ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:-
বহিরাগত কেউ মেয়র হতে পারবে না, এই শহরের লোক মেয়র হবে: মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জে ফের মারধরের শিকার পুলিশ সদস্য, আটক-২ ৫ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ৪২ জেলা পরিষদ পেল নতুন প্রশাসক সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও ছড়ানোর দায়ে আমিরাতে বাংলাদেশিসহ আটক-১০ শ্রীমঙ্গলে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টিতে প্রান ফিরেছে চা বাগানে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানযট নিরসনসহ শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযান উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ  কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমান ভারতীয় মাদকসহ চোরাই পণ্য উদ্ধার  নিকলী এসিল্যান্ডের প্রতিহিংসার বলি সাংবাদিক আলী জামসেদ রাশিয়ার ওপর থেকে তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র সড়ক ও নৌ-পথে জনদূর্ভোগ এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত  মৌলভীবাজারে পর্নোগ্ৰাফি ও চাঁদাবাজির মামলার প্রধান আসামি পঙ্খী গ্রেপ্তার টেকনাফে আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার র‍্যাব সদস্য আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনের নামে পুলিশ হত্যা মামলার আবেদন নবগঠিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু রূপগঞ্জে বিপুল মাদকসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি আটক, হামলায় আহত-৮ বিকেএমইএ-চেম্বারের যানযট নিরসন কর্মীদের বৈরী আচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ-অতিষ্ঠ নগরবাসী নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে এক প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জে বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত-১৫ দেশের সকল ব্যাংকের জন্য নতুন নির্দেশনা ৪০ কোটি ব্যারেল মজুদ জ্বালানি তেলের চালান বাজারে আসছে আরবি প্রভাষক পদে আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা’ই হঠাৎ কেন ‘অযোগ্য’? নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ১৮ মামলার আসামী দিপু অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে ঈদ লাইটিং ও সেহেরির ডাকের নামে অভিনব চাঁদাবাজি; অতিষ্ঠ নগরবাসী ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি পিবিআই মোহামেডান ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হলেন মাসুদুজ্জামান সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি ৫ দিন ঘোষণা করলো নোয়াব জঙ্গল সলিমপুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২২ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন এমডি হলেন বাছির জামাল নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করলেন অভিনেত্রী তিথি নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে চলমান অভিযান অব্যহত থাকবে: এসপি নারায়ণগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জে ছিনতাই হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশের পিস্তল উদ্ধার, গ্রেপ্তার-৩ সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইয়ের শিকার পুলিশ,সরকারি অস্ত্র লুট ২৫ মার্চ সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দ্রুত সৌদি আরব ছাড়তে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ রাজধানীর বনানীতে তিনতলা থেকে ফেলে গৃহকর্মীকে হত্যা ঈদ উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও সজাগ দৃষ্টি রাখবে: জেলা প্রশাসক টেকনাফে কোস্টগার্ড-র‍্যাবের যৌথ অভিযানে নারী ও শিশুসহ ৩২ জন উদ্ধার কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্য নিহত সিদ্ধিগঞ্জে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারী নিহত, ব্যবহৃত হোন্ডা জ্বালিয়ে দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারায়ণগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযান কুষ্টিয়ায় ‘ইবি’ শিক্ষিকা রুনা হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মানববন্ধন শীলখালী চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক-১ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ ৯ মাদক পাচারকারী আটক ফের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক হলেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জের ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় জুড়ীর হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে অভুতপূর্ব সাফল্যে কৃষকের স্বস্তি  ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জে আবারও গ্যাস বিস্ফোরণ, আহত-৩ ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি আগামী রোববার থেকে যে পদ্ধতিতে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল গাইবান্ধায় অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে এসে ‘অবরুদ্ধ’ বিএডিসি প্রকৌশলী কক্সবাজারে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক গাইবান্ধায় চাঁদা না পেয়ে কারখানায় হামলা, বিএনপির তিন নেতা গ্রেপ্তার নাফ নদীর তীরবর্তী কেওড়া বাগান থেকে অস্ত্র সহ গোলাবারুদ উদ্ধার ঈদে বাড়তি ভাড়া নিলেই রুট পারমিট বাতিল: পরিবহন মন্ত্রী ইবির শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ অবশেষে জামিনে মুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীর নির্বাহী আদেশে ১৮ মার্চ থেকে ছুটি ঘোষণা, এবার ঈদের ছুটি ৭ দিন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন; তিন কর্মকর্তার বদলি, ভূমি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ অসত্য অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন এডিআইজি আপেল মাহমুদ খুলনায় শ্রমিকদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা, আটক-১ বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধির শঙ্কা ইরানের ‘সুইসাইড ড্রোনে’ চরম চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন বাহিনী  ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি দিচ্ছে না ভারত বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের ভূমি অফিসের বারান্দায় বসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী, অফিস তখনো খোলেনি শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির আদেশ চলতি ২০২৫-২৬ করবছরে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ৪০ লাখের বেশি করদাতা: এনবিআর ফের দেশের ৬ জেলায় পুলিশে এসপি পদে রদবদল চিকিৎসায় অবহেলায় চার রোগীর মৃত্যু: ১০ চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত নারায়ণগঞ্জে আসন্ন মহাঅষ্টমী পূণ্যস্নান ঘিরে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা মৌলভীবাজারে ১১০ বস্তা ভারতীয় জিরাসহ আটক-১ কুষ্টিয়ায় ছুরিকাঘাতে ইবি সহকারী অধ্যাপক নিহত টেকনাফে কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে সাড়ে ৭ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ, আটক-১ ইনানীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তায় মৌলভীবাজারের পথে-প্রান্তরে ফুটেছে চিরচেনা বুনোফুল ‘ভাট’ কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর টয়লেট ট্যাংক থেকে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম, হুইপ আরও ৬ জন মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আহত-৭ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হলেন ৩ সাংবাদিক দৌলতপুরে বোমা সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ মৌলভীবাজারে ১৬ টাকার লেবু ৮০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে ছয় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুবাইতে মৌলভীবাজারের আলী নিহত ইরানের বিরুদ্ধে এবার যুদ্ধে জড়াচ্ছে ফ্রান্স-জার্মানি ও যুক্তরাজ্য খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের সঙ্গে যারা যোগ দিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪ ডিসিকে বদলি একযোগে ৫ জেলার ডিসি প্রত্যাহার

সবার উপরে ‘মায়ের আঁচল’ তাহার উপরে নাই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময়- ০৩:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪ ৪২৩ বার পড়া হয়েছে

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
তখন খুবই ছোট। হামাগুড়ি পর্ব শেষ করে হাঁটতে শুরু করেছি। হোঁচট খেতেই মা কোলে তুলে আঁচল দিয়ে চোট লাগা জায়গাটি মুছে দিতেন। যাতে ধুলো, বালি না থাকে। মা জোর কোরে দুধ,ভাত বা অন্যা খাবার মুখে তুলে দিতেন। খাবার মুখ থেকে গড়িয়ে পড়লে আঁচল দিয়ে মুছে দিতেন। আরো কত কি!!!
আজকাল মায়েদের আঁচল কোথায়? সালোয়ার কামিজ, জিন্সের প্যান্ট , বেলবটস আজ অতীতের সেই মায়ের মুখকে কেড়ে নিয়েছে। আঁচলে মায়ের মধ্যে যে হাসিটি ফুটে উঠতো,সেটি তো আজ ইতিহাস হয়ে পড়েছে। আঁচল কী তা আজকের বাচ্চারা জানে না , কারণ আজকাল মায়েরা আর শাড়ি পরে না। আঁচল অতীতের জিনিস।
আঁচলের কথা মনে এলেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায়। সেখানেই মা যেতেন আমি তার আঁচল ধরেই যেতাম। আচার অনুষ্ঠান, পুজা মন্ডপ, বিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও।
আঁচল মানেই মাতৃত্বের প্রকাশ।
আগে মায়ের আঁচল ছিল বহুমুখী। সেই আঁচলে ” একই অঙ্গে এতো রূপ, দেখিনা এখন”।
 তখন কতো কাজে লাগতো মায়ের এই আঁচল।
 উনুন থেকে গরম কোন পাত্র নামানোর সময় মা আঁচলটি ব্যবহার করতেন । কোন গরম প্যান,কেটলি ধরতেও আঁচলের খুব ব্যবহার হতো।
আঁচল ছিল এক অনন্য বস্তু । আঁচলের মহিমার উপরে লিখতে গেলে বোধ হয় একটা ছোটখাট বই লেখা হয়ে যাবে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের অনেক শিশুর সুখ স্মৃতি।
 মা আমার রোদে পোড়া মুখের,শরীরের ঘাম পুছে দিতেন। স্কুলের ক্লাস ছুটি না হওয়া পর্যন্ত মা স্কুলের কাছে কোন বাড়ির রোয়াকে অন্যান্য মায়েদের সঙ্গে বসে অপেক্ষা করতেন স্কুলের ঘণ্টা বাজা পর্যন্ত।
আমি বেরিয়ে আসতেই মা আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে, নাকের সর্দি মুছতে, নোংরা কান, মুখ পরিষ্কার করে দিতেন। তারপর বাড়ি থেকে আনা খাবারটি টিফিন বক্স থেকে বের করে খাইয়ে দিতেন। জল খাইয়ে দেবার পর আবার আঁচল দিয়ে মুখ মুছে দিতেন। ঠিক যেন একটা তোয়ালে। আঁচলকে তোয়ালে হিসাবে ব্যবহার করতেন। খাবার খেয়ে মায়ের আঁচলে মুখটা পরিষ্কার করিয়ে নেওয়াও ছিল আমাদের কাছে একটি খুশীর বিষয় ।
 কখনও কখনও, চোখের ব্যথার ক্ষেত্রে মা তার আঁচলকে গোল করে পাকিয়ে তাতে ফুঁ দিয়ে দিয়ে গরম করে চোখের উপর রাখতেন, সমস্ত ব্যথা তখন অদৃশ্য হয়ে যেত ।
 মায়ের কোলে ঘুমন্ত বাচ্চার জন্য কোলটি গদি এবং মায়ের আঁচল শরীরকে ঢাকার চাদর হিসাবে কাজ করত ।
 যখন খুব ছোট ছিলাম তখন কোনও অচেনা লোক বাড়ীতে আসত, আমি মায়ের আঁচলের একটি আড়াল নিয়ে তাকে দেখতাম। যখনই কোনও বিষয়ে লজ্জা বোধ করতাম, তখন ঐ আঁচল দিয়ে মুখটি ঢেকে রাখতাম এবং আঁচলের ভেতর লুকিয়ে পড়তাম ।
শুধু আমি কেন,সকল শিশুরাই এমনটি করতো। যখন বাচ্চারা মায়ের সাথে বাইরে যেত, তখন মায়ের আঁচল পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করত । যতক্ষণ শিশুটির হাত আঁচল ধরে থাকত পুরো জগৎ তার মুঠোয় থাকত ।
 শীতকালে প্রচন্ড কনকনে ঠান্ডায় মা তার আঁচল দিয়ে আমাকে ঢেকে রাখতেন,যাতে কোনমতেই যেন ঠান্ডা লাগতে না পারে। পাড়ায় কোন রাতের অনুষ্ঠান হলে মায়ের সঙ্গে যেতাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়তাম জানি না। মা সহত্নে আঁচল দিয়ে ঢেকে কোলে শুইয়ে দিতেন।
গ্রাম গঞ্জে গাছ থেকে পড়া আম, জাম, খেজুর এবং মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত ফুল কুড়িয়ে আনতেও ব্যবহৃত হত মায়ের এই আঁচল। সরস্বতী পূজার সময় খুব সকালে মাকে দেখেছি ঘাসের উপর ঝরে পড়া শিউলী ফুল অত্যন্ত সন্তর্পণে আঁচলে তুলে নিতে। আমাদের বাড়ির বারান্দার বাইরেই ছিল মস্তবড় দুটি শিউলী ফুলের গাছ। বাড়িতে প্রবেশের মুখে গেটের দুপাশেই লাগানো হয়েছিল গাছ দুটি। গেট খুলে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ফুলের বাগান। নুড়ি পাথরের ছোট্ট রাস্তা চলে গেছে বাড়ির সিড়ি পর্যন্ত। সিঁড়ির দুপাশে দুটো মস্তবড় গ্লান্ডিফ্লোরা গাছ।এই দুটি গাছের ডাল বাবা এনেছিলেন এক চা বাগানের ম্যানেজারের বাড়ি থেকে। কী সুন্দর ফুল হতো। সাদা বিশাল পাপড়ি মেলে ফুটে উঠতো ফুল।
মা শিউলী ফুল কুড়িয়ে এনে ঠাকুর ঘরে নিয়ে আসতেন। তার আগে মা সরস্বতীর আসন টি নিজের আঁচল দিয়েই পরিপাটি করে পুছে নিয়ে মূর্তিটি বসিয়ে ফুলের গোছা একটি তামার পাত্রে ঢেলে দিতেন। তারপর সেই শিউলী ফুলের মালা গেঁথে রাখতেন মা।
মায়ের আঁচলের গিঁটে বাধা থাকতো বাড়ির এক গোছা চাবি। আবার আঁচলেই ছিল মায়ের চলতি ফিরতি একটা ব্যাংক। কাউকে কিছু দিতে,কিছু কিনে আনতে মা ব্যাংকের গিঁট খুলে টাকা,পয়সা দিতেন। অনুষ্ঠান বাড়িতে গেলেও মায়ের এই আঁচলে ঘরের চাবি ও চলতি ফিরতি ব্যাংক থাকতো। মা ঠোঁট লাল করে পান খেয়ে অনুষ্ঠান বাড়ির কাজের মাসিকে এই ব্যাংক থেকে বকশিস দেবার সময় ছোট্ট আমি মায়ের নির্দেশে এই আঁচলের ব্যাংকের তালা খুলে দিতাম। মা গুনে গুনে টাকা বের করতেন। আজকের দিনের মায়েদের অবশ্য সেই দিন গুলো নেই। তারা সহজেই গর্ব বোধ করে জিন্সের প্যান্ট থেকে টাকা বের করতে পারেন।
কথায় কথায় একটা কাগজের টুকরো চেকে সই করে টাকা দিয়ে থাকেন আজকের মায়েরা।
আজকাল শুধু জিন্সের প্যান্টই নয়, মায়েরা পুরুষদের মতো ছোট চুল রাখছেন। শার্ট, হাফ প্যান্টও পড়ছেন।
 মায়ের আঁচল এক মায়াবী অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি পুরানো প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বদা আমার মায়ের ভালবাসা এবং স্নেহ অনুভব করি, যা আজকের প্রজন্মের সম্ভবত বোঝার বাইরে ।
বাবার সেই ধুতি কোথায়???
 আজকাল বাবাদের ধুতি পড়তে দেখাই যায় না। অনেকের বাবাকেও দেখছি আগের দিনের মায়ের মতো লম্বা চুল রাখতে। অনেক বাবাকে দেখা যাচ্ছে কানে দুল এবং হাতে বালা পড়তে।
শুধু কোন পূজা ও উৎসব উপলক্ষ্যে অথবা বিয়ে বাড়িতে সেই পুরোনো ঐতিহ্যমূলক কোঁচা দেয়া ধুতি পড়তে দেখা যায় বাবাদের। আর মায়েরা লাল পেড়ে শাড়ি পড়ে পুজা মণ্ডপ ও বিয়ে বাড়িতে গিয়ে থাকেন। অতীতের মায়েদের বিপরীতে এখানকার মায়েরা পুরুষের মতো ছোট চুল রাখছেন। সিঁথিতে নেই সিঁদুরের চিহ্ন। এ এক অদ্ভুত আজগুবি জীবন।
ছোট শিশুকে আজ আর মায়েরা আঁচল দিয়ে ঘিরে রাখেনা। নিজেরা দেখাশোনা না করে অনেকেই আয়ার হাতে ছেড়ে চলে যান। ফলে এই শিশুদের মনে মায়ের প্রতি তেমন অনুভূতিও জাগে না।
আগে মায়েরা আচার অনুষ্ঠান,উৎসবে গেলে অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিতেন, হাসি মস্করা করতেন। আজকের মায়েদের সেই সময় কোথায়!! হাতে সর্বক্ষণ চলছে মোবাইলে টিকটিক করা। হিয়ারিং এইড কানে দিয়ে কী যে বিড়বিড় করে চলেন,আবার হাসতে থাকেন তাতে অনভিজ্ঞ মানুষ পাগল বলেও ভাবতে পারেন।
মায়ের আঁচলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে সেদিনের মায়ের চাঁদের আলোয় মিষ্টি হাসিও। এটা ভেবেই বুঝি বিখ্যাত কিংবদন্তি গায়ক অখিল বন্ধু গেয়েছিলেন, ” মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে পড়ে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে”।

নিউজটি শেয়ার করুন..

ট্যাগস:-

সবার উপরে ‘মায়ের আঁচল’ তাহার উপরে নাই

আপডেট সময়- ০৩:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

 

ঋতম্ভরা বন্দ্যোপাধ্যায়,কলকাতা।।
তখন খুবই ছোট। হামাগুড়ি পর্ব শেষ করে হাঁটতে শুরু করেছি। হোঁচট খেতেই মা কোলে তুলে আঁচল দিয়ে চোট লাগা জায়গাটি মুছে দিতেন। যাতে ধুলো, বালি না থাকে। মা জোর কোরে দুধ,ভাত বা অন্যা খাবার মুখে তুলে দিতেন। খাবার মুখ থেকে গড়িয়ে পড়লে আঁচল দিয়ে মুছে দিতেন। আরো কত কি!!!
আজকাল মায়েদের আঁচল কোথায়? সালোয়ার কামিজ, জিন্সের প্যান্ট , বেলবটস আজ অতীতের সেই মায়ের মুখকে কেড়ে নিয়েছে। আঁচলে মায়ের মধ্যে যে হাসিটি ফুটে উঠতো,সেটি তো আজ ইতিহাস হয়ে পড়েছে। আঁচল কী তা আজকের বাচ্চারা জানে না , কারণ আজকাল মায়েরা আর শাড়ি পরে না। আঁচল অতীতের জিনিস।
আঁচলের কথা মনে এলেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায়। সেখানেই মা যেতেন আমি তার আঁচল ধরেই যেতাম। আচার অনুষ্ঠান, পুজা মন্ডপ, বিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও।
আঁচল মানেই মাতৃত্বের প্রকাশ।
আগে মায়ের আঁচল ছিল বহুমুখী। সেই আঁচলে ” একই অঙ্গে এতো রূপ, দেখিনা এখন”।
 তখন কতো কাজে লাগতো মায়ের এই আঁচল।
 উনুন থেকে গরম কোন পাত্র নামানোর সময় মা আঁচলটি ব্যবহার করতেন । কোন গরম প্যান,কেটলি ধরতেও আঁচলের খুব ব্যবহার হতো।
আঁচল ছিল এক অনন্য বস্তু । আঁচলের মহিমার উপরে লিখতে গেলে বোধ হয় একটা ছোটখাট বই লেখা হয়ে যাবে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের অনেক শিশুর সুখ স্মৃতি।
 মা আমার রোদে পোড়া মুখের,শরীরের ঘাম পুছে দিতেন। স্কুলের ক্লাস ছুটি না হওয়া পর্যন্ত মা স্কুলের কাছে কোন বাড়ির রোয়াকে অন্যান্য মায়েদের সঙ্গে বসে অপেক্ষা করতেন স্কুলের ঘণ্টা বাজা পর্যন্ত।
আমি বেরিয়ে আসতেই মা আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে, নাকের সর্দি মুছতে, নোংরা কান, মুখ পরিষ্কার করে দিতেন। তারপর বাড়ি থেকে আনা খাবারটি টিফিন বক্স থেকে বের করে খাইয়ে দিতেন। জল খাইয়ে দেবার পর আবার আঁচল দিয়ে মুখ মুছে দিতেন। ঠিক যেন একটা তোয়ালে। আঁচলকে তোয়ালে হিসাবে ব্যবহার করতেন। খাবার খেয়ে মায়ের আঁচলে মুখটা পরিষ্কার করিয়ে নেওয়াও ছিল আমাদের কাছে একটি খুশীর বিষয় ।
 কখনও কখনও, চোখের ব্যথার ক্ষেত্রে মা তার আঁচলকে গোল করে পাকিয়ে তাতে ফুঁ দিয়ে দিয়ে গরম করে চোখের উপর রাখতেন, সমস্ত ব্যথা তখন অদৃশ্য হয়ে যেত ।
 মায়ের কোলে ঘুমন্ত বাচ্চার জন্য কোলটি গদি এবং মায়ের আঁচল শরীরকে ঢাকার চাদর হিসাবে কাজ করত ।
 যখন খুব ছোট ছিলাম তখন কোনও অচেনা লোক বাড়ীতে আসত, আমি মায়ের আঁচলের একটি আড়াল নিয়ে তাকে দেখতাম। যখনই কোনও বিষয়ে লজ্জা বোধ করতাম, তখন ঐ আঁচল দিয়ে মুখটি ঢেকে রাখতাম এবং আঁচলের ভেতর লুকিয়ে পড়তাম ।
শুধু আমি কেন,সকল শিশুরাই এমনটি করতো। যখন বাচ্চারা মায়ের সাথে বাইরে যেত, তখন মায়ের আঁচল পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করত । যতক্ষণ শিশুটির হাত আঁচল ধরে থাকত পুরো জগৎ তার মুঠোয় থাকত ।
 শীতকালে প্রচন্ড কনকনে ঠান্ডায় মা তার আঁচল দিয়ে আমাকে ঢেকে রাখতেন,যাতে কোনমতেই যেন ঠান্ডা লাগতে না পারে। পাড়ায় কোন রাতের অনুষ্ঠান হলে মায়ের সঙ্গে যেতাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়তাম জানি না। মা সহত্নে আঁচল দিয়ে ঢেকে কোলে শুইয়ে দিতেন।
গ্রাম গঞ্জে গাছ থেকে পড়া আম, জাম, খেজুর এবং মিষ্টি সুগন্ধযুক্ত ফুল কুড়িয়ে আনতেও ব্যবহৃত হত মায়ের এই আঁচল। সরস্বতী পূজার সময় খুব সকালে মাকে দেখেছি ঘাসের উপর ঝরে পড়া শিউলী ফুল অত্যন্ত সন্তর্পণে আঁচলে তুলে নিতে। আমাদের বাড়ির বারান্দার বাইরেই ছিল মস্তবড় দুটি শিউলী ফুলের গাছ। বাড়িতে প্রবেশের মুখে গেটের দুপাশেই লাগানো হয়েছিল গাছ দুটি। গেট খুলে ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ফুলের বাগান। নুড়ি পাথরের ছোট্ট রাস্তা চলে গেছে বাড়ির সিড়ি পর্যন্ত। সিঁড়ির দুপাশে দুটো মস্তবড় গ্লান্ডিফ্লোরা গাছ।এই দুটি গাছের ডাল বাবা এনেছিলেন এক চা বাগানের ম্যানেজারের বাড়ি থেকে। কী সুন্দর ফুল হতো। সাদা বিশাল পাপড়ি মেলে ফুটে উঠতো ফুল।
মা শিউলী ফুল কুড়িয়ে এনে ঠাকুর ঘরে নিয়ে আসতেন। তার আগে মা সরস্বতীর আসন টি নিজের আঁচল দিয়েই পরিপাটি করে পুছে নিয়ে মূর্তিটি বসিয়ে ফুলের গোছা একটি তামার পাত্রে ঢেলে দিতেন। তারপর সেই শিউলী ফুলের মালা গেঁথে রাখতেন মা।
মায়ের আঁচলের গিঁটে বাধা থাকতো বাড়ির এক গোছা চাবি। আবার আঁচলেই ছিল মায়ের চলতি ফিরতি একটা ব্যাংক। কাউকে কিছু দিতে,কিছু কিনে আনতে মা ব্যাংকের গিঁট খুলে টাকা,পয়সা দিতেন। অনুষ্ঠান বাড়িতে গেলেও মায়ের এই আঁচলে ঘরের চাবি ও চলতি ফিরতি ব্যাংক থাকতো। মা ঠোঁট লাল করে পান খেয়ে অনুষ্ঠান বাড়ির কাজের মাসিকে এই ব্যাংক থেকে বকশিস দেবার সময় ছোট্ট আমি মায়ের নির্দেশে এই আঁচলের ব্যাংকের তালা খুলে দিতাম। মা গুনে গুনে টাকা বের করতেন। আজকের দিনের মায়েদের অবশ্য সেই দিন গুলো নেই। তারা সহজেই গর্ব বোধ করে জিন্সের প্যান্ট থেকে টাকা বের করতে পারেন।
কথায় কথায় একটা কাগজের টুকরো চেকে সই করে টাকা দিয়ে থাকেন আজকের মায়েরা।
আজকাল শুধু জিন্সের প্যান্টই নয়, মায়েরা পুরুষদের মতো ছোট চুল রাখছেন। শার্ট, হাফ প্যান্টও পড়ছেন।
 মায়ের আঁচল এক মায়াবী অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি পুরানো প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বদা আমার মায়ের ভালবাসা এবং স্নেহ অনুভব করি, যা আজকের প্রজন্মের সম্ভবত বোঝার বাইরে ।
বাবার সেই ধুতি কোথায়???
 আজকাল বাবাদের ধুতি পড়তে দেখাই যায় না। অনেকের বাবাকেও দেখছি আগের দিনের মায়ের মতো লম্বা চুল রাখতে। অনেক বাবাকে দেখা যাচ্ছে কানে দুল এবং হাতে বালা পড়তে।
শুধু কোন পূজা ও উৎসব উপলক্ষ্যে অথবা বিয়ে বাড়িতে সেই পুরোনো ঐতিহ্যমূলক কোঁচা দেয়া ধুতি পড়তে দেখা যায় বাবাদের। আর মায়েরা লাল পেড়ে শাড়ি পড়ে পুজা মণ্ডপ ও বিয়ে বাড়িতে গিয়ে থাকেন। অতীতের মায়েদের বিপরীতে এখানকার মায়েরা পুরুষের মতো ছোট চুল রাখছেন। সিঁথিতে নেই সিঁদুরের চিহ্ন। এ এক অদ্ভুত আজগুবি জীবন।
ছোট শিশুকে আজ আর মায়েরা আঁচল দিয়ে ঘিরে রাখেনা। নিজেরা দেখাশোনা না করে অনেকেই আয়ার হাতে ছেড়ে চলে যান। ফলে এই শিশুদের মনে মায়ের প্রতি তেমন অনুভূতিও জাগে না।
আগে মায়েরা আচার অনুষ্ঠান,উৎসবে গেলে অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিতেন, হাসি মস্করা করতেন। আজকের মায়েদের সেই সময় কোথায়!! হাতে সর্বক্ষণ চলছে মোবাইলে টিকটিক করা। হিয়ারিং এইড কানে দিয়ে কী যে বিড়বিড় করে চলেন,আবার হাসতে থাকেন তাতে অনভিজ্ঞ মানুষ পাগল বলেও ভাবতে পারেন।
মায়ের আঁচলের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে সেদিনের মায়ের চাঁদের আলোয় মিষ্টি হাসিও। এটা ভেবেই বুঝি বিখ্যাত কিংবদন্তি গায়ক অখিল বন্ধু গেয়েছিলেন, ” মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে পড়ে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে”।