আসন্নবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত, বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক(ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত রায়হান কবির।
তিনি বলেছেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এখন পর্যন্ত জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের বড় ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দৈনিক সমকালীন কাগজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এসময় তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি মনিটরিংয়ের জন্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন।পাশাপাশি তাদের সঙ্গে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এর ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি এবং শঙ্কাও নেই। কারন আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আচরণবিধি বাস্তবায়ন করেছি। যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের দিন কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা প্রশাসক(ডিসি) বলেন, “ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন থাকবে। মোবাইল ফোর্স, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং রিজার্ভ ফোর্সসহ সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী মোতায়েনও সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৩ হাজারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগন দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক মাঠে থাকবেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়াও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসার উপস্থিত থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নিকটবর্তী স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত সাড়া দেবে।আমরা আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
ভোটকেন্দ্রের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ডিসি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে ভোটার ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাইরের এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স টহলে থাকবে।
জেলার নিরাপত্তা প্রযুক্তির বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলার সব ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা কেন্দ্র এবং প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫১টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে, যা জেলা পর্যায় ছাড়াও ঢাকা থেকে প্রধান পুলিশ কার্যালয় থেকে মনিটর করা যাবে। এসব ক্যামেরার নেটওয়ার্ক ও শব্দ ধারণক্ষমতাও অত্যন্ত উন্নত বলে জানান ডিসি।
ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, জেলায় প্রায় ১২ হাজার ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের জানানো হয়েছে, এবারের নির্বাচন ব্যতিক্রমধর্মী এবং এখানে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। ভোট কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা কোনো চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়া দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
ভোটারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক(ডিসি) বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মোবাইল ফোর্স মোতায়নের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত আমরা এতে সফল। ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন। তাদের দেওয়া ভোট সঠিকভাবে গণনা করা হবে এবং যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তিনিই প্রকৃত পক্ষে নির্বাচিত হবেন।তিনি আরও জানান, নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন।





































































































