ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক গনতন্ত্র ও মানবাধিকার সংগঠনে মনোনীত যারা জাপানের একটি জনহীন রেলওয়ে স্টেশন শুধুমাত্র এক ছাত্রীর জন্য এখনও চালু রয়েছে মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙনে ঝুঁকিতে পুরাতন ঐতিহ্যবাহী দিঘিরপাড় বাজার শ্রীমঙ্গলে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আইনজীবী নিহত,আহত-২ নকলায় জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্ত প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কুলাউড়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে ভিক্ষুকের অর্থ আত্মসাৎ মাথিউড়া চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি: চা শ্রমিক ফেডারেশন মৌলভীবাজারে বন্যার পানি না নামায়, ২৩৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ  সোনারগাঁয়ে ঔষধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: ৭০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট নকলার ইউএনও শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ায় যুবফোরামের সম্মাননা স্মারক প্রদান

একে একে বেড়িয়ে আসছে পুলিশ কর্মকর্তাদের থলের বেড়াল 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

 

এডিসি কামরুল ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ জব্দের নির্দেশ..!!

অনলাইন ডেস্ক।।

 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের সকল অবৈধ সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

তাদের উভয়ের নামে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য উপাত্ত  পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুননেছা এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন।

তিনি জানান, অনুসন্ধান করে পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর নামে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর অবৈধ সম্পদের তথ্য উপাত্ত পেয়েছে দুদক। গত মাসে দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই তাদের সম্পত্তি ক্রোকের জন্য দুদকের করা আবেদন মঞ্জুর করেছে বিজ্ঞ আদালত।

দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হাটহাজারী বাঁশখালীসহ বিভিন্ন থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার প্রসিকিউশন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে বদলি করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম আদালতের হাজতখানার আসামিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের খাবার বিতরণ না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আসামিদের দেয়া খাবারের টাকা পুলিশের পকেটে’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

ওই কমিটির প্রতিবেদনে আসামিদের খাবারের টাকা আত্মসাতের বিপুল তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু সেসময় কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানায় দুদক।

মহানগর পুলিশের হিসাব শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাকে এ তদন্তে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। অথচ কামরুল হাসান যে বিল পাঠিয়েছেন, তারা এর অনুমোদন দিয়েছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসানের নামে নগরের পাহাড়তলীতে বাড়ি ও খুলশী ডিআইজি অফিসের পাশে ২ হাজার ৫৭০ বর্গফুটের কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এটি থেকে মাসিক ভাড়া পান ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অনন্যা আবাসিক এলাকায়ও প্লট রয়েছে তার এবং তার স্ত্রীর।

এছাড়াও কামরুল হাসানের মালিকানায় ঢাকার অদূরে সাভারে ‘সাভার সিটি সেন্টার ও সাভার সিটি টাওয়ার’ নামে দুটি মার্কেট রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যবসা কিংবা সম্পত্তিগুলো ক্রয়ের সময় কোনো ধরনের পূর্বানুমতি  নেননি তিনি। এমনকি চট্টগ্রাম শহরে বাড়ি থাকলেও তা গোপন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দেয়া অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে প্লট নেন কামরুল হাসান।

তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে চারটি নৌ-যানও রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর নামে আর কোনো সম্পদ আছে কি না,তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

একে একে বেড়িয়ে আসছে পুলিশ কর্মকর্তাদের থলের বেড়াল 

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

 

এডিসি কামরুল ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ জব্দের নির্দেশ..!!

অনলাইন ডেস্ক।।

 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের সকল অবৈধ সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

তাদের উভয়ের নামে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য উপাত্ত  পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুননেছা এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন।

তিনি জানান, অনুসন্ধান করে পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর নামে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর অবৈধ সম্পদের তথ্য উপাত্ত পেয়েছে দুদক। গত মাসে দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই তাদের সম্পত্তি ক্রোকের জন্য দুদকের করা আবেদন মঞ্জুর করেছে বিজ্ঞ আদালত।

দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হাটহাজারী বাঁশখালীসহ বিভিন্ন থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার প্রসিকিউশন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে বদলি করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম আদালতের হাজতখানার আসামিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের খাবার বিতরণ না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আসামিদের দেয়া খাবারের টাকা পুলিশের পকেটে’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

ওই কমিটির প্রতিবেদনে আসামিদের খাবারের টাকা আত্মসাতের বিপুল তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু সেসময় কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানায় দুদক।

মহানগর পুলিশের হিসাব শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাকে এ তদন্তে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। অথচ কামরুল হাসান যে বিল পাঠিয়েছেন, তারা এর অনুমোদন দিয়েছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসানের নামে নগরের পাহাড়তলীতে বাড়ি ও খুলশী ডিআইজি অফিসের পাশে ২ হাজার ৫৭০ বর্গফুটের কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এটি থেকে মাসিক ভাড়া পান ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অনন্যা আবাসিক এলাকায়ও প্লট রয়েছে তার এবং তার স্ত্রীর।

এছাড়াও কামরুল হাসানের মালিকানায় ঢাকার অদূরে সাভারে ‘সাভার সিটি সেন্টার ও সাভার সিটি টাওয়ার’ নামে দুটি মার্কেট রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যবসা কিংবা সম্পত্তিগুলো ক্রয়ের সময় কোনো ধরনের পূর্বানুমতি  নেননি তিনি। এমনকি চট্টগ্রাম শহরে বাড়ি থাকলেও তা গোপন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দেয়া অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে প্লট নেন কামরুল হাসান।

তার স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে চারটি নৌ-যানও রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর নামে আর কোনো সম্পদ আছে কি না,তা নিয়ে তদন্ত চলছে।