ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে দীনেশ সহ ৭’শ পরিবারের মূখে হাসি ফুটেছে 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩ ৬২ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুর প্রতিনিধি।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারে ভূমি ও গৃহহীন ৭’শ পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। এ পরিবারের মধ্যে এমনই এক পরিবার দীনেশের পরিবার। ঘর নেই, জমিও নেই কি করবেন দীনেশ কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না! এমন সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ঘোষণা আসে গৃহহীনদের ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। দীনেশ এ কথাটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানতে পেরে যোগাযোগ করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সাথে। এরপর কিছু কাগজপত্র জোগাড় করে জমা দিয়েই তিনি পেয়ে যান একটি ঘর। এখন সেই ঘরেই দীনেশের সুখের সংসার অতিবাহিত হচ্ছে বলে সাংবাদিক দের জানান দীনেশ।
বলছিলাম ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকার ঘরহীন দীনেশের কথা। তার বাড়ির এলাকায় তৈরি হয়েছে আশ্রয় প্রকল্প। সেখানেই তিনি পরিবার নিয়ে সুখে বসবাস করছেন। দীনেশ বলেন তিনি কখনোই ভাবেননি এমন একটি সেমি পাকা ঘরে তিনি বসবাস করবেন। তার ঘরে থাকবে বিদ্যুৎসহ নানা সুব্যবস্থা। আর এমনটাই সম্ভব হয়েছে সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগের কারণে। ‌ আর এজন্য তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
অসহায় ঘরহীন এসব মানুষের কেউ থাকতেন রাস্তায় অথবা রেললাইনের পাশে, কেউ অন্যের বাড়ি বা জমিতে আশ্রিত, কেউবা নদী ভাঙ্গনে বিপর্যস্থ। ছিলনা নিজের কোন ঠিকানা কিংবা কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই। ছিন্নমূল এ সকল মানুষের অসহায়ত্বকে উপলব্ধি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ উপলক্ষে তিনি ঘোষণা দেন দেশের কোন মানুষ আশ্রয়হীন থাকবেনা। এরপর থেকেই আশ্রয়হীন দের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ  করছে সরকার।
ফরিদপুরের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী জানান, অসহায় মানুষগুলো কখনো ভাবেননি তাদের নিজস্ব একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে, সেখানে তারা পেয়েছেন ২ শতাংশ জমিসহ একটি সেমিপাকা ঘর। আশ্রয়ণের সাইটগুলোতে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ও উপকারভোগীদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, গঠন করা হয়েছে সমবায় সমিতি। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের গৃহ পেয়ে অসহায় এসকল মানুষ যেন তাদের আশার প্রদীপ ফিরে পেয়েছে, থমকে যাওয়া জীবনে গতির সঞ্চার হয়েছে। বেশিরভাগ উপকারভোগীর জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে, তাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ফরিদপুর সদর উপজেলাও ‍‍`ক‍‍` শ্রেণির গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার (পিএএ) বলেন, আগামী (৯ আগষ্ট) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৪র্থ পর্যায়ের গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করবেন। এ পর্যায়ে দেশের অন্যান্য উপজেলার সাথে ফরিদপুর সদর উপজেলাও ‍‍`ক‍‍` শ্রেণির গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প এর আওতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার ৭৩১টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১ম পর্যায়ে ৩১২টি, ২য় পর্যায়ে ১৫৩ টি ও ৩য় পর্যায়ে ২৬৬টি গৃহ নির্মাণ করে উপকারভোগীদের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ফরিদপুরের প্রতিটি উপজেলাকে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহহীনদের পূর্ণবাসন করা হয়েছে। এতে গৃহহীন ৭’শ পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।
উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন দেশের কোন মানুষ আশ্রয়হীন থাকবেনা।
প্রধানমন্ত্রীর এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ করছে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প।
এ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার ৭৩১ টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১ম পর্যায়ে ৩১২টি, ২য় পর্যায়ে ১৫৩ টি ও ৩য় পর্যায়ে ২৬৬টি গৃহ নির্মাণ করে উপকারভোগীদের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে দীনেশ সহ ৭’শ পরিবারের মূখে হাসি ফুটেছে 

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩
ফরিদপুর প্রতিনিধি।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারে ভূমি ও গৃহহীন ৭’শ পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। এ পরিবারের মধ্যে এমনই এক পরিবার দীনেশের পরিবার। ঘর নেই, জমিও নেই কি করবেন দীনেশ কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না! এমন সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ঘোষণা আসে গৃহহীনদের ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। দীনেশ এ কথাটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানতে পেরে যোগাযোগ করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সাথে। এরপর কিছু কাগজপত্র জোগাড় করে জমা দিয়েই তিনি পেয়ে যান একটি ঘর। এখন সেই ঘরেই দীনেশের সুখের সংসার অতিবাহিত হচ্ছে বলে সাংবাদিক দের জানান দীনেশ।
বলছিলাম ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকার ঘরহীন দীনেশের কথা। তার বাড়ির এলাকায় তৈরি হয়েছে আশ্রয় প্রকল্প। সেখানেই তিনি পরিবার নিয়ে সুখে বসবাস করছেন। দীনেশ বলেন তিনি কখনোই ভাবেননি এমন একটি সেমি পাকা ঘরে তিনি বসবাস করবেন। তার ঘরে থাকবে বিদ্যুৎসহ নানা সুব্যবস্থা। আর এমনটাই সম্ভব হয়েছে সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগের কারণে। ‌ আর এজন্য তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
অসহায় ঘরহীন এসব মানুষের কেউ থাকতেন রাস্তায় অথবা রেললাইনের পাশে, কেউ অন্যের বাড়ি বা জমিতে আশ্রিত, কেউবা নদী ভাঙ্গনে বিপর্যস্থ। ছিলনা নিজের কোন ঠিকানা কিংবা কোন মাথা গোঁজার ঠাঁই। ছিন্নমূল এ সকল মানুষের অসহায়ত্বকে উপলব্ধি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ উপলক্ষে তিনি ঘোষণা দেন দেশের কোন মানুষ আশ্রয়হীন থাকবেনা। এরপর থেকেই আশ্রয়হীন দের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ  করছে সরকার।
ফরিদপুরের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী জানান, অসহায় মানুষগুলো কখনো ভাবেননি তাদের নিজস্ব একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে, সেখানে তারা পেয়েছেন ২ শতাংশ জমিসহ একটি সেমিপাকা ঘর। আশ্রয়ণের সাইটগুলোতে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ও উপকারভোগীদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, গঠন করা হয়েছে সমবায় সমিতি। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের গৃহ পেয়ে অসহায় এসকল মানুষ যেন তাদের আশার প্রদীপ ফিরে পেয়েছে, থমকে যাওয়া জীবনে গতির সঞ্চার হয়েছে। বেশিরভাগ উপকারভোগীর জীবিকার ব্যবস্থা হয়েছে, তাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ফরিদপুর সদর উপজেলাও ‍‍`ক‍‍` শ্রেণির গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার (পিএএ) বলেন, আগামী (৯ আগষ্ট) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৪র্থ পর্যায়ের গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করবেন। এ পর্যায়ে দেশের অন্যান্য উপজেলার সাথে ফরিদপুর সদর উপজেলাও ‍‍`ক‍‍` শ্রেণির গৃহহীনমুক্ত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প এর আওতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার ৭৩১টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১ম পর্যায়ে ৩১২টি, ২য় পর্যায়ে ১৫৩ টি ও ৩য় পর্যায়ে ২৬৬টি গৃহ নির্মাণ করে উপকারভোগীদের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ফরিদপুরের প্রতিটি উপজেলাকে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহহীনদের পূর্ণবাসন করা হয়েছে। এতে গৃহহীন ৭’শ পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।
উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন দেশের কোন মানুষ আশ্রয়হীন থাকবেনা।
প্রধানমন্ত্রীর এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ করছে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প।
এ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার ৭৩১ টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১ম পর্যায়ে ৩১২টি, ২য় পর্যায়ে ১৫৩ টি ও ৩য় পর্যায়ে ২৬৬টি গৃহ নির্মাণ করে উপকারভোগীদের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।