ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
একুশের প্রথম প্রহরে নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে ডিসি-এসপির শ্রদ্ধা শহীদদের স্মরণে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ভাষা শহীদদের প্রতি জিয়া পরিবারের শ্রদ্ধা নিবেদন এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওরে পুরোনো পরিবেশে ফিরে নিতে চায় মৌলভীবাজারের ৬০৩ টি বিদ্যালয়ে নেই কোন “শহিদ মিনার” দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন নারায়ণগঞ্জে র‍্যাব-ডিবি পরিচয়ধারী চাঁদাবাজ ‘সোর্স বাবু’ অস্ত্রসহ র‍্যাবের জালে দায়িত্ব নিয়েই মৌলভীবাজারে সফরে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক মৌলভীবাজারে র‍্যাব-৯’র অভিযানে হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত নারী আসামি গ্রেপ্তার  উখিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার রূপগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যাকান্ড; পিবিআই’র রহস্য উদ্ঘাটন, ১জনের মৃত্যুদণ্ড, অপর সহোদরের কারাদণ্ড টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ২ লাখ ৭০ হাজার ইয়াবা জব্দ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার অচলাবস্থা, রোগীকেই কিনতে হচ্ছে গজ-ব্যান্ডেজ টেকনাফ সদর দম্বরী সৈকতে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার হিমাগারের অভাবে মৌলভীবাজারের কৃষকেরা বিপাকে কলেজে ঈদের ছুটি নিয়ে বড় সুখবর স্কুলে ঈদের ছুটি কবে? জানাল মাউশি সচিবালয়ে আজ প্রথম অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষাসহ ৫ দপ্তর নিজেই সামলাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আ’লীগের ৩ নেতার জামিন বুধবার চাঁদ দেখা গেলে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু প্রধানমন্ত্রীর পিএস-এপিএস-প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ পেলেন যারা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন ভোটার হওয়ার ৪৯ দিনের মাথায় সংসদ সদস্য ৫৩ দিনেই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম বিভাগ থেকেই ১০ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান কমলগঞ্জে পারিবারিক কলহে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহনন রাজনগরে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার এআই প্রযুক্তি শুধু নতুন সফটওয়্যার নয়; এটি অর্থনীতি- কুষ্টিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ-৩ গাইবান্ধায় যুবদল নেতার হাতের আঙুল বিচ্ছিন্নসহ দুই পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে আরাকান আর্মির হাতে আটক ৭৩ জেলের প্রত্যাবর্তন নিজ কর্মফলের প্রায়শ্চিত্ত করুন, রিজওয়ানার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক জুলকারনাইন আজ জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী নারায়ণগঞ্জে সেপটিক ট্যাংকে মিলল নারীর ক্ষতবিক্ষত অর্ধগলিত মরদেহ আজ পদত্যাগের পর দেশ ছাড়তে পারেন ২ উপদেষ্টা কুষ্টিয়ায় চার সংসদীয় আসনে ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত নবনির্বাচিত সরকারের শপথের পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ আটক-২ সম্ভাব্য দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল বঙ্গভবন নয়, নতুন সরকারের শপথ এবার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে  নির্বাচিত নতুন সরকারের শপথ মঙ্গলবার, ১৩ দেশের সরকারপ্রধান আমন্ত্রিত  ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, শেখ হাসিনাকে ফেরানোসহ যেসকল বিষয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন টেকনাফে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, অপহৃত কিশোর উদ্ধার দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের শরীফুল আলম গাইবান্ধায় জাপা’র ভরাডুবি: মহাসচিব শামীম হায়দারসহ ২৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি আজ পহেলা ফাগুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘ফাঁসির মঞ্চ’ থেকে ফিরে সংসদ সদস্য হলেন বাবর-পিন্টু-আজহার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তুড়ি দিয়ে চার হেভিওয়েট প্রার্থীদের উড়িয়ে এনসিপির জয় নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় ৫টি আসনের ৪টিতে বিএনপি, ১টিতে এনসিপির জয় রংপুরে জাতীয় পার্টির ধস, জয় মেলেনি একটি আসনেও বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী আমির খসরু কক্সবাজার-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারিয়ে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের জয় আজও মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, চলবে অন্যসকল বাহন সংসদ নির্বাচনে ৭ নারী প্রার্থীর বিশাল জয় ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২,আসনে বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নারায়ণগঞ্জ-৫, আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ নারায়ণগঞ্জ-৩, আসনে জামায়াতকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী আজহারুল ইসলাম মান্নান কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান পটুয়াখালী-৩, আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী নুরুল হক নূর ভোলা-১’ জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে ২য় বার জয়ী আন্দালিব রহমান পার্থ নারায়ণগঞ্জ-০১,বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী দিপু ভূঁইয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম অবরুদ্ধ, লাঠিচার্জে বিএনপির মুন্সীগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক-৫ ভোটগ্রহণ শেষ, শুরু হয়েছে গণনা কুমিল্লা-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন দৌলতপুরে সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ গুলি উদ্ধার না’গঞ্জে ঝুঁকিপূর্ন বলে কোন কথা নেই, নিরাপত্তার চাদরে পুরো জেলা: জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাল ভোট দিলেই সাত বছরের কারাদণ্ড সারাদেশে মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে ৪ ধরনের যান চলাচল নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে করণীয় ও বর্জনীয় না’গঞ্জে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৩হাজার ফোর্স মাঠে থাকবে: ডিসি নির্বাচনকালীন বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে ২২ʼশ পুলিশ সদস্য  প্রচারণার শেষ দিনেও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন বিএনপি প্রার্থী শরিফুল ইসলাম গাইবান্ধায় ২১ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে ৪০ প্রার্থীর শেষ প্রতিশ্রুতি সারাদেশে ২৯৯ আসনে ব্যালট পেপার সরবরাহ সম্পন্ন পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান জাতীয় প্রেসক্লাবের টয়লেটে পড়েছিল সাংবাদিক আলী মাসুদের নিথর মরদেহ দেশজুড়ে নির্বাচনকালীন অপরাধ দমনে মাঠে নামছে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘আজ টেডি ডে’ প্রিয় মানুষকে টেডি উপহার দেওয়ার দিন কক্সবাজারে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় কুষ্টিয়ায় সাবলেট বাসা থেকে মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার মঙ্গলবার সকাল থেকে সকল ধরনের মিছিল-সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটির আওতায় বাইরে থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ‘ব্লেইম গেম’ এর সুযোগ নেই: চট্রগ্রাম ডিসি জাহিদুল ইসলাম ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়টি প্রত্যাহার করেছে ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় জানাল ইসি সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি চাকুরিজীবিরা ফের টানা ৪ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য‘ ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির দৃষ্টান্ত’: টিআইবি এবারের একুশে বইমেলায় ৩২১ প্রকাশকের অংশ না নেওয়ার ঘোষণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চুড়ান্ত ফল প্রকাশ দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৭ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার, আটক-১

সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে: জনমনে কষ্ট ব্যবসায়িদের বাঁচার লড়াই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫ ৩৬০ বার পড়া হয়েছে

ইব্রাহীম হোসেন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।।

গত ১লা মে ২০২৫ থেকে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সরকার নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫ শতাংশ কম দামে ঔষধ বিক্রি শুরু হয়েছে। যা ইতিপূর্বে ১০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। হঠাৎ করে সাতক্ষীরার জনগণের কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ ক্রয় করার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওযুধের এই দাম‌ বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীনি আলী জানান, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখা ইতিপূর্বে বিগত ফ্যাসিস্টদের দখলে ছিল, অর্থনৈতিকভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সাতক্ষীরা জেলা ভরে গেছিল। সাতক্ষীরা জেলার জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সকল ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় বন্ধ, লাইসেন্স বিহীন দোকান বন্ধ করা, নির্ধারিত তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণ করা, প্রতিটি দোকানে ফার্মাসিস্ট রাখা, ব্রোকার বা ফরিয়াদের কাছ থেকে ঔষধ ক্রয় না করে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে থেকে জনস্বার্থে পাঁচ শতাংশ কম দামে ওষুধ বিক্রয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা ১মে ২০২৫ তারিখ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভেজাল ও নিম্নমানের নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে না চালিয়ে সরকারি সকল নীতিমালার আলোকে সঠিক নিয়মে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এটি সাধারণ দৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে জনস্বার্থে কম নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত, ভোক্তা অধিকার সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত মূল্যের পণ্য বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দেশের অধিকাংশ জেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করা হয়। কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সেখানে জনস্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের উভয়দিক বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম জীবন জীবিকা নির্বাহ এবং ওষুধের ব্যবসাটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় সাতক্ষীরায় ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে তিনি জেলা সকল ওষুধের ব্যবসায়ী এবং ওষুধ ক্রেতাদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার বলে সমিতির সিদ্ধান্তে কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ বিক্রি শুরু করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ঔষধ ব্যবসায়ীদের সমিতির নিকট পুনরায় পূর্বের মূল্যে ঔষধ বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

শহরের রফিকুল ইসলাম নামের (৬৮) একজন রোগী জানান তিনি হাই ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয় এবং ওষুধ খেতে হয়। পেশাই তিনি ছিলেন একজন রং মিস্ত্রি। বর্তমানে অক্ষম শরীরে কোন কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে ছোট্ট একটি মুদি দোকানদার। দ্রব্যমূল্যের বাজারে ছেলেটির একার আয়ে সংসারের ব্যায়ভার বহন করা এবং ওষুধ ক্রাই করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রওশন আলী নামের (৭৫) একজন জানান তিনি হাই প্রেসারের রোগী। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। ছেলে ভাড়ার পিকআপ চালান। এ কারণে তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেন না। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমান দাম বৃদ্ধিতে আরো কষ্টকর হয়ে গেছে। আগে যে ওষুধ ৯০ টাকায় কিনতেন এখন সেটি ৯৫ টাকা কিনতে হচ্ছে।

অপর দিকে শহরের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি উচ্চশিক্ষিত, চাকরি না পেয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ওষুধের দোকান করেন। ২০ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করা ব্যবসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলে তিনি সেখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে মাত্র ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গ্রামের ভিতরে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। তার অনেক ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বছরের পর বছর পড়ে আছে। দুই একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানির প্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ গুলো যথা সময়ে ফেরত নেননি। কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে গেলেও তার পরিবর্তে অন্য ঔষধ প্রদান বা ইনভয়েচ এ এডজাস্ট করেনি। আবার অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়ার সময় একজন প্রতিনিধি ওই কোম্পানির সমস্ত গ্রুপের ওষুধ অর্ডার নেন এবং একসাথে এক কাটুনে সরবরাহ করেন। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এটি অন্য গ্রুপের, ওটি অন্য গ্রুপের, এটা আমার গ্রুপের না এমন তালবাহানা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো উঠায় নিয়ে যায় না। পাতা কাটা ওষুধ, বক্সের ত্রুটি, কোম্পানির পলিসি ইত্যাদি বলে বহুত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পরিবর্তন করতে উঠায় নিয়ে যায় না। তিনি আরো জানান বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সময় কিছু বিশেষ ওষুধের জন্য ক্যাম্পেইন করে ডাক্তারদেরকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন করান। সাময়িক সময় সে ঔষধ গুলো প্রচুর বিক্রি হয়। যার ফলে ফার্মেসি গুলো ঐ ওষুধ রাখতে বাধ্য হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একটি প্রেসক্রিপশনে একজন কাস্টমারের যে কয়টি ওষুধ থাকে তার মধ্যে একটি ওষুধ না পাইলে ওই দোকান থেকে তিনি অন্য দোকানে চলে যান। ক্যাম্পেইন শেষ হলে ডাক্তারেরা ঐ ওষুধ আর লেখেন না। ফলে ঐ ওষুধগুলো বছরের পর বছর পরে থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। মূলধনের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর বসে থাকে।

এসব কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তার মত এমন ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ ব্যবসায়ীর অনেক আছে বলে তিনি জানান।

পারুলিয়া এলাকার একজন ঔষধ ব্যবসায়ী নাহিদ হাসান জানান, অত্র এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওষুধ বিক্রি করে। দেশী ওষুধ ক্রয় মূল্য থেকেও কম দামে বিক্রি করে ইন্ডিয়ান ওষুধ দিগুন থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করেন। এটিতে তারা লাভবান হলেও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে টিকে থাকার জন্য দেশী ওষুধ বিক্রয় করতে ব্যবসায়ীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। যে কারণে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড়েও তারা ওষুধ বিক্রি করে এসেছে। দেশের ভালো মানের ওষুধ কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে দোকানগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রয় করলে ৫ শতাংশ লাভ থাকে। যে লভ্যাংশ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সে কারণে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় করতে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়েছে।

আর যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করিনি এখন তারা মুলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আলিপুর এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায় আক্তারুল ইসলাম জানান, এলাকার মুদিখানার বিভিন্ন দোকানে কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে গিয়ে ফেরি করে ওইসব নিম্নমানের কোম্পানির ঔষধ মুদিখানার দোকানদারদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই মুদিখানার দোকানদারদের কাছ থেকে এলাকার সহজ সরল মানুষ নিম্নমানের ওই ধরনের সব ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অপরদিকে প্রকৃত ঔষধ ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওয়াপাড়া এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী উচ্চশিক্ষিত আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রনি জানান, সকল প্রকার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গ্রামের ভিতরে বলে কোয়ালিটি সম্পন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা সেখানে জান না বা অর্ডার কাটেন না। অনেক সময় অর্ডার কাটলেও ঠিকমতো ঔষধ ডেলিভারি দেন না। যে কারণে ভালো মানের ঔষধের জন্য দোকান বন্ধ রেখে অথবা বাড়তি একজন লোক শহরে গিয়ে যাতায়াতের বাড়তি খরচ করে শহরের দোকানগুলো থেকে পাইকারি ওষুধ কিনে অতি সামান্য লাভে বিক্রি করতে হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শহরের বড় দোকানগুলো বেশি বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। অনেক সময় বড় দোকানগুলো মিটফোর্ড বা হেরাজ মার্কেটের মত জায়গা থেকে নিম্নমানের ওষুধ কুরিয়ারের মাধ্যমে নিয়ে এসে নিয়ে ছোট ছোট দোকানদার ও সাধারণ জনগনের কাছে বিক্রি করে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। এ সকল ওষুধ কোথা থেকে নিয়ে আসা হয় তার জন্য কোম্পানির নির্ধারিত এলাকা কোডের সিল কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের কাছে প্রমোশনের জন্য দেয়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও টার্গেট পূরণের জন্য বড় দোকানগুলোতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাড়তি সুবিধা হিসেবে দিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্ডার নেন। এছাড়া অনেক বড় বড় দোকানগুলোর অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করে। অপরদিকে প্রেসক্রিপশন ঠিকানা দেখে বা যেকোনো ভবে বুঝতে পেরে দূর থেকে আসা অপরিচিত মানুষদের কাছে ওষুধের মূল্য না জানাই তাদের সাথে প্রতারণা করে ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব কারণে বড় দোকানগুলো ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি করে আসছে। অপরদিকে ছোট ছোট দোকানগুলো দিন দিন লস করতে থেকে মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান। দিশেহারা হয়ে পড়েছে বহু ওষুধ ব্যবসায়ী। ঋণের জর্জরিত হয়ে ঠিকমতো ঋণের কিস্তি না দিতে পারে তারা অনেকেই এখন বাড়ি ছাড়া। এছাড়া গ্রামে ওষুধ কিনতে আসা ওষুধ অধিকাংশ মানুষই বাকি লেনদেন করেন। যা বছরে পর বছর হালখাতা করেও পরিশোধ করে না। চলমান এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি জানান।

সুলতানপুর এলাকায় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তিন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন। একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি ড্রাগ লাইসেন্স, একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সনদধরী ফার্মাসিস্ট। সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় ছোট ফার্মেসির জন্য সাইনবোর্ড কর সহ ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। প্রতি দুই বছর পর পর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন কাগজপত্র প্রদান করতে হয়। যেখানে প্রতিবছর আয়কর পরিষদের সনদপত্র প্রদান করতে হয়। প্রতি বছর সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা আই কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ ফার্মেসির জন্য একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সি ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট এবং মডেল ফার্মেসির জন্য এ ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। এই ফার্মাসিস্ট সনদপত্র পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে নবায়ন করতে হয়। অনলাইনে আবেদনের ১৫ দিন পর সনদধারীকে সশরীরে ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সনদপত্র নবায়ন করতে হয়। অনেক সময় একাধিকবার আবেদন করা প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে ঔষধ সংরক্ষণ করার নিয়ম আছে। বর্তমান আবহাওয়ায় এসি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যায় বহুল।

সর্বোপরি সাতক্ষীরায় চলমান ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে একদিকে জনগণের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদিকে ব্যাবসায়ীদের বাঁচার লড়াই এর বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে: জনমনে কষ্ট ব্যবসায়িদের বাঁচার লড়াই

আপডেট সময়- ০১:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

ইব্রাহীম হোসেন,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।।

গত ১লা মে ২০২৫ থেকে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সরকার নির্ধারিত মূল্যের উপর ৫ শতাংশ কম দামে ঔষধ বিক্রি শুরু হয়েছে। যা ইতিপূর্বে ১০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। হঠাৎ করে সাতক্ষীরার জনগণের কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ ক্রয় করার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওযুধের এই দাম‌ বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীনি আলী জানান, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখা ইতিপূর্বে বিগত ফ্যাসিস্টদের দখলে ছিল, অর্থনৈতিকভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সাতক্ষীরা জেলা ভরে গেছিল। সাতক্ষীরা জেলার জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী সকল ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় বন্ধ, লাইসেন্স বিহীন দোকান বন্ধ করা, নির্ধারিত তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণ করা, প্রতিটি দোকানে ফার্মাসিস্ট রাখা, ব্রোকার বা ফরিয়াদের কাছ থেকে ঔষধ ক্রয় না করে সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ ক্রয় করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে থেকে জনস্বার্থে পাঁচ শতাংশ কম দামে ওষুধ বিক্রয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা ১মে ২০২৫ তারিখ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভেজাল ও নিম্নমানের নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের অপপ্রচারে না চালিয়ে সরকারি সকল নীতিমালার আলোকে সঠিক নিয়মে ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এটি সাধারণ দৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে জনস্বার্থে কম নেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত, ভোক্তা অধিকার সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত মূল্যের পণ্য বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দেশের অধিকাংশ জেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করা হয়। কোন ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সেখানে জনস্বার্থ ও ব্যবসায়ীদের উভয়দিক বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম জীবন জীবিকা নির্বাহ এবং ওষুধের ব্যবসাটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় সাতক্ষীরায় ওষুধ ব্যবসা পরিচালনা করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে তিনি জেলা সকল ওষুধের ব্যবসায়ী এবং ওষুধ ক্রেতাদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার বলে সমিতির সিদ্ধান্তে কোন কারণ ছাড়াই এই দামে ঔষধ বিক্রি শুরু করার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ঔষধ ব্যবসায়ীদের সমিতির নিকট পুনরায় পূর্বের মূল্যে ঔষধ বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে।

শহরের রফিকুল ইসলাম নামের (৬৮) একজন রোগী জানান তিনি হাই ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয় এবং ওষুধ খেতে হয়। পেশাই তিনি ছিলেন একজন রং মিস্ত্রি। বর্তমানে অক্ষম শরীরে কোন কাজ করতে পারেন না। একমাত্র ছেলে ছোট্ট একটি মুদি দোকানদার। দ্রব্যমূল্যের বাজারে ছেলেটির একার আয়ে সংসারের ব্যায়ভার বহন করা এবং ওষুধ ক্রাই করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

রওশন আলী নামের (৭৫) একজন জানান তিনি হাই প্রেসারের রোগী। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। ছেলে ভাড়ার পিকআপ চালান। এ কারণে তিনি নিয়মিত ওষুধ খেতে পারেন না। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমান দাম বৃদ্ধিতে আরো কষ্টকর হয়ে গেছে। আগে যে ওষুধ ৯০ টাকায় কিনতেন এখন সেটি ৯৫ টাকা কিনতে হচ্ছে।

অপর দিকে শহরের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি উচ্চশিক্ষিত, চাকরি না পেয়ে আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ওষুধের দোকান করেন। ২০ লক্ষ টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করা ব্যবসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলে তিনি সেখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে মাত্র ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গ্রামের ভিতরে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করছে। তার অনেক ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে বছরের পর বছর পড়ে আছে। দুই একটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ কোম্পানির প্রতিনিধিরা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ গুলো যথা সময়ে ফেরত নেননি। কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে গেলেও তার পরিবর্তে অন্য ঔষধ প্রদান বা ইনভয়েচ এ এডজাস্ট করেনি। আবার অনেক কোম্পানি অর্ডার নেয়ার সময় একজন প্রতিনিধি ওই কোম্পানির সমস্ত গ্রুপের ওষুধ অর্ডার নেন এবং একসাথে এক কাটুনে সরবরাহ করেন। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এটি অন্য গ্রুপের, ওটি অন্য গ্রুপের, এটা আমার গ্রুপের না এমন তালবাহানা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো উঠায় নিয়ে যায় না। পাতা কাটা ওষুধ, বক্সের ত্রুটি, কোম্পানির পলিসি ইত্যাদি বলে বহুত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পরিবর্তন করতে উঠায় নিয়ে যায় না। তিনি আরো জানান বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সময় কিছু বিশেষ ওষুধের জন্য ক্যাম্পেইন করে ডাক্তারদেরকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন করান। সাময়িক সময় সে ঔষধ গুলো প্রচুর বিক্রি হয়। যার ফলে ফার্মেসি গুলো ঐ ওষুধ রাখতে বাধ্য হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, একটি প্রেসক্রিপশনে একজন কাস্টমারের যে কয়টি ওষুধ থাকে তার মধ্যে একটি ওষুধ না পাইলে ওই দোকান থেকে তিনি অন্য দোকানে চলে যান। ক্যাম্পেইন শেষ হলে ডাক্তারেরা ঐ ওষুধ আর লেখেন না। ফলে ঐ ওষুধগুলো বছরের পর বছর পরে থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। মূলধনের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর বসে থাকে।

এসব কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তার মত এমন ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ ব্যবসায়ীর অনেক আছে বলে তিনি জানান।

পারুলিয়া এলাকার একজন ঔষধ ব্যবসায়ী নাহিদ হাসান জানান, অত্র এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওষুধ বিক্রি করে। দেশী ওষুধ ক্রয় মূল্য থেকেও কম দামে বিক্রি করে ইন্ডিয়ান ওষুধ দিগুন থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করেন। এটিতে তারা লাভবান হলেও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে টিকে থাকার জন্য দেশী ওষুধ বিক্রয় করতে ব্যবসায়ীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। যে কারণে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড়েও তারা ওষুধ বিক্রি করে এসেছে। দেশের ভালো মানের ওষুধ কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে দোকানগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রয় করলে ৫ শতাংশ লাভ থাকে। যে লভ্যাংশ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সে কারণে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রয় করতে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়েছে।

আর যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করিনি এখন তারা মুলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আলিপুর এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায় আক্তারুল ইসলাম জানান, এলাকার মুদিখানার বিভিন্ন দোকানে কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে। এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা দোকানে দোকানে গিয়ে ফেরি করে ওইসব নিম্নমানের কোম্পানির ঔষধ মুদিখানার দোকানদারদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স ছাড়াই মুদিখানার দোকানদারদের কাছ থেকে এলাকার সহজ সরল মানুষ নিম্নমানের ওই ধরনের সব ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অপরদিকে প্রকৃত ঔষধ ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওয়াপাড়া এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী উচ্চশিক্ষিত আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রনি জানান, সকল প্রকার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গ্রামের ভিতরে বলে কোয়ালিটি সম্পন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা সেখানে জান না বা অর্ডার কাটেন না। অনেক সময় অর্ডার কাটলেও ঠিকমতো ঔষধ ডেলিভারি দেন না। যে কারণে ভালো মানের ঔষধের জন্য দোকান বন্ধ রেখে অথবা বাড়তি একজন লোক শহরে গিয়ে যাতায়াতের বাড়তি খরচ করে শহরের দোকানগুলো থেকে পাইকারি ওষুধ কিনে অতি সামান্য লাভে বিক্রি করতে হয়। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শহরের বড় দোকানগুলো বেশি বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। অনেক সময় বড় দোকানগুলো মিটফোর্ড বা হেরাজ মার্কেটের মত জায়গা থেকে নিম্নমানের ওষুধ কুরিয়ারের মাধ্যমে নিয়ে এসে নিয়ে ছোট ছোট দোকানদার ও সাধারণ জনগনের কাছে বিক্রি করে তাদের লাভ পুষিয়ে নেন। এ সকল ওষুধ কোথা থেকে নিয়ে আসা হয় তার জন্য কোম্পানির নির্ধারিত এলাকা কোডের সিল কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডাক্তারদের কাছে প্রমোশনের জন্য দেয়া ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও টার্গেট পূরণের জন্য বড় দোকানগুলোতে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাড়তি সুবিধা হিসেবে দিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্ডার নেন। এছাড়া অনেক বড় বড় দোকানগুলোর অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করে। অপরদিকে প্রেসক্রিপশন ঠিকানা দেখে বা যেকোনো ভবে বুঝতে পেরে দূর থেকে আসা অপরিচিত মানুষদের কাছে ওষুধের মূল্য না জানাই তাদের সাথে প্রতারণা করে ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ আছে। এসব কারণে বড় দোকানগুলো ১০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি করে আসছে। অপরদিকে ছোট ছোট দোকানগুলো দিন দিন লস করতে থেকে মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান। দিশেহারা হয়ে পড়েছে বহু ওষুধ ব্যবসায়ী। ঋণের জর্জরিত হয়ে ঠিকমতো ঋণের কিস্তি না দিতে পারে তারা অনেকেই এখন বাড়ি ছাড়া। এছাড়া গ্রামে ওষুধ কিনতে আসা ওষুধ অধিকাংশ মানুষই বাকি লেনদেন করেন। যা বছরে পর বছর হালখাতা করেও পরিশোধ করে না। চলমান এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি জানান।

সুলতানপুর এলাকায় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তিন ধরনের লাইসেন্স প্রয়োজন। একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি ড্রাগ লাইসেন্স, একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সনদধরী ফার্মাসিস্ট। সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় ছোট ফার্মেসির জন্য সাইনবোর্ড কর সহ ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। প্রতি দুই বছর পর পর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন কাগজপত্র প্রদান করতে হয়। যেখানে প্রতিবছর আয়কর পরিষদের সনদপত্র প্রদান করতে হয়। প্রতি বছর সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা আই কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ ফার্মেসির জন্য একজন ট্রেনিং প্রাপ্ত সি ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট এবং মডেল ফার্মেসির জন্য এ ক্যাটাগরি সনদধরী ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। এই ফার্মাসিস্ট সনদপত্র পাঁচ বছর পর পর বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল থেকে নবায়ন করতে হয়। অনলাইনে আবেদনের ১৫ দিন পর সনদধারীকে সশরীরে ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সনদপত্র নবায়ন করতে হয়। অনেক সময় একাধিকবার আবেদন করা প্রয়োজন হয়। এছাড়া ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে ঔষধ সংরক্ষণ করার নিয়ম আছে। বর্তমান আবহাওয়ায় এসি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যায় বহুল।

সর্বোপরি সাতক্ষীরায় চলমান ঔষধের দাম‌ বৃদ্ধিতে একদিকে জনগণের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্যদিকে ব্যাবসায়ীদের বাঁচার লড়াই এর বিকল্প নেই বলে তারা জানিয়েছেন।