ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কর আদায়ে এনবিআর চালু করতে যাচ্ছে এজেন্ট প্রথা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক  রিপোর্ট।।

 

প্রতিবছর বাজেট বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর বড় অঙ্কের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে সরকার। প্রতিবছর এনবিআরের রাজস্ব আদায় ও আয় বাড়লেও কোনো বারই চাহিদা পূরণ করতে পারছে না এনবিআর। এমন প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ আয়কর আদায় বাড়াতে এনবিআর নানানবিধ কর্মপন্থার অংশ হিসেবে  এলাকাভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কর এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আইনি ভিত্তি দিতে বাজেট ঘোষণার দিনেই গতকাল বৃহস্পতিবার ‘আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী’ নামে একটি বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত সেই বিধিমালায় বলা হয়েছে, করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন প্রস্তুত ও জমার ব্যাপারে সহায়তা করতে এজেন্ট হিসেবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে পারবে এনবিআর। তাদের ‘আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে। একই সঙ্গে ‘আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী’ ব্যক্তিদের কার্যক্রম তদারক ও প্রশিক্ষণের জন্য কর বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ারও প্রস্তাব আছে বিধিমালায়। এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালার ওপর সাধারণ জনগণসহ অভিজ্ঞদের ২৫ জুনের মধ্যে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর। পরে মতামত পর্যালোচনা করে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করবে সরকারের রাজস্ব আদায়ে নিযুক্ত সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী নির্দিষ্ট ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি জমা করের ওপর পাঁচ বছর পর্যন্ত কমিশনের মতো করে নির্দিষ্ট হারে প্রণোদনা পাবেন। এ ছাড়া সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান তার অধীন আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারীদের প্রাপ্য প্রণোদনার ১০ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ পাবে। অর্থাৎ এনবিআর নিজে কোনো অর্থ খরচ না করেই কর আদায় বাড়ানোর এ পথে হাঁটতে যাচ্ছে।

আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী ও সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই কর বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে এবং এনবিআর থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারীর নিবন্ধন পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক, সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত নন এবং নিজের টিআইএন থাকার পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কমপক্ষে স্নাতক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিলের জ্ঞান থাকতে হবে। একই সঙ্গে কম্পিউটার চালনা ও প্রযুক্তিগত ব্যবহারিক জ্ঞান থাকতে হবে।

এনবিআর গঠিত এ-সংক্রান্ত বোর্ড আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারীদের কার্যক্রম তদারক করতে এলাকাভিত্তিক আয়করবিষয়ক সেবা ও পরামর্শ দিতে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে সহায়তাকারী হিসেবে নিবন্ধন দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন প্রস্তুতকারীদের সহায়তায় কম্পিউটার ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহের সক্ষমতা থাকতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কর আদায়ে এনবিআর চালু করতে যাচ্ছে এজেন্ট প্রথা

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩

ডেস্ক  রিপোর্ট।।

 

প্রতিবছর বাজেট বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর বড় অঙ্কের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে সরকার। প্রতিবছর এনবিআরের রাজস্ব আদায় ও আয় বাড়লেও কোনো বারই চাহিদা পূরণ করতে পারছে না এনবিআর। এমন প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ আয়কর আদায় বাড়াতে এনবিআর নানানবিধ কর্মপন্থার অংশ হিসেবে  এলাকাভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কর এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আইনি ভিত্তি দিতে বাজেট ঘোষণার দিনেই গতকাল বৃহস্পতিবার ‘আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী’ নামে একটি বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে।

প্রস্তাবিত সেই বিধিমালায় বলা হয়েছে, করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন প্রস্তুত ও জমার ব্যাপারে সহায়তা করতে এজেন্ট হিসেবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে পারবে এনবিআর। তাদের ‘আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে। একই সঙ্গে ‘আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী’ ব্যক্তিদের কার্যক্রম তদারক ও প্রশিক্ষণের জন্য কর বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ারও প্রস্তাব আছে বিধিমালায়। এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালার ওপর সাধারণ জনগণসহ অভিজ্ঞদের ২৫ জুনের মধ্যে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর। পরে মতামত পর্যালোচনা করে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করবে সরকারের রাজস্ব আদায়ে নিযুক্ত সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী নির্দিষ্ট ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি জমা করের ওপর পাঁচ বছর পর্যন্ত কমিশনের মতো করে নির্দিষ্ট হারে প্রণোদনা পাবেন। এ ছাড়া সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান তার অধীন আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারীদের প্রাপ্য প্রণোদনার ১০ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ পাবে। অর্থাৎ এনবিআর নিজে কোনো অর্থ খরচ না করেই কর আদায় বাড়ানোর এ পথে হাঁটতে যাচ্ছে।

আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী ও সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই কর বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে এবং এনবিআর থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারীর নিবন্ধন পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক, সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত নন এবং নিজের টিআইএন থাকার পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কমপক্ষে স্নাতক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিলের জ্ঞান থাকতে হবে। একই সঙ্গে কম্পিউটার চালনা ও প্রযুক্তিগত ব্যবহারিক জ্ঞান থাকতে হবে।

এনবিআর গঠিত এ-সংক্রান্ত বোর্ড আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারীদের কার্যক্রম তদারক করতে এলাকাভিত্তিক আয়করবিষয়ক সেবা ও পরামর্শ দিতে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে সহায়তাকারী হিসেবে নিবন্ধন দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন প্রস্তুতকারীদের সহায়তায় কম্পিউটার ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহের সক্ষমতা থাকতে হবে।