ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ-২ কুষ্টিয়ায় ৩১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা মূল্যমানের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত যুবকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার গাইবান্ধায় পেট্রোল নিয়ে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত-৩, আটক-১ সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইনে ক্লাস: শিক্ষকরা স্কুল এসে নেবেন: শিক্ষামন্ত্রী সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজ অর্থায়নে জরুরি ঔষধ নিয়ে হাজির হলেন এমপি মান্নান কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টেকনাফে মিনিপিক‌আপ বোঝাই বিপুল পরিমাণে ইয়াবাসহ আটক-২ নারায়ণগঞ্জে তিন থানায় নতুন ওসি বলৎকারের তথ্য ফাঁস হওয়ার শঙ্কায় সৈকতকে হত্যা, অভিযুক্ত কিশোর আটক সারাদেশে পর্যাক্রমে চালু হচ্ছে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রম টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২৩ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ জ্বালানি সংকটে কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল বাজারে ধস সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন’র রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ গত দেড় বছর যেভাবে আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন না’গঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটসহ গৃহকর্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ইউএনও হোসনে আরাকে সাতক্ষীরা থেকে এবার রাজশাহীতে বদলি যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজ বাসা থেকে আটক টেকনাফে সড়কের পাশের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ টেকনাফে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ কারবারি নারায়নগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শুভ হত্যার অন্যতম আসামি ‘লাল শুভ’ আটক না’গঞ্জে ফের খু/ন! নিখোঁজের ১দিন পর মিললো মাদ্রাসা ছাত্রের গ/লা/কা/টা মরদেহ না’গঞ্জে মেডিস্টার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকসহ ৩ স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড ড. ইউনূসসহ সকল উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ সোনারগাঁয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা দুই ডিআইজিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা জ্বালানি সংকটে বন্ধ  নারায়ণগঞ্জে একযোগে দুই থানার ওসি প্রত্যাহার রূপগঞ্জে দায়িত্ব নিলেন নবনিযুক্ত ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক অবৈধ স্থাপন উচ্ছেদ কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশে ড্রোন সদৃশ রহস্যময় বস্তু টেকনাফ স্থলবন্দর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত  না’গঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রানার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ ওঠা যুবকের লাশ শনাক্ত আজ থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার আইনের আওতায় আসবে: শিক্ষামন্ত্রী দেশে জ্বালানি সাশ্রয়: আজ থেকে অফিস-ব্যাংকের নতুন সূচি নারায়ণগঞ্জে বন্ধ পোশাক কারখানায় নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার আ’লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ হচ্ছে আইন,থাকছে শাস্তির বিধান নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক-২ সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত-৯৪৭ নারায়ণগঞ্জে চৌদ্দ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার-২ কুষ্টিয়া মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরানো সেই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, দোকান-মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় ইবি শিক্ষক আসমা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ নারায়ণগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিকে ‘সময়ক্ষেপনে’ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শাকিবের হাত জ্যোতির কোমরে,ফারিণের কাঁধে; সমালোচনার ঝড় সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস কুলাউড়ায় ক্ষেতের জমির পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুর মৃ/ত্যু শ্রীমঙ্গলে আলোচিত জুনায়েদ হত্যাকাণ্ডের দুই আসামি গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৯০ শিশু  সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস শুরুর প্রথম ৪০ মিনিট নিজ কক্ষে অবস্থান বাধ্যতামূলক সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন, সারাদেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ  সাবেক নাসিক মেয়র আইভীর জামিন নামঞ্জুর মৌলভীবাজারে মাইক্রোবাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৩ শ্রীমঙ্গলে এক কিশোর নিখোঁজের দু’দিন পর লাশ উদ্ধার রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই হামে ১৯ শিশুর মৃত্যু কুষ্টিয়ায় আ.লীগ নেতাকে ডেকে নিয়ে গু/লি করে হ/ত্যা/র চেষ্টা সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম রেজার ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ইউরোপ যাওয়ার পথে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু, এদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ খুলেছে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৩ দিনের বিরতি শেষে ফের কাল বসছে জাতীয় সংসদ ঢাকাসহ দেশের ১৫টি জেলায় দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দূর্বৃত্তরা ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশসহ সকল হত্যার বিচার হবে: আইজিপি টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী-শিশুসহ নিহত-৫ নারায়ণগঞ্জে এক নিরাপত্তাকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বিয়ের সাড়ে ৩ মাসেই নিভে গেল সৌম্য-অন্তী দম্পতির প্রাণ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা মৌলভীবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত কুলিয়ারচরে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত কুমিল্লায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ নিহত-৫ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ফের ৩ দিনের ছুটিতে সরকারি চাকরিজীবীরা পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ শিশুসহ ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার ডুবে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ বাসচালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভয়াবহ আগুন আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পদ্মায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটির উদ্ধারের সর্বশেষ যা জানা গেছে পদ্মায় বাস পড়ার ঘটনায় বৃষ্টি-ঝড়ো বাতাসে উদ্ধার কাজ ব্যাহত দৌলতদিয়ায় ডুবে যাওয়া বাসটি পদ্মার ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে: ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজারে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে জুলাই যোদ্ধা নিহত ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি আজ ২৫ মার্চ; পৃথিবীর ইতিহাসে নিষ্ঠুর ও নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের কালরাত্রি  মেহেন্দীগঞ্জে পুলিশের সামনে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-৫ দীর্ঘ ছুটি শেষে কাল খুলছে সরকারি অফিস-আদালত ও ব্যাংক কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা গেল সেই ‘সিরিয়াল কিলার’ সাভারের সাইকো সম্রাট লম্বা ছুটি শেষে আগামী রোববার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে কুলিয়ারচরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সড়কে ঝড়ল তিন যুবকের তাজা প্রান ৫ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত-৩, গুরুতর আহত-৫  কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ;চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিনে পূর্বশত্রুতার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত-২ কুমিল্লায় বাস-ট্রেন ভয়াবহ সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত-১২, আহত-১০ হবিগঞ্জে ছবি তোলা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে রনক্ষেত্র, আহত-৩০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদের দিনে দুই দফা সংঘর্ষ, নারীসহ আহত অর্ধশতাধিক দীর্ঘ ৩৬ বছর পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় 

সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে: জনমনে কষ্ট ব্যবসায়িদের বাঁচার লড়াই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫ ৪০৪ বার পড়া হয়েছে

ইব্রাহীম হোসেন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।।

গত ১লা মে ২০২৫ থেকে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সরকার নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫ শতাংশ কম দামে ঔষধ বিক্রি শুরু হয়েছে। যা ইতিপূর্বে ১০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। হঠাৎ করে সাতক্ষীরার জনগণের কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ ক্রয় করার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওযুধের এই দাম‌ বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীনি আলী জানান, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখা ইতিপূর্বে বিগত ফ্যাসিস্টদের দখলে ছিল, অর্থনৈতিকভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সাতক্ষীরা জেলা ভরে গেছিল। সাতক্ষীরা জেলার জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সকল ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় বন্ধ, লাইসেন্স বিহীন দোকান বন্ধ করা, নির্ধারিত তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণ করা, প্রতিটি দোকানে ফার্মাসিস্ট রাখা, ব্রোকার বা ফরিয়াদের কাছ থেকে ঔষধ ক্রয় না করে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে থেকে জনস্বার্থে পাঁচ শতাংশ কম দামে ওষুধ বিক্রয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা ১মে ২০২৫ তারিখ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভেজাল ও নিম্নমানের নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে না চালিয়ে সরকারি সকল নীতিমালার আলোকে সঠিক নিয়মে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এটি সাধারণ দৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে জনস্বার্থে কম নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত, ভোক্তা অধিকার সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত মূল্যের পণ্য বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দেশের অধিকাংশ জেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করা হয়। কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সেখানে জনস্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের উভয়দিক বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম জীবন জীবিকা নির্বাহ এবং ওষুধের ব্যবসাটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় সাতক্ষীরায় ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে তিনি জেলা সকল ওষুধের ব্যবসায়ী এবং ওষুধ ক্রেতাদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার বলে সমিতির সিদ্ধান্তে কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ বিক্রি শুরু করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ঔষধ ব্যবসায়ীদের সমিতির নিকট পুনরায় পূর্বের মূল্যে ঔষধ বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

শহরের রফিকুল ইসলাম নামের (৬৮) একজন রোগী জানান তিনি হাই ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয় এবং ওষুধ খেতে হয়। পেশাই তিনি ছিলেন একজন রং মিস্ত্রি। বর্তমানে অক্ষম শরীরে কোন কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে ছোট্ট একটি মুদি দোকানদার। দ্রব্যমূল্যের বাজারে ছেলেটির একার আয়ে সংসারের ব্যায়ভার বহন করা এবং ওষুধ ক্রাই করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রওশন আলী নামের (৭৫) একজন জানান তিনি হাই প্রেসারের রোগী। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। ছেলে ভাড়ার পিকআপ চালান। এ কারণে তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেন না। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমান দাম বৃদ্ধিতে আরো কষ্টকর হয়ে গেছে। আগে যে ওষুধ ৯০ টাকায় কিনতেন এখন সেটি ৯৫ টাকা কিনতে হচ্ছে।

অপর দিকে শহরের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি উচ্চশিক্ষিত, চাকরি না পেয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ওষুধের দোকান করেন। ২০ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করা ব্যবসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলে তিনি সেখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে মাত্র ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গ্রামের ভিতরে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। তার অনেক ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বছরের পর বছর পড়ে আছে। দুই একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানির প্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ গুলো যথা সময়ে ফেরত নেননি। কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে গেলেও তার পরিবর্তে অন্য ঔষধ প্রদান বা ইনভয়েচ এ এডজাস্ট করেনি। আবার অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়ার সময় একজন প্রতিনিধি ওই কোম্পানির সমস্ত গ্রুপের ওষুধ অর্ডার নেন এবং একসাথে এক কাটুনে সরবরাহ করেন। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এটি অন্য গ্রুপের, ওটি অন্য গ্রুপের, এটা আমার গ্রুপের না এমন তালবাহানা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো উঠায় নিয়ে যায় না। পাতা কাটা ওষুধ, বক্সের ত্রুটি, কোম্পানির পলিসি ইত্যাদি বলে বহুত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পরিবর্তন করতে উঠায় নিয়ে যায় না। তিনি আরো জানান বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সময় কিছু বিশেষ ওষুধের জন্য ক্যাম্পেইন করে ডাক্তারদেরকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন করান। সাময়িক সময় সে ঔষধ গুলো প্রচুর বিক্রি হয়। যার ফলে ফার্মেসি গুলো ঐ ওষুধ রাখতে বাধ্য হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একটি প্রেসক্রিপশনে একজন কাস্টমারের যে কয়টি ওষুধ থাকে তার মধ্যে একটি ওষুধ না পাইলে ওই দোকান থেকে তিনি অন্য দোকানে চলে যান। ক্যাম্পেইন শেষ হলে ডাক্তারেরা ঐ ওষুধ আর লেখেন না। ফলে ঐ ওষুধগুলো বছরের পর বছর পরে থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। মূলধনের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর বসে থাকে।

এসব কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তার মত এমন ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ ব্যবসায়ীর অনেক আছে বলে তিনি জানান।

পারুলিয়া এলাকার একজন ঔষধ ব্যবসায়ী নাহিদ হাসান জানান, অত্র এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওষুধ বিক্রি করে। দেশী ওষুধ ক্রয় মূল্য থেকেও কম দামে বিক্রি করে ইন্ডিয়ান ওষুধ দিগুন থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করেন। এটিতে তারা লাভবান হলেও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে টিকে থাকার জন্য দেশী ওষুধ বিক্রয় করতে ব্যবসায়ীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। যে কারণে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড়েও তারা ওষুধ বিক্রি করে এসেছে। দেশের ভালো মানের ওষুধ কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে দোকানগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রয় করলে ৫ শতাংশ লাভ থাকে। যে লভ্যাংশ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সে কারণে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় করতে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়েছে।

আর যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করিনি এখন তারা মুলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আলিপুর এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায় আক্তারুল ইসলাম জানান, এলাকার মুদিখানার বিভিন্ন দোকানে কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে গিয়ে ফেরি করে ওইসব নিম্নমানের কোম্পানির ঔষধ মুদিখানার দোকানদারদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই মুদিখানার দোকানদারদের কাছ থেকে এলাকার সহজ সরল মানুষ নিম্নমানের ওই ধরনের সব ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অপরদিকে প্রকৃত ঔষধ ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওয়াপাড়া এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী উচ্চশিক্ষিত আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রনি জানান, সকল প্রকার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গ্রামের ভিতরে বলে কোয়ালিটি সম্পন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা সেখানে জান না বা অর্ডার কাটেন না। অনেক সময় অর্ডার কাটলেও ঠিকমতো ঔষধ ডেলিভারি দেন না। যে কারণে ভালো মানের ঔষধের জন্য দোকান বন্ধ রেখে অথবা বাড়তি একজন লোক শহরে গিয়ে যাতায়াতের বাড়তি খরচ করে শহরের দোকানগুলো থেকে পাইকারি ওষুধ কিনে অতি সামান্য লাভে বিক্রি করতে হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শহরের বড় দোকানগুলো বেশি বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। অনেক সময় বড় দোকানগুলো মিটফোর্ড বা হেরাজ মার্কেটের মত জায়গা থেকে নিম্নমানের ওষুধ কুরিয়ারের মাধ্যমে নিয়ে এসে নিয়ে ছোট ছোট দোকানদার ও সাধারণ জনগনের কাছে বিক্রি করে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। এ সকল ওষুধ কোথা থেকে নিয়ে আসা হয় তার জন্য কোম্পানির নির্ধারিত এলাকা কোডের সিল কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের কাছে প্রমোশনের জন্য দেয়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও টার্গেট পূরণের জন্য বড় দোকানগুলোতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাড়তি সুবিধা হিসেবে দিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্ডার নেন। এছাড়া অনেক বড় বড় দোকানগুলোর অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করে। অপরদিকে প্রেসক্রিপশন ঠিকানা দেখে বা যেকোনো ভবে বুঝতে পেরে দূর থেকে আসা অপরিচিত মানুষদের কাছে ওষুধের মূল্য না জানাই তাদের সাথে প্রতারণা করে ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব কারণে বড় দোকানগুলো ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি করে আসছে। অপরদিকে ছোট ছোট দোকানগুলো দিন দিন লস করতে থেকে মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান। দিশেহারা হয়ে পড়েছে বহু ওষুধ ব্যবসায়ী। ঋণের জর্জরিত হয়ে ঠিকমতো ঋণের কিস্তি না দিতে পারে তারা অনেকেই এখন বাড়ি ছাড়া। এছাড়া গ্রামে ওষুধ কিনতে আসা ওষুধ অধিকাংশ মানুষই বাকি লেনদেন করেন। যা বছরে পর বছর হালখাতা করেও পরিশোধ করে না। চলমান এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি জানান।

সুলতানপুর এলাকায় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তিন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন। একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি ড্রাগ লাইসেন্স, একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সনদধরী ফার্মাসিস্ট। সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় ছোট ফার্মেসির জন্য সাইনবোর্ড কর সহ ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। প্রতি দুই বছর পর পর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন কাগজপত্র প্রদান করতে হয়। যেখানে প্রতিবছর আয়কর পরিষদের সনদপত্র প্রদান করতে হয়। প্রতি বছর সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা আই কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ ফার্মেসির জন্য একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সি ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট এবং মডেল ফার্মেসির জন্য এ ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। এই ফার্মাসিস্ট সনদপত্র পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে নবায়ন করতে হয়। অনলাইনে আবেদনের ১৫ দিন পর সনদধারীকে সশরীরে ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সনদপত্র নবায়ন করতে হয়। অনেক সময় একাধিকবার আবেদন করা প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে ঔষধ সংরক্ষণ করার নিয়ম আছে। বর্তমান আবহাওয়ায় এসি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যায় বহুল।

সর্বোপরি সাতক্ষীরায় চলমান ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে একদিকে জনগণের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদিকে ব্যাবসায়ীদের বাঁচার লড়াই এর বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে: জনমনে কষ্ট ব্যবসায়িদের বাঁচার লড়াই

আপডেট সময়- ০১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

ইব্রাহীম হোসেন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।।

গত ১লা মে ২০২৫ থেকে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সরকার নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫ শতাংশ কম দামে ঔষধ বিক্রি শুরু হয়েছে। যা ইতিপূর্বে ১০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। হঠাৎ করে সাতক্ষীরার জনগণের কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ ক্রয় করার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওযুধের এই দাম‌ বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীনি আলী জানান, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখা ইতিপূর্বে বিগত ফ্যাসিস্টদের দখলে ছিল, অর্থনৈতিকভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সাতক্ষীরা জেলা ভরে গেছিল। সাতক্ষীরা জেলার জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সকল ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় বন্ধ, লাইসেন্স বিহীন দোকান বন্ধ করা, নির্ধারিত তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণ করা, প্রতিটি দোকানে ফার্মাসিস্ট রাখা, ব্রোকার বা ফরিয়াদের কাছ থেকে ঔষধ ক্রয় না করে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে থেকে জনস্বার্থে পাঁচ শতাংশ কম দামে ওষুধ বিক্রয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা ১মে ২০২৫ তারিখ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভেজাল ও নিম্নমানের নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে না চালিয়ে সরকারি সকল নীতিমালার আলোকে সঠিক নিয়মে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এটি সাধারণ দৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে জনস্বার্থে কম নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত, ভোক্তা অধিকার সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত মূল্যের পণ্য বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দেশের অধিকাংশ জেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করা হয়। কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সেখানে জনস্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের উভয়দিক বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম জীবন জীবিকা নির্বাহ এবং ওষুধের ব্যবসাটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় সাতক্ষীরায় ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে তিনি জেলা সকল ওষুধের ব্যবসায়ী এবং ওষুধ ক্রেতাদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার বলে সমিতির সিদ্ধান্তে কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ বিক্রি শুরু করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ঔষধ ব্যবসায়ীদের সমিতির নিকট পুনরায় পূর্বের মূল্যে ঔষধ বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

শহরের রফিকুল ইসলাম নামের (৬৮) একজন রোগী জানান তিনি হাই ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয় এবং ওষুধ খেতে হয়। পেশাই তিনি ছিলেন একজন রং মিস্ত্রি। বর্তমানে অক্ষম শরীরে কোন কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে ছোট্ট একটি মুদি দোকানদার। দ্রব্যমূল্যের বাজারে ছেলেটির একার আয়ে সংসারের ব্যায়ভার বহন করা এবং ওষুধ ক্রাই করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রওশন আলী নামের (৭৫) একজন জানান তিনি হাই প্রেসারের রোগী। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। ছেলে ভাড়ার পিকআপ চালান। এ কারণে তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেন না। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমান দাম বৃদ্ধিতে আরো কষ্টকর হয়ে গেছে। আগে যে ওষুধ ৯০ টাকায় কিনতেন এখন সেটি ৯৫ টাকা কিনতে হচ্ছে।

অপর দিকে শহরের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি উচ্চশিক্ষিত, চাকরি না পেয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ওষুধের দোকান করেন। ২০ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করা ব্যবসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলে তিনি সেখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে মাত্র ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গ্রামের ভিতরে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। তার অনেক ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বছরের পর বছর পড়ে আছে। দুই একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানির প্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ গুলো যথা সময়ে ফেরত নেননি। কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে গেলেও তার পরিবর্তে অন্য ঔষধ প্রদান বা ইনভয়েচ এ এডজাস্ট করেনি। আবার অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়ার সময় একজন প্রতিনিধি ওই কোম্পানির সমস্ত গ্রুপের ওষুধ অর্ডার নেন এবং একসাথে এক কাটুনে সরবরাহ করেন। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এটি অন্য গ্রুপের, ওটি অন্য গ্রুপের, এটা আমার গ্রুপের না এমন তালবাহানা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো উঠায় নিয়ে যায় না। পাতা কাটা ওষুধ, বক্সের ত্রুটি, কোম্পানির পলিসি ইত্যাদি বলে বহুত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পরিবর্তন করতে উঠায় নিয়ে যায় না। তিনি আরো জানান বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সময় কিছু বিশেষ ওষুধের জন্য ক্যাম্পেইন করে ডাক্তারদেরকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন করান। সাময়িক সময় সে ঔষধ গুলো প্রচুর বিক্রি হয়। যার ফলে ফার্মেসি গুলো ঐ ওষুধ রাখতে বাধ্য হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একটি প্রেসক্রিপশনে একজন কাস্টমারের যে কয়টি ওষুধ থাকে তার মধ্যে একটি ওষুধ না পাইলে ওই দোকান থেকে তিনি অন্য দোকানে চলে যান। ক্যাম্পেইন শেষ হলে ডাক্তারেরা ঐ ওষুধ আর লেখেন না। ফলে ঐ ওষুধগুলো বছরের পর বছর পরে থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। মূলধনের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর বসে থাকে।

এসব কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তার মত এমন ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ ব্যবসায়ীর অনেক আছে বলে তিনি জানান।

পারুলিয়া এলাকার একজন ঔষধ ব্যবসায়ী নাহিদ হাসান জানান, অত্র এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওষুধ বিক্রি করে। দেশী ওষুধ ক্রয় মূল্য থেকেও কম দামে বিক্রি করে ইন্ডিয়ান ওষুধ দিগুন থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করেন। এটিতে তারা লাভবান হলেও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে টিকে থাকার জন্য দেশী ওষুধ বিক্রয় করতে ব্যবসায়ীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। যে কারণে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড়েও তারা ওষুধ বিক্রি করে এসেছে। দেশের ভালো মানের ওষুধ কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে দোকানগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রয় করলে ৫ শতাংশ লাভ থাকে। যে লভ্যাংশ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সে কারণে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় করতে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়েছে।

আর যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করিনি এখন তারা মুলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আলিপুর এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায় আক্তারুল ইসলাম জানান, এলাকার মুদিখানার বিভিন্ন দোকানে কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে গিয়ে ফেরি করে ওইসব নিম্নমানের কোম্পানির ঔষধ মুদিখানার দোকানদারদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই মুদিখানার দোকানদারদের কাছ থেকে এলাকার সহজ সরল মানুষ নিম্নমানের ওই ধরনের সব ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অপরদিকে প্রকৃত ঔষধ ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওয়াপাড়া এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী উচ্চশিক্ষিত আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রনি জানান, সকল প্রকার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গ্রামের ভিতরে বলে কোয়ালিটি সম্পন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা সেখানে জান না বা অর্ডার কাটেন না। অনেক সময় অর্ডার কাটলেও ঠিকমতো ঔষধ ডেলিভারি দেন না। যে কারণে ভালো মানের ঔষধের জন্য দোকান বন্ধ রেখে অথবা বাড়তি একজন লোক শহরে গিয়ে যাতায়াতের বাড়তি খরচ করে শহরের দোকানগুলো থেকে পাইকারি ওষুধ কিনে অতি সামান্য লাভে বিক্রি করতে হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শহরের বড় দোকানগুলো বেশি বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। অনেক সময় বড় দোকানগুলো মিটফোর্ড বা হেরাজ মার্কেটের মত জায়গা থেকে নিম্নমানের ওষুধ কুরিয়ারের মাধ্যমে নিয়ে এসে নিয়ে ছোট ছোট দোকানদার ও সাধারণ জনগনের কাছে বিক্রি করে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। এ সকল ওষুধ কোথা থেকে নিয়ে আসা হয় তার জন্য কোম্পানির নির্ধারিত এলাকা কোডের সিল কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের কাছে প্রমোশনের জন্য দেয়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও টার্গেট পূরণের জন্য বড় দোকানগুলোতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাড়তি সুবিধা হিসেবে দিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্ডার নেন। এছাড়া অনেক বড় বড় দোকানগুলোর অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করে। অপরদিকে প্রেসক্রিপশন ঠিকানা দেখে বা যেকোনো ভবে বুঝতে পেরে দূর থেকে আসা অপরিচিত মানুষদের কাছে ওষুধের মূল্য না জানাই তাদের সাথে প্রতারণা করে ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব কারণে বড় দোকানগুলো ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি করে আসছে। অপরদিকে ছোট ছোট দোকানগুলো দিন দিন লস করতে থেকে মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান। দিশেহারা হয়ে পড়েছে বহু ওষুধ ব্যবসায়ী। ঋণের জর্জরিত হয়ে ঠিকমতো ঋণের কিস্তি না দিতে পারে তারা অনেকেই এখন বাড়ি ছাড়া। এছাড়া গ্রামে ওষুধ কিনতে আসা ওষুধ অধিকাংশ মানুষই বাকি লেনদেন করেন। যা বছরে পর বছর হালখাতা করেও পরিশোধ করে না। চলমান এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি জানান।

সুলতানপুর এলাকায় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তিন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন। একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি ড্রাগ লাইসেন্স, একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সনদধরী ফার্মাসিস্ট। সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় ছোট ফার্মেসির জন্য সাইনবোর্ড কর সহ ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। প্রতি দুই বছর পর পর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন কাগজপত্র প্রদান করতে হয়। যেখানে প্রতিবছর আয়কর পরিষদের সনদপত্র প্রদান করতে হয়। প্রতি বছর সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা আই কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ ফার্মেসির জন্য একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সি ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট এবং মডেল ফার্মেসির জন্য এ ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। এই ফার্মাসিস্ট সনদপত্র পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে নবায়ন করতে হয়। অনলাইনে আবেদনের ১৫ দিন পর সনদধারীকে সশরীরে ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সনদপত্র নবায়ন করতে হয়। অনেক সময় একাধিকবার আবেদন করা প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে ঔষধ সংরক্ষণ করার নিয়ম আছে। বর্তমান আবহাওয়ায় এসি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যায় বহুল।

সর্বোপরি সাতক্ষীরায় চলমান ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে একদিকে জনগণের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদিকে ব্যাবসায়ীদের বাঁচার লড়াই এর বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন।