ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

না’গঞ্জে যেভাবে ঘটলো মর্মান্তিক দূর্ঘটনা, মৃত্যু বেড়ে ৪

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চাপায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪! 
বিশেষ প্রতিনিধি।।
নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম শহর চাষাঢ়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) সকালে বিসিক শিল্প নগরীতে ফকির এ্যাপারেলস নামক রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠানে আগুন নেভানোর উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়িটির দায়িত্বীরত ড্রাইভার হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কবলিত হয়।
দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-শহরের হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর হোসেন(৫৮), স্থানীয় জামতলা এলাকার সালাউদ্দিন সাবু (৪৮), শহরের মাসদাইর পাকাপুল এলাকার রিকশা চালক সিরাজুল ইসলাম(৫০) এবং ফতুলার ইসদাইর সুগন্ধা আবাসিক  এলাকার বাসিন্দা পথচারী আমজাদ হোসেন (৫২)।
যেভাবে দূর্ঘটনায় কবলিত হয়, ফতুল্লার শিল্পনগরী বিসিকে অবস্থিত বহুজাতিক রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠান ফকির এপারেলসে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি যাওয়ার পথে চাষাঢ়াস্থ সান্তনা মার্কেট মোড়ে এসে হঠাৎ করেই চালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্ট্রোকে করে অসুস্থ হয়ে পরলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা তিনটি যানবাহনের মধ্যে একটি অটোরিকশা একটি প্রাইভেটকারসহ আনন্দ পরিবহনের একটি বাসকে দ্রুত গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে মারাত্মক অসুস্থ ড্রাইভার সহ এক পথচারী ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরবর্তী চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর আরো দুজন মারা যায়।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন,বিসিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর হোসেন গাড়ি নিয়ে বিসিক শিল্পনগরীতে যাচ্ছিলেন। চাষাঢ়া মোড়ে গাড়িটি পৌঁছলে চালক হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান বলে গাড়িতে থাকা ফায়ার সার্ভিসের অপর কর্মী জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত পাশে থাকা আনন্দ পরিবহনের একটি বাসে প্রচন্ড গতিতে ধাক্কা দিলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে সালাউদ্দিন সাবু নামে এক ঘটনাস্থলেই মারা যান। তখন মৃতদেহটি গাড়ির চাকায় আটকে থাকেন,পরবর্তীতে  গাড়িটি কেটে নিহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।
আপরদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রিকশাচালক সিরাজুলকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করার পথেই তিনি মারা যান।
রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আমজাদ হোসেন। তিনি মামুন পরিবহন নামের টিকিট কাউন্টারে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এছাড়াও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার বাসিন্দা ইরানী ও রোকন, শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা নাজমা ও মুন্সিগঞ্জের রেশমা।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর হোসেনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর নিশ্চিত প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

না’গঞ্জে যেভাবে ঘটলো মর্মান্তিক দূর্ঘটনা, মৃত্যু বেড়ে ৪

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চাপায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪! 
বিশেষ প্রতিনিধি।।
নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম শহর চাষাঢ়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) সকালে বিসিক শিল্প নগরীতে ফকির এ্যাপারেলস নামক রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠানে আগুন নেভানোর উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়িটির দায়িত্বীরত ড্রাইভার হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কবলিত হয়।
দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-শহরের হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর হোসেন(৫৮), স্থানীয় জামতলা এলাকার সালাউদ্দিন সাবু (৪৮), শহরের মাসদাইর পাকাপুল এলাকার রিকশা চালক সিরাজুল ইসলাম(৫০) এবং ফতুলার ইসদাইর সুগন্ধা আবাসিক  এলাকার বাসিন্দা পথচারী আমজাদ হোসেন (৫২)।
যেভাবে দূর্ঘটনায় কবলিত হয়, ফতুল্লার শিল্পনগরী বিসিকে অবস্থিত বহুজাতিক রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠান ফকির এপারেলসে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি যাওয়ার পথে চাষাঢ়াস্থ সান্তনা মার্কেট মোড়ে এসে হঠাৎ করেই চালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্ট্রোকে করে অসুস্থ হয়ে পরলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা তিনটি যানবাহনের মধ্যে একটি অটোরিকশা একটি প্রাইভেটকারসহ আনন্দ পরিবহনের একটি বাসকে দ্রুত গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে মারাত্মক অসুস্থ ড্রাইভার সহ এক পথচারী ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরবর্তী চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর আরো দুজন মারা যায়।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন,বিসিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর হোসেন গাড়ি নিয়ে বিসিক শিল্পনগরীতে যাচ্ছিলেন। চাষাঢ়া মোড়ে গাড়িটি পৌঁছলে চালক হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান বলে গাড়িতে থাকা ফায়ার সার্ভিসের অপর কর্মী জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত পাশে থাকা আনন্দ পরিবহনের একটি বাসে প্রচন্ড গতিতে ধাক্কা দিলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে সালাউদ্দিন সাবু নামে এক ঘটনাস্থলেই মারা যান। তখন মৃতদেহটি গাড়ির চাকায় আটকে থাকেন,পরবর্তীতে  গাড়িটি কেটে নিহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।
আপরদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রিকশাচালক সিরাজুলকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করার পথেই তিনি মারা যান।
রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আমজাদ হোসেন। তিনি মামুন পরিবহন নামের টিকিট কাউন্টারে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এছাড়াও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার বাসিন্দা ইরানী ও রোকন, শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা নাজমা ও মুন্সিগঞ্জের রেশমা।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর হোসেনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর নিশ্চিত প্রকৃত কারণ জানা যাবে।