ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক গনতন্ত্র ও মানবাধিকার সংগঠনে মনোনীত যারা জাপানের একটি জনহীন রেলওয়ে স্টেশন শুধুমাত্র এক ছাত্রীর জন্য এখনও চালু রয়েছে মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙনে ঝুঁকিতে পুরাতন ঐতিহ্যবাহী দিঘিরপাড় বাজার শ্রীমঙ্গলে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আইনজীবী নিহত,আহত-২ নকলায় জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্ত প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কুলাউড়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে ভিক্ষুকের অর্থ আত্মসাৎ মাথিউড়া চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি: চা শ্রমিক ফেডারেশন মৌলভীবাজারে বন্যার পানি না নামায়, ২৩৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ  সোনারগাঁয়ে ঔষধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি: ৭০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট নকলার ইউএনও শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ায় যুবফোরামের সম্মাননা স্মারক প্রদান

ভারতের উত্তরপূর্ব বিশ্বের অন্যতম আশ্চর্যের অঞ্চল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪ ২৬ বার পড়া হয়েছে

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
বাংলাদেশের মানুষেরা শুধু ভারতই নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে এবং বিভিন্ন কার্যে যেতে অভ্যস্ত। অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত এবং নাগরিক। চিকিৎসার জন্য প্রচুর বাংলাদেশী ভারতে যেমন আসেন তেমনি ব্যবসা ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও তারা ভারতে আসেন।
কিন্তু ভারতের পূর্বত্তরের রাজ্যগুলিতে কজন আসেন!!! অথচ এই অঞ্চল বিভিন্ন ভাবে বিশ্বে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে।
অসমের মজুলি দ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ। খুব সুন্দর স্থান।
কাজিরাঙ্গা অভয়ারণ্য গেলে প্রান জুড়িয়ে যাবে। এখন দাঁড়ালো হাতি ছাড়াও খর্গ ধারী গণ্ডার দেখতে পাওয়া যাবে।
ব্রহ্মপুত্রের বগিবিল ব্রিজ সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু। এই সেতু অসমকে সরাসরি যুক্ত করেছে অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে।
মেঘালয়ের মশিনগাও বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপাতের স্থান। সারা বছর ধরেই এখানে বৃষ্টিপাত হয়।
আসলে যেটা বলতে চেয়েছিলাম,সেটা হলো মিজোরাম রাজ্য। খ্রিস্টান সম্প্রদায় আধিক্য এই ছোট্ট রাজ্য সভ্য দুনিয়ার অন্যতম নিদর্শন।
আমরা আগে দেখেছি লন্ডনে বিভিন্ন রাস্তার ধারে অনুমোদিত স্থানে কাগজের বা পত্র পত্রিকার স্টল। বিক্রেতাহীন স্টল। সারি সারি পত্রিকা,ম্যাগাজিন সাজানো থাকে। ক্রেতারা পছন্দ মতো পত্রিকা বেছে নিয়ে নির্দিষ্ট বক্সে মূল্য রেখে দেন। কিন্তু কোনদিন কোন হেরাফেরী হয়নি। দোকানী শেষ পর্বে এসে বাক্স খুলে মূল্য বুঝে নেন। এই সততা অন্তত আমাদের উপ মহাদেশে কল্পনাতীত। বিশেষ করে ভারত,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে। কিন্তু এর একমাত্র ব্যতিক্রম ভারতের ছোট্ট রাজ্য মিজোরাম। রাজধানী আইজলে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন দিকদিয়েই ব্যতিক্রম এই ছোট্ট রাজ্যটি।
ভারতবর্ষের মধ্যে এক অন্য রকমের শহর আইজল, সম্পূর্ণ নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থাকা এই শহরের মানুষদের অপরাধ প্রবণতা নেই বললেই চলে ।
 ভারতবর্ষের উত্তর পূর্বের রাজ্য মিজোরামের রাজধানী শহরে গেলে আপনি দেখতে পাবেন রাস্তার দু’ধার ধরে সারি সারি দোকান। ক্রেতারা যার যা প্রয়োজন নিজে হাতেই নিয়ে নিচ্ছেন। ঠিক যেমনটা শপিং মলে হয়। তবে শপিং মলের মতো দাম নেওয়ার জন্য কেউ নেই। অর্থাৎ মালিক, কর্মচারীর বালাই নেই। ক্রেতারা পছন্দসই জিনিস নির্ধারিত দাম জমা করে নিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও কোনো গড়মিল বা আত্মসাতের প্রশ্নই নেই।
♦️♦️হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন এমন একটি অদ্ভুত শহর আছে আমাদের দেশ ভারতবর্ষেই। যেখানে এই ধরনের রীতিনীতি বেশ অবাক করে দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষ সহ বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের। ভারতবর্ষের উত্তর-পূর্বের ছোট রাজ্য মিজোরাম। মিজোরামের রাজধানী শহর আইজল শহরের অদ্ভুত এই রীতিনীতি বেশ অবাক করে সবাইকে।
♦️♦️আইজলের বেশিরভাগ রাস্তায় সাধারণত কোনো ফুটপাথ নেই। পথচারীরা তাই বলে গাড়ি রেখে জায়গা দখল করেন না। রাস্তার ধার ধরে চলাই এখানকার স্থানীয় সংস্কৃতি। রাজ্যটিতে তাই পুলিশের একরকম বালাই নেই বললেই চলে। গোটা শহরে একদম যে পুলিশকর্মী নেই তা কিন্তু নয়। তবে সচরাচর চোখে পড়ে না।
♦️♦️রাজধানী আইজলের অপরাধ চিত্র থেকেও বোঝা যায় কেন রাজ্যটিতে পুলিশের তেমন খুবএকটা প্রয়োজন পড়ে না। প্রশাসনের পাশাপাশি মিডিয়াও ছোটখাটো অপরাধের বিরুদ্ধে সদা সতর্ক। খবরের কাগজ, টেলিভিশন চ্যানেল। এরা নিয়ম করে অপরাধ চিত্র তুলে ধরে পুলিশ-প্রশাসনের উপর চাপ রেখে চলে।
♦️♦️শহরটিতে এলে আপনি লক্ষ্য করতে পারবেন শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই দু চাকা, চার চাকা, বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে পার্ক করিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। চুরি, লুঠপাটের প্রশ্নই নেই। এমনকি হাতাহাতি, মারামারি, গলা চড়িয়ে কথা বলার কোনও বালাই নেই।
♦️♦️আর সব থেকে বড় যে জিনিসটা আপনার চোখে পড়বে তা হল এখানে নেই কোনও শব্দযন্ত্রণা। প্রায় ৮৭ শতাংশ খ্রিস্টানের রাজ্য মিজোরামে বড়দিনের উৎসব প্রধান উৎসব বলে পরিচিত। সন্ধ্যার পর গান বাজনার অনুষ্ঠান হয় চার্চের নিজস্ব উঠোন অথবা কমিউনিটি হলে। মাইক বাজিয়ে পাড়া কাঁপানোর সংস্কৃতি থেকে শতহস্ত দূরে এই রাজ্য।
♦️♦️আধুনিক ভারতবর্ষ থেকে বহু দূরে অবস্থিত বলে হলেও এখানে আধুনিকতা যে একেবারেই কম তা কিন্তু নয়। সমস্ত মানুষের কাছেই দেখতে পাওয়া যায় আধুনিক বিভিন্ন উপকরণ। কিন্তু সব কিছুই এক নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে চালিত হয়ে আসছে। শুধুমাত্র আইজল শহরেই নয় এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গ্রামেও আপনি দেখতে পাবেন না কোন ধরনের অনিয়ম। সমস্ত কিছুই যেন মানুষ সাধারণভাবে মেনে চলছেন।
এখানকার মানুষ অত্যন্ত সৎ। আগে বাড়ির মেয়েরা বিভিন্ন ঘরে গিয়ে পরিচারিকার কাজ করতেন। কিন্তু বিভিন্ন অসাধু বহিরাগত সরকারি অফিসার তাদের নিয়ে করে শারীরিক শোষণ করে পালিয়ে যেত। কিন্তু ইংরাজি শিক্ষা এদের মধ্যে এক নতুন জাগরণের সৃষ্টি করেছে। মহিলাদের সঙ্গে কোনরকম অভদ্র আচরণ করলেই কঠোর শাস্তি পেতেই হবে।
মিজোরামের সঙ্গে মায়ানমার দেশের সীমান্ত রয়েছে। দুই পারেই রয়েছে তাদের নিজ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই কেন্দ্রে সরকার আইনগত ভরে সীমান্ত সিল করতে গেলেও সম্ভব হচ্ছে না। মিজোরাম এবং মায়ানমারের মধ্যে অবাধ যাতায়াত এখনো অব্যাহত। মিজোরামের মানুষ কিন্তু খুবই অতিথি পরায়ন। কোন অপরাধ না করলে এমন সৎ ও সভ্য সমাজ খুঁজে পাওয়া যাবে না উপ মহাদেশে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারতের উত্তরপূর্ব বিশ্বের অন্যতম আশ্চর্যের অঞ্চল

আপডেট সময় : ০৪:০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
বাংলাদেশের মানুষেরা শুধু ভারতই নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে এবং বিভিন্ন কার্যে যেতে অভ্যস্ত। অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত এবং নাগরিক। চিকিৎসার জন্য প্রচুর বাংলাদেশী ভারতে যেমন আসেন তেমনি ব্যবসা ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও তারা ভারতে আসেন।
কিন্তু ভারতের পূর্বত্তরের রাজ্যগুলিতে কজন আসেন!!! অথচ এই অঞ্চল বিভিন্ন ভাবে বিশ্বে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে।
অসমের মজুলি দ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ। খুব সুন্দর স্থান।
কাজিরাঙ্গা অভয়ারণ্য গেলে প্রান জুড়িয়ে যাবে। এখন দাঁড়ালো হাতি ছাড়াও খর্গ ধারী গণ্ডার দেখতে পাওয়া যাবে।
ব্রহ্মপুত্রের বগিবিল ব্রিজ সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু। এই সেতু অসমকে সরাসরি যুক্ত করেছে অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে।
মেঘালয়ের মশিনগাও বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপাতের স্থান। সারা বছর ধরেই এখানে বৃষ্টিপাত হয়।
আসলে যেটা বলতে চেয়েছিলাম,সেটা হলো মিজোরাম রাজ্য। খ্রিস্টান সম্প্রদায় আধিক্য এই ছোট্ট রাজ্য সভ্য দুনিয়ার অন্যতম নিদর্শন।
আমরা আগে দেখেছি লন্ডনে বিভিন্ন রাস্তার ধারে অনুমোদিত স্থানে কাগজের বা পত্র পত্রিকার স্টল। বিক্রেতাহীন স্টল। সারি সারি পত্রিকা,ম্যাগাজিন সাজানো থাকে। ক্রেতারা পছন্দ মতো পত্রিকা বেছে নিয়ে নির্দিষ্ট বক্সে মূল্য রেখে দেন। কিন্তু কোনদিন কোন হেরাফেরী হয়নি। দোকানী শেষ পর্বে এসে বাক্স খুলে মূল্য বুঝে নেন। এই সততা অন্তত আমাদের উপ মহাদেশে কল্পনাতীত। বিশেষ করে ভারত,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে। কিন্তু এর একমাত্র ব্যতিক্রম ভারতের ছোট্ট রাজ্য মিজোরাম। রাজধানী আইজলে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন দিকদিয়েই ব্যতিক্রম এই ছোট্ট রাজ্যটি।
ভারতবর্ষের মধ্যে এক অন্য রকমের শহর আইজল, সম্পূর্ণ নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থাকা এই শহরের মানুষদের অপরাধ প্রবণতা নেই বললেই চলে ।
 ভারতবর্ষের উত্তর পূর্বের রাজ্য মিজোরামের রাজধানী শহরে গেলে আপনি দেখতে পাবেন রাস্তার দু’ধার ধরে সারি সারি দোকান। ক্রেতারা যার যা প্রয়োজন নিজে হাতেই নিয়ে নিচ্ছেন। ঠিক যেমনটা শপিং মলে হয়। তবে শপিং মলের মতো দাম নেওয়ার জন্য কেউ নেই। অর্থাৎ মালিক, কর্মচারীর বালাই নেই। ক্রেতারা পছন্দসই জিনিস নির্ধারিত দাম জমা করে নিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও কোনো গড়মিল বা আত্মসাতের প্রশ্নই নেই।
♦️♦️হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন এমন একটি অদ্ভুত শহর আছে আমাদের দেশ ভারতবর্ষেই। যেখানে এই ধরনের রীতিনীতি বেশ অবাক করে দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষ সহ বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের। ভারতবর্ষের উত্তর-পূর্বের ছোট রাজ্য মিজোরাম। মিজোরামের রাজধানী শহর আইজল শহরের অদ্ভুত এই রীতিনীতি বেশ অবাক করে সবাইকে।
♦️♦️আইজলের বেশিরভাগ রাস্তায় সাধারণত কোনো ফুটপাথ নেই। পথচারীরা তাই বলে গাড়ি রেখে জায়গা দখল করেন না। রাস্তার ধার ধরে চলাই এখানকার স্থানীয় সংস্কৃতি। রাজ্যটিতে তাই পুলিশের একরকম বালাই নেই বললেই চলে। গোটা শহরে একদম যে পুলিশকর্মী নেই তা কিন্তু নয়। তবে সচরাচর চোখে পড়ে না।
♦️♦️রাজধানী আইজলের অপরাধ চিত্র থেকেও বোঝা যায় কেন রাজ্যটিতে পুলিশের তেমন খুবএকটা প্রয়োজন পড়ে না। প্রশাসনের পাশাপাশি মিডিয়াও ছোটখাটো অপরাধের বিরুদ্ধে সদা সতর্ক। খবরের কাগজ, টেলিভিশন চ্যানেল। এরা নিয়ম করে অপরাধ চিত্র তুলে ধরে পুলিশ-প্রশাসনের উপর চাপ রেখে চলে।
♦️♦️শহরটিতে এলে আপনি লক্ষ্য করতে পারবেন শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই দু চাকা, চার চাকা, বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে পার্ক করিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। চুরি, লুঠপাটের প্রশ্নই নেই। এমনকি হাতাহাতি, মারামারি, গলা চড়িয়ে কথা বলার কোনও বালাই নেই।
♦️♦️আর সব থেকে বড় যে জিনিসটা আপনার চোখে পড়বে তা হল এখানে নেই কোনও শব্দযন্ত্রণা। প্রায় ৮৭ শতাংশ খ্রিস্টানের রাজ্য মিজোরামে বড়দিনের উৎসব প্রধান উৎসব বলে পরিচিত। সন্ধ্যার পর গান বাজনার অনুষ্ঠান হয় চার্চের নিজস্ব উঠোন অথবা কমিউনিটি হলে। মাইক বাজিয়ে পাড়া কাঁপানোর সংস্কৃতি থেকে শতহস্ত দূরে এই রাজ্য।
♦️♦️আধুনিক ভারতবর্ষ থেকে বহু দূরে অবস্থিত বলে হলেও এখানে আধুনিকতা যে একেবারেই কম তা কিন্তু নয়। সমস্ত মানুষের কাছেই দেখতে পাওয়া যায় আধুনিক বিভিন্ন উপকরণ। কিন্তু সব কিছুই এক নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে চালিত হয়ে আসছে। শুধুমাত্র আইজল শহরেই নয় এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি গ্রামেও আপনি দেখতে পাবেন না কোন ধরনের অনিয়ম। সমস্ত কিছুই যেন মানুষ সাধারণভাবে মেনে চলছেন।
এখানকার মানুষ অত্যন্ত সৎ। আগে বাড়ির মেয়েরা বিভিন্ন ঘরে গিয়ে পরিচারিকার কাজ করতেন। কিন্তু বিভিন্ন অসাধু বহিরাগত সরকারি অফিসার তাদের নিয়ে করে শারীরিক শোষণ করে পালিয়ে যেত। কিন্তু ইংরাজি শিক্ষা এদের মধ্যে এক নতুন জাগরণের সৃষ্টি করেছে। মহিলাদের সঙ্গে কোনরকম অভদ্র আচরণ করলেই কঠোর শাস্তি পেতেই হবে।
মিজোরামের সঙ্গে মায়ানমার দেশের সীমান্ত রয়েছে। দুই পারেই রয়েছে তাদের নিজ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই কেন্দ্রে সরকার আইনগত ভরে সীমান্ত সিল করতে গেলেও সম্ভব হচ্ছে না। মিজোরাম এবং মায়ানমারের মধ্যে অবাধ যাতায়াত এখনো অব্যাহত। মিজোরামের মানুষ কিন্তু খুবই অতিথি পরায়ন। কোন অপরাধ না করলে এমন সৎ ও সভ্য সমাজ খুঁজে পাওয়া যাবে না উপ মহাদেশে।