভীবাজারের পথে-প্রান্তরে ফুটেছে চিরচেনা বুনোফুল ‘ভাট’ কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর টয়লেট ট্যাংক থেকে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম, হুইপ আরও ৬ জন মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আহত-৭ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হলেন ৩ সাংবাদিক দৌলতপুরে বোমা সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ মৌলভীবাজারে ১৬ টাকার লেবু ৮০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে ছয় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুবাইতে মৌলভীবাজারের আলী নিহত ইরানের বিরুদ্ধে এবার যুদ্ধে জড়াচ্ছে ফ্রান্স-জার্মানি ও যুক্তরাজ্য খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের সঙ্গে যারা যোগ দিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪ ডিসিকে বদলি একযোগে ৫ জেলার ডিসি প্রত্যাহার সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের অভিযান: ১৫ মানবপাচারকারী আটক, নারী-শিশুসহ উদ্ধার-১৫৩ উখিয়া ব্যাটালিয়ন-৬৪ বিজিবি’র ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: মাদক-চোরাচালান দমনে অভূতপূর্ব সাফল্য উপবৃত্তির প্রলোভনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল: অধ্যক্ষ রঞ্জু কারাগারে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমান ভারতীয় চকলেট বাজিসহ মদ উদ্ধার তিথি-আলভীর পরকীয়ার গুঞ্জন-অভিনেতার স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কি রহস্য? সুরক্ষিত ভবনে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে কীভাবে হত্যা করা হলো? খামেনিকে হত্যা, ইতিহাসের সর্বোচ্চ ধ্বংসাত্মক হামলার ঘোষণা ইরানের আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ ইরান, প্রতিশোধের ঘোষণা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছাড়লেন ড. ইউনূস পুলিশি পাহারা সত্ত্বেও স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাসায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ার নারায়ণগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নার্স নিহত আত্মহত্যার আগে ফেসবুক পোস্টে যা বলেছিল আলভীর স্ত্রী ইকরা নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতন দাবিতে সড়ক অবরোধ, পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত-১০ উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে মালিকবিহীন ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার ফের নতুন যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো আইভীকে ঈশ্বরদীতে জোড়া খুন, বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে নাতনির মরদেহ উদ্ধার ঈদে এবার লম্বা ছুটি পাবেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার ও কর্মচারীরা পুলিশের ‘১০ হাজার’ কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, এসএসসি পাশেই আবেদন সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে ফের রদবদল শঙ্কা কাটিয়ে অবশেষে পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার মব সহিংসতার শঙ্কায় বাসভবন ছাড়ছেন না সাবেক উপদেষ্টারা আইপি টিভি ও অনলাইন পোর্টাল নীতিমালার আওতায় আনা হবে: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত আইজিপির শ্রদ্ধা কক্সবাজারের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন মঞ্জুর পাঁচ মামলায় জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী কক্সবাজারে এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ-১৬, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফের মৃদু ভুমিকম্প অনুভুত আগামী ৯ এপ্রিল ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর, শহীদ সেনা দিবস আজ এবার সদকা তুল ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিন্ম ১১০টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান প্রায় দেড় বছর পর আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস ফের চালু সোনারগাঁয়ে অবৈধ ছাপাখানায় অভিযান, বিপুলসংখ্যক গাইড বইসহ মেশিন জব্দ গাইবান্ধায় নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে টর্চার সেল, রোগীকে গ্রিলে ঝুলিয়ে পিটুনির অভিযোগ টেকনাফে কোস্ট গার্ডে অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ পুলিশের নতুন আইজিপি হলেন আলী হোসেন ফকির

শাহ্জাহানের তাজমহলের বড় চ্যালেঞ্জ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৭:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪ ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের পর দিল্লির তাজমহল দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল। অসামান্য সেই স্মৃতি সৌধ দেখে তাদের মনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব ও স্থাপত্য কে টিকিয়ে রাখতে সম্রাট শাহজাহানের সৃষ্ট তাজমহলের অনুকরণে স্মৃতি সৌধ নির্মাণে অগ্রাহ্য জেগে উঠেছিল।
শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন বেগম মুমতাজ মহলের স্মৃতি রক্ষার স্বার্থে। এজন্য ২০ হাজার শ্রমিক ২০ বছর ধরে পরিশ্রম করে এটি নির্মাণ করেছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে, তাজমহল দেখে সম্রাট এতই অভিভূত হয়েছিলেন যে, এমন সৌধ যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ বানাতে না পারে সেজন্য এই সৌধ নির্মানের কাজে জড়িত ২০ হাজার শ্রমিকের বুড়ো আঙুল কেটে নেওয়া হয়েছিল। ১৯০১ সালে ইংল্যান্ডের মহারানী ভিক্টোরিয়া মারা যাবার পর তৎকালীন ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ইংল্যান্ডের রাজাকে খুশি করতে তাজমহলের মতো একটি উপযুক্ত স্মৃতি সৌধ নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তারপর ১৯০৬ সালে ১ জানুয়ারি প্রিন্স অফ ওয়েলস এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এটি নির্মাণেও ১৫ বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু কোন কারিগর বা শ্রমিকের বুড়ো আঙুল কাটতে হয় নি। এখানেই মুঘল ও ব্রিটিশদের মানষিকতার পার্থক্য।ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল বা ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত রাণী ভিক্টোরিয়ার একটি স্মৃতিসৌধ। উল্লেখ্য, ভিক্টোরিয়া ভারতসম্রাজ্ঞী উপাধির অধিকারী ছিলেন। আগাগোড়া শ্বেত পাথরের তৈরি ইংল্যান্ডেশ্বরী মহারানি ভিক্টোরিয়ার নামাঙ্কিত এই স্মৃতিসৌধটি বর্তমানে একটি জাতীয় প্রদর্শনীশালা জাদুঘর এবং কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ।বেলফাস্ট সিটি হলের স্থাপত্যশৈলীর আদলে ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করেন স্যার উইলিয়াম এমারসন। প্রথমে তাকে ইতালীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীতে স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করতে বলা হলেও, তিনি শুধুমাত্র ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর প্রয়োগের বিরোধিতা করেন এবং ইন্দো-সারাসেনিক শৈলীর সঙ্গে মুঘল উপাদান যুক্ত করে মূল সৌধের নকশা প্রস্তুত করেন। ভিনসেন্ট এসচ ছিলেন এই সৌধের অধীক্ষক স্থপতি। সৌধ-সংলগ্ন বাগানটির নকশা প্রস্তুত করেছিলেন লর্ড রেডেসডেল ও স্যার জন প্রেইন। কলকাতার মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি সংস্থার ওপর নির্মাণকার্যের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল । ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের উত্তর দিকে অবস্থিত কুইন্স ওয়ে, ডান্সিং ফাউন্টেন, তারপর বিস্তীর্ণ ব্রিগেড প্যারেড ময়দান; দক্ষিণে আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস রোড এবং তারপর সেঠ সুখলাল কারণানি ওরফে পিজি হাসপাতাল; পূর্বে কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট পলস্ ক্যাথিড্রাল গির্জা, বিড়লা তারামণ্ডল, আকাদেমি অব ফাইন আর্টস্ এবং রবীন্দ্র সদন; আর পশ্চিমে কলকাতা রেসকোর্স ময়দান। স্মৃতিসোধ ভবনের উত্তর এবং দক্ষিণ দু-দিকেই বিশাল ফটক। উত্তর ফটক থেকে ভবন পর্যন্ত চওড়া রাস্তার দু-দিকে দুই প্রকাণ্ড জলাধার একাধারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রদর্শনের মনোরম শোভা বর্ধন করে। যে দৃশ্য চাক্ষুষ করে অথবা লেন্সবন্দি করে সব বয়সের প্রেমিকপ্রেমিকা-ই রীতিমতো নস্টালজিক হয়ে যায়! সুরম্য উদ্যান পরিবেষ্টিত বড়ো বড়ো গাছের কাণ্ডের খোপে খোপে অসংখ্য নবীন প্রেমীযুগলের অবস্থানে গোধূলিতে মৌনমুখরতার আবেশ পাওয়া যায় আজো! শ্বেতপাথরে নির্মিত সুবৃহৎ ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের নির্মাণকার্য শুরু হয় ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে। সৌধটির উদ্বোধন হয় ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে। সৌধের সর্বোচ্চ গম্বুজে বিউগল ধারিনী বিজয়দুতীর একটি কালো ব্রোঞ্জমূর্তি রয়েছে। বায়ুপ্রবাহ শক্তিশালী হলে বল-বিয়ারিং যুক্ত একটি পাদপীঠের উপর স্থাপিত মূর্তিটি হাওয়া মোরগের কাজ করে। আই আই ই এস টি-প্রাক্তনী এ সি মিত্র ভিক্টোরিয়ার নির্মাণপ্রকল্পের কার্যনির্বাহী বাস্তুকার। এক উচ্চ পর্যায়ের পরিবেশ বিজ্ঞানীমহলের অভিমত হল, কলকাতার দূষণের ফলে ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের সাদা পাথরে মলিনতার ছোঁয়া লাগছে। এই দূষণ থেকে শতাব্দীপ্রাচীন সৌধকে রক্ষা করাটা খুবই জরুরি; কেননা, ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ কলকাতার গর্বের প্রতীকরূপে বিশ্বের অঙ্গনে প্রতিভাত!
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কলকাতার একটি নিদর্শন। বিপুল মার্বেল কাঠামো ১৯০৬ সাল থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল। এটি সম্রাজ্ঞী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি একটি যাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কোথায়?
কলকাতার ময়দানে কুইন্স ওয়েতে এই স্মৃতিসৌধটি শহরের সবচেয়ে বড় সবুজের উপর অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমার্কের জন্য সঠিক মূল্য অনুমান করা অসম্ভব। লর্ড কার্জন একটি আশ্চর্যজনক এবং নিখুঁত কাঠামো তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ বাগান এবং কোম্পানির জন্য একটি যাদুঘর দিয়ে সম্পন্ন হবে। কার্জনের নিজের বক্তব্য অনুসারে, তিনি একটি ভবন করার প্রস্তাব করেছিলেন যা রাজকীয়, প্রশস্ত, স্মৃতিসৌধ এবং মহৎ হবে, যেখানে কলকাতার প্রতিটি আগন্তুক, আবাসিক জনগোষ্ঠী, ইউরোপীয়রা এবং অন্যান্যরা ভিড় করবে, যেখানে সমস্ত শ্রেণী ইতিহাসের পাঠ শিখবে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল প্রস্থে ৫০০ ফুট, উচ্চতায় ২৮৯ ফুট। প্রিন্স অব ওয়েলস ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯২১ সালে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালটি সাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। কলকাতা থেকে রাজধানী নয়াদিল্লি স্থানান্তর করা হলেও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালটি শেষ পর্যন্ত দেশের প্রাক্তন রাজধানী কলকাতাতেই নির্মিত হয়েছিল। স্মৃতিসৌধটি প্রধানত বেশ কিছু ভারতীয় ব্যক্তি এবং ব্রিটিশ অফিসার দ্বারা অর্থায়ন করা হয়েছিল। লর্ড কার্জনের তহবিল সংগ্রহের আবেদনটি বেশ কয়েকজন রাজনীতিক এবং ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল। এটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছিল প্রায় এক কোটি, পাঁচ লক্ষ টাকা । অধিকাংশই এসেছে স্বেচ্ছাসেবী অনুদান থেকে। ১৯০৫ সালে ভারত থেকে লর্ডকার্জনের প্রস্থানের পর স্মৃতিস্তম্ভ বিলম্বিত হতে শুরু করে। অবশেষে ১ ৯২১ সালে ভবনটি খোলা হয়। এই সুপারস্ট্রাকচারের জন্য ১৯১০ সালে কাজ শুরু হয়েছিল এবং ১৯৪৭ সালের পরে এই সুন্দর স্মৃতিসৌধে কিছু সংযোজন করা হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

শাহ্জাহানের তাজমহলের বড় চ্যালেঞ্জ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল 

আপডেট সময়- ০৭:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের পর দিল্লির তাজমহল দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল। অসামান্য সেই স্মৃতি সৌধ দেখে তাদের মনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব ও স্থাপত্য কে টিকিয়ে রাখতে সম্রাট শাহজাহানের সৃষ্ট তাজমহলের অনুকরণে স্মৃতি সৌধ নির্মাণে অগ্রাহ্য জেগে উঠেছিল।
শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন বেগম মুমতাজ মহলের স্মৃতি রক্ষার স্বার্থে। এজন্য ২০ হাজার শ্রমিক ২০ বছর ধরে পরিশ্রম করে এটি নির্মাণ করেছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে, তাজমহল দেখে সম্রাট এতই অভিভূত হয়েছিলেন যে, এমন সৌধ যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ বানাতে না পারে সেজন্য এই সৌধ নির্মানের কাজে জড়িত ২০ হাজার শ্রমিকের বুড়ো আঙুল কেটে নেওয়া হয়েছিল। ১৯০১ সালে ইংল্যান্ডের মহারানী ভিক্টোরিয়া মারা যাবার পর তৎকালীন ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ইংল্যান্ডের রাজাকে খুশি করতে তাজমহলের মতো একটি উপযুক্ত স্মৃতি সৌধ নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তারপর ১৯০৬ সালে ১ জানুয়ারি প্রিন্স অফ ওয়েলস এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এটি নির্মাণেও ১৫ বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু কোন কারিগর বা শ্রমিকের বুড়ো আঙুল কাটতে হয় নি। এখানেই মুঘল ও ব্রিটিশদের মানষিকতার পার্থক্য।ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল বা ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত রাণী ভিক্টোরিয়ার একটি স্মৃতিসৌধ। উল্লেখ্য, ভিক্টোরিয়া ভারতসম্রাজ্ঞী উপাধির অধিকারী ছিলেন। আগাগোড়া শ্বেত পাথরের তৈরি ইংল্যান্ডেশ্বরী মহারানি ভিক্টোরিয়ার নামাঙ্কিত এই স্মৃতিসৌধটি বর্তমানে একটি জাতীয় প্রদর্শনীশালা জাদুঘর এবং কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ।বেলফাস্ট সিটি হলের স্থাপত্যশৈলীর আদলে ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করেন স্যার উইলিয়াম এমারসন। প্রথমে তাকে ইতালীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীতে স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করতে বলা হলেও, তিনি শুধুমাত্র ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর প্রয়োগের বিরোধিতা করেন এবং ইন্দো-সারাসেনিক শৈলীর সঙ্গে মুঘল উপাদান যুক্ত করে মূল সৌধের নকশা প্রস্তুত করেন। ভিনসেন্ট এসচ ছিলেন এই সৌধের অধীক্ষক স্থপতি। সৌধ-সংলগ্ন বাগানটির নকশা প্রস্তুত করেছিলেন লর্ড রেডেসডেল ও স্যার জন প্রেইন। কলকাতার মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি সংস্থার ওপর নির্মাণকার্যের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল । ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের উত্তর দিকে অবস্থিত কুইন্স ওয়ে, ডান্সিং ফাউন্টেন, তারপর বিস্তীর্ণ ব্রিগেড প্যারেড ময়দান; দক্ষিণে আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস রোড এবং তারপর সেঠ সুখলাল কারণানি ওরফে পিজি হাসপাতাল; পূর্বে কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট পলস্ ক্যাথিড্রাল গির্জা, বিড়লা তারামণ্ডল, আকাদেমি অব ফাইন আর্টস্ এবং রবীন্দ্র সদন; আর পশ্চিমে কলকাতা রেসকোর্স ময়দান। স্মৃতিসোধ ভবনের উত্তর এবং দক্ষিণ দু-দিকেই বিশাল ফটক। উত্তর ফটক থেকে ভবন পর্যন্ত চওড়া রাস্তার দু-দিকে দুই প্রকাণ্ড জলাধার একাধারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রদর্শনের মনোরম শোভা বর্ধন করে। যে দৃশ্য চাক্ষুষ করে অথবা লেন্সবন্দি করে সব বয়সের প্রেমিকপ্রেমিকা-ই রীতিমতো নস্টালজিক হয়ে যায়! সুরম্য উদ্যান পরিবেষ্টিত বড়ো বড়ো গাছের কাণ্ডের খোপে খোপে অসংখ্য নবীন প্রেমীযুগলের অবস্থানে গোধূলিতে মৌনমুখরতার আবেশ পাওয়া যায় আজো! শ্বেতপাথরে নির্মিত সুবৃহৎ ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের নির্মাণকার্য শুরু হয় ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে। সৌধটির উদ্বোধন হয় ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে। সৌধের সর্বোচ্চ গম্বুজে বিউগল ধারিনী বিজয়দুতীর একটি কালো ব্রোঞ্জমূর্তি রয়েছে। বায়ুপ্রবাহ শক্তিশালী হলে বল-বিয়ারিং যুক্ত একটি পাদপীঠের উপর স্থাপিত মূর্তিটি হাওয়া মোরগের কাজ করে। আই আই ই এস টি-প্রাক্তনী এ সি মিত্র ভিক্টোরিয়ার নির্মাণপ্রকল্পের কার্যনির্বাহী বাস্তুকার। এক উচ্চ পর্যায়ের পরিবেশ বিজ্ঞানীমহলের অভিমত হল, কলকাতার দূষণের ফলে ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের সাদা পাথরে মলিনতার ছোঁয়া লাগছে। এই দূষণ থেকে শতাব্দীপ্রাচীন সৌধকে রক্ষা করাটা খুবই জরুরি; কেননা, ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ কলকাতার গর্বের প্রতীকরূপে বিশ্বের অঙ্গনে প্রতিভাত!
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কলকাতার একটি নিদর্শন। বিপুল মার্বেল কাঠামো ১৯০৬ সাল থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল। এটি সম্রাজ্ঞী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি একটি যাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কোথায়?
কলকাতার ময়দানে কুইন্স ওয়েতে এই স্মৃতিসৌধটি শহরের সবচেয়ে বড় সবুজের উপর অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমার্কের জন্য সঠিক মূল্য অনুমান করা অসম্ভব। লর্ড কার্জন একটি আশ্চর্যজনক এবং নিখুঁত কাঠামো তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ বাগান এবং কোম্পানির জন্য একটি যাদুঘর দিয়ে সম্পন্ন হবে। কার্জনের নিজের বক্তব্য অনুসারে, তিনি একটি ভবন করার প্রস্তাব করেছিলেন যা রাজকীয়, প্রশস্ত, স্মৃতিসৌধ এবং মহৎ হবে, যেখানে কলকাতার প্রতিটি আগন্তুক, আবাসিক জনগোষ্ঠী, ইউরোপীয়রা এবং অন্যান্যরা ভিড় করবে, যেখানে সমস্ত শ্রেণী ইতিহাসের পাঠ শিখবে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল প্রস্থে ৫০০ ফুট, উচ্চতায় ২৮৯ ফুট। প্রিন্স অব ওয়েলস ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯২১ সালে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালটি সাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। কলকাতা থেকে রাজধানী নয়াদিল্লি স্থানান্তর করা হলেও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালটি শেষ পর্যন্ত দেশের প্রাক্তন রাজধানী কলকাতাতেই নির্মিত হয়েছিল। স্মৃতিসৌধটি প্রধানত বেশ কিছু ভারতীয় ব্যক্তি এবং ব্রিটিশ অফিসার দ্বারা অর্থায়ন করা হয়েছিল। লর্ড কার্জনের তহবিল সংগ্রহের আবেদনটি বেশ কয়েকজন রাজনীতিক এবং ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল। এটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছিল প্রায় এক কোটি, পাঁচ লক্ষ টাকা । অধিকাংশই এসেছে স্বেচ্ছাসেবী অনুদান থেকে। ১৯০৫ সালে ভারত থেকে লর্ডকার্জনের প্রস্থানের পর স্মৃতিস্তম্ভ বিলম্বিত হতে শুরু করে। অবশেষে ১ ৯২১ সালে ভবনটি খোলা হয়। এই সুপারস্ট্রাকচারের জন্য ১৯১০ সালে কাজ শুরু হয়েছিল এবং ১৯৪৭ সালের পরে এই সুন্দর স্মৃতিসৌধে কিছু সংযোজন করা হয়েছিল।