মরদেহের ওপর রাখা চিরকুটে মিলল পরকীয়া ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময়- ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ঘরের জানালার গ্রিলে বাধা নিহত স্ত্রী, পাশেই দুই মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত
একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে লোমহর্ষক হত্যা..!
অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।
ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে লোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহের ওপর কম্পিউটারে টাইপ করা একই অভিযোগপত্রের কপি উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত ওই অভিযোগপত্রে নিহত স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (৯ ম) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি প্রবাসী বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া (৪০) গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে।
পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যাকান্ডের পর প্রতিটি লাশের ওপর একটি করে লিখিত অভিযোগের কপি রাখা ছিল। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী শারমিন স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন। এ ছাড়া রাজু নামের এক খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে শারমিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, গত ৩ মে শারমিন ও তার প্রেমিকসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোরকানকে একটি রুমে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-এসপি (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচটি লাশের ওপরই কম্পিউটারে টাইপ করা এই অভিযোগের আলাদা আলাদা কপি পাওয়া গেছে। এটি গোপালগঞ্জ থানায় জমা দেয়া হয়েছিল কি না, নাকি এটি কেবল একটি চিরকুট হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল—তা আমরা যাচাই করছি। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোরকান মিয়া ওই বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন।
শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই বর্বরোচিত লোমহর্ষক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকালে প্রতিবেশীরা দীর্ঘক্ষণ ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে উঁকি দিয়ে রক্তাক্ত মরদেহগুলো দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে–নিহত শারমিন খানম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মো. শাহাদাত মোল্যার মেয়ে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পুলিশ মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিউজটি শেয়ার করুন..

-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ



































































































