ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আঁধারে আলোয়! অর্পিতার অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪ ১৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সালমান খান পরিবারের

 

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা।।

বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা সালমান খানের নাম সকলেই জানেন। তার পিতা সেলিম খান একসময় ছিলেন নামী চিত্রনাট্যকার। চিত্র নাট্য লেখায় সেলিম খান এবং প্রখ্যাত লিরিস্ট জাভেদ আখতারের জুটি তখন বলিউড কাঁপিয়ে তুলেছিলেন।
সালমান খান তারই পুত্র। সেলিম খানের প্রথম বিবির নাম সুশীলা চরক। পরে নাম হয়েছিল সালমা খান। দ্বিতীয় বিবির নাম হেলেন। অতীতে হিন্দি সিনেমাতে হেলেনের ক্যাবারে ডান্সার মাতিয়ে রেখেছিল দর্শকদের বহু কাল। সিনেমাতে নাচ মানেই হেলেন। হেলেনের কোন জৈবিক সন্তান ছিলনা। কিন্তু সালমার তিন পুত্র সালমান খান , আরবাজ খান ও সোহেল খান। একমাত্র কন্যার নাম আলভিরা খান অগ্নিহত্রী।
কিন্তু সেলিম খানের ও সালমান খানের মানবিকতা একটি ইতিহাস।
একদিন মর্নিং ওয়াকে যাচ্ছিলেন সালমান খানের বাবা লেখক সেলিম খান। পথে হঠাৎ করে একজন ভিখারিণী এবং তার ছোট মেয়ের দিকে নজর যায় তার। সেই ভিখারি মহিলার অবস্থা দেখে সেলিম খানের দয়া হয়। উনি সেদিন থেকে প্রতিদিনই প্রাতঃভ্রমণের সময় মা-মেয়ের জন্য খাবার নিয়ে যেতে লাগলেন। একদিন সকালে সেলিম দেখলেন সেই ভিখারি মহিলা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। মায়ের মৃত দেহের পাশে তার ছোট মেয়ে অঝোরে কাঁদছে। সেলিম কিছুতেই সেই ছোট মেয়েকে একা সেখানে ফেলে চলে যেতে পারলেন না। উনি সেই ছোট মেয়ের হাত ধরে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
বাড়িতে আনার পর জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন মেয়েটির নাম অর্পিতা।  স্ত্রী সালমার প্রথম দর্শনেই সেই মেয়েকে ভালো লেগে যায়। হেলেনের যেহেতু কোন সন্তান ছিলনা,তাই হেলেন অর্পিতাকে দত্তক নিতে চান।
ধীরে ধীরে অর্পিতা খান পরিবারের চোখের মণি হয়ে ওঠেন। এটাই হলো বলিউডের ‘ভাইজান’ খ্যাত সালমান খানের বোন অর্পিতার গল্প।  অর্পিতা হয়ে গেলো সালমান খান ও অন্যান্য ভাই এবং বোন আলভিরার আরোও একটি বোন।
সালমান খান যখন অভিনয় জগতের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে  তখন আলভিরার  বিয়ে দেন। কিন্তু তার বিয়েতে বা খান পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের বিয়েতে এত ধূমধাম হয় নি যা অর্পিতার বিয়েতে হয়েছিল। অর্পিতার ইচ্ছা ছিল তার বিয়েটা রাজপ্রাসাদে হোক। তার এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে সালমান হায়দ্রাবাদের ফলকনামা প্যালেস বুক করেন। আর সেখান থেকেই বিয়ে হয় অর্পিতার।
অর্পিতাকে দত্তক নেওয়া সত্ত্বেও তার ধর্ম কিন্তু বদলাননি সেলিম খান। এমনকী তার বিয়েও হয় হিন্দু মতে। এখানেই শেষ নয়‚ উপহার হিসেবে সালমান অর্পিতাকে একটা  সমুদ্রের মুখোমুখি  অ্যাপার্টমেন্ট দিয়েছেন যার দাম ১৬ কোটি টাকা। সেই অর্পিতা লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন এবং তার ইচ্ছা নিজের ফ্যাশন ব্রান্ড লঞ্চ করার। বলাই বাহুল্য, অর্পিতার এই ইচ্ছা পূরণ করার জন্য পুরো পরিবারই তার পাশে দাঁড়িয়েছিল।
সালমান খান অভিনয় জগতে যখন মধ্যগগনে,তখন তিনি প্রচুর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। একদিন রাত্রে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ৯ জন ফুটপাথবাসী শ্রমিককে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করেছিলেন সে নিয়ে দেশ জুড়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করাও হয়েছে।
এরপর রাজস্থানে শ্যূটিং করতে গিয়ে গাড়ি নিয়ে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করে বিরল প্রজাতির একটি হরিণকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। এজন্য শুধু মামলাই চলেনি, তাকে জেলেও যেতে হয়েছিল। একবার একটি সংবাদিক সম্মেলনে এই নিয়ে প্রশ্ন করে সেই সাংবাদিককে সজোরে থাপ্পর দিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন।
কিন্তু তার মহানুভবতা নিয়ে কিন্তু মিডিয়া তেমন মুখ খোলে নি।
রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা অর্পিতাকে তার পিতা সেলিম খান কন্যার স্থান যেমন  দিয়েছিলেন,তেমনি অর্পিতাকে নিজের বোনের সম্মান দিয়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সালমান খান। পড়াশোনার জন্য অর্পিতাকে লন্ডনেও পাঠানো হয়েছিল।
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী , অর্পিতার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৬৬ কোটি টাকার।
আয়ুষ শর্মা একজন ভারতীয় অভিনেতা যিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করেন এবং একজন পেশাদার ব্যবসায়ী।
বলিউড অভিনেতা সালমান খানের আসল নাম আবদুল রশিদ সেলিম সালমান খান।
আয়ুষ শর্মা এবং অর্পিতা খান ২০১৪ সালে বিয়ে করেছিলেন৷ তাদের দুটি সন্তান রয়েছে – কন্যা আয়ত শর্মা এবং পুত্র আহিল শর্মা৷ একই সাক্ষাত্কারের সময়, আয়ুশ শর্মা আরও প্রকাশ করেছিলেন যে অর্পিতা খান একজন “খুব কঠোর সমালোচক”। তিনি বলেন, “অর্পিতা খুবই কঠোর সমালোচক। কিন্তু সে কঠোর থেকে বেশি সৎ।” আয়ুশ শর্মা একজন ব্যবসায়ী এবং অভিনেতা ও।
অর্পিতাকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসার নেপথ্যে খান পরিবারের অবদান মানবিকতার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আঁধারে আলোয়! অর্পিতার অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার গল্প

আপডেট সময় : ০৬:৫২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪

ছবি: সালমান খান পরিবারের

 

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা।।

বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা সালমান খানের নাম সকলেই জানেন। তার পিতা সেলিম খান একসময় ছিলেন নামী চিত্রনাট্যকার। চিত্র নাট্য লেখায় সেলিম খান এবং প্রখ্যাত লিরিস্ট জাভেদ আখতারের জুটি তখন বলিউড কাঁপিয়ে তুলেছিলেন।
সালমান খান তারই পুত্র। সেলিম খানের প্রথম বিবির নাম সুশীলা চরক। পরে নাম হয়েছিল সালমা খান। দ্বিতীয় বিবির নাম হেলেন। অতীতে হিন্দি সিনেমাতে হেলেনের ক্যাবারে ডান্সার মাতিয়ে রেখেছিল দর্শকদের বহু কাল। সিনেমাতে নাচ মানেই হেলেন। হেলেনের কোন জৈবিক সন্তান ছিলনা। কিন্তু সালমার তিন পুত্র সালমান খান , আরবাজ খান ও সোহেল খান। একমাত্র কন্যার নাম আলভিরা খান অগ্নিহত্রী।
কিন্তু সেলিম খানের ও সালমান খানের মানবিকতা একটি ইতিহাস।
একদিন মর্নিং ওয়াকে যাচ্ছিলেন সালমান খানের বাবা লেখক সেলিম খান। পথে হঠাৎ করে একজন ভিখারিণী এবং তার ছোট মেয়ের দিকে নজর যায় তার। সেই ভিখারি মহিলার অবস্থা দেখে সেলিম খানের দয়া হয়। উনি সেদিন থেকে প্রতিদিনই প্রাতঃভ্রমণের সময় মা-মেয়ের জন্য খাবার নিয়ে যেতে লাগলেন। একদিন সকালে সেলিম দেখলেন সেই ভিখারি মহিলা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। মায়ের মৃত দেহের পাশে তার ছোট মেয়ে অঝোরে কাঁদছে। সেলিম কিছুতেই সেই ছোট মেয়েকে একা সেখানে ফেলে চলে যেতে পারলেন না। উনি সেই ছোট মেয়ের হাত ধরে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
বাড়িতে আনার পর জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন মেয়েটির নাম অর্পিতা।  স্ত্রী সালমার প্রথম দর্শনেই সেই মেয়েকে ভালো লেগে যায়। হেলেনের যেহেতু কোন সন্তান ছিলনা,তাই হেলেন অর্পিতাকে দত্তক নিতে চান।
ধীরে ধীরে অর্পিতা খান পরিবারের চোখের মণি হয়ে ওঠেন। এটাই হলো বলিউডের ‘ভাইজান’ খ্যাত সালমান খানের বোন অর্পিতার গল্প।  অর্পিতা হয়ে গেলো সালমান খান ও অন্যান্য ভাই এবং বোন আলভিরার আরোও একটি বোন।
সালমান খান যখন অভিনয় জগতের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে  তখন আলভিরার  বিয়ে দেন। কিন্তু তার বিয়েতে বা খান পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের বিয়েতে এত ধূমধাম হয় নি যা অর্পিতার বিয়েতে হয়েছিল। অর্পিতার ইচ্ছা ছিল তার বিয়েটা রাজপ্রাসাদে হোক। তার এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে সালমান হায়দ্রাবাদের ফলকনামা প্যালেস বুক করেন। আর সেখান থেকেই বিয়ে হয় অর্পিতার।
অর্পিতাকে দত্তক নেওয়া সত্ত্বেও তার ধর্ম কিন্তু বদলাননি সেলিম খান। এমনকী তার বিয়েও হয় হিন্দু মতে। এখানেই শেষ নয়‚ উপহার হিসেবে সালমান অর্পিতাকে একটা  সমুদ্রের মুখোমুখি  অ্যাপার্টমেন্ট দিয়েছেন যার দাম ১৬ কোটি টাকা। সেই অর্পিতা লন্ডনে পড়াশোনা করেছেন এবং তার ইচ্ছা নিজের ফ্যাশন ব্রান্ড লঞ্চ করার। বলাই বাহুল্য, অর্পিতার এই ইচ্ছা পূরণ করার জন্য পুরো পরিবারই তার পাশে দাঁড়িয়েছিল।
সালমান খান অভিনয় জগতে যখন মধ্যগগনে,তখন তিনি প্রচুর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। একদিন রাত্রে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ৯ জন ফুটপাথবাসী শ্রমিককে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করেছিলেন সে নিয়ে দেশ জুড়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করাও হয়েছে।
এরপর রাজস্থানে শ্যূটিং করতে গিয়ে গাড়ি নিয়ে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করে বিরল প্রজাতির একটি হরিণকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। এজন্য শুধু মামলাই চলেনি, তাকে জেলেও যেতে হয়েছিল। একবার একটি সংবাদিক সম্মেলনে এই নিয়ে প্রশ্ন করে সেই সাংবাদিককে সজোরে থাপ্পর দিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন।
কিন্তু তার মহানুভবতা নিয়ে কিন্তু মিডিয়া তেমন মুখ খোলে নি।
রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা অর্পিতাকে তার পিতা সেলিম খান কন্যার স্থান যেমন  দিয়েছিলেন,তেমনি অর্পিতাকে নিজের বোনের সম্মান দিয়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সালমান খান। পড়াশোনার জন্য অর্পিতাকে লন্ডনেও পাঠানো হয়েছিল।
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী , অর্পিতার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৬৬ কোটি টাকার।
আয়ুষ শর্মা একজন ভারতীয় অভিনেতা যিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করেন এবং একজন পেশাদার ব্যবসায়ী।
বলিউড অভিনেতা সালমান খানের আসল নাম আবদুল রশিদ সেলিম সালমান খান।
আয়ুষ শর্মা এবং অর্পিতা খান ২০১৪ সালে বিয়ে করেছিলেন৷ তাদের দুটি সন্তান রয়েছে – কন্যা আয়ত শর্মা এবং পুত্র আহিল শর্মা৷ একই সাক্ষাত্কারের সময়, আয়ুশ শর্মা আরও প্রকাশ করেছিলেন যে অর্পিতা খান একজন “খুব কঠোর সমালোচক”। তিনি বলেন, “অর্পিতা খুবই কঠোর সমালোচক। কিন্তু সে কঠোর থেকে বেশি সৎ।” আয়ুশ শর্মা একজন ব্যবসায়ী এবং অভিনেতা ও।
অর্পিতাকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসার নেপথ্যে খান পরিবারের অবদান মানবিকতার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।