ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

না’গঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচনে ওসমান পরিবার সমর্থিত ৩ প্রার্থীর ভরাডুবিতে সমালোচনার ঝড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

 

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার সমর্থিত ৩ প্রার্থীরই চরম ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনে জেলার প্রভাবশালী দুই সংসদ সদস্যের প্রবল বিরোধিতার মুখেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলমগীর ।

প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সমর্থিতদের এই ভরাডুবিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি অঙ্গনে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

এবার বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন চারজন। তারা হলেন গতবারের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ (দোয়াত-কলম), দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) আতাউর রহমান মুকুল (চিংড়ি), জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মাকসুদ হোসেন (আনারস) এবং মাকসুদ পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ (হেলিকপ্টার) প্রতিক।

 

এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন দুইবারের ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির জেলার সভাপতি সানাউল্লাহ সানু উড়োজাহাজ প্রতীক, বন্দর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম জুয়েল, টিউবওয়েল প্রতীক, মো. আলমগীর হোসেন,মাইক প্রতীক এবং মোশাঈদ রহমান, তালা প্রতীক।

সংরক্ষিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এদের মধ্যে একজন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা হোসেন,ফুটবল প্রতীক এবং অপরজন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার,কলস প্রতীক।

তবে বন্দর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আনারস প্রতীকের মাকসুদ হোসেন। ভাইস চেয়ারম্যান টিউবওয়েল প্রতীকের মো. আলমগীর হোসেন এবং ফুটবল প্রতীকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ছালিমা হোসেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদকে নিজের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী করার ঘোষণা দেন।এমপি  সেলিম ওসমান নিজে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেও তার নিজ দলের নেতা মাকসুদকে সমর্থন না দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদের পক্ষে সকল অনুসারীদের কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।

এর আগে, গত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশীদ চেয়ারম্যান হন। সে-সময় জয়ের পথ সুগম করতে তিনি সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সেলিম ওসমান।

এরপরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক সিদ্ধান্তে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদকে সমর্থন দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সরে দাড়ান। কিন্তু অটল থাকেন এক সময়ের সেলিম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান মুকুল ও জাতীয় পার্টি নেতা মাকসুদ হোসেন এবং তার ছেলে।

পরবর্তীতে এ দুই অনুসারী নির্বাচন সরে না আসায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়েন এমপি সেলিম ওসমান। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তার প্রয়াত বড় ভাই নাসিম ওসমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। গত ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলায় ওই মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মুকুলকে উদ্দেশ্য করে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, বিএনপির এক নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে অপমান করে এই এলাকা থেকে নির্বাচন করার কলিজাটা কোথায় পায়? কোথায় আমার আওয়ামী লীগের কর্মীরা? আপনার হাতে কি চুড়ি পরেছেন?’

এরপর অপর আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাকসুদ হোসেনকে ইঙ্গিত করেও বলেন, ‘একজন রাজাকার সন্তান,ভূমিদস্যুর পোস্টার কী করে এলাকায় লাগে, শত শত গাড়ি বের করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শোডাউন করে? জনগন অবজেকশন দিলে উনি বলেন, ‘সরি’ আর নির্বাচন কমিশন ওনাকে ছেড়ে দেন।নির্বাচন কমিশন আর প্রশাসনের লোকজন ঘুমিয়ে গেলে হবে না, এগুলো দেখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাচনে তার পছন্দের তিন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমার সহকর্মী এমএ রশীদ ভাই (চেয়ারম্যান প্রার্থী) একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। নাসিম ওসমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের সহকর্মী সানাউল্লাহ সানু (ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী)। আমাদের ছোট শান্তা আমাদের মেয়ের মতো। এছাড়াও এইখানে চারজন ইউপি চেয়ারম্যান আছেন, মাত্র একজন মুখ খুলে বললেন কিন্তু, বাকীরা কেনো বললেন না। কিন্তু ওনারা প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন, এই চার ইউনিয়ন থেকে সমস্ত ভোট স্বাধীনতার পক্ষে যাবে।’

একই অনুষ্ঠানে আরেক প্রভাবশালী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, ‘এখানে এসে শুনলাম, কেউ কেউ এমন এমন বক্তব্য দিচ্ছেন আর এমন এমন কথা বলছেন, ওই কথাগুলো যদি আমলে নেই তাহলে আগামীকাল থেকে কেউ মাঠে নামতে পারবেন না। আমি সেলিম ওসমান না, আমরা জানি কী করতে হবে। আমরা চাই অবাদ সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হোক। যার কপালে লেখা আছে,জনগন যাকে চাইবে, সে পাস করবে। কিন্তু কথাবার্তা শালীনতা ও সীমানার মধ্যে রাখেন।’

তবে এমপি শামীম ওসমান প্রকাশ্যে কোনো প্রচারণায় না থাকলেও তার অনুসারী আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ ও সানাউল্লাহ সানুর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছেন।

অন্যদিকে, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নাসিম ওসমানের পরিবারের সদস্যরা সমর্থন দেন মোশাঈদ রহমান মুকিতকে। নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান ও ছেলে আজমেরী ওসমানও   তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

নির্বাচনে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের পছন্দের তিনজন প্রার্থীরই পরাজিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে এমএ রশিদ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৩৮ ভোট। বিপরীতে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মাকসুদ। তিনি সর্বমোট পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৭৩ ভোট।

অপর প্রার্থী আতাউর রহমান মুকুল ১২ হাজার ৬২২ ভোট এবং মাহমুদুল হাসান শুভ ২৫৫ ভোট পেয়েছেন।
ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মো. আলমগীর ১৭ হাজার ৬০৬ ভোট বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে ওসমান পরিবারের সমর্থিত দুই প্রার্থী সানাউল্লাহ সানু পেয়েছেন ১৭ হাজার ১ ভোট এবং মোশাঈদ রহমান মুকিত ৮ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়েছেন।

তবে উল্লেখ্য যে,  মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সেলিম ওসমানের পছন্দের প্রার্থী ছালিমা হোসেন ২৯ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পরাজিত কলস প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদা আক্তার ২৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

না’গঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচনে ওসমান পরিবার সমর্থিত ৩ প্রার্থীর ভরাডুবিতে সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ০৫:১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

 

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার সমর্থিত ৩ প্রার্থীরই চরম ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনে জেলার প্রভাবশালী দুই সংসদ সদস্যের প্রবল বিরোধিতার মুখেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির নেতা মাকসুদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলমগীর ।

প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সমর্থিতদের এই ভরাডুবিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি অঙ্গনে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

এবার বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন চারজন। তারা হলেন গতবারের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ (দোয়াত-কলম), দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) আতাউর রহমান মুকুল (চিংড়ি), জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মাকসুদ হোসেন (আনারস) এবং মাকসুদ পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ (হেলিকপ্টার) প্রতিক।

 

এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন দুইবারের ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির জেলার সভাপতি সানাউল্লাহ সানু উড়োজাহাজ প্রতীক, বন্দর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম জুয়েল, টিউবওয়েল প্রতীক, মো. আলমগীর হোসেন,মাইক প্রতীক এবং মোশাঈদ রহমান, তালা প্রতীক।

সংরক্ষিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এদের মধ্যে একজন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা হোসেন,ফুটবল প্রতীক এবং অপরজন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার,কলস প্রতীক।

তবে বন্দর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আনারস প্রতীকের মাকসুদ হোসেন। ভাইস চেয়ারম্যান টিউবওয়েল প্রতীকের মো. আলমগীর হোসেন এবং ফুটবল প্রতীকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ছালিমা হোসেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদকে নিজের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী করার ঘোষণা দেন।এমপি  সেলিম ওসমান নিজে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেও তার নিজ দলের নেতা মাকসুদকে সমর্থন না দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদের পক্ষে সকল অনুসারীদের কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।

এর আগে, গত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশীদ চেয়ারম্যান হন। সে-সময় জয়ের পথ সুগম করতে তিনি সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সেলিম ওসমান।

এরপরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক সিদ্ধান্তে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদকে সমর্থন দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সরে দাড়ান। কিন্তু অটল থাকেন এক সময়ের সেলিম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান মুকুল ও জাতীয় পার্টি নেতা মাকসুদ হোসেন এবং তার ছেলে।

পরবর্তীতে এ দুই অনুসারী নির্বাচন সরে না আসায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়েন এমপি সেলিম ওসমান। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তার প্রয়াত বড় ভাই নাসিম ওসমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। গত ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলায় ওই মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মুকুলকে উদ্দেশ্য করে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, বিএনপির এক নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে অপমান করে এই এলাকা থেকে নির্বাচন করার কলিজাটা কোথায় পায়? কোথায় আমার আওয়ামী লীগের কর্মীরা? আপনার হাতে কি চুড়ি পরেছেন?’

এরপর অপর আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাকসুদ হোসেনকে ইঙ্গিত করেও বলেন, ‘একজন রাজাকার সন্তান,ভূমিদস্যুর পোস্টার কী করে এলাকায় লাগে, শত শত গাড়ি বের করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শোডাউন করে? জনগন অবজেকশন দিলে উনি বলেন, ‘সরি’ আর নির্বাচন কমিশন ওনাকে ছেড়ে দেন।নির্বাচন কমিশন আর প্রশাসনের লোকজন ঘুমিয়ে গেলে হবে না, এগুলো দেখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাচনে তার পছন্দের তিন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমার সহকর্মী এমএ রশীদ ভাই (চেয়ারম্যান প্রার্থী) একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। নাসিম ওসমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের সহকর্মী সানাউল্লাহ সানু (ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী)। আমাদের ছোট শান্তা আমাদের মেয়ের মতো। এছাড়াও এইখানে চারজন ইউপি চেয়ারম্যান আছেন, মাত্র একজন মুখ খুলে বললেন কিন্তু, বাকীরা কেনো বললেন না। কিন্তু ওনারা প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন, এই চার ইউনিয়ন থেকে সমস্ত ভোট স্বাধীনতার পক্ষে যাবে।’

একই অনুষ্ঠানে আরেক প্রভাবশালী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, ‘এখানে এসে শুনলাম, কেউ কেউ এমন এমন বক্তব্য দিচ্ছেন আর এমন এমন কথা বলছেন, ওই কথাগুলো যদি আমলে নেই তাহলে আগামীকাল থেকে কেউ মাঠে নামতে পারবেন না। আমি সেলিম ওসমান না, আমরা জানি কী করতে হবে। আমরা চাই অবাদ সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হোক। যার কপালে লেখা আছে,জনগন যাকে চাইবে, সে পাস করবে। কিন্তু কথাবার্তা শালীনতা ও সীমানার মধ্যে রাখেন।’

তবে এমপি শামীম ওসমান প্রকাশ্যে কোনো প্রচারণায় না থাকলেও তার অনুসারী আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ ও সানাউল্লাহ সানুর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছেন।

অন্যদিকে, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নাসিম ওসমানের পরিবারের সদস্যরা সমর্থন দেন মোশাঈদ রহমান মুকিতকে। নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান ও ছেলে আজমেরী ওসমানও   তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

নির্বাচনে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের পছন্দের তিনজন প্রার্থীরই পরাজিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে এমএ রশিদ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৩৮ ভোট। বিপরীতে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মাকসুদ। তিনি সর্বমোট পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৭৩ ভোট।

অপর প্রার্থী আতাউর রহমান মুকুল ১২ হাজার ৬২২ ভোট এবং মাহমুদুল হাসান শুভ ২৫৫ ভোট পেয়েছেন।
ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মো. আলমগীর ১৭ হাজার ৬০৬ ভোট বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে ওসমান পরিবারের সমর্থিত দুই প্রার্থী সানাউল্লাহ সানু পেয়েছেন ১৭ হাজার ১ ভোট এবং মোশাঈদ রহমান মুকিত ৮ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়েছেন।

তবে উল্লেখ্য যে,  মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সেলিম ওসমানের পছন্দের প্রার্থী ছালিমা হোসেন ২৯ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পরাজিত কলস প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদা আক্তার ২৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন।